11/09/2021
Right
I'm not high-level boy....
I am a simple boy without attitude but my style is reflection of my attitude......
11/09/2021
Right
11/09/2021
Md gazi yusuf
I'm not high-level boy....
I am a simple boy without attitude but my style is reflection of my attitude......
09/05/2021
❣️❣️السلام عليكم ؤرحمة الله ؤبركاته❣️❣️
💐_________________________________________💐
হাদিসে কি নারীদেরকে ভোগ্যপণ্য বলা হয়েছে??
----------------------------------------------------------------------
নাস্তিকদের দাবিঃ
“নারীকে ভোগ্যপণ্য বলেছেন নবী। নবী মুহাম্মদ বলেছেন, নারী হচ্ছে একটি উপভোগ্য উপকরণ বা ভোগ্য পণ্য। নারীর সৃষ্টি যদি পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য হয়ে থাকে, তা অবশ্যই নারীকে একটি স্বাধীন এবং স্বাভাবিক সত্ত্বা হিসেবে চিহ্নিত করে না, বরঞ্চ পুরুষের জন্য একটি উপভোগ্য বস্তু হিসেবে নির্দেশ করে, একটি যৌনযন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে।”
জবাবঃ
ইসলামবিরোধীরা একটি হাদিস দেখিয়ে দাবি করে নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) নাকি নারীদেরকে ভোগ্যপণ্য বলতেন! হাদিসটি হচ্ছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ"
অর্থঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অনুবাদ] [1]
নাস্তিকদের বিভিন্ন ব্লগে ও ফেসবুক লাইভে এই হাদিস উল্লেখ করে লাগাতার এই দাবি করা হয়ঃ ইসলামে নারী শুধু ‘ভোগ্যপণ্য’, ইসলামে নারী শুধুমাত্র পুরুষের ‘যৌনযন্ত্র’ (নাউযুবিল্লাহ)।
তাদের এহেন দাবির জবাবে আমরা যা বলবোঃ
প্রথমতঃ
হাদিসের সরল অনুবাদেই এটা দেখা যাচ্ছে যে এখানে পুণ্যবতী নারীকে উত্তম বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছেঃ “দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী”। অর্থাৎ এই অনুবাদ থেকেও এটি বোঝা যাচ্ছে যে এখানে নারীর পুণ্যময়তাকে তথা নারীর গুণকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নারীকে শুধুই “ভোগ্যবস্তু” বা “যৌনযন্ত্র” বলা যদি হাদিসের উদ্যেশ্য হতো, তাহলে নারীর গুণকে মূল্যায়ন করা হতো না। বরং নারীর শারিরীক সৌন্দর্য বা এই জাতীয় বিষয়াদীর দিকে ইঙ্গিত করা হতো। তা না করে এখানে নারীর পুণ্যময়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাদিস থেকে নারীকে পুরুষের ‘যৌনযন্ত্র’ বোঝানো হয়েছে - এমন ব্যাখ্যার জন্য অনেক বড় মাপের কল্পনাবিলাসী হওয়া প্রয়োজন। স্বাভাবিক মানুষ এমন বাজে কল্পনা করে না। তবে নাস্তিক-মুক্তমনাদের থেকে এমন কল্পনা আসা অস্বাভাবিক কিছু নয় বৈকি!
দ্বিতীয়তঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে অনূদিত মুসলিম শরীফে আলোচ্য হাদিসে مَتَاعٌ (মাতা’) শব্দের অনুবাদ করা হয়েছে ‘উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য)’। مَتَاعٌ (মাতা’) শব্দ দ্বারা কী বোঝানো হয় তা আলোচনা করতে গিয়ে ইমাম কুরতুবী(র.) বলেছেন,
وكل منافع الدنيا متاع . قال أبو جعفر النحاس : وهذا شرح حسن من قول إمام من أئمة المسلمين ، وهو موافق للغة . والمتاع في كلام العرب : المنفعة ؛ ومنه أمتع الله بك . ومنه فمتعوهن .
অর্থঃ পৃথিবীতে উপকারী যে কোনো কিছুই ‘মাতা’ (متاع)। আবু জাফর নাহহাস [প্রখ্যাত মিসরীয় ব্যাকরণবিদ] বলেছেন, এটিই মুসলিম উম্মাহর ইমামদের মধ্য থেকে একজন ইমাম প্রদত্ত উত্তম ব্যাখ্যা। এটিই (আরবি) ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আরবিভাষীদের কথামালায় ‘মাতা’ (متاع) এর মানে হলোঃ “উপকারী জিনিস”। উদাহরণঃ “আল্লাহ তোমাকে উপকৃত/সুখী করুন।” আরো একটি উদাহরণঃ “তোমরা তাদের উপকার করো।” [2]
আমরা আরবি ভাষায় শব্দটির ব্যবহার দেখলাম। যা থেকে উপকার লাভ করা যায়, আরবি ভাষায় সেটিই হচ্ছে مَتَاعٌ (মাতা’)। হাদিসে বোঝানো হয়েছেঃ একজন পুণ্যবতী নারী হচ্ছেন এমন একজন যার থেকে পৃথিবীতে সব থেকে বেশি উপকার লাভ করা যায়।
তৃতীয়তঃ
হাদিসে পুরো পৃথিবীকেই ‘মাতা’ (متاع) বলা হয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীর সব কিছুই এর মাঝে শামিল। [3] হাদিসের মাকসাদ যদি এমনই হতো যে নারীকে আলাদা করে একটা 'ভোগ্যপণ্য' বলা হবে, তাহলে পুরো দুনিয়ার (الدنيا) কথা বলা হতো না। এখানে হাদিসে পুরো পৃথিবীকেই উপকারের আধার (الدنيا متاع) বলা হয়েছে আর এর মাঝে সব থেকে উপকারী হচ্ছে পুণ্যবতী নারী, সে কথাটি বোঝানো হচ্ছে। এ হাদিসটিতে মোটেও নারীজাতিকে তুচ্ছ করার উদ্যেশ্য নেই বরং পূণ্যবতী নারীর গুণকেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যে হাদিসে নারীজাতির গুণকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, সেই হাদিসকে উল্টো নারীর প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করে নাস্তিক-মুক্তমনারা। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগগুলোর আসল অবস্থা কীরূপ।
চতুর্থতঃ
আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল উসাঈমিন(র.) বলেছেন,
إذا وفق الإنسان لامرأة صالحة في دينها ، وعقلها : فهذا خيرُ متاع الدنيا ؛ لأنها تحفظه في سره ، وماله ، وولده ، وإذا كانت صالحة في العقل أيضاً : فإنها تدبر له التدبير الحسن في بيته ، وفي تربية أولادها ، إنْ نظر إليها : سرَّته ، وإن غاب عنها : حفظته ، وإن وَكل إليها أمرَه : لم تخنه ، فهذه المرأة هي خير متاع الدنيا ، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم : ( تنكح المرأة لأربع : لمالها ، وحسبها ، وجمالها ، ودينها ، فاظفر بذات الدين تربت يداك ) يعني : عليك بها ؛ فإنها خير من يتزوجه الإنسان ، فذات الدين وإن كانت غير جميلة الصورة : لكن يجمِّلها خلُقها ، ودِينُها .
অর্থঃ কারো যদি দ্বীন এবং মনের দিক থেকে একজন পুণ্যবতী স্ত্রী থাকে, তাহলে তা হবে পৃথিবীর সব থেকে উত্তম সম্পদ। কারণ সে তার গোপনীয়তা রক্ষা করে, তার ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে হেফাজত করে। সে যদি বিবেক-বুদ্ধির দিক থেকেও পুণ্যবতী হয়, তাহলে সে তার গৃহের উত্তম ব্যাবস্থাপনা ও সন্তান লালন-পালনের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে। স্বামী তার দিকে তাঁকালে তাকে আনন্দিত করে, আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে (সন্তান, সম্পদ, ও আমানত ইত্যাদি) হেফাজত করে। তাকে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা হলে এর খেয়ানত করে না। এমন নারী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এ জন্যই নবী(ﷺ) বলেছেন, “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (বুখারী ৫০৯০) এর মানে হলোঃ তোমাকে এটি (দ্বীনদারীকে প্রাধান্য প্রদান) করতেই হবে। এমন নারীই বিবাহের জন্য সব থেকে উত্তম। তার চেহারা যদি সুন্দর নাও হয়ে থাকে, তার চরিত্র এবং দ্বীন তাকে (প্রকৃত) সুন্দর করে তোলে। [4]
এখানে অন্য একটি হাদিসের সাহায্যে আলোচ্য হাদিসটির ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে, নারীর সৌন্দর্যের থেকেও তার দ্বীনদারী বড়। একজন নারী যদি চেহারার দিক থেকে সুন্দরী নাও হয়ে থাকেন, তাঁর গুণাবলীই তাঁকে সৌন্দর্যণ্ডিত করে তোলে। জীবনসঙ্গিনী হিসাবে এমন নারীকেই বেছে নিতে বলা হয়েছে। আমরা এখানে লক্ষ করলাম যে নারীর দৈহিক সৌন্দর্য নয় বরং তাঁর কর্মকেই এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এই হচ্ছে হাদিস বিশারদদের ব্যাখ্যা। যে হাদিসে এভাবে একজন নারীকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সেই হাদিস থেকেই নাস্তিক-মুক্তমনারা বুঝেছেন নারীরা “যৌনযন্ত্র”, “পুরুষের ভোগ্যপণ্য” ইত্যাদি।
আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দিন।
পঞ্চমতঃ
নাস্তিক-মুক্তমনারা এরপরেও হয়তো দাবি করবেনঃ তারা তো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ উল্লেখ করেছেন, আর সেখানে তো ‘ভোগ্যপণ্য’ই বলা আছে!
এর জবাবে আমরা বলবোঃ অনুবাদটি ভালো করে খেয়াল করে দেখুন। এমনকি ঐ অনুবাদেও নারীকে ‘ভোগ্যপণ্য’ বলা হয়নি বরং দুনিয়াকে ‘ভোগ্যপণ্য’ বলা হয়েছে। সে অনুবাদে বলা হয়েছেঃ
“দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।”
দুনিয়ার ক্ষেত্রে যে শব্দটি ব্রাকেট দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীর ক্ষেত্রে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। আমরা জানি যে কর্তাভেদে শব্দের ভিন্ন প্রয়োগ ঘটে। দুনিয়া একটি জড়বস্তু, নারী জড়বস্তু নয়। অনুবাদ করতে গিয়ে দুনিয়ার ক্ষেত্রে যে বিশেষণটি ব্রাকেট দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীর ক্ষেত্রে সেটি উল্লেখ হয়নি। অথচ নাস্তিক-মুক্তমনারা অবলীলায় দুনিয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা বিশেষণটি নারীর উপর লাগিয়ে দিয়ে নবী(ﷺ) এর বদনাম করলেন!
আমরা এই দাবি করছি না যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ ভুল। ‘মাতা’ (متاع) শব্দের অর্থ করতে গিয়ে সেখানে যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোও ঐ শব্দের সঠিক অনুবাদ। কিন্তু আমরা এটিও মনে করিয়ে দিতে চাই যে, সব সময়ে হাদিসের একটিমাত্র অনুবাদ দেখেই আকিদা বা মাসআলা নেয়া যায় না, হাদিসের মূলভাব বোঝা যায় না (আর যে মূলভাব বোঝা যায় তাকেও অনেক সময়ে নাস্তিক-মুক্তমনারা অপব্যাখ্যা করেন, তিলকে তাল বানান)। আমরা একটু আগেই দেখেছি আলোচ্য হাদিসে ভাষাগতভাবে ঐ শব্দের অর্থ কীরূপ হয়। আমরা আরো দেখেছি একজন হাদিস বিশারদ কিভাবে অন্য হাদিসের সাহায্যে আলোচ্য হাদিসটির ব্যাখ্যা করেছেনঃ ঐ হাদিসে একজন নারীর সৌন্দর্যের চেয়েও তার দ্বীনকে, তাঁর গুণকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারীকে মোটেও “যৌনযন্ত্র”, “ভোগ করার পণ্য” এইসব বোঝানো হয়নি। হাদিসের একটি অনুবাদ মানে একজন অনুবাদকের নিজস্ব বুঝ। আমরা ঐ একই হাদিসের আরো কয়েকটি অনুবাদ দেখতে পারি।
“The whole world is a provision, and the best object of benefit of the world is the pious woman.” [5]
এখানে ‘মাতা’ (متاع) শব্দের অনুবাদে একবার Provision (সংস্থান) এবং আরেকবার Object of Benefit (এমন জিনিস যা থেকে উপকার লাভ করা যায়) বলা হয়েছে। ‘ভোগ্যপণ্য’ বলা হয়নি।
হাদিসগ্রন্থ অনুবাদের ক্ষেত্রে এদেশের উল্লেখযোগ্য একটি প্রকাশনা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’ এর সহীহ মুসলিম অনুবাদে হাদিসটি এভাবে আছে—
“আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ দুনিয়ায় সব কিছুই সম্পদ। তবে দুনিয়ার মধ্যে সব চাইতে উত্তম সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।” [6]
নাস্তিক-মুক্তমনাদেরকে প্রায়শই প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের (হাফিযাহুল্লাহ) বিভিন্ন বক্তব্যকে উদ্ধৃত করতে দেখা যায়। [ যদিও তারা এটি করে ইসলামকে হেয় করার উদ্যেশ্যে। ] শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর ‘উপদেশ’ বইতে এই হাদিসকে এভাবে অনুবাদ করেছেন—
‘সম্পূর্ণ পৃথিবী সম্পদ। আর পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হচ্ছে সৎ চরিত্রবান নারী’
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮৩) [7]
তিনি এখানে অনুবাদ করেছেনঃ ‘সম্পদ’। অর্থাৎ একজন পুণ্যবতী নারী হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এই অনুবাদে ‘ভোগ্যপণ্য’ নেই।
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ) অনুবাদেও সহীহ মুসলিমের এই হাদিসটি রয়েছে। সেখানে এর অনুবাদ এভাবে করা হয়েছেঃ
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়ার সমস্ত কিছুই (তুচ্ছ ও ক্ষণস্থায়ী) ধন-সম্পদ। (তন্মধ্যে) মুসলিম সতীসাধ্বী রমণী সর্বশ্রেষ্ঠ ধন। ‘[8]
প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর সুবিখ্যাত ‘মাসিক আত-তাহরীক’ পত্রিকায় আলোচ্য হাদিসের অনুবাদ এভাবে করেছেনঃ
‘দুনিয়াটাই সম্পদ। যার সেরা সম্পদ হ’ল পূণ্যশীলা স্ত্রী’। [9]
এখানে আমরা বাংলায় আরো একটি অনুবাদে দেখলাম ‘ভোগ্যপণ্য’, ‘উপভোগের উপকরণ’ এমন কোনো শব্দ নেই। বরং এখানে পূন্যশীলা স্ত্রীকে সেরা সম্পদ বলা হয়েছে। অধিকাংশ বাংলা অনুবাদেই এখানে পূণ্যবতী নারীকে পৃথিবীর সেরা সম্পদ বলে অর্থ করা হয়েছে। একজন নারীকে কী পরিমাণ মর্যাদা দিয়ে ও কদর করে ‘সম্পদ’ বলে অভিহীত করা হয় এর উদাহরণ বাংলা সাহিত্যেও দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পের বিখ্যাত একটা লাইন উল্লেখ করছি—
“কিন্তু, সে যে আমার সাধনার ধন ছিল ; সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।” [10]
আলোচ্য হাদিসেও এভাবে পুণ্যবতী নারীর কদর করা হয়েছে। উপরের ব্যাকরণগত আলোচনা, অনেকগুলো বাংলা অনুবাদের উদাহরণ থেকে এটি পরিষ্কার যে হাদিসের মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র নাস্তিক-মুক্তমনারা উপস্থাপন করেছে। এমনকি যে অনুবাদটি তারা উল্লেখ করে, সেটিকেও তারা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। এতোগুলো অনুবাদের বিপরীতে গিয়ে এরপরেও যদি নাস্তিক-মুক্তমনারা একটি অনুবাদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এই দাবি করতে চায় যে ইসলামে নারীকে ‘ভোগ্যপণ্য’ বলা হয়েছে – তাহলে এটি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতাকেই প্রমাণ করবে।
ষষ্ঠতঃ
এই হাদিসের কথা যদি বাদও দেয়া হয়, ইসলামে নারীদেরকে কি পুরুষের ভোগ্যপণ্য বলা হয়েছে? নাকি অন্য কিছু বলা হয়েছে?
আল কুরআনে বলা হয়েছে,
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
অর্থঃ “মু’মিন পুরুষ আর মু’মিন নারী পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, নামায ক্বায়িম করে, যাকাত দেয়, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। তাদের প্রতিই আল্লাহ করুণা প্রদর্শন করবেন। আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাবান।” [11]
ভোগ্যপণ্য তো দূরের বস্তু, আল কুরআনে মুমিন পুরুষ ও নারীকে পরস্পরের বন্ধু বলা হয়েছে। প্রিয় পাঠক, বাস্তবতার সাথে নাস্তিক-মুক্তমনাদের ইসলামবিরোধী অপপ্রচারগুলোর একটু তুলনা করে দেখুন।
সহীহ বুখারীর একটি হাদিসে উল্লেখ আছে,
“…উমার (রাঃ) আরও বললেন, আল্লাহর কসম! জাহেলী যুগে নারীদের কোন আধিকার আছে বলে আমরা মনে করতাম না। অবশেষে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে যে বিধান নাযিল করার ছিল তা নাযিল করলেন এবং তাদের হক হিসেবে যা নির্দিষ্ট করার ছিল তা নির্দিষ্ট করলেন। …” [12]
ইসলামপূর্ব জাহেলী যুগে নারীদের অধিকার বলতে কোনো কিছু ছিলো না। আল্লাহ তা’আলা কুরআনের আয়াত নাজিল করে নারীদের হক (অধিকার) প্রতিষ্ঠিত করলেন। ইসলামপূর্ব জাহেলী যুগে নারীরা আক্ষরিকভাবেই পণ্যদ্রব্যের মতো ছিলো। পিতার স্ত্রী অর্থাৎ মা পর্যন্ত তাদের কাছে পণ্যের মতো ছিলো। উত্তরাধিকার সূত্রে অন্য পণ্যদ্রব্যের মতো বাবার নিকট থেকে তারা তার স্ত্রী অর্থাৎ মায়েরও মালিকানা লাভ করতো! জাহেলিয়াতের যুগে পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে পুত্ররা বিনা দ্বিধায় বিয়ে করে নিত। [দেখুনঃ বুখারীঃ ৪৫৭৯] আল্লাহ তা'আলা এই নির্লজ্জ কাজটি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন এবং একে 'আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ বলে অভিহিত করেছেন। [13] নারীর পণ্যায়নের এই অশ্লীল রীতিকে নিষিদ্ধ করে আল্লাহ নাজিল করেছেনঃ
وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا
অর্থঃ “নারীদের মধ্যে তোমাদের পিতৃ পুরুষ যাদেরকে বিয়ে করেছে, তোমরা তাদেরকে বিয়ে করো না, তবে পূর্বে যা সংঘটিত হয়েছে (সেটা ক্ষমা করা হলো) নিশ্চয় তা ছিল অশ্লীল, মারাত্মক ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট পন্থা।” [14]
পরিশেষ বলবো, যে ইসলাম নারীকে পণ্যদ্রব্যের মতো অবস্থা থেকে মানুষের মর্যাদায় উন্নীত করেছে, সেই ইসলামের নামেই এখন উল্টো নারীকে পণ্য বানানোর অপবাদ দিচ্ছে নাস্তিক-মুক্তমনারা। তারা ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর নামে যে চিত্র উপস্থাপন করে তা খণ্ডিত, অপব্যাখ্যায় পূর্ণ এবং প্রকৃত সত্য থেকে বহু দূরের কোনো চিত্র। আমরা আল্লাহর নিকট তাদের সংশোধণ এবং হেদায়েত কামনা করি।
✍️
07/05/2021
আসসালামু আলাইকুম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
❝জিকিরের সংজ্ঞা ও তাৎপর্য ❞
পার্টঃ(১)
