আলিমদের মণিমুক্তা

আলিমদের মণিমুক্তা

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আলিমদের মণিমুক্তা, Educational consultant, Chittagong.

17/07/2020
13/07/2020

" মানব খোলস "

সময়ের সাথে সাথে একদিন সব কিছুর অবসান ঘটবে। মানবকুলে জন্ম নিয়ে পশুর এই জীবনের অবসান কালে কেউ কেউ বলে উঠবে ‘’আহ! অনেক ভাল মানুষ ছিলো’’।

বড় অদ্ভুত! পশুর জীবনে মানুষের সার্টিফিকেট মিলে যায়। কিন্তু হায়! হিসেবের দিন? বড় কঠিন হিসাব। হিসেব কষে দেয়ার মত কেউ থাকবে না সেদিন। নিজেকেই করতে হবে নিজের হিসাব। বহু অংক। নতুন, পুরনো, জটিল সব হিসাব। সব কিছুই উপস্থিত, কিছুই বাদ পরবে না সেদিন। প্রমাণ হবে আমি মানুষ নাকি পশু। মাথাটা ঝিম ধরে আসবে, বুকের ভেতর অনুভব হবে চিন-চিন ব্যথা। মেঘের গর্জনের মত চিৎকার করবে, কিন্তু কেউ শুনতে পাবে না। কেউ থাকবে না সেখানে। ভিত-সন্তস্ত্র হৃদয় কম্পিত হতে থাকবে অস্বাভাবিকের চাইতেও অস্বাভাবিক ভাবে। তখন অসহ্য যন্ত্রণায় বলে উঠবে, "হায়! আমার মৃত্যু হচ্ছে না কেন? আজ মৃত্যু কোথায়?"। কিন্তু মৃত্যু? তাতো একবারই হয়; বারবার নয়।
মিলতে চাইবে না কৃতকর্মের হিসেব গুলো। হঠাৎ অজানা অচেনা দু’জন সত্ত্বা এসে মিলিয়ে দিবে সব............

হিসেবের সেই ক্ষণ আসার আগে আমার হিসাব মিলানো দরকার। অদ্ভুত এই পৃথিবী। মানব খোলসে চারদিকে সব হায়াওয়ান...বিষাক্ত কিটে ভরা। মানব রূপে সত্যিকারের মানবের বড় অভাব এ সমাজে। শুনেছি তাদের থেকে নাকি আলো প্রতিফলিত হয়। কিন্তু আমি? লোকালয়ে আমি যেমন, আসলেই কি আমি তেমন? না...না... তাতো কেবল অভিনয়, নাট্যমঞ্চের নাটকীয়তা। আলো থেকে লক্ষ কোটি মাইল দূরে আমার অবস্থান। নির্জনে একাকি আমি যেমন সেটাইতো আমার আসল রূপ। জনমানবহীন, যেখানে কেউ নেই আমি ছাড়া। সেখানেই তো আমার আসল রূপ প্রকাশ পায়। খোলস খুলে যায় মানব রূপের।

চারিদিকে অন্ধকার। আমি দাঁড়িয়ে আছি আয়নার সামনে। কোনো আলো প্রতিফলিত হচ্ছে না আমার থেকে। তবুও দেখা যাচ্ছে আমায়। আহ! কি নোংরা, কি বিচ্ছিরি ভয়ঙ্কর আমার রূপ। কালি পড়তে পড়তে সমস্ত ক্বলবটাই (হৃদয়) একটা পচা দুর্গন্ধময় মাংসের টুকরাতে পরিণত হয়েছে। অবাক হয়ে বসে পড়লাম মাটিতে। বিষন্নতায় ছেয়ে গেছি আমি। ভাবছি, প্রশ্ন করছি নিজের বিবেকটাকে। ভাবছি আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি। হারিয়েছি মনুষ্যত্ব। মিথ্যে অহমিকায় নিজেকে রেখেছি আবৃত। আমি কি আর মানুষ? নাকি মানুষরূপী পণ্য? জীবন খাতার হিসেবে দেখি পরে আছে শুধু শূন্য। ভাবছি, আর দু’চোখের পানি গাল বেয়ে ঝরে পড়ছে মেঝেতে।
---
লিখেছেনঃ মাহরোদ মুহারিব আফফান

ডাক্তার জাকির আব্দুল করিম নায়েক প্রসঙ্গে | সংশয় 12/06/2020

নিসন্দেহে আপনি একজন নাস্তিক!! আর নাস্তিক দের কাজই হচ্ছে কুরআন কে ভুল প্রমাণ করার অপচেষ্টা করা।

(কেউ ভুল বুঝবেন না, আমি ডাঃ জাকির নায়েক কে নাস্তিক বলিনি। আমি তাকে বলেছি যে বলছে যে, পবিত্র কুরআনে নাকি ভুল লিখেছে!! নিচের লিংকে ক্লিক করে সম্পুর্ণ লিখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন)

ডাক্তার জাকির আব্দুল করিম নায়েক প্রসঙ্গে | সংশয় আমি ডাঃ জাকির নায়েকের বিজ্ঞানময় কুরআন আবিষ্কারের সমালোচনা করি। বন্ধু আমাকে জাকির নায়েকের কিছু দাবি দিয়ে চ্.....

07/06/2020

ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, কিছু মানুষ মনে করে যে, মূসা (আঃ)-এর পর আল্লাহ আর কোন মানুষের উপর অহী বা প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করেননি, এমনকি তারা মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি অহী বা প্রত্যাদেশকেও অস্বীকার করে। তারই প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করে ওদের ধারণার খন্ডন করেছেন এবং রসূল (সাঃ)-এর রিসালাত ও অহীকে প্রমাণ করেছেন।

- (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

06/06/2020

ুবক তোমাকে বলছি তুমি শুনো।
তোমার ইমাম আবু হানিফার কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে,
তোমার পীর_সাহেবের_কথা_দিয়ে_____যদি_ধর্ম_চলে,


তোমার স্বপ্নে পাওয়া কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে,
তোমার বড় হুজুরের কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে,
তোমার ন্যাংটা ফকিরের কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে,
তোমার আব্দুল কাদের জিলানীর কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে,
তোমার অলি-আউলিয়ার কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে,

তাহলে মুহাম্মাদ (সাঃ) কি দুনিয়াতে গরু, বেড়া আর ছাগল চড়াতে এসেছিলেন, তাকে কি আল্লাহতালা রাখাল হিসেবে পাঠিয়েছিলেন? মানুষের গোলামি করার জন্যে পাঠিয়েছিলেন? আশ্চর্য এটা হয় কি করে????

তাদের কথা দিয়ে যদি ধর্ম চলে, তাহলে "আল্লাহ সুবহানাহু" উনাকে কেনো নবী করে পাঠালেন(?) জনাব, বোকামির পরিচয় দিয়ে দুনিয়াতে টিকতে পারবেন, আখিরাতে নয়!!

যেখানে যারা জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত মানুষ তাদের কথা দিয়ে ধর্ম চলেনা, আর এদের কথা দিয়ে ধর্ম চলবে।

অবাক করা ব্যাপার।
যারা জান্নাতের সার্টিফিকেট পায়নি তাদের কথা দিয়ে ধর্ম চলবে, তারা নিজেরা জানেনা তারা কি জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে যাবে। আর এদের কথা দিয়ে ধর্ম চলবে।

জি না, অসম্ভব এদের কথা দিয়ে ধর্ম চলবেনা, ধর্ম চলবে
একজন মানুষের কথায় যার নাম, মুহাম্মাদ "সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া'সাল্লাম"!

- শায়খ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ

05/06/2020

»» আল্লাহর সাথে শির্কের ভয়াবহ পরিণতি ««

শির্ক তাওহীদের বিপরীত। ইসলাম যে সব মূলনীতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, তাওহীদ বা একত্ববাদই হচ্ছে তার মূলসার। আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা‘আলাকে ইবাদাতের (উলুহিয়াত)[1] ক্ষেত্রে, সৃষ্ট বিষয়ক ও সবকিছু নিয়ন্ত্রণের (রবুবিয়াত)[2] ক্ষেত্রে, নাম ও বিশেষণের (আসমা ওয়াসসিফাত)[3] ক্ষেত্রে কোনও অংশীদার ছাড়াই এক ও একক বিশ্বাস করাকেই তাওহীদ বলে।[4] প্রতিপালন, আইন, বিধান ও ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একচ্ছত্র অধিকারে কাউকে শরীক করা বা অংশীদার বানানোই হচ্ছে শির্ক।[5] ইসলামী জীবন বিধানের প্রতিটি অনু-পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামে এমন কোনো নিয়মনীতি নেই, যেখানে এই শির্কের সামান্য গন্ধও খুঁজে পাওয়া যাবে। ইসলামে শির্ক হচ্ছে একটি ভয়াবহ কবিরা গুনাহ।

আমাদের সমাজের অনেক আলিম ও বিদ্বানগণও জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, না বুঝে, অলক্ষ্যে কিংবা আধুনিক ইসলামের প্রবক্তা সেজে মুসলিমদের আকীদা বিশ্বাসের মূল সার- এই তাওহীদকে উপেক্ষা করে শির্কে নিমজ্জিত হচ্ছেন। মহান আল্লাহর ভাষায়-

وَمَا يُؤۡمِنُ أَكۡثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشۡرِكُونَ ١٠٦ [يوسف: ١٠٦]

অনেক মানুষ আল্লাহর উপর ঈমান আনার পরও তারা মুশরিক।[6]

তাওহীদ ও শির্ক পরস্পরে সাংঘর্ষিক। যে তাওহীদ লালন করবে, সে একত্ববাদী মুসলিম। আর যে শির্ক চর্চা করবে সে মুশরিক। মুসলিম বলে দাবী করার তার কোনো অধিকার নেই।

শির্কের পাপটি জঘণ্য পাপ। যারা এই পাপের ধুম্রজালে জড়িয়ে যায়, তারা মহান আল্লাহর ক্ষমা থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন-

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفۡتَرَىٰٓ إِثۡمًا عَظِيمًا ٤٨ ﴾ [النساء: ٤٨]

‘‘যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক বানায়, আল্লাহ নিঃসন্দেহে তাকে ক্ষমা করবেন না। এ ছাড়া যাকে তিনি চান ক্ষমা করবেন।’’[7]

শির্ক সকল ভাল আমলকে ধ্বংস করে দেয়। ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥ ﴾ [الزمر: ٦٥]

‘‘আপনার ও আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর সাথে শির্ক করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন বলে গণ্য হবেন।’’[8]

শির্ক জাহান্নামকে অনিবার্য করে: আল্লাহ বলেন,

﴿ إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ ٧٢ ﴾ [المائ‍دة: ٧٢]

‘‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন; তার বাসস্থান হচ্ছে জাহান্নাম। আর অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।’’[9]

যারা শির্ক চর্চা করে, তাদের রক্ত মুসলিমদের জন্য হালাল, হত্যাযোগ্য। আল্লাহর ভাষায়-

﴿ فَٱقۡتُلُواْ ٱلۡمُشۡرِكِينَ حَيۡثُ وَجَدتُّمُوهُمۡ وَخُذُوهُمۡ وَٱحۡصُرُوهُمۡ وَٱقۡعُدُواْ لَهُمۡ كُلَّ مَرۡصَدٖۚ ٥ ﴾ [التوبة: ٥]

‘‘অতঃপর শির্ককারীদের যেখানে পাবে তাদেরকে হত্যা কর, তাদেরকে পাকড়াও কর ও অবরুদ্ধ কর। আর তাদের ঘাটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎপেতে বসে থাকো।’’[10]

শির্ক একটি বড় গুনাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

عن أبى هريرة رضى الله عنه إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اجتنبوا الموبقات.... الإشراك بالله...

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ধ্বংসকারী বিষয়গুলো হতে বেঁচে থাক, আর তা হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শির্ক করা।...[11]সুতরাং শির্ক অত্যন্ত জঘন্য। মুসলিম জীবনের কোনো অংশে এই শির্ক অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই। প্রতিটি মুসলিমের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ঈমান। আর এই ঈমান বিধ্বংসী শির্ক হতে বেঁচে থাকা হচ্ছে তার ঈমানের অনিবার্য দাবী। আমরা অনেকেই এই শির্কে লক্ষ্যে অলক্ষ্যে নিমজ্জিত হই। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় এর প্রবল স্রোতে ভেসে যাই। ভয়াল বিভীষিকাময় এই শির্ক থেকে বেঁচে থাকার জন্য শির্ক সম্পর্কে জানা খুবই প্রয়োজন।


[1] . যেমন কুরবানী, মানত, দো‘আ, ভরসা (তাওয়াক্কুল), ভয়, আশা, বিনয় অবনত হওয়া, আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রভৃতি। আল-বালিহী, ছালিহ ইবন ইব্রাহীম, আকীদাতুল মুসলিমীন অর-রুদ্দু আলাল মুলহিদীন অল- মুবতাদি‘ঈন, আল- মাতাবিঈ আল- আহালিয়াহ, রিয়াদ ১৮০৯ হিজরী, ৩য় মুদ্রণ, ১ম খ. পৃ. ৩২৯-৩৩০।

[2] . যেমন সৃষ্টি, জীবিকা, দান, হায়াত ও মাউত, কল্যাণ ও অকল্যাণ, পৃথিবীর সবকিছু নিয়ন্ত্রণকারী ইত্যাদি। প্রাগুক্ত, ১ম খ. পৃ. ৩২৭।

[3] . মহান আল্লাহর নাম শুধুমাত্র নিরানব্বই তে নির্দিষ্ট নয়। প্রাগুক্ত, ১ম খ, পৃ. ৩৩১।

[4] . তাওহীদের উপরে উল্লেখিত যথা: তাওহীদুর রাবুবীয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, ও তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন- আদ-দুআইশ, আহমাদ ইবন আব্দুর রাজ্জার সংকলিত, ফাতাওআ আল-লাজনাতুদ্দায়িমাহ লিল বুহূছিল ইসলামিয়া অল-ইফতা, দারূল ইফতা, রিয়াদ, ১৪১১ হিজরী, ১ম প্রকাশ, ১ম খ, পৃ. ২০।

[5] . ড. সালিহ আল-ফাওযান, আল ইরশাদ ইলা সহীহিল ই‘তিকাদ ওয়ার-রাদ্দু ‘আলা আহলিশ শির্কি ওয়াল-ইলহাদ, আর-রিয়াসাতুল আম্মাহ লি ইদারাতিল বুহূসুল ইসলামিয়্যা অল ইফতা অদদা’ওয়াতি অল-ইরশাদ, রিয়াদ, ১৪১৩ হি: ১ম মুদ্রণ, পৃ. ৩১। শির্কের বিস্তারিত প্রকারভেদ দেখুন ইবন তাইমিয়াহ, শাইখুল ইসলাম আহমাদ, মাজমু’আ ফাতাওআ, দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ ১৯৯১, ১ম খ, পৃ. ৯৭-৯৯।

[6] . সূরা ইউসুফ: ১০৬।

[7] . সূরা আন নিছা: ৪৮।

[8] . সূরা আয যুমার:৬৫।

[9] . সূরা আল মায়িদাহ: ৭২।

[10] . সূরা আত তাওবাহ: ০৫।

[11] . বুখারী, আবু আব্দিল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল, সহীহুল বুখারী, আলামুল কুতুব, বাইরূত, প্রথম মুদ্রণ, ১৯৮৬, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৫০।

05/06/2020

»» যে গল্প উপন্যাসের চেয়েও কাল্পনিক ««

মমতা ওরফে মম। তিন তিনটে উপন্যাস লিখেছেন। শব্দের মায়ায় মোহিত করেছেন শ্রোতা-পাঠকদের। বাক্যের গাঁথুনীতে গড়ে তুলেছেন নায়ক-নায়িকার কল্পনার সুরম্য প্রাসাদ। হাসি-বেদনার সংমিশ্রণে পাঠকদের অভিভূত ও বেদনাহত রাখার যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ঔপন্যাসিকের কল্পনাশক্তি ব্যয় করে পাঠকদের ঘুরিয়েছেন কল্পনার ইথারে-পাথারে। কিন্তু সামান্য একটা ভুলে তিনি এক সময় এমন গল্পের নায়িকায় পরিণত হয়েছেন- কোনো কবি, গল্পকার বা ঔপন্যাসিকের কল্পনায় যে গল্পের চিত্রায়ন সম্ভব হয়নি কখনও।

কল্পলেখকদের এই এক সমস্যা। কল্পনার জাল বিছিয়ে যিনি পাঠকদেরকে অবাস্তব চত্বরে ছোটাছুটি করান তিনিই আবার পাঠকের অবাস্তব রচনায় বিভ্রান্ত হন। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে গল্পের খোরাকে পরিণত হন।

আমাদের আলোচ্য ব্যক্তির নাম মমতা। সংক্ষেপে মম। বগুড়ার মেয়েটি দীনদার পরিবারের। বাবা তাকে প্রথমে আলিয়া মাদরাসায় পড়তে দিয়েছেন। সেখান থেকে কামিল (আলিয়া মাদরাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি) পাশ করার পর ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ঢাকার মিরপুরে আত্মীয়ের বাসায় থেকে ভার্সিটির লেখাপড়া শুরু। ধার্মিক বাবা মেয়ের ধর্মপরায়ণতার ভরসায় মেয়েকে ঢাকায় ছেড়েছেন। নতুবা ঢাকার পরিবেশ নিয়ে তারও ভয় ও শঙ্কা ছিল। মম বাবাকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন এবং কখনও বিপথগামী হবেন না বলে বাবাকে নির্ভার করেন।

প্রথম কিছুদিন বাবাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করেছেন তিনি। কখনও অন্য মেয়েদের মতো ফালতু কাজে জড়াতেন না। ছেলেবন্ধুর পাল্লায় পড়তেন না। মোবাইল-বন্ধুও পাত্তা দেন না। কিন্তু একপর্যায়ে এসে তার আত্মশাসনের বাঁধন ঢিলে হয়ে যায়। ঢাকার তরুণ-তরুণীদের উতলা জীবন ও বাঁধভাঙা উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার মমকেও স্পর্শ করে। মামুন নামের একটা লোক মমের ওপর নজর বিছায় এবং তার খালাতো বোনের মাধ্যমে তার মোবাইল নাম্বারটা সে হস্তগত করে ফেলে। মামুন মমকে নিজের পরিচয় দিল তার ভক্ত পাঠক বলে। তার লেখা বইয়ের শব্দগুলো তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে বলেও অভিব্যক্তি প্রকাশ করল। এরপর ফোন দেয়ার মূল কারণ উল্লেখ করে কোনোরূপ রাখঢাক না করেই বলল, আমি আপনার ভক্তপাঠক। আমি জানি আপনি অনেক কঠিন মেয়ে। পাথরের চেয়েও হয়ত কঠিন। আমার জীবনে এমন মানুষই দরকার। আমি এমন মানুষই আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাই।

অপ্রস্তুত মমের কাছে মামুনের কথাগুলো একেবারেই নতুন। আনুখা, অপরিচিত। তিনি কখনও এধরনের কথার সঙ্গে পরিচিত নন। তাই এসব কথার পিঠে কেমন কথা ছুঁড়তে হয় তাও তিনি জানেন না। তাই কোনোমতে ‘কথা রাখা সম্ভব নয়’ বলে লোকটাকে তাৎক্ষণিক নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেন তিনি।

কিন্তু মামুন তাতে মোটেও দমল না। মম সফল লেখিয়ে, আর মামুনের সফলতা লোক পটানোয়। এখানে লেখকের কারিশমা পাঠকের চাণক্যে ধরাশায়ী হলো। বহুবার নিবৃত করা সত্ত্বেও মামুন মমকে নিজ জালে আবদ্ধ করতে সক্ষম হলো। দ্বিধায়-সংকোচে এক সময় সাড়া দিলেন শক্তমনের অধিকারী মম! যিনি বাবাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজধানীর উষ্ণ আলিঙ্গনে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেবেন না, রক্ষা করবেন পারিবারিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তি আভিজাত্য। প্রতিশ্রুতির মাথা খেয়ে এভাবে ভক্তপাঠকের ছদ্মাবরণের মামুনের প্রেমে জড়িয়ে পড়লেন। বাবার নির্ভারতায় বাধাহীন গতিতে এগিয়ে চলল তার মামুন-সখ্য।

মামুন মমকে শুধু বিমোহিতই করলেন না; বিভ্রান্তও করলেন। তিনি সযত্নে তার পারিবারিক অবস্থা গোপন করতে সক্ষম হলেন। সখ্যের গভীরতা সম্বন্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত হলো। মামুন মমকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। মম তাতে সায়ও দিলেন কিন্তু পারিবারিকভাবে আসার প্রস্তাব দিলেন। মামুন জানেন, এধরনের প্রস্তাব আসবে মমতার পক্ষ থেকে। তাই কথাও সাজিয়ে রেখেছিলেন সেভাবেই। সে অনুযায়ী পারিবারিক নানান সমস্যার কথা বলে দুজন দুজনায় বিয়েকর্মটা সেরে নেয়ার পাঁয়তারা করলেন। মম এখানেও তেমন আত্মনিয়ন্ত্রণ শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেন না। মনে পড়ল না মাবাবা ও সমাজ-সংসারের কথা। মামুনের বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিই তার কাছে সবচেয়ে বড় মনে হয়। মামুন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলে, তার একমাত্র প্রেম ব্যর্থ হলে প্রকাশ্য রাজপথে গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে প্রাণ বিসর্জন দেবে সে। তবু অপবিত্র (?) হতে দেবে না তার প্রেমকে! মমের ভয়, তার কারণে যদি তার প্রিয় মানুষটি চিরতরে হারিয়ে যায়?

তাই কোনো সুযোগ নিলেন না আত্মনিয়ন্ত্রণের। স্মরণ করলেন না বাবার সঙ্গে কৃত ওয়াদার কথা। প্রিয় মানুষকে হারানোর আশঙ্কায় সব অভিভাবককে অন্ধকারে রেখে বগুড়ার এই মেয়েটি ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর মামুনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হলো কানামাছি খেলা। মামুন যেন শহরের জন্মসূত্রের বাসিন্দা। গ্রামে তার কোনো বাড়ি-ঘর নেই! বাড়ির কথা বলেও না, মমতাকে বাড়িতে নেয়ার চেষ্টাও করে না। এমনকি বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেয় না তাকে। এভাবে অস্বস্তি বাড়ে মমতার। একপর্যায়ে তার বাড়িতেও সংবাদটা পৌঁছে। হতবাক হয়ে যান মমতার বাবা। মেয়ের এই গাদ্দারী তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করেন না।

মা বাবার আঘাত, স্বামীর সন্দেহজনক আচরণ বিচলিত করে মমতাকে। এই প্রথম মনে হতে থাকে পিতামাতার স্নেহ ও মতামতের গুরুত্ব অবজ্ঞা করা মোটেও ভালো হয়নি। নারী জীবনের ভালো পাত্র নির্বাচন যে কত জরুরী তা হাড়ে হাড়ে টের পেতে থাকