অধুনা বিশ্বে চলছে জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ,সাহিত্য ও সুষ্টিশীলদের নেতৃত্ব। স্বপ্নচারীদের হাত ধরেই নির্মিত হচ্ছে সভ্যতা ও তার সফল অভিযাত্রা। বড় হবার পথে প্রতিকূলতাকে জয় করার অনিরুদ্ধ ইচ্ছায় মানুষকে সফলতর থেকে সফলতম করে তোলে। শিক্ষা ছাড়া যেমন একটি জাতি অন্ধ, তেমনি মানহীন শিক্ষাও একটি জাতির অদক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির অন্যতম কারণ ।
শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাখাতে বর্তমান সময়ে এসে যখন নামে বেনামে একটি ব্যবসা কেন্দ্ররুপে গড়ে উঠেছে , ঠিক সেই সময়ে এসেও আমরা মেধার মানসিকতা ও দায়বদ্ধতা থেকে তোমাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। শিক্ষা জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তোমাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরাও গর্বিত। আমাদের দিক নির্দেশনা ও তোমাদের পরিশ্রম এই পথচলাকে সার্থক করে তুলবে মহান রবের কাছে এই আমাদের প্রার্থনা । আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা নয় , তোমাদের পাশে থাকার সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র ।
মানসম্মত শিক্ষা বর্তমান যুগের একটি অপরিহার্য চাহিদা । মানসম্মত শিক্ষার অনুসন্ধান চলছে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই । ফলে গত কয়েক দশক ধরেই বিশ্বব্যাপী শিক্ষার সকল স্তরে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে । বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয় । প্রায় গত এক দশক থেকেই আমাদের দেশেও শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে । উন্নত বিশ্ব এবং উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষার । দেশে নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে নানা স্তরে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে । এরপরেও আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের কাঙ্কিত মানের শিক্ষা আশানুরুপভাবে গড়ে তোলা সক্ষম হয়ে উঠে নি।পর্যায়ক্রমে জিপিএ - ৫ এর পরিমাণ বেড়েছে এটা ঠিক, কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার বিকাশ ও মান উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এই যে পরিবর্তন তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে । নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় আশা করা হয়েছিল অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হবে । কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় প্রতিয়মান হয়েছে যে ,বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের মান অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও গুণগতমান হতাশাজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় গুণগত মানের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এখনো আমরা পিছিয়ে । মাদ্রাসাতে এই অবস্থা বিরাজমান । তবে আমাদের সবচেয়ে হতাশাজনক স্থানটি হচ্ছে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে । প্রকৃতপক্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- এই তিনটি শিক্ষার ক্ষেত্রেই তাত্ত্বিক ধারাটি প্রাধান্য বিস্তার করে আছে । আমাদের শিক্ষার্থী জীবনকেন্দ্রিক এবং সমাজ উন্নয়ন সহযৌগী শিক্ষাধারা বাংলাদেশে এখনো বেগবান হয়ে উঠে নি । আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে না উঠার পেছনে বহুবিদ কারণ রয়েছে । শিক্ষার মান উন্নয়নে মোটা দাগে কতগুলো অন্তরায় বা বাধা রয়েছে ।
সেগুলো হচ্ছে-
১. মানসম্মত শিক্ষকের অভাব ২. শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব ৩. সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব ৪. দূর্বল একাডেমিক তত্ত্বাবধান ৫. জীবনঘনিষ্ট শিক্ষাক্রমের অভাব ৬. অপ্রতুল শিক্ষণ সামগ্রীর অভাব ৭. দূর্বল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ৮. আধুনিক এডুকেশন টেকনোলজির অভাব ৯. শিক্ষানীতি ও পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া ১০. শিক্ষা খাতের অর্থ বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কম ১১. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ।
আমাদের দেশে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব বাধা টপকে বিশ্বায়নের শিক্ষার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারছে না । তবে আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকটাই আশ্বস্থ করতে পারি যে, ’’ আলফা প্রাইভেট লার্নিং ’’ গুণগত মানের দিক থেকে এসব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে রয়েছে । কারণ- বর্তমান শিক্ষানীতি সঠিকভাবে পাঠ্যক্রম অনুসরণ সৃজনশীল পদ্বতির সঠিক প্রয়োগ ও তথ্য প্রযুক্তির সর্ব্বোচ্চ ব্যবহারে
’’ আলফা প্রাইভেট লার্নিং’’ অনন্য দৃষ্টান্তের অধিকারী ।
মনে রাখবে সমুদ্রের প্রলয়কারী ঢেউকেও তীরের কাছে মাথা নোয়ায়ে শেষ হতে হয়। আবার পৃথিবীর আকাশেও ক্ষুদ্র মেঘের কাছে পরাজিত হয় সূর্য। কিন্তু তার পরেও অসম্ভবকে যারা চ্যালেঞ্জ করে তারাই রচনা করে সম্ভবের ইতিহাস। তার জন্য প্রয়োজন নজরুলের ’যৌবনের গান’ এর তারুণ্য, উদ্যম , অধ্যাবসায় আর একাগ্রতা। অন্তরীক্ষের নীরদগুলিই মনে করিয়ে দেয় কতটা বিশাল সে। প্রভঞ্জন যখন নীল রঙের কালো ছোপকে একটু একটু করে দূরে সরায় আলো ছড়াবে বলে , তখনও কিন্তু একটা টিপ থেকেই যায় হয়তো এ আকাশে নয় অন্য আকাশে । প্রত্যেকের জীবনে প্রতিবেলায় চলে এমন আলো আধাঁরীয় খেলা। জীবনটা প্রতিবেলা ¯’বির হতে চায়, কিš‘ নজরুলে বিদ্রোহী তারুণ্য বিরহের সাগরে আশার ভেলা হয়ে একটু একটু দোল খায়, মাঝে মাঝে পালে বাতাস লাগেও। তোমাদের গড়া আকাশেই এখন তোমাদের বানানো মেঘ । যার উদ্দমতা যত সে জয় করবে মুক্ত আকাশ। আর যে পারবে না সে বৃষ্টির মতো ঝড়ে পড়বে দু:খের পৃথিবীতে। তিনটি পথের যাত্রা শেষে এ আকাশ মুক্ত হবে । চাইলেই তুমি একটি পথকে ফুরিয়ে ফেলতে পারো না। জীবনের পথে এগিয়ে তারাই থাকে, যারা আশাবাদী । আর এ ধারায় প্রতিনিয়ত অসম্ভবই সম্ভব হয়। আকাশ উজ্বল করার কথাই তো সবাই বলে আসছে সবসময়! তবুও মেঘের ছায়া সূর্যের আলোয় পড়ে পৃথিবীর উপর। জানি, সাধারণ কথা গুলো তোমরাই আমার চেয়ে ভালো জানো ! তাই চেনা সুরে চেনা গান আর গাইলাম না ।
পরিশেষে, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি, তোমাদের জীবন যেন বাঁধাহীন ও জ্যোতিময় হয়। আমিন।
-আলফা প্রাইভেট লার্নিং