হয় মরো না হয় মরো
AB Recent Issues
An open platform of Recent issues those are talk of the world
05/03/2026
রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ। তার সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার মূল্যায়নের জন্য।
16/05/2025
Janoar Harpic
কাজের গতি আরো বাড়বে। আরো আরো আরো বাড়বে। ওদের ঘুম হারাম করে দিবো। পৃথিবীর সব প্রান্তে যাবো ওদের উৎখাতের জন্য। যা করা লাগে করবো। যার কাছে যাওয়া লাগে যাবো। বাংলাদেশের মাটির কাছে, দেশের আপামর জনতার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিক-মজদুর-শ্রেণীহীনদের-শোষিতদের এই দেশ ফেরত দিতে হবে। এই বাংলাদেশ শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ এক ও একমাত্র লক্ষ্য।
জয় বাংলা | জয় বঙ্গবন্ধু | বাংলাদেশ চিরজীবী হোক
ওয়াকুর কুত্তার বাচ্চাকে খালেদ মোশাররফ এর মত পরিণতি ভোগ করতে হবে।
লিখিত প্রস্তুতি :: আন্তর্জার্তিক
বিষয়াবলি (New)
★ সম্ভাব্য প্রশ্ন (বড় / সংক্ষিপ্ত / টিকা)
১। GATT কি? গ্যাট বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার
পুর্বসরি - ব্যাখ্যা করুন।
২। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এর লক্ষ্য ও
উদ্দেশ্যসমূহ হলো উল্লেখ করুন।
৩। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এর
বাণিজ্য নীতি কি? WTO এর কার্যাবলী
আলোচনা করুন।
৪। স্বল্পোন্নত দেশসমূহ ও WTO এবং উন্নত
বিশ্ব ও WTO এর মধ্যে সম্পর্ক আলোকপাত
করুন।
৫। WTO এর সাফল্য ও ব্যর্থতা মূল্যায়ণ করুন।
৬। ট্রিপস চুক্তি (TRIPs) সম্পর্কে যা জানুন
লিখুন।
৭। গ্যাট চুক্তি (GAAT) সম্পর্কে যা জানুন
উল্লেখ লিখুন।
৮। প্রিলি, সংক্ষিপ্ত বা টীকার জন্য
সহায়ক কিছু তথ্য
------------------------------------------
★ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সচিবালয়
জেনেভায় অবস্থিত এবং এর প্রধান একজন
মহাপরিচালক।বিভিন্ন ধরনের বিরোধ
নিষ্পত্তিতে ও বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার
সচিবালয় সহায়তা করে থাকে। তবে
সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন ক্ষমতা
নেই।WTO এর সবোর্চ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত
গ্রহনের দায়িত্ব মন্ত্রী পর্যায়ের
সম্মেলনের (Council of Ministers) ওপর ন্যস্ত ।
সদস্যদের সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (Council of
Ministers) অন্তত দুবছরে একবার মিলিত হয়।
★ প্রিলি, সংক্ষিপ্ত বা টীকার জন্য
সহায়ক কিছু তথ্য:
* এটি বিশ্বের বাণিজ্য সংক্রান্ত নীতি
প্রবর্তন এবং সদস্য রাষ্ট্র বা পক্ষ সমূহের
মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করতে সাহায্য করে
থাকে
* প্রতিষ্ঠিত হয় = ১ জানুযারী, ১৯৯৫
(প্রতিষ্ঠাকালীন উরুগুয়ে রাউন্ডেই সদস্য হয়
= ১২৩)
* বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ = ১০
জানুয়ারী, ১৯৯৫
* বর্তমান মহাপরিচালক = রবার্তো
আজেভেদো
* সদর দপ্তর = জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
* দাপ্তরিক ভাষা = ৩ টি (ইংরেজি,
ফ্রেঞ্চ, স্পেনিশ)
* বর্তমানে মোট সদস্য = ১৬২ টি
* 'উরুগুয়ে রাউন্ড বাণিজ্য সমঝোতার'
মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)
গঠিত হয়
* উরুগুয়ে রাউন্ডের সংলাপ হয়েছিল = ৮
বত্সর (১৯৮৬-৯৪)
* WTO এর পুর্বসরি = GATT or GATT
উত্তরাধিকারী WTO
* GATT WTO তে রূপান্তরিত হয় = ১৯৯৫ সালে
★ GATT (General Agreement on Tariffs and
Trade)
* গ্যাট মূলত কোন বাণিজ্যিক সংস্থা নয়,
এটা একটা বাণিজ্যিক চুক্তি।
* ১৯৪৭ সালে জেনেভাতে GATT চুক্তি
স্বাক্ষরিত হয়।
* উদ্দেশ্য : বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসূচী প্রণয়ন
করা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিকে
গতিশীল করা।
★ WTO এর পুর্বসরি GATT
২য় বিশ্বযুদ্ব পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রসমূহের
পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ধারণের
প্রয়োজন থেকেই GATT জন্মলাভ করে। গ্যাট
চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে চুক্তিটিকে
একটি বহুপাক্ষিক বাণিজ্য সংস্থায়
রূপান্তর করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ
প্রয়োজনেই ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল
পর্যন্ত গ্যাটের কর্তৃত্বকে আরো
শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে
চুক্তিটির আলোচনার মাধ্যমে
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (WTO) গঠনের উদ্যোগ
শুরু হয়। অবশেষে ১৯৮৬ সালে গ্যাটের
উরুগুয়ে রাউন্ড আলোচনার মধ্য দিয়েই
চুক্তিটি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় রূপান্তর
লাভ করে। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারী GATT
আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
★ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ হলো-
মূল লক্ষ্য:
* বিশ্ব বাণিজ্যের প্রসার করা
* মুক্ত বাণিজ্যের প্রসার করা
* বাণিজ্যের অ- শুল্ক বাধা সমূহ দূর করা
* বাণিজ্য আলোচনার ফোরাম হিসেবে
বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
পারস্পরিক সহায়তা নীতি:
এ নীতির অর্থ হলো বাণিজ্যের বাধাসমূহ
হ্রাস করে বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করা
অর্থাৎ এক দেশকে যখন শুল্ক ক্ষেত্রে কোন
সুবিধা প্রদান করা হবে তখন সেই দেশেও
এর বিনিময়ে সুবিধা প্রদান করবে। এ নীতি
যদিও পারস্পরিক লেনদেনের উপর
নির্ভরশীল বলে মনে হয় তবুও এটি সবদেশের
জন্য সুবিধাজনক নয়। এটা উন্নত দেশের
পারস্পরিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে যতটুকু
সুবিধাজনক অনুন্নত দেশের ক্ষেত্রে ততটুকুই
অসুবিধাজনক। যেমন: অনুন্নত দেশসমূহ
কাঁচামাল উৎপাদনকারী অপরদিকে উন্নত
দেশগুলো তৈরি দ্রব্য উৎপাদনকারী। আবার
উন্নত দেশসমূহ তৈরী করে অধিক দামে
তৃতীয় বিশ্বে বেশী দামে বিক্রয় করতে
পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নত
দেশগুলো দ্বারা মূল্য নিয়ন্ত্রিত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে পারস্পরিক সহায়তা
নীতির মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্ব প্রকৃতপক্ষে
অগ্রসর হতে পারছে না।
বৈষম্যমূলক আচরণ না করা:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির মূল কথা
হলো বৈষম্যমূলক নীতি অবলম্বন না করা,
আন্তর্জাতিক বিনিময় যেন রাজনৈতিক ও
অর্থনৈতিক ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল না
হয়ে পড়ে।
বাণিজ্য বাধা দূর করা: আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সকল বাধা রয়েছে
সেসব বাধা চিহ্নিত করে অপসারণমূলক
ব্যবস্থা গ্রহণ করা গ্যাটের অন্যতম প্রধান
নীতি।
শুল্ক কমানো:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক সংক্রান্ত
বাধাসমূহ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে সকল
দেশের সুবিধা সমান হতে হবে। অর্থাৎ সকল
দেশের বাণিজ্য শুল্কের পরিমাণ যেন একই
রকম হ্রাস পায়।
Most Favoured Nation (MFN):
যুদ্ধোত্তর বিশ্বের গ্যাট আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের দিক নির্দেশকে নীতি
হিসাবে Most Favoured Nation (MFN) নীতি
প্রবর্তন করে। এ নীতি বিভিন্ন
রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সমতা স্থাপন করে। তাই
এই চুক্তি সদস্যভূক্ত নির্দিষ্ট কোনো
দেশকে কোনো বিশেষ সুযোগ সুবিধা
প্রদান করে না। কেবলমাত্র চুক্তিভূক্ত
দেশের সামগ্রীকে একই পর্যায়ে বিবেচনা
করে।
এছাড়াও আরও কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
যেমন-উরুগুয়ে রাউন্ড চুক্তির বিভিন্ন
বিষয়ের বাস্তবায়ন কাজে তদারকি করা।
অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্যের
পরিবেশ সৃষ্টি করা। বাজারগুলোতে
ক্রমবর্ধমান প্রবেশাধিকার এবং সম্ভাব্য
প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
★ WTO এর কার্যাবলী:
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা WTO ১৯৯৫ সালে
কার্যক্রম শুরু করে। WTO ই একমাত্র বিশ্ব
সংস্থা যা বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়াবলী
আলোচনা করে। শুধু আলোচনাই করে না এ
ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করে।
কার্যাবলী সমূহ হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের
বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা করে এবং
সেগুলো সংগঠিত করে। সদস্য দেশগুলোর
মাঝে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা করে,
একটি ফোরাম হিসাবে দায়িত্ব পালন
করা। রাষ্ট্রসমূহের বাণিজ্য সংক্রান্ত
সমস্যাগুলো সমাধান করে থাকে। এ সকল
সমস্যা যেন সংঘাতে রূপ না নেয় সে
বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। সদস্য
রাষ্ট্রসমূহের বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা
করে, প্রসারিত করে এবং বৈশ্বিক
অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারনে স্বচ্ছতা এবং
সহযোগীতা নিশ্চিত করে। উন্নয়নশীল
দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য নীতি
তৈরী করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশ
গুলাকে সাহায্য করে। উন্নয়নশীল, অনুন্নত
এবং স্বল্প আয়ের দেশসমূহকে কারিগরি
সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়ম
শৃঙ্খলার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
এছাড়াও অর্থনৈতিক গবেষণা এবং
বিশ্লেষনেরও একটা কেন্দ্র হিসাবে কাজ
করে। এর মাধ্যমে নিয়মিত বার্ষিক
প্রকাশনা এবং গবেষণার রিপোর্টে
নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্যিক চিত্র
তুলে ধরা হয়। অন্যান্য বহুজাতিক
অর্থনৈতিক সংস্থা যেমন- বিশ্বব্যাংক,
আই.এম.এফ এর সাথে গভীর সহযোগীতার
সম্পর্ক রক্ষা করে।
★ WTO এর বাণিজ্য নীতিঃ
WORLD TRADE ORGANIZATION এর নিজস্ব কিছু
বাণিজ্য নীতিমালা আছে। নিম্নে
সেগুলো উল্লেখ করা হলো-
NON DISCRIMINATION:
WTO এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ২ টি প্রধাান
বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। প্রথমটি হলো অধিক
ক্ষমতাশালী জাতিগুলোর শাসন এবং
দ্বিতীয়টি হলো জাতীয় পরামর্শ প্রদান
নীতি। নিয়ম আছে যে, সদস্য দেশগুলো
কোটামুক্ত, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ভোগ
করবে। WTO এর MFN (MOST FAVOURED
NATIONS) RULE অনুযায়ী যেকোন সদস্য
রাষ্ট্র তার ইচ্ছানুযায়ী অপর যেকোন সদস্য
দেশের সাথে বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করবে
এক্ষেত্রেকোন প্রকার বৈষম্য করা হবে না।
WTO এর সকল সদস্য একটি নিশ্চিত ও একই
অবস্থান থেকে বাণিজ্য করবে। এছাড়া
পরামর্শ প্রদান নীতির ক্ষেত্রেও দেখা
যায় যে, দেশের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা
সামগ্রীর ক্ষেত্রে বিদেশী সামগ্রীকে
বাজারে ঢুকিয়েছে শুল্ক মুক্তভাবে।
Reciprocity: অধিক ক্ষমতাশালী জাতিগুলোর
শাসনের কারণে অবাধ বাণিজ্যের
সীমাবদ্ধতা নিয়ে একটি আকাক্সক্ষা
প্রতিফলিত হয় । যাতে প্রত্যেক সদস্য
রাষ্ট্রের বিশ্ব বাজারে প্রবেশাধিকার
অর্জনের ক্ষমতা থাকে। প্রত্যেক সদস্য
দেশসমূহ পারস্পারিক সহযোগিতা করবে
অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে । আলোচনার মাধ্যমে
অধিকতর ভালো সমাধান ও উপদেশ দিবে।
Binding and Enforceable Commitment:
বহুপাক্ষিক বাণিজ্যিক আলোচনার অন্যতম
বিষয় ছিলো- বিনা শুল্কে সদস্য দেশসমূহ
বাণিজ্য করবে এতে কোন বাঁধা বা
সীমাবদ্ধতা থাকবেনা। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর
মধ্যে এমন কোন বিষয় থাকবে না যা আপোষ
বা আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা
যাবে না। কোন দেশ যদি ক্ষতিসাধন করে
তাহলে ঐ দেশের সম্পূর্ণ ক্ষতি পূরণ দিতে
হবে।
Transparency:
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্য নীতি স্বচ্ছ
থাকবে এবং জবাবদিহিতা থাকবে।
প্রত্যেক দেশ তার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
গ্রহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এগুলো অপরাপর
দেশকে প্রভাবিত করবে। WTO বাণিজ্য
নীতিমালার মাঝেমাঝে পরিবর্তন সাধন
করা হয়। সদস্য দেশগুলোর আলোচনায়
বিভিন্ন দেশের বার্ষিক বাণিজ্য
প্রতিবেদন দেখা হয় ও ভবিষ্যদ্বানী করা
হয় এবং আমদানী-রপ্তানীর দিক তুলে ধরা
হয়।
WTO বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য
নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এখানে তিন ধরনের
দিক নির্দেশনা দেয় আছে। ১. অর্থনীতির
বাইরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি
দেশ বার্ষিক কি পরিমাণ লক্ষ্য অর্জন
করবে তা ঠিক করা। ২. উন্মুক্ত
প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।
৩.অর্থনৈতিক কারণে বাণিজ্যিক
হস্তক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া।
★ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার চুক্তিসমূহ:
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকে
প্রায় ৬০ টিরও অধিক চুক্তি সম্পাদন
করেছে। যা আন্তর্জাতিক আইনগত দলিলের
মর্যাদা পেয়েছে। সদস্য দেশ সমূহকে
অবশ্যই উক্ত চুক্তি সমূহে স্বাক্ষর ও
অনুমোদন করতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
চুক্তি সমূহ হলো: Agreement on Agriculture
(AoA), The General Agreement on Trade in
Services, Trade-Related Aspects of Intellectual
Property Rights Agreement (TRIPs), Agreement
on the Application of Sanitary and Phytosanitary
Measures, Agreement on Technical Barriers to
Trade (TBT)
GATS (The General Agreement on Trade in
Services):
১৯৮৬ সালে উরুগুয়ে পর্যায়ের পূর্বে সেবা
খাত যেমন: জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, পোস্টাল
সার্ভিস, শিক্ষা এ জাতীয় বিষয়গুলো
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল
না। অনেক সেবা আভ্যন্তরীণ হিসাবে
বিবেচিত হত যা দেশের সীমানার বাইরে
যাওয়া কঠিন ছিল। উরুগুয়ে পর্যায়েই
বিশ্ববিদ্যালয় সমূহকে আন্তর্জাতিক
ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরে
ইন্টারনেটের উন্নতির কারণে দূরে শিক্ষা
গ্রহণ, প্রকৌশল, স্বাস্থসেবা, স্থাপত্য
বিদ্যা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সারাবিশ্বব্যাপী
একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এসে যায়। যার
ফলে সেবা খাত সমূহ দ্রুত আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের আওতায় আসে। তারা সিদ্ধান্ত
নেয় চার ধরনের দ্রব্যাদি দেশীয় সীমানার
বাইরে বাণিজ্যের জন্য অনুমোদন প্রদান
করা হয়। যথা:
ধরণ ১: Cross border supply: এ ধরনের সেবা
কোন সদস্য দেশের ভূখন্ড হতে অন্য কোন
সদস্য দেশের ভূখন্ডে রপ্তানি করতে
পারবে। এক্ষেত্রে সেই বিক্রেতাকে
ক্রেতা দেশে উপস্থিত না থাকলেও চলবে।
ধরণ ২: Consumption abroad: এ ধরনের সেবা
কোন সদস্য দেশের ভূখন্ড হতে অন্য কোন
সদস্য ভুক্তা তা ক্রয় করতে পারবে।
এক্ষেত্রেও বিক্রেতার উপস্থিতি না
থাকলেও চলবে।
ধরণ ৩: Commercial presence: যে সকল দেশে
সেবা সমূহ সরবরাহ করবে সেখানে
সরবরাহকারীর উপস্থিতি থাকা শর্ত।
ধরণ ৪: Presence of a natural person: একজন
সাধারণ ব্যক্তি হিসাবে সরবরাহকারী
সরবরাহকৃত দেশের ভূখন্ডে উপস্থিত
থাকবে।
সেবার খাত : সেবার খাত হিসাবে
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা " W /120 list" এর কথা
উল্লেখ করে।
TRIPs (Trade- Related Aspects of Intellectual
Property Rights Agreement):
মেধাস্বত্ব অধিকারের বিষয়টি ডওচঙ ও
টঘঈঞঅউ এর মত আন্তর্জাতিক ফোরামে বহু
বছর ধরে আলোচনা পর্যালোচনা চলছিল।
উন্নত দেশ সমূহের চাপের মুখে উরুগুয়ে
রাউন্ডে এ বিষয়টি গ্যাটের আলোচনায়
অন্তর্ভূক্ত হয়। বুুদ্ধিভিত্তিক (Intellectual
Property)বলতে বুঝায় কোন ব্যক্তি বা
কোম্পানী । উদ্ভাবিত নতুন সামগ্রী,
ডিজাইন বা প্রযুক্তি; আর অধিকার বলতে
বুঝায় উদ্ভাবনকারী ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠানের রয়্যালিটি পাবার
একচেটিয়া অধিকার। সাধারণত: এই
অধিকার প্রদান করা হয় প্যাটেন্ট (প্রযুক্তি
বা ডিজাইন উদ্ভাবনকারী ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা বিশেষ প্রতীক
বা চিহ্ন), গ্রন্থস্বত্ব বা ট্রেডমার্ক
রেজিস্ট্রেষনের মাধ্যমে। উরুগেুয়ে
রাউন্ডে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের
মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে দুই ধরনের
প্রস্তাব ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উন্নত
দেশসমূহের চাপের মুখে তাদের
প্রস্তাবটিই পাশ হয়।
★ উন্নত বিশ্ব ও WTO:
উন্নয়শীল বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ
সাধারনভাবে এটা ধারনা করে থাকেন যে
পুজিবাদি বিশ্ব তথা পশ্চিমা বিশ্ব গোটা
বিশ্ববাজার দখলের একটা হীন কৌশল
হিসেবে মুক্তবাজার অর্থনীতির তত্ত্ব
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে GATT বা WTO
প্রতিষ্ঠা করেছে। উন্নত দেশসমূহ আধুনিক
প্রযুক্তিতে উৎপাদন করে থাকে বলে তাদের
দ্রব্যের গুনগত মান যেমন ভাল তেমনি মূল্যে
ও প্রতিযোগিতা মূলক। তা সত্ত্বেও
সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ অনেক উন্নয়নশীল
দেশ সংরক্ষন মূলক নীতি অবলম্বন করে কোন
রকম উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায়
টিকে ছিল। কিন্তু উন্নত দেশসমূহ
বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক
সংস্থা কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার
করে নানা দিক দিয়ে সমাজতান্ত্রিক এবং
সংরক্ষন নীতি অবলম্বনকারী উন্নয়নশীল
দেশসমূহের ওপর বাজার উন্মুক্ত করার জন্য
চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এভাবে অনেক
দেশ বলা চলে বাধ্য হয়ে তাদের বাজার
উন্মুক্ত করে। ফলে তাদের দেশসমূহে
স্থানীয় শিল্পসমূহ ডুবতে বসেছে। এবং
দেশের বাজার বিদেশী পণ্যের বাজারে
পরিনত হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার
আওতায় যে TRIPS (Trade Related Intellectual
Property Rights) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা
ও ধনী দেশসমূূহের পক্ষে পক্ষপাতমুলক।এ
চুক্তি দরিদ্যের স্বার্থনক্ষার ক্ষেত্রে
কোন ভূমিকা রাখেনি। TRIPS এর আওতায়
প্যাটেন্ট করা দ্রব্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে
উৎপাদনকারী অহেতুক অতিমাত্রায় মূল্য
নির্ধারন করে থাকেন, তাও সর্ম্পুন্ন
উন্নয়নশীল দেশসমূহের ভোক্তাদের
প্রতিকূলে।
★ স্বল্পোন্নত দেশসমূহ ও WTO:
স্বল্পোন্নত দেশসমূহ হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের
সবচেয়ে দূবর্লতম অংশ । ভয়াবহ দারিদ্য,
দুবর্ল অর্থনীতি, অনুন্নত প্রতিষ্ঠানিক
ব্যবস্থা এবং মানবসম্পদের অপ্রতুলতা
স্বল্পোন্নত দেশের সাধারন চিত্র হিসেবে
হিসেবে বিবেচনা করা হয়। WTO
চুক্তিসমূহের প্রত্যেকটিতে অবশ্য
স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য বিশেষ সুবিধা
রাখা হয়েছে। বিশেষ সুবিধা হলো: ১.চুক্তি
বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সমূহের সুবিধা
প্রদান। ২.এসব দেশের বাণিজ্যিক সুযোগ
সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন। ৩.এসব
দেশর WTO সংক্রান্ত কার্যাবলী
বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো
তৈরীতে সাহায্য করা। ৪.কতিপয়
বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যহতি প্রদান। ১৯৯৭
সালে Trade Initiatives and technical assistance
for least developed countries সংক্রান্ত একটি
উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায়
বাণিজ্যিক ক্ষমতা বৃদ্ধি কল্পে একটি
সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হয়। এ
উদ্দেশ্য ৬টি আন্তসরকার সংস্থাকে
অর্ন্তভূক্ত করা হয়। স্বল্পোন্নত দেশসমূহ
সংক্রান্ত সাব কমিটির সহায়তায় Trade and
Development সংক্রান্ত কমিটি স্বল্পোন্নত
দেশসমূহের প্রয়োজন সমূহ তদারক করে
থাকে। এ কমিটির দায়িত্ব হচেছ -চুক্তিসমূহ
বাস্তবায়ন, কেীশলগত সহযোগিতা ,
বিশ্ববানিজ্য সংস্থায় অধিক মাত্রায়
অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।
WTO বিশ্বের দেশগুলোর বানিজ্য স্বার্থ
রক্ষায় সম্পূর্নরুপে ব্যর্থ হচেছ । কারন WTO
তে অর্ন্তভূক্তিতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো
বিভিন্ন ধরনের চ্যালেজ্ঞের মুখোমুখি
হচ্ছে। যেমন-স্বল্পোন্নত দেশসমূহের
উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর উৎপাদন ব্যয়
তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিদেশী বাজারে
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এদের জন্য
কঠিন। Agreement on Agriculture (AoA)এ
চুক্তিতে আভ্যন্তরীণ ভর্তুকির বিধান
থাকায় উন্নত দেশ সমূহ তাদের কৃষি
উৎপাদনের জন্য বড় অংকের ভর্তুকি প্রদান
করে যা উন্নয়নশীল দেশ দিতে পারে নি।
উরুগুয়ে রাউন্ড চুক্তির মাধ্যমে স্বল্পোন্নত
দেশসমূহের জন্য বাণিজ্য সুবিধা
সম্প্রসারনের যে সম্ভাবনা ছিল, সরবরাহ
সংক্রান্ত সমস্যা তাকে সম্পূর্নরূপে নষ্ট
করে দিয়েছে। ফ্রি লেবার বা দরিদ্র
দেশের সুলভ শ্রমিকদের শিল্পোন্নত দেশে
যাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করছে না।
অবাধ বাণিজ্য থাকায় দেশীয় শিল্প ধ্বংস
হয়ে যাচ্ছে ফলে বেকারত্ব ও দারিদ্যতা
ভয়াবহ ভাবে বাড়ছে।
★ স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ ও
WTO:
অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের মত
বাংলাদেশের ও প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল
ভয়াবহ দারিদ্য, দুবর্ল অর্থনীতি, অনুন্নত
প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং মানবসম্পদের
অপ্রতুলতা । তাই বাংলাদেশ বাণিজ্যিক
সুবিধা অজনের লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য
সংস্থার প্রতিটি সম্মেলনেই তার স্বার্থ
সংশ্লিষ্ঠ দাবিগুলো পেশ করে আসছে।
নিুে সেগুলো আলোচনা করা হল।
উরুগুয়ে রাউন্ড ও বাংলাদেশ: ১৯৮৬ সালে
উরুগুয়েতে ১০৭টি দেশের প্রতিনিধিদের
নিয়ে গ্যাট বৈঠক শুরূ হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩
সালের ১৫ই ডিসেম্বর ৮ম রাউন্ডের চুক্তি
হিসেবে ডাংকেল প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই
প্রস্তাবে ২ হাজার পন্যের শ্রল্ক হ্রাস
করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া উরুগুয়ে
রাউন্ডে আলোচনায় শিল্পজাত পন্যের
বাজার উন্মুক্ত করনের বিষয়টি বেশি
অগ্রগতি সাধিত হয়। আর এই চুক্তির মধ্যে
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ন ছিল
টেক্সটাইল ও তৈরী পোষাকের বাজার
উদারীকরন সম্পর্কীত Agreement on Textile
and Clothing যা সংক্ষেপে ATC নামে
পরিচিত। ATC অনুসারে ১৯৯৫ থেকে ২০০৫
সালের জানুয়ারীর মধ্যে চারটি পর্যায়ে
টেক্সটাইল ও তৈরী পোষাকের উপর Multi
Fiber Agreement এর আওতায় নির্ধারিত
কোটার অবসান হয়।
এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বেশ কিছু
ক্ষতির সম্মুখিন হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের পর
ইউরোপের দেশগুলো কোটা তুলে নিলে
বাজার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ফলে উন্নত
বিশ্বের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে না
পেরে অনেক শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে।সেই
সাথে দেশের বেকার সমস্য বাড়বে। যা
অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক পরিবেশ
অস্থিতিশীল করে তুলবে। চুক্তিতে
শিল্পপণ্যের ৪০% শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে।
শিল্পজাত পন্য রপ্তানীতে সংশ্লিষ্ট দেশ
আগের মত আর ভর্তূর্কি পাবেনা। এজন্য
উন্নয়নশীল দেশ ৮ বছর ও উন্নত দেশ ২ বছর
সময় পাবে। বাড়তি চাপ পড়বে ক্রেতাদের
উপর। আবার রপ্তানী তে ভর্তূকি দেয়ার
ফলে যাদের রপ্তানী বেড়েছিল তার আর
সেই সুযোগ পাবে না। ফলে এসব দেশের
রপ্তানী কমে আসবে । সুতরাং বাংলাদেশ
আমদানি নির্ভর হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
সেবাখাতে নিয়ন্ত্রন থাকবে না ফলে
উন্নত বিশ্বের বিনিয়োগের কাছে স্থানীয়
বিনিয়োগ মার খাবে। বানিজ্য সম্পর্কীত
মেধাসত্ত্ব বা TRIP চুক্তির ফলে কপিরাইট
ট্রেডমার্ক ও পেটেন্ট মালিকানাতে বিধি
নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে
বাংলাদেশকে মোটা অংকের বিনিময়ে
উন্নত প্রযুক্তি কিনতে হবে বহুজাতিক
কোম্পানী গুলো থেকে। বানিজ্য সম্পর্কীত
বিনিয়োগ ব্যবস্থা বা TRIM চুক্তির ফলে
বিদেশী কোম্পানীগুলো দেশীয়
কোম্পানীগুলোর মত অবাধ আমদানি
রপ্তানী করার সুযোগ পাবে ফলে দেশীয়
রপ্তানী গুলো মার খাবে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড চুক্তির
ফলে বাংলাদেশ যে টুকু সুবিধা পেয়েছে
তার চেয়ে অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়েছে
বেশি।
★ WTO এর সাফল্য ব্যর্থতা:
