22/10/2025
আজকাল অনলাইনে প্রচুর ফ্রি কোর্স পাবে এডমিশন টেস্টকে ঘিরে। বাংলা, ইংরেজি, সাঃজ্ঞান, সায়েন্স কমার্স আর্টসের বিষয়গুলো নিয়ে অনেক অনলাইন শিক্ষক ও এডমিশন কোচিং গুলো নিয়মিত ফ্রি কন্টেন্ট আপলোড দিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে এডমিশন নিয়ে গাইডলাইনও দিচ্ছেন তারা। তো এগুলোকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে তুমি তোমার এডমিশন প্রিপারেশন আরো স্ট্রং করবে সেটা নিয়েই এই পোস্ট।
১) প্রথমত তোমার এসএসসি ও এইচএসসি পয়েন্ট অনুযায়ী, তোমার গ্রুপ (সায়েন্স/কমার্স/আর্টস), তোমার সামর্থ্য, তোমার পরিবারের অবস্থা (দূরে ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যেতে দিবে কি দিবে না, অনেকগুলো ফর্ম ফিলাপ করার মতো ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট পাবে কি পাবে না) ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা তুমি কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন ইউনিটে পরীক্ষা দিবে তা ডিসাইড করে ফেলো।
২) এবার দেখো ভর্তি পরীক্ষার জন্য তোমাকে কি কি বিষয় পড়তে হবে। সবগুলো বিষয়ের বই সংগ্রহ করো আগে। ক্লাস ফ্রিতে পাবে, বই বা শীট তো পাবে না। (ফ্রি শীট খুব একটা কাজের হয় না)। প্রশ্নব্যাংকতো অবশ্যই কিনবে।
৩) এবার একটা রুটিন বানাও। রুটিনে প্রতিটা বিষয়ে দুইটা শিডিউল করবে, একটা ক্লাস করার শিডিউল, আরেকটা নিজে পড়ার শিডিউল।
৪) রুটিনে ক্লাস করার শিডিউল এ (ধরো তুমি বিকাল ৪-৬ টা আর রাত ৯-১১ টা ক্লাস শিডিউল রেখেছো) নির্দিষ্ট বিষয়ের ভিডিও খুঁজবে অনলাইনে (আমার সাজেশন হলো ইউটিউবে ভিডিও দেখো, ওগুলো অনেক বেশি গোছানো + তথ্য সমৃদ্ধ হয়, ফেসবুকের গুলো মার্কেটিং এর জন্য বানানো, তাই কোন কাজের না)। ১৫-২০ মিনিটের বেশি খুঁজাখুঁজি করবে না। ১০ মিনিটের মধ্যে দেখা ক্লাসগুলোর মধ্যে যেটা মনে হবে খুব ভাল, সেটাই দেখা শুরু করবে। খাতা কলম নিয়ে বসবে, স্যার বোর্ডে যা লিখবে, যা পড়াবে সব লিখে ফেলবে। স্যার কোন সূত্র, রুলস, নিয়ম ব্যাখ্যা করার পর সেই ব্যাখ্যাটাও লিখে ফেলবে। যেন পরবর্তীতে রিভিশন এর জন্য নিজের খাতা দেখলেই হয়, আবার ভিডিও দেখতে না হয়।
৫) এরপর পড়ার শিডিউলে ঐ সেইম টপিকটা বই থেকে পড়বে, এমসিকিউ প্র্যাকটিস করবে।
৬) একটা নির্দিষ্ট গোল সেট করবে, কোন সময়ের মধ্যে কোন টপিক শেষ কোন সাব্জেক্ট শেষ করবে তার গোল। এই টাইমের মধ্যে ঐ টপিক যতটুকু শেষ হয় রেখে দিবে, নেক্সট টপিক শুরু করে দিবে। নয়তো এক টপিকেই আটকে থেকে সময় নষ্ট হবে, সিলেবাস শেষ হবে না।
৭) প্রতিদিন প্রশ্নব্যাংক প্র্যাকটিস করবে। মানে প্রশ্নব্যাংক থেকে বিগত বছরের প্রশ্নোত্তর গুলো শিখবে।
৮) কিছু জিনিস প্রতিদিন অল্প অল্প করে শিখতে হয়, প্রতিদিন রিভিশন দিতে হয়, যেমন ভোকাবুলারি, গণিত, গণিতের সূত্র, আইকিউ, বাংলা ব্যাকরণ এর বিরচন অংশ ইত্যাদি। এগুলোর জন্য ক্লাস করবে না। যেকোন একটা বই থেকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে শিখবে, রিভিশন দিবে।
৯) সব বিষয় বা সব টপিকের জন্য ক্লাস করবে না। যেকোন টপিক আগে বই থেকে পড়ে বুঝার চেষ্টা করবে, যদি বই পড়ে কাজ না হয় তবেই ক্লাস খুঁজবে। মজার বিষয় হচ্ছে এই পদ্ধতি ফলো করলে দেখবে ৭০% টপিকের জন্য তোমার কোন ক্লাসের দরকারই হচ্ছে না, বই পড়েই কাজ হয়ে যায়। বইগুলো ওভাবেই লেখা হয়।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ মোবাইল, ফেসবুক, ইউটিউব শুধু মাত্র পড়ালেখার জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করবে। কোন রকম রিলস বা ড্রামা দেখবে না। মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতে পারো, তবে মাঝেমধ্যে একটা দুইটা।
রিলস, শর্ট ভিডিও আমাদের স্মরণ শক্তি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে হাবিজাবি ফেসবুক রিলস এমনকি ফেসবুক পোস্টও স্মৃতিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এগুলো যত এড়িয়ে চলা যায় তত ভাল। যেসব ফেসবুক গ্রুপ পড়ালেখার চেয়ে দুনিয়ার হাবিজাবি বিষয় নিয়ে বেশি পোস্ট হয়, সেগুলো থেকে লিভ নিয়ে ফেলবে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল। (কেউ আবার বলিও না যে নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল, কারণ মামা অনেক আছে, মানে কাজের গ্রুপ, পরিচ্ছন্ন ফেসবুক গ্রুপ অনেক আছে)
আজকে এটুকুই। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি মূলক গাইডলাইন আরো পোস্ট শেয়ার করবো সামনে।
শুভ কামনা!
সৌমিত্র গুহ
ইইই, চবি