‘জিকির’ আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থঃ- স্মরণ করা।
ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়ঃ- আল্লাহকে স্মরণ করার নামই জিকির।
সব মানুষের উচিৎ তার কথা-বার্তায়, কাজ-কর্মে, আচার-আচরণে ও চিন্তা-ভাবনায় সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করা। যারা সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তারা আল্লাহর ‘ওলী’ বা প্রিয় বান্দা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং সব কিছুর নিয়ামক। আমরা তাঁরই বান্দা এবং তিনি আমাদের রব। তিনি আমাদেরকে তাঁরই ইবাদত ও বন্দেগীর জন্য সৃষ্টি করেছেন।
যেমন আল্লাহর বাণীঃ-
ؤماَ خَلَقْتُ الْجِنَّ ؤالْاِنْسَ اِلاَّ لِيَعْبُدُوْنِ___
অর্থঃ- ❝আমি জ্বিন ও ইনসানকে একমাত্র আমার ‘ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।❞
আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে রয়েছে মানুষের পরম সুখ ও চরম শান্তি। মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভ করতে চায়। বান্দা তার রবের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। আর এই যোগসূত্রের একমাত্র উপায় হলোঃ-
❝আল্লাহর জিকির বা আল্লাহর স্মরণ।❞
উল্লেখ্য যে,, বান্দা সবসময় আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তাঁর কুরবত বা নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হয়। আয়াহকে যে ব্যক্তি সবসময় স্মরণ করে, তাকে ‘জিকির’ বা আল্লাহর স্মরণকারী বলা হয়।
❝জিকিরের প্রকারভেদ❞
জিকির বা আল্লাহর স্মরণ ‘দুইভাবে’ করা যায়। এজন্য জিকিরকে দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়,,। যথাঃ-
১/জিকিরে লিসানী বা মুখ দিয়ে জিকির এবং
২/জিকিরে কলবী বা অন্তর দিয়ে জিকির।
১... জিকিরে লিসানীঃ-
লিসান শবের অর্থ- জিহবা বা বাক-যন্ত্র। তাই ‘জিকিরে লিসানী’ অর্থঃ-
জিহবা বা বাক-যন্ত্রের সাহায্যে আল্লাহর জিকির করা। মানুষ মুখ দিয়ে আল্লাহর জিকির করে থাকে। কথা ও কাজের মাঝে অন্য সময়ে মুখে আল্লাহর জিকির করে, যার কুরবত বা নৈকট্য হাসিল করা যায়। মুখে আল্লাহর জিকির যতো করা যাবে, ততই আল্লাহর প্রতি মহাব্বত বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ)- ইরশাদ করেছেনঃ-
لاَ يَزاَلُ لِساَنُكَ رُطَباً مِنْ ذِكْرِاللّٰهِ،،،،،(رؤاه الترمذي)
অর্থঃ- ❝সদা-সর্বদা বা সবসময় তোমার জিহবা যেনো আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে,,,,,।❞
২... ❝জিকিরে কলবীঃ❞-
কালব শব্দের অর্থঃ- অন্তর। তাই জিকিরে কালবী অর্থঃ- অন্তর দিয়ে আল্লাহর জিকির করা। মন দিয়ে আল্লাহর জিকির যতো করা যায়, ততই হৃদয়ে আল্লাহর মহাব্বত সৃষ্টি হয়। ফলে, মানুষ তার মনে সব সময় আল্লাহর স্মরণ করতে পারে। দুনিয়ার কোনো বিপদ-আপদ, বালা-মসীবত, সুখ-দুঃখ কিছুই তাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখতে পারে না। সে তার অন্তরে লাভ করে অনাবিল শান্তি। এ মর্মে আল্লাহর বানীঃ-
اَلاَ بِذِكْرِ اللّٰهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوْبُ،،،،،
অর্থঃ- ❝জেনে রাখো! কেবল আল্লাহর জিকিরেই অন্তর বা আত্মা প্রশান্তি লাভ করে।❞
✍️
07/05/2021
❝আস-সালামু আলাইকুম ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু,,,,,,,,,,,,,,,,,,🌿🌿🌿,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।।❞
---------------------💐💐💐------------------🌱🌱-----------
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ। মাহে রমজানের শেষ জুমার দিন মুসলিম বিশ্বে ‘জুমাতুল বিদা’ নামে পরিচিত। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন রমজান মাসের শেষ জুমা হিসেবে ‘আল-কুদস দিবস’ পালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। করোনাভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মুসলিম উম্মাহ আজ জুমার নামাজ শেষে মহান আল্লাহ’র কাছে বিশেষ দোয়া করবেন। ইসলামের সূচনাকালে মদিনায় যখন রমজানে রোজার বিধান নাজিল হয়, তখন থেকেই প্রতিবছর রমজানের শেষ জুমাকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে আদায় করে আসছে মুসলিম উম্মাহ। যারা মসজিদে জুমার জামাতে যাবেন তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানবেন।