বিশ্বকে একই ছাতার নিচে এনে ধনী -
দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে অবাধ বাণিজ্য
স্থাপনের জন্য সৃষ্ঠি হয়েছিল বিশ্ব
বাণিজ্য সংস্থা। অথচ শুরু থেকেই সংস্থার
বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এক বিতর্কিত করে
তুলেছে। এর সাফল্য যেমন আছে তেমনি
রয়েছে ব্যর্থতা। তবে স্বল্পোন্নত
দেশগুলোর ক্ষেত্রে এর ব্যর্থতাই বেশি।
যেমন: বাণিজ্য ক্ষেত্রে বৈষম্য। ভর্তুকি
কমানোর কথা থাকলেও কতকগুলো দেশ
ভর্তুকি কমাবে বা বাণিজ্যিক
প্রতিবন্ধকতা সহজ করবে তা এখনো
নির্ধারিত হয়নি। WTO এর সিদ্ধান্তই সঠিক
এবং প্রত্যেক দেশকে তাই মেনে চলতে
হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচারকের
ভূমিকায় দেখা যায়, যেখানে ন্যায়ের পক্ষ
থেকে সরে আসে । ভারসাম্যপূর্ণ নীতির
অভাব, সময় অপচয়, বুদ্ধিবৃত্তি সংরক্ষন,
বিরিয়োগ, সেবা খাতের বাণিজ্য এবং
কৃষির সংযুক্তি । অধিকাংশ সম্মেলন
সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাপ্ত হয় তবে অন্যান্য
সংস্থার তুলনায় WTO ট্যাক্স এবং
বাণিজ্যের বিষয়ে কিছুটা সফলতা অর্জন
করেছে। যেমন- ভোটের মাধ্যমে
সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কোন
দেশের ভেটো প্রদানের ক্ষমতা নেই, স্বল্প
ট্যাক্সের মাধ্যমে মুক্ত বাজার বাণিজ্যের
প্রসার ঘটানো ও ভর্তুকি কমানো
,বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা
ইত্যাদি।
★ মূল্যায়ন:
WTO এর নীতিমালা মূলত বিশ্ব বানিজ্য
ব্যবস্থা তদারকির জন্য প্রণীত হয়েছে। WTO
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তবাজার
অর্থনীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটি দেশের ওপর
তার একটা প্রতিকূল বা অনুকূল প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর
ক্ষেত্রে এর প্রতিকূল প্রভাবই বেশি পড়বে।
অধিকাংশ স্বল্পোন্নত দেশগুলো উন্নত
বিশ্বের চাপে তাদের বাজারসমূহকে
পূর্নমাত্রায় উদার করে দিয়েছে। কিন্তু সে
অনুযায়ি যথাযথ বিনিময় তারা পায়নি।
বিদেশী পন্যসামগ্রী অবাধে প্রবেশ করায়
এ দেশগুলোর শিল্প কারখানা একের পর এক
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বেকারত্ব ও দারিদ্র
ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব বানিজ্য
সংস্থার এ বিরুপ প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি
পাওয়ার জন্য উন্নত দেশসমূহের সাহায্য
সহযোগিতার পাশাপাশি স্বল্পোন্নত
দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের
দ্রব্যের গুনগত মান বাড়াতে হবে,
মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বতোভাবে প্রচেষ্টা
চালাতে হবে। শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতা
,ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর
পাশাপাশি পণ্যসামগ্রী বহুমুখীকরন
প্রক্রিয়া করতে হবে। আর এসব ব্যবস্থা
গ্রহনের উপরই নির্ভর করছে স্বল্পোন্নত
দেশসমূহের বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে
থাকতে পারা।
বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে আর্ন্তজাতিক
বাণিজ্যর গুরুত্ব বিশেষভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে। তাই বিশ্ব বাণিজ্যকে শৃঙ্খলিত
ও সব রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অধিকার
নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা বা WTO। কিন্তু
সংস্থাটি উন্নত বিশ্বের পৃষ্টপোষকতা
করায় অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের
অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে
সংস্থাটি বেশ বিতর্কিত হয়ে পড়েছে।
===================
উত্স ও তথ্যসূত্র :
পত্রিকা, আর্টিকেল, ওয়েব, ব্লগ থেকে
সংগৃহীত ও সম্পাদিত।
শুধু BCS: Our Goal [Largest ...] গ্রুপ
BCS Written Campaigner গ্রুপ
এবং Zakir's BCS specials পেজটির
মেম্বারদের জন্য
08/09/2024
আজকের উত্তেজনা তৈরির মাস্টারমাইন্ড চট্টগ্রামের জামালখান, চেরাগি পাহাড় এলাকার ( ২১ নং) ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। বর্তমানে জামাল খান, চেরাগি পাহাড় এলাকার সব ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক এই সন্ত্রাসী। কোটা আন্দোলনের সময় কাজির দেউরি, জামালখান, চেরাগি মোডে অ'স্ত্রসজ্জিত নিজের দলবল নিয়ে একের পর এক গু'লি চালিয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের উপর। তার রাজনৈতিক গুরু আজম নাসির এবং শৈবালের ক্যাডারদের কাছে রয়েছে অনেক অত্যাধুনিক মারনাস্ত্র। যৌথ বাহিনীর অভিযানে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরী। এছাড়া, শৈবাল দাশ এবং তার রাজনৈতিক গুরু আজম নাসিরকে গ্রেফতার করা জরুরী।
বুধবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২০ ভাদ্র ১৪৩১বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ অ্যাপস
jugantor
প্রচ্ছদ
জাতীয়
অন্যান্য
ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্সে’ বাংলাদেশের ভূমিকা কী?
