03/11/2025
প্রাচীন গ্রিকরা তিন ইঞ্চির পূজা করতেন?
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ যে কতটা মূর্খ ও বর্বর তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পুরুষের পেনিস নিয়ে তাদের বিভ্রান্তি। তারা মনে করে একটা বড় পেনিস মানেই, পুরুষটি জেনেটিক্যালি ফিট। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তেজিত অবস্থায় পৃথিবীর মাত্র ২.৫% মানুষের পেনিস সাইজ ৬-৬.৭ ইঞ্চি হয়। আনুমানিক ৬৮% পুরুষের পেনিস সাইজ ৪-৬ ইঞ্চির মধ্যে পড়ে আর ১৫% পুরুষের পেনিস সাইজ ৪ ইঞ্চির নিচে ।
এখন এই মূর্খ ও বর্বরদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, যদি বড় পেনিসের পুরুষরাই জেনেটিক্যালি ফিট হয়, তাহলে কেন লাখ লাখ বছরের বিবর্তনের পৃথিবীর ৭০% মানুষের পেনিস সাইজ ছয় থেকে সাড়ে ছয় ইঞ্চি হয়নি? কেন ছয় থেকে সাড়ে ছয় ইঞ্চি পেনিসের পুরুষের সংখ্যা জনপুঞ্জে মাত্র ২.৫%?
যদি বিগ পেনিস সত্যিকার্থেই জেনেটিক ফিটনেসের প্রতিক হয়ে থাকে নারীর যোনির সেন্সরি রিসেপ্টর কেন ২-৩ ইঞ্চির মধ্যেই সীমাবদ্ধ? তাদের সেন্সরি রিসেপ্টরের বিস্তৃতি কেন ছয় থেকে সাত ইঞ্চি হলো না?
ডারউইনের থিওরি অনুসারে, একটি জীবের কোনো একটি বৈশিষ্ট্য যখন টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগিতা দেয়, তখন সেটি পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় এবং তা জনপুঞ্জের কমন ফ্রিকোয়েন্সি হয়ে যায়। এটাকে বলে ন্যাচারাল সিলেকশন। এখন প্রশ্ন, সাড়ে ছয় ইঞ্চি পেনিসই যদি জেনেটিক্যালি ফিট হয়, ন্যাচারাল সিলেকশন কেন এটাকে জনপুঞ্জে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়নি? বিবর্তনের একটি ব্যাখ্যা বলছে, পুরুষের পেনিসের আকৃতি মূলত অন্য পুরুষের শুক্রাণু অপসারণের জন্য অভিযোজিত হয়েছে, বড় হওয়ার জন্য নয়।
প্রাচীন গ্রিকরা ছোট পুরুষাঙ্গকে আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ও বুদ্ধিমত্তার প্রতীক মনে করত। বিপরীতে বড় পুরুষাঙ্গকে অসভ্যতা, বর্বরতা, ও অতিরিক্ত যৌন লালসার পরিচায়ক হিসেবে দেখা হতো। গ্রিক দর্শনে, বিশেষ করে প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের মতে, আদর্শ পুরুষ কেবল শারীরিকভাবে বলিষ্ঠই নয়, বরং সংযমী ও যুক্তিবাদী। যৌন লালসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই ছিল উচ্চশ্রেণির বৈশিষ্ট্য। তাই তাদের দেবতা ও বীরদের মূর্তিতে ছোট পুরুষাঙ্গ দেখানো হতো, যা তাদের সংযমের প্রতীক। প্রাচীন গ্রিসে কেবল ব্যঙ্গচিত্র বা কমেডির চরিত্রগুলোকেই বড় পুরুষাঙ্গসহ দেখানো হতো, যা কামুকতা ও অসভ্যতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে গ্রিক নাট্যকার অ্যারিস্টোফেনিসের নাটকগুলোতে বড় পুরুষাঙ্গকে মূর্খতা, লোভ, ও পশুসূলভ আচরণের প্রতিক হিসেবে দেখানো হয়।
আমি বলছি না গ্রিকদের এসব দাবি পুরোপুরি সত্য। তবে প্রাগৈতিহাসিক সময়ে একজন পুরুষের সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, ও শিকার/সংগ্রহ দক্ষতা নারীদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এগুলোই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সুবিধা দিত। এজন্য বিগ পেনিসের থেকে বিগ ব্রেনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। বড় মস্তিষ্কের কারণে হোমোস্যাপিয়েন্স কল্পনা, জোট গঠন, ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পেরেছে, যা টিকে থাকার ক্ষেত্রে পেনিসের আকারের চেয়ে অনেক বেশি অ্যাডভান্টেজ এনে দিয়েছে। এমনকি সাধারণত উচ্চ IQ সম্পন্ন পুরুষরা বেশি সন্তান জন্ম দেয় না, কারণ তাদের যৌন আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম থাকে বা তারা সঙ্গী নির্বাচনে সিলেক্টিভ হয়। অন্যদিকে, নিম্ন IQ সম্পন্ন পুরুষরা বেশি প্রজনন প্রবণতা দেখায়।
শেষ কথা, প্রাকৃতিক নির্বাচনে বড় পেনিসের বিশেষ কোনো উপযোগ নেই। একটা বড় পেনিস পুরুষের টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর কারণ এটি তার চলাফেরায় ডিস্টার্ব করে। আদিম শিকারী সংগ্রাহকরা একটি বড় পেনিস নিয়ে মারাত্মক বিপদে পড়ে যেত, কারণ পেনিসের সাথে পেঁচিয়ে তারা ধপাস করে পড়ে যেত, আর বাঘ এসে তাদের খেয়ে দিত😅( মজা করলাম) । মানুষের টিকে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য পেনিস নয়, একটি উন্নত মস্তিষ্ক প্রয়োজন। এজন্য মানব সমাজে বিগ পেনিসের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে, মানুষ পেনিসের চেয়ে শারীরীক, মানসিক ও ইন্টেলেকচুয়াল ফিটনেসকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।