*..❝হাদিসে আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলীম)।
বিশ্ব মুসলিমের কাছে সপ্তাহের অন্য দিনের চেয়ে শুক্রবারের মর্যাদা অধিক। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসা রমজান মাসের শুক্রবারগুলোর মর্যাদা আরো অধিকতর। শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানকে এক বছরের জন্য বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়।
এ দিনটিতে মুসল্লিরা আগে আগে মসজিদে যাবেন। জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করবেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় যত ভুলত্রæটি হয়েছে তার জন্য ক্ষমা চাইবেন, আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের কামনায় চোখের পানি ঝরাবেন। দোজখের আগুন থেকে বাঁচার আকুতি জানাবেন। জীবনের পথ যেন কল্যাণময় হয় তার জন্য হাত তুলবেন।
জুমাতুল বিদাসহ মাহে রমজানের প্রত্যেক জুমাবারে ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ থাকে। পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজ জামাতে আদায়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর।’ (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত-৯)
রমজান মাসের সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা, যা মাহে রমজানে পরিসমাপ্তিসূচক শেষ শুক্রবারে পালিত হয়। এদিন মুমিন মুসলমানদের ঈমানি সম্মিলন হয়। এদিনে এমন একটি সময় আছে যে সময় মুমিন বান্দার মোনাজাত ও ইবাদত আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন। এ সময়টি হলো দ্বিতীয় খুতবার আজানের সময় থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমাবার সর্বাধিক মর্যাদাবান ও নেতৃত্বস্থানীয় দিন। এ পুণ্য দিনে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। এদিন তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এদিন তিনি পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করেন। এদিন তাঁর ইন্তেকাল হয়। এদিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মিশকাত)
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান রমজান মাস পেল, কিন্তু সারা বছরের গুনাহখাতা মাফ করিয়ে নিতে পারল না, তার মতো হতভাগা আর নেই।’ জুমাতুল বিদার বিশেষ তাৎপর্য এই যে রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল্লাহর নবী হজরত দাউদ (আ.)-এর পুত্র মহামতি হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আল্লাহর মহিমা তুলে ধরতে সেখানে পুননির্মাণ করে গড়ে তোলেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববির পর তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হচ্ছে ‘বায়তুল মোকাদ্দাস’ বা ‘মসজিদ আল-আকসা’।
✍️
আমল ভালো হলে জীবন ধন্য, আর আমল খারাপ হলে জীবন বরবাদ হয়ে যায়। খারাপ আমল করে পৃথিবীতে সাময়িক লাভবান বা আনন্দ পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভালো আমলে পৃথিবী ও আখেরাতের মঙ্গল নিহিত। কোনোক্রমেই অতিরিক্ত বা অন্য কোনো কর্ম করার সুযোগ ইসলামে নেই।
নিম্নে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
১. গায়রুল্লাহর কাছে দোয়া করা : পবিত্র কুরআনে আছে, ‘আর তাঁকে ছেড়ে এমন কাউকে ডেক না, যে না তোমার উপকার করতে পারে, আর না কোনো তি করতে পারে। আর যদি তা করো তবে অবশ্যই তুমি জালেমদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’। (সূরা ইউনুস-১০৬)
রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার কোনো সমককে ডাকা অবস্থায় মারা যাবে তাহলে সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। (বুখারি)
২. গায়রুল্লাহর নামে জবেহ করা : পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও জবাই করো। (সূরা কাওছার-২)
রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নামে জবাই করে, আল্লাহ তার ওপর লানত করেন’। (মুসলিম)
৩. গায়রুল্লাহরনজর-নেয়াজ করা : নৈকট্য হাসিল ও ইবাদতের নিয়তে কোনো সৃষ্টিকে নজর-নেয়াজ দেয়ার রেওয়াজ আমাদের সমাজে দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে সন্তান কামনায় মাজারে গিয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা করে। এটা তাওহীদের পরিপন্থী এবং স্পষ্ট শিরক।
৪. কবরের চার পাশে তওয়াফ করা : নৈকট্য হাসিল বা ইবাদতের নিয়তে কবরের চার পাশে তওয়াফ করা যাবে না। কারণ তাওয়াফ কেবল কাবা শরিফের সাথেই নির্দিষ্ট। বান্দার উপাসনা বা দাসত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য। সালাত, সিয়াম, জিকির, সাহায্য কামনা, সন্তান ও রোগমুক্তি কামনা, মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করা, অকল্যাণ দূর করার জন্য দোয়া একমাত্র আল্লাহর কাছে করা যাবে। কবরবাসীর কবর তওয়াফ করে তার মাধ্যমে নিজের বাসনা পূরণের কাকুতি শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
৫. গায়রুল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা : আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ওপর কোনো ব্যাপারে নির্ভরতা ও ভরসা করা যাবে না। সব কাজের সাহায্যদাতা একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা ভরসাকারীদের জিম্মাদার হয়ে যান।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাঁর ইবাদত করো এবং তাঁর ওপর ভরসা করো’। (সূরা হূদ-১২৩)
৬. ইসলাম প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়কে অপছন্দ করা : পবিত্র ইসলাম ধর্মের কোনো রীতি-নীতি, ইবাদত, সিদ্ধান্ত প্রভৃতিকে অপছন্দ করা যাবে না। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ফয়সালা ও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা যাবে না। আল্লাহ কর্তৃক পরিপূর্ণ হিসেবে ঘোষিত ইসলামে সব বিষয়ের ফয়সালা রয়েছে। এমন কিছু করা হলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের সব আমল বিনষ্ট করে দেবেন।
৭. ইসলামের হুকুম-আহকাম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা : পবিত্র কুরআন ও সহি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত ইসলামের কোনো হুকুম-আহকাম নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা ঈমানদারের কাজ নয়। অনুরূপভাবে আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সা.) ও পবিত্র কুরআন সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ, বিরোধিতা করা, হাসি-ঠাট্টা করা যাবে না। এসব কিছু কুফরি কালাম। আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল সা: ও কুরআন কারিমের সাথে হাসি-তামাশা করার এখতিয়ার কাউকে দেয়া হয়নি।
৮. আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ও সিফাতসমূহ অস্বীকার করা : তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত বা আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে একত্ব, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, মহত্ত্ব ও সৌন্দর্য যাবতীয় গুণাবলিতে এক, একক ও নিরঙ্কুশভাবে পূর্ণতার অধিকারী।
পবিত্র কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘কোনো বস্তুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা’। (সূরা শুরা-১১)
অন্যত্র আছে, ‘তোমরা কি পরিবর্তন করতে চাও নিকৃষ্ট বস্তুকে উত্তম বস্তু দ্বারা’। (সূরা বাকারাহ-৬১)
৯. বিচারকাজে কুফরি মত অবলম্বন করা : আল্লাহ কেবল স্রষ্টাই নন, তিনি সৃষ্টিরাজি প্রতিপালনও করেন।
পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় করো; আর আমার বিধানসমূহের বিনিময়ে (পার্থিব) সামান্য বস্তু গ্রহণ করো না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবতারিত (বিধান) অনুযায়ী হুকুম (বিচার) না করে, তাহলে এমন লোক তো পূর্ণ কাফের’। (সূরা মায়িদাহ- ৪৪)
১০. হারামকৃত বিষয়কে হালাল বা হালালকৃত বিষয়কে হারাম করা : মহান আল্লাহ যেসব বিষয়কে হারাম করেছেন তা চিরদিনই হারাম, আবার যা হালাল করেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল। কিন্তু তাবিল করে (বিকৃত ব্যাখ্যা) হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম করার কোনো অধিকার মানুষকে দেয়া হয়নি।
إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا[النساء:48
03/05/2021
যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার গুনাহ মাফ চেয়ে নিতে পারেনাই সে ধ্বংস হোক ....
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
.................. আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই রমজান মাসে সকলের গুনাহ মাফ করে নেওয়ার তৌফিক দান করুক... আমিন। 🤲🤲🤲
02/05/2021
اللهم اتنا في الدنيا حسنة وفي الاخره حسنة...............
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন দুনিয়ার প্রত্যেকটা জিনিস উপভোগের বস্তু উত্তম উপভোগের বস্তু হল নেককার স্ত্রী।
সবার নিকট দোয়ার দরখাস্ত আল্লাহ তা'আলা যেন আমাকে নেককার পুণ্যবতী একজন জীবনসঙ্গিনী দান করেন ।🙏🙏🙏
30/04/2021
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
---------------------🌺🌺🌺-----------------------------
জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমলঃ-
_____________________________________
অপ্রাপ্তি নয়, প্রাপ্তির সংখ্যাই ঈমানদারের জীবনে বেশি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি (নিজেদের জীবনে) আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে গুনে শেষ করতে পারবে না।’ কিন্তু আমরা জীবনের অপ্রাপ্তিগুলো নিয়ে পড়ে থাকি বলে প্রাপ্তির শুকরিয়া আদায় করতে পারি না। ফলে অশান্তি আমাদের জীবন থেকে যায় না।
দ্বীনি এবং দুনিয়াবি এমন অনেক বিষয় আছে, উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে যা একমাত্র আমরাই পেয়েছি। অন্য নবীর উম্মতরা পাননি। তন্মধ্যে একটি হলো জুমার দিন। হাদিস শরিফে এই দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
জুমার দিন শুধু এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য : হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, নবীজী সা: বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিষ্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পরে রাখলেন। দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের পরে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সব সৃষ্টির আগে থাকব (মুসলিম-১৪৭৩)।
জুমার দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন : হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, নবীজী সা: বলেছেন, পৃথিবীর যত দিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদম আ:-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে (মুসলিম-৮৫৪)।
সপ্তাহের সেরা দিন : রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)।
গুনাহ মাফের দিন : রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হবে (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)।
প্রতি কদমে এক বছরের নেকি লাভ : নবীজী সা: ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করে আগে আগে মসজিদে যায় এবং বাহনে না চড়ে হেঁটে যায়। ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে ইমামের আলোচনা শোনে, অনর্থক কাজ না করে, তবে তার প্রতি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা এক বছর সিয়াম ও কিয়ামের সাওয়াব দান করেন (তিরমিজি-হাদিস : ৪৫৬)।
শুক্রবার মুসলমানদের ঈদের দিন : রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, এই দিন অর্থাৎ জুমার দিনকে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন (সহিহ ইবনে মাজাহ-৯০৮)।
কবরের আজাব থেকে নাজাত : হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, কোনো মুসলমান শুক্রবারে রাতে কিংবা দিনে ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন (তিরমিজি-১০৭৪)।
ফজিলতপূর্ণ এই দিনের বিশেষ কিছু আমলের কথা হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি আমলের কথা উল্লেখ করা হলো।
১. প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করা ফজিলতপূর্ণ। এর মধ্যে শুক্রবারে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা বেশি ফজিলতপূর্ণ। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো শুক্রবারের ফজরের নামাজ। যা জামাতের সাথে আদায় করা হয় (সিলসিলাতুস সহিহা-৪/৯১)। ২. গোসল করা। ৩. উত্তম পোশাক পরিধান করা। ৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৫. আগে আগে মসজিদে যাওয়া : এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে আগে আগে মসজিদে যাওয়া। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো’ (সূরা জুমা, আয়াত : ৯)।
রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভী কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর মতো। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগসহকারে খুতবা শুনতে থাকেন (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)।
৬. সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা : আবু সাঈদ খুদরি রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)।
৭. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা : এই দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে নবীজীর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসূল সা: বলেন, তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)।
৮. মসজিদে এসে জিকির, তেলাওয়াত ও ইবাদত ভিন্ন অপ্রয়োজনীয় অন্য কোনো কথা না বলা : হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, নবীজী সা: বলেছেন, জুমার নামাজের খুতবার সময় তুমি যদি তোমার সাথিকে চুপ থাকতে বলো, তবে এটাও তোমার অনর্থক কাজ হবে (বুখারি-হাদিস : ৯০৬)।
৯. বিশেষ করে দোয়ার গুরুত্ব দেয়া : জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ একটি আমল হচ্ছে দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
.✍️