09/09/2023
Early to bed ,Early to rise makes a man healthy,wealthy and wise.
স্কুল জীবনে পড়া সে কথাগুলোর মাহাত্ম্য ঐ সময়ে আমরা বুঝতাম না।কিন্তু এখন হাঁডে হাঁড়ে উপলব্ধি করছি।Health is wealth সেটাও আমরা জানি।মর্মটা কজনে বুঝি আমরা বলুন।
একবার এক বিত্ত শালী ব্যাক্তি আমার কাছে চিকিৎসার জন্য এলেন ও বললেন,আমার ব্যাবসায় অনেক টাকা loss করেছি, আমার খাওয়া নাই, ঘুম নাই, আমার ভুল হয়েছে, ভুল পথে টাকা invest করেছি।অতি দ্রুত বেশী লাভের আশায়।যেমন ধরুন, বছরেই টাকাটা দ্বিগুন হয়ে যেত।হুম বুঝেছি ., লোভে পাপ , পাপে মৃত্যু। হঠাৎ তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পডলেন। আমি কিছুক্ষন নি:স্তব্দ থেকে তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার প্রয়াস চালাই। কাউন্সেলিং আমাকে ভাল জানতে হয়, পেশা ও বিষয় সম্পর্কিত বলে।
আমি বললাম শুনুন, ধৈর্য্য ধরুন।আপনি কি সুস্হ থাকতে চান , ডায়াবেটিস, প্রেসার নিয়্ন্ত্রনে না থাকলে সমস্যা হতে পারে।আচ্ছা আপনার অবস্হা কি? তিনি বললেন আমার অনেক আছে,সেদিক থেকে কোন সমস্যা নয়।তখন আমি বললাম ছোট বেলার পড়া “ Money is lost nothing is lost , But Health is lost something is lost অর্থাৎ টাকার চাইতে স্বাস্হ্যের দাম অনেক বেশী। টাকা গেলে টাকা আবার আসতে ও পারে কিন্তু স্বাস্হ্য গেলে তা ফিরে নাও পেতে পারেন। তাই আপনার যা আছে সেটা দিতেই তো ভাল থাকবেন।সুতরাং মন থেকে তা ঝেরে ফেলে দিন।সঠিক পথে ফিরে আসুন। আপনি পরিবার নিয়ে সুখী হবেন ও ভাল থাকবেন। অন্যথায় টাকাও গেছে শরীরও ঝুঁকির মধ্যে ডুবে যাবে। মনে হল আমার উপদেশটা কাজে দিয়েছে।আমাকে জডায়ে ধরে অঝোডে কাঁদলেন। এর ১মাস পর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা, উনি সহাস্য বদনে বললেন যে সে দিন থেকে এখন অনেক ভাল। যাক আমার ভাল লাগল একটা ক্ষুদ্র উপদেশে কাজ হয়েছে দেখে।
যাক যা বলতে চাচ্ছিলাম।
By the way you will treat your physique, it will return back like that way.