যুগান্তর ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing button
ভারত
বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক দু’দিন আগে ভারতীয় চ্যানেল এনডিটিভি-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলেন, তাহলে সেই অস্থিরতার আঁচ কিন্তু বাংলাদেশের বাইরেও মিয়ানমার, সেভেন সিস্টার্স, পশ্চিমবঙ্গ – সর্বত্রই অগ্ন্যুৎপাতের মতো ছড়িয়ে পড়বে।’
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের কয়েক দিনে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদপত্র বা চ্যানেলকেও দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারেও তিনি মোটামুটি একই ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন, আর প্রতিবারই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বোঝাতে ব্যবহার করেছিলেন এই ‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দবন্ধটি।
লক্ষণীয় বিষয় হল, ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে বোঝাতে এখন কিন্তু ‘নর্থ-ইস্ট’ বা ‘নর্থ-ইস্টার্ন স্টেটস’ কথাটাই বেশি ব্যবহৃত হয়। সেভেন সিস্টার্স কথাটা এককালে জনপ্রিয় হলেও এখন ভারতীয়রা সেটি প্রায় ভুলতেই বসেছেন।
অথচ ভারতে ‘সেভেন সিস্টার্স’ কথাটা ইদানীং প্রায় অপ্রচলিত হলেও বাংলাদেশে ওই অঞ্চলটিকে বোঝাতে এখনও কিন্তু ওই শব্দবন্ধটিই সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত।
এমন কী দিনকয়েক আগে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার পর কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শত শত ছাত্রকে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল, ‘বন্যায় যদি মানুষ মরে, সেভেন সিস্টার্স থাকবে না রে!’ সেই দৃশ্যের ভিডিও প্রবল বেগে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতেও।
তথাকথিত ‘সেভেন সিস্টার্সে’র ভারতের সঙ্গে যুক্ত থাকা না-থাকার প্রশ্নে বাংলাদেশের যে একটা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে, সম্ভবত সেই ইঙ্গিতই প্রচ্ছন্ন ছিল শিক্ষার্থীদের ওই স্লোগানে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বারবার এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন।
শিলিগুড়ি করিডর তথা ‘চিকেনস নেক’: ভারতে সাড়ে চার বছর আগে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদ তুঙ্গে, তখন শার্জিল ইমাম নামে এক তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট এক জনসভায় বলেছিলেন, ভারতের ‘চিকেনস নেক’ অবরোধ করে আসামকে পাকাপাকিভাবে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেই সরকার তাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে!
মুম্বাই আইআইটি ও দিল্লির জেএনইউ-এর সাবেক ছাত্র, মেধাবী শার্জিল ইমামের সেই ভাষণের ভিডিও ভাইরাল হয় – যার জেরে দেশদ্রোহের অভিযোগে তাকে পরে জেলেও যেতে হয়, আর সেই কারাবাস থেকে তিনি আজও মুক্তি পাননি।
একদা সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটা অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলেও বর্ণনা করেন।
এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এই দেশগুলো হল চীন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ।
বাকি ভারতের সঙ্গে সেভেন সিস্টার্সের ভৌগোলিক সংযোগের এই সূত্রটায় যেহেতু ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথে’র অভাব রয়েছে, সেটাই কিন্তু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটা ‘ভালনারেবল’ বা বিপজ্জনক অবস্থায় রেখেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক তথা ভারতীয় সেনার সাবেক মেজর জেনারেল ভি এস রানাডে মনে করেন, এই শিলিগুড়ি করিডরের ‘স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব’ হয়তো ভারত উপলব্ধি করেছে – কিন্তু অন্য দিকগুলো দিয়ে সেভেন সিস্টার্সকে আজও বাকি দেশের সঙ্গে আত্মীকৃত করা যায়নি।
দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক আইডিএসএ-র জার্নালে ‘স্লেন্ডার ইজ দ্য করিডর’ নামে এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ‘যে ইস্যুগুলো একটা দেশের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে, সেটা এখানে কোথায়? এই করিডর দিয়ে আমরা কি (সেভেন সিস্টার্সকে) রাজনৈতিকভাবে বা জাতীয় আবেগের দিক থেকে জুড়তে পেরেছি?’
শিলিগুড়ি করিডরের কাছেই অবস্থিত দার্জিলিং-এর আদি বাসিন্দা ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আবার এই সরু করিডরকে ভারতের জন্য একটি ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখতে চান।
শ্রিংলা বলছেন, ‘ভারতের নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি (‘প্রতিবেশীরা সবার আগে’) আর ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এখানে এসেই মিশেছে। আমি তো বলব শিলিগুড়ি করিডর হল আসিয়ান, বিমস্টেক আর সার্কের সংযোগস্থল!’
তবে যে দৃষ্টিতেই দেখা হোক, এই করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ই যে সেভেন সিস্টার্সকে বাকি ভারতের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থানে রেখেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ আর সেভেন সিস্টার্স: মিজোরামের দু’দুবারের মুখ্যমন্ত্রী, মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের সর্বোচ্চ নেতা জোরামথাঙ্গা বছর দুয়েক আগে এই প্রতিবেদককে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সাহায্য না-পেলে তাদের মিজো জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কখনওই সাফল্যের মুখ দেখত না এবং মিজোরাম একটি পৃথক রাজ্য হিসেবেও হয়তো আত্মপ্রকাশ করতে পারত না।
আসলে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এমএনএফ) বিদ্রোহীরা ষাটের দশকের শেষে প্রায় তাদের জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) আশ্রয় পেয়েছিলেন, যা অব্যাহত ছিল প্রায় দীর্ঘ দু’দশক ধরে।
এমএনএফের প্রবাদপ্রতিম নেতা লালডেঙ্গা পূর্ব পাকিস্তান সরকারের আতিথেয়তায় ঢাকার লালমাটিয়া এলাকাতে একটি বাড়িতেই থাকতেন, আর ওই গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক ভ্যালি ও তার আশেপাশের এলাকায়।
তখনকার তরুণ জোরামথাঙ্গা ছিলেন সুপ্রিম কমান্ডার লালডেঙার বিশ্বস্ত অনুচর ও ছায়াসঙ্গী। ১৯৮৭তে ভারতে মিজো শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পৃথক মিজোরাম গঠনের পথ প্রশস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ও তার বহু সতীর্থ জীবনের বেশিটা সময় বাংলাদেশেই কাটিয়েছেন।
একই কথা খাটে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আলফা-র পরেশ বড়ুয়া, অনুপ চেতিয়া বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো সর্বোচ্চ নেতাদের অনেকের ক্ষেত্রেই। তাদের সশস্ত্র আন্দোলনের অনেকটা সময়ই তারা ছিলেন বাংলাদেশের মাটিতে।
ত্রিপুরার সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনএলএফটি কিংবা ত্রিপুরা ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্সের (যার নেতা বিজয় কুমার রাংখল এখন একজন মূল ধারার রাজনীতিক) সদস্যরাও অনেকেই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছেন, সেখান থেকেই পরিচালিত হত তাদের কর্মকাণ্ড।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) বাংলাদেশ সরকার অবশ্য কখনওই তাদের দেশের মাটিতে এই সব গোষ্ঠীগুলির অস্তিত্ত্ব স্বীকার করেনি – আর এই ইস্যুটিও ঢাকা-দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম তিক্ততার জন্ম দিয়েছিল।
২০০৯-এ শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় মেয়াদে এই দৃশ্যপটে একটা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে হাসিনা সরকার একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে গোপনে বা প্রকাশ্যে ভারতের হাতে তুলে দিতে শুরু করে। বাংলাদেশের মাটিতে ওই সব গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবিরও একে একে বন্ধ হতে থাকে।
আলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া অবশ্য তার আগেই বাংলাদেশ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু অনুপ চেতিয়া বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো গোষ্ঠীর অন্য নেতারা ততদিনে ভারতে ফিরে এসে সরকারের সঙ্গে ‘শান্তি আলোচনা’ও শুরু করে দিয়েছেন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সেভেন সিস্টার্স যে নিরাপত্তাগত দৃষ্টিতে গত এক দশকে অনেকটাই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ – তার পেছনে শেখ হাসিনা সরকারের অবদান ভারতের কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষকরাও তাই অকুণ্ঠে স্বীকার করেন।
সেভেন সিস্টার্সের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের আর একটি বড় উপহার ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া।
এই দুটি বন্দর ব্যবহারের সুযোগ স্থলবেষ্টিত সেভেন সিস্টার্সকে শুধু সামুদ্রিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্তই খুলে দেয়নি, ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্বও অনেক কমিয়ে দিয়েছে। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে সেই সুযোগ আরও বাড়বে নিশ্চিতভাবে।
মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে ভারত যে কালাদান মাল্টিমোডাল প্রোজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছিল, সেটার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও অনেক কমে গিয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তের ফলে।
কারণ মিয়ানমারের সিতওয়ে বন্দরের বদলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে পণ্য পরিবহন করা ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য তুলনায় অনেক সহজ।
ফলে এক কথায় বলতে গেলে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নেপথ্যে বিশেষ করে বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ভারতকে আমি যা দিয়েছি, তা তারা সারা জীবন মনে রাখবে!’
বহুল-আলোচিত সেই মন্তব্য নিয়ে পরে বহু চর্চা হলেও শেখ হাসিনা সে দিন ঠিক কী দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তা কখনওই ভেঙে বলেননি বা স্পষ্ট করেননি।
কিন্তু দুই দেশেই পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা ধারণা করে থাকেন, তিনি সেদিন সেভেন সিস্টার্সে শান্তি ও প্রগতি ফিরিয়ে আনার দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন – ভারতের যে অঞ্চলটি ঢাকায় ক্ষমতার পালাবদলের পর আবার নতুন করে আলোচনায়!
facebook sharing buttonmessenger sharing
04/09/2024
এই পুলিশ পিতৃ পরিচয়হীন
শর্টগান ঠেকিয়ে গুলি করলো পুলিশ, মামলা হলো সাংবাদিকের নামে | Konabari Ridoy Death | Jamuna TV শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বিকেলেও নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করে পুলিশ। এদের মধ্যে অনেকের মরদেহের হদিস ম...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Mirsarai, Chattogram
Chittagong
4320
04/09/2024