29/12/2022
যে ভুল রেওয়ামিলের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায় না-
১. করণিকের ভুল: এ ধরনের ভুল হিসাবরক্ষকের অসতর্কতার কারণে সংঘটিত হয়ে থাকে। করণিক ভুল আবার ৪ প্রকার। যথা:
ক. বাদ পড়ার ভুল: কোন লেনদেন মোটেই জাবেদাভুক্ত না হলে অথবা জাবেদাভুক্ত হলেও মোটেই খতিয়ানভুক্ত না হলে ডেবিট পক্ষ ও ক্রেডিট পক্ষ উভয়ই বাদ পড়ে যায়, এটিই বাদ পড়ার ভুল । যেমনঃ আসবাবপত্র ক্রয় ১০,০০০ টাকা ডেবিট পক্ষ আসবাবপত্র হিসাব এবং ক্রেডিট পক্ষ নগদান হিসাব একেবারেই হিসাবভুক্ত না হয় অথবা জাবেদায়ন `হলেও এ দুইটি পক্ষ খতিয়ানের কোন দিকে স্থানান্তরিত না হওয়া । এ ধরনের ভুল রেওয়ামিলে ধরা পড়ে না ।
খ. লেখার ভুলঃ হিসাবের প্রাথমিক বই জাবেদায় কোন লেনদেনের টাকার অংক প্রকৃত পরিমাণ অপেক্ষা বেশি বা কম লেখা হলে, খতিয়ানের দু'দিকে একই অংক স্থানান্তর হবে, যার কারণে রেওয়ামিল মিলে যাবে । যেমন- মজুরি প্রদান ১,০০০ টাকা প্রাথমিক বইতে লিপিবদ্ধকরণের সময় ডেবিট ও ক্রেডিট উভয় দিকে ১০০ টাকা লিখলে রেওয়ামিল মিলে যাবে ।
গ. পরিপূরক ভুলঃ হিসাবের একদিকের ভুল অংক অন্য দিকের এক বা একাধিক ভুলে অংকের সমান হয়ে গেলে, রেওয়ামিলে তা ধরা পড়ে না । এ ধরনের ভুল পরিপূরক ভুল হিসাব পরিচিত। যেমন- বেতন হিসাবের ডেবিট দিক ৫,৫০০ টাকার স্থলে ৫,০০০ টাকা লেখা হল আবার নগদান হিসাবের ক্রেডিট দিকে ৫৫০০ টাকার স্থলে ৫০০০ টাকা লেখা হল যার ফলে উভয় দিকে ৫০০ টাকা কম লেখা হয়েছে। এ জন্য রেওয়ামিল মিলে যাবে ।
ঘ. বে-দাখিলার ভুল: জাবেদা বই হতে ডেবিট পক্ষ বা ক্রেডিট পক্ষ সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের ডেবিট বা ক্রেডিট দিকে স্থানান্তর না করে অন্য কোন খতিয়ানের ডেবিট বা ক্রেডিট দিকে হিসাবভুক্ত করাই বেদাখিলার ভুল । যেমনঃ বিক্রমকে প্রদত্ত ৫,০০০ টাকা বিক্রম হিসাবের ডেবিট দিকের পরিবর্তে বাবুল হিসাবের ডেবিট দিকে হিসাবভুক্ত করাই বে- দাখিলাজনিত ভুল । এ ধরনের ভুলের জন্য রেওয়ামিল মিলতে অসুবিধা হয় না ।
২. নীতিগত ভুল: হিসাববিজ্ঞানের নীতি সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞানের অভাবে হিসাবরক্ষক যে ভুল করে, একে নীতিগত ভুল বলে । মূলধন জাতীয় আয় বা ব্যয়কে মুনাফা জাতীয় আয় বা ব্যয় হিসাবে গণ্য করা, আবার মুনাফা জাতীয় আয় বা ব্যয়কে মূলধন জাতীয় আয় বা ব্যয় রূপে লেখাই নীতিগত ভুল । যেমনঃ যন্ত্রপাতির সংস্থাপন ব্যয় মজুরির অন্তর্ভূক্ত করে হিসাবভুক্ত করা নীতিগত ভুল ।
Accounting Mentor By Arif