জীবন, যৌবন ও বয়স প্রভৃতি ধরে রাখতে হলে সুশৃংখল জীবনের কোন বিকল্প নেই।
আমাদের শরীরের Biological clock টাকে সচল রাখতে হলে আমাদের Life style ঠিক করতে হবে।সঠিক সময়ে সঠিক খাবারটা নিতে হবে অর্থাৎ Balanced diet খেতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে কিছু শারীরিক কসরৎ করতে হবে। হাঁটা শরীরের জন্য আদর্শ ব্যায়াম।এ ছাডাও কায়িক শ্রমটা খুবই জরুরী। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে।প্রতি দেড় ঘন্টা অন্তর শরীরের নডাচডাটা কাজে লাগে।না হলে রক্তটা ভারী হয়ে যায়।
সঠিক সময়ে ঘুমানো খুবই জরুরী।আমি জানি, এসব বিষয় আমরা সবাই জানি,তবে কতজনে সেটা পালন করি বা ধারণ করি বলুন।ধূমপান বা মদ্যপান যারা করেন, তারা সবাই বুদ্ধিদীপ্ত, তারা সবাই জেনে শুনে বিষ পান করছেন।তবে ছাড়ছেন না কারণ commitment এর অভাব তথা motivation এর অভাব। এ সব বিষয়ে বিষদ কাজ করার সুযোগ আছে।
আমি আমাদের daily life এর হরমোনের ভূমিকার কথা সংক্ষেপে যা বলতে চাই।
১)Cortisol নামক হরমোন রোজ ভোর বেলায় নি:সৃত হয়। তা আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগায় ও ক্ষুধার উদ্রেক করে।সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তা সর্বোচ্চ লেভেলে থাকে।আমাদেরকে কাজের চাপ নিতে সহায়তা করে।বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমতে থাকে, বিকেল ৪টায় তা অর্ধেক হয়ে যায়।পরবর্তীতে রাত ১২টায় প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে আসে।
২)Insulin শরীরে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রন করে। শরীরে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় তা থাকে। খাবার পর insulin এর একটা সার্জ হয়। এটা স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
৩)Growth hormone খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে।এটা রাতে ঘুমন্ত অবস্হায় বেশী নি:সৃত হয়।এ হরমোনটি শিশুদের শরীর বৃদ্ধির জন্য মূলত দায়ী হলেও থাইরয়েড হরমোনের ও এখানে কিছু ভূমিকা আছে।
এর পাশাপাশি পুষ্টির এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে।বর্তমানে এর ব্যাত্যয় কিভাবে হচ্ছে বা কি প্রতিক্রিয়া তা আলাদা করে পরবর্তীতে বলার ইচ্ছা আছে।
৪)ADH(Anti Diuretic Hormone) যা রাতে নি:সৃত হয়।ফলে আমাদের রাতে ঘুম থেকে প্রস্রাবের জন্য উঠতে হয় না ।
৫)Melatonin এ হরমোনটি রাতে নি:সৃত হয় pineal নামক ছোট গ্রন্হি হতে, ফলে আমরা নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকি। রাতে Cortisol level যখন কমে যায়,তখন বাতি নিভিয়ে দিলে এ হরমোন আমাদর শরীরে বাড়তে থাকে
৬)Adrenaline & Noradrenaline এ দুটি হরমোন স্বাভাবিক ভাবে রক্তচাপ , পাল্স থেকে শুরু করে শরীরের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ সুনিয়নত্রিত রাখে। এটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে Fight &Flight response।হঠাৎ উত্তেজনা বা ভীতিকর পরিস্হিতে এসব এর স্বাভাবিক মাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় চলেযায় ।
৭)আরো কিছু হরমোন আছে যার সুনির্দিষ্ট কাজের বাইরে আরো কিছু কাজ আছে, যা অতীব গুরুত্ব বহন করে বটে।
যেমন prolactin(PRL),Oxytocin । এদেরকে Love hormone নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।যার কারণে একে অপরকে hug করি।এ হরমোনগুলোও রাতে বেশী নি:সৃত হয়। যা আমাদের পারস্পরিক affection বাডায়ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে বলে ধারণা করা হয়।এ ছাড়াও আরো অনেককিছু আছে যা আজও অনাবিস্কৃত।
দৈনিক একজন স্বাভাবিক ব্যাক্তির ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে সামাজিক বা পারিবারিক কারণে তা হয়ে ওঠে না ।এর জন্য সোজাসুজি technology এর পরোক্ষ প্রভাব আছে। আমরা চাইলে এটাকে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি।আমরা যদি উপলব্ধি করি, Biological 🕰Clock যদি ঠিক রাখি , তবেই সঠিক সময়ে সঠিক হরমোন পরিমানমত নি:সরনের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে পারব যেমন উচ্চরক্তচাপ,ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,ক্যানসার, ওজনাধিক্য সহ আরো অনেক।
এজন্য পবিত্র কোরানে উল্লেখিত আছে যে আমি দিনকে সৃষ্টি করেছি কাজের জন্য, আর রাতকে নিদ্রার জন্য।
ডাঃ শাহরিয়ার আহমদ মিলন
কনভেনর
ডায়াবেটিস প্রিভেনশন এডুকেশন প্রোগ্রাম (DPEP)
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