16/06/2024
মুসলিমদের ঈদ যেমন আনন্দের; তেমনি ইবাদতেরও। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি, তাকবির প্রদানসহ নানা আমল রয়েছে এদিন। তবে ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় আমল হলো আল্লাহর নামে পশু কুরবানি করা। কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহ পরীক্ষা করেন- বান্দা কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারে তার রবের জন্য। একই সঙ্গে সামর্থ্যবান ব্যক্তির সম্পদ থেকে পশু কুরবানির মাধ্যমে গরিবের ঘরেও আনন্দ বিলানোর ব্যবস্থা করেন আল্লাহ। কুরবানির গোশত কুরবানিদাতা একা খেতে পারবে না; পাড়া-প্রতিবেশী অসহায়-গরিবকেও দিতে হবে। কুরবানির গোশত তিন ভাগ করা সুন্নত। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশীদের জন্য, আরেক ভাগ অসহায়-গরিবের জন্য। এভাবেই কুরবানি মুসলিম সমাজে উদ্যমতা তৈরি করে। ধনী-গরিবের পার্থক্য মিটিয়ে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে।
ঈদুল আজহার দিনে করণীয় :
১/ ঈদের সালাতের আগে গোসল করা সুন্নত।
২/ উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নত।
৩/ সুগন্ধি ব্যবহার সুন্নত।
৪/ কোরবানির দিনে ঈদের নামাজের আগে কিছু না
খাওয়া মুস্তাহাব।
৫/ ঈদগাহে এক পথ দিয়ে যাওয়া ও অন্যপথ দিয়ে ফেরা
সুন্নত।
৬/ সম্ভব হলে ঈদগাহে হেঁটে যাওয়াও সুন্নত।
৭/ ঈদের দিন তাকবির পাঠের মাধ্যমে আল্লাহকে বেশি
বেশি স্মরণ করা সুন্নত। পুরুষেরা তাকবির উঁচু
আওয়াজে পাঠ করবে, মেয়েরা নীরবে।
৮/ ঈদের নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, অনেকে ওয়াজিব
বলেছেন।
৯/ নামাজের পর খুতবা শুনা ওয়াজিব।
১০/ ঈদের দিনে ছোট-বড় সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা
বিনিময় করা সুন্নত।
১১/ কুরবানির পশু নিজে জবেহ করা উত্তম।
১২/ ঈদুল আজহায় পশুর রক্ত, আবর্জনা ও হাড় থেকে
যেন পরিবেশ দূষিত না হয় সেদিকে প্রত্যেক
মুসলমানের সতর্ক হওয়া উচিত। কোরবানি শেষ
হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত, আবর্জনা ও হাড় নিরাপদ
দূরত্বে নির্দিষ্ট জায়গায় মাটিতে পুঁতে ফেলা উচিত।
কুরবানির পশুর চামড়ার ক্ষেত্রে করণীয় :
কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করা যাবে। তবে বিক্রিত অর্থ কুরবানিকারী নিজ কাজে খরচ করতে পারবে না। আর তা নিজের কাজে খরচ করা জায়েজও নেই। এ অর্থ গরিব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন কুরবানির মজুরি বাবদ গোশত বা চামড়া থেকে কসাইকে কোনো কিছু প্রদান না করি। সেইসাথে যারা জাকাত, ফিতরা পাওয়ার উপযুক্ত তারাই কুরবানির চামড়ার অর্থ পাওয়ার হকদার। তবে এক্ষেত্রে ইয়াতিম, গরিব তালিবুল ইলম তথা ইলমে দ্বীনের গরিব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দেয়া যাবে। তালিবুল ইলম তথা ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী যদি ইয়াতিম বা গরিব হয় তবে তাকে জাকাত, ফিতরা ও কুরবানির চামড়ার মূল্য দানে অধিক সাওয়াব রয়েছে। সুতরাং ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির চামড়া দান করা উত্তম।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন,,,(আমিন)
#কুরবানি
#ঈদুলআজহা