29/08/2026
এই এক্টিভিটি গুলো খুব সহজেই বাসায় প্র্যাক্টিস করা সম্ভব।
প্রতিদিন একটু সময় বের করে বা হাটতে হাটতে খেলার ছলে এই কাজগুলো করালে আপনার শিশুর কথা বলা এবং ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। চলুন দেখে নেই কি করা যায়।
১. বিভিন্ন ধরণের প্রানীর শব্দ করাঃ
শিশুর সামনে আদুরে গলায় প্রানীর ডাক নকল করা। যেমনঃ গরু ডাকে হাম্বা হাম্বা, বিড়াল ডাকে মিউ মিউ, সাপ ডাকে সসসসসসস, বাঘ ডাকে হালুম ইত্যাদি। এছাড়া প্রানীর নাম দিয়ে নানান সুরে সুরে ছড়া বলা।
২. বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর আগে গল্প বলাঃ
গল্পের বই শুধু পড়লে হবে না। বিভিন্ন ধরণের এক্সপ্রেশন দিয়ে গাড়ির ভুম ভুম শব্দ করা, হর্ণ বাজানো, বিভিন্ন বর্ণনামুলক শব্দের সঙ্গে পরিচিত করা ইত্যাদি।
৩. রঙ চেনানোঃ
খেলতে খেলতে বিভিন্ন ধরণের রঙ চেনানোর চেষ্টা করা। প্রথমে যেকোনো দুই ধরণের রঙ দিয়ে শুরু করতে হবে।
৪. বিভিন্ন ধরণের আকৃতি (Shapes) চেনানোঃ
এক্ষেত্রে আমরা Shapes Puzzles ম্যাচিং করা শেখাতে পারি। দুইটা Shape এর মধ্যে আইডেন্টিফিকেশন শেখানো যেতে পারে।
৫. বিভিন্ন ধরণের অভিবাদন (Greetings) শেখানোঃ
সালাম দেয়া, হাত নাড়িয়ে হ্যালো বলা, হ্যান্ডশেক করা, বাই বাই বলা। এই অভিবাদন গুলো প্রতিদিনই পরিবারের সবাই সবসময় প্র্যাক্টিস করা।
৬. অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ (Gestural Imitation):
শিশুরা সবসময়ই অনুকরণ প্রিয়। তারা প্রায় সবকিছুই অনুকরণের মাধ্যমে শেখে। বিভিন্ন ইমোশনাল এক্টিভিটি অনুকরণ শেখানো যেতে পারে। যেমনঃ ব্যাথা পাওয়া, কান্না করার অভিনয় করা। বিভিন্ন ধরণের মুভমেন্ট অনুকরণ। যেমনঃ হামাগুড়ির অভিনয়, ব্রাশ করার অভিনয়, চুল আঁচড়ানোর অভিনয় ইত্যাদি।
৭. বডি পার্টস চেনানোঃ
আয়নার সামনে বসে নাক, কান ,মুখ ইত্যাদি বডি পার্টস চেনানোর চেষ্টা করা।
৮. পুনরাবৃত্তি এবং যোগ করাঃ
আপনার শিশু যদি কখনো কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ বলে তবে তৎক্ষণাৎ তা পুনরাবৃত্তি করতে হবে। যেমনঃ শিশু যদি বলে “আম” তাহলে সাথে সাথেই বলতে হবে “আম”, তুমি আম খাবে?
৯. নাম ধরে ডাকাঃ
বাইরে থেকে আসলে জোরে জোরে শিশুর নাম ধরে ডাকতে হবে। তাহলে সে নিজের নামে নিজেকে চিনতে পারবে। নাম ধরে ডাকার সময় একটু টেনে টেনে লম্বা সুরে ডাকতে হবে।
১০. শব্দের প্রতিধ্বনি করাঃ
শিশু অর্থপূর্ণ শব্দ না করলেও সে যা উচ্চারণ করে তা ইকো করা। এতে করে কমিউনিকেশন প্রোসেস সহজ হবে।
১১. চেষ্টা করা সবকিছু গণনা করাঃ
হাতের কাছে যা কিছু পাওয়া যায় সেটাই গণনা করা। যেমন ১ টি আম, ২ টি আম ইত্যাদি।
১২. লুকোচুরি খেলাঃ
লুকোচুরি খেলা বা Peek-a-boo খেলা শিশুর Eye contact ও কমিউনিকেশন করতে অনেক হেল্প করে। সুযোগ পেলেই এই খেলাটি করার চেষ্টা করতে হবে।
১৩. সক পাপেট বা মোজা দিয়ে অনুকরণ মূলক খেলাঃ
পায়ে পরা মোজার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে পুতুলের মতো অনুকরণ করে খেললে শিশু খুব মজা পায় এবং Eye contact করার চেষ্টা । সেও হাতে নিয়ে খেলতে আগ্রহ দেখায়। যা কমিউনিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
১৪. ফল ও সবজির নাম শেখানোর চেষ্টা করে করাঃ
সাধারণত যে সকল ফলমূল ও সবজি ঘরে সহজল্ভ্য সেগুলো প্রতিনিয়ত শেখানোর চেষ্টা করা। ফলের রং, আকার এবং স্বাদ বুঝনোর চেষ্টা করা।
রুটিনের মধ্যে এই কাজগুলো রাখার চেষ্টা করতে হবে। এই এক্টিভিটি গুলো করতে তেমন কোনো স্পেশাল ইকুইপমেন্টের প্রয়োজন হয় না। বাড়িতে সচারচর ব্যাবহার্য জিনিসপত্র দিয়েই এক্টিভিটি গুলো করা সম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিদিন অল্প অল্প করে দৈনন্দিন জীবনের কাজ শিখিয়েই কেবল অটিজম জয় করা । ।। ।। আপনার শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিন।