28/05/2025
জিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম দশকের পছন্দনীয় আমল গুলিঃ
(১) কুরবানি দাতা নখ, চুল ও পশম কাটা থেকে বিরত থাকবে।
(২) চাঁদ দেখে দুয়া পড়া — যে কোনো মাসের নতুন চাঁদ, এমনকি রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার দোয়া একটিই। রাসূলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়া পড়তেন—
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ، وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ، وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضَى، رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللّٰهُ
আল্লাহ সবচেয়ে বড়। হে আল্লাহ! এই নতুন চাঁদকে আমাদের উপর উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে; আর হে আমাদের রব্ব! যা আপনি পছন্দ করেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন তার প্রতি তাওফীক লাভের সাথে। আল্লাহ আমাদের রব্ব এবং তোমার (চাঁদের) রব্ব।
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহু ‘আলাইনা বিলআমনি ওয়ালঈমানি ওয়াস্সালা-মাতি ওয়াল-ইসলা-মি, ওয়াত্তাওফীকি লিমা তুহিব্বু রব্বানা ওয়া তারদ্বা, রব্বুনা ওয়া রব্বুকাল্লাহ
তিরমিযী ৫/৫০৪, নং ৩৪৫১; আদ-দারিমী, শব্দ তাঁরই, ১/৩৩৬। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৫৭।
(৩) তাকবীর পাঠ। জিলহজ্জ্ব মাসের চাঁদ দেখা থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করা। নির্দিষ্ট এবং অনির্দিষ্ট তাকবীর উঁচু আওয়াজে বলা। মহিলাগন নীচু আওয়াজে বলবে। তাকবীর এককভাবে বলা সুন্নত, দলবদ্ধ হয়ে সমস্বরে বলা অবৈধ। কেননা এরূপ তাকবীর বলা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ), তাঁর সাহাবা এবং পূণ্যাত্মা পূর্বসূরীদের থেকে প্রমানিত নয়।
ক) অনির্দিষ্ট তাকবীরঃ অর্থাৎ সময় বা স্থান নির্দিষ্ট না করা। যেমন- বাড়ী, মসজিদ, বাজার ইত্যাদি স্থানে। জিলহজ্জ্বের প্রথম দিন থেকে নিয়ে ঈদের দিন পর্যন্ত যে কোন সময় এই তাকবীর চলতে থাকবে।
খ) নির্দিষ্ট তাকবীরঃ অর্থাৎ নির্দিষ্টভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবীর বলা। এরূপ তাকবীর আরাফাত দিবসের ৯ই জিলহজ্জ্ব ফজর নামাজ থেকে শুরু হয়ে চলতে থাকবে ‘আইয়্যামে তাশরিক’ তথা ১৩ই জিলহজ্জ্ব দিবসের শেষ পর্যন্ত।
তাকবীরঃ
الله أكبر، الله أكبر، لاإله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আক্বার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ।
(৪) তাকবীর, তাহমীদ ও তাসবীহ পড়াঃ
এসব দিনে তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া সুন্নত।
(৫) আরাফার দিন বিশেষ দুআ পাঠ করা
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(৬) আরাফার দিন রোযা রাখা
(৭) ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত অধিকহারে নফল রোযা (ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম), নামায, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির আযকার করা
এসব ছাড়াও কিছু নেক আমল আছে যেগুলো দিনগুলোতে বেশি করা যায়ঃ
যেমন : কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দু‘আ, দান-সাদাকা,
পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচার, আত্মীয়তার হক আদায় করা, মা-বাবার সখী-সখার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো,
সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা, সালামের প্রচার ঘটানো,
মানুষকে খাবার খাওয়ানো, প্রতিবেশিদের প্রতি সদয় আচরণ করা, মেহমানকে সম্মান করা,
পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া,
অপর ভাইয়ের প্রয়োজন পুরা করা, অসাক্ষাতে অন্য ভাইয়ের জন্য দু‘আ করা,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া, পরিবার ও সন্তানদের জন্য অর্থ ব্যয় করা,
অধিনস্তদের প্রতি সদয় হওয়া,ওয়াদা ও আমানত রক্ষা করা, হারাম জিনিস থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া,
সালাতগুলোর পরে আল্লাহর জিকির করা, সুন্দরভাবে অযূ করা, আযান ও ইকামতের মাঝখানে দু‘আ করা,
জুমাবারে সূরাতুল কাহফ পড়া, মসজিদে গমন করা, সুন্নত সালাতগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আদায় করা, ঈদগাহে গিয়ে ঈদুল আযহার সালাত আদায় করা, হালাল উপার্জন করা, মুসলিম ভাইদের আনন্দ দেওয়া, দুর্বলদের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া, কৃপণতা পরিহার করা, ভালো কাজে পথ দেখানো, ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষা দেওয়া, কল্যাণকাজে মানুষকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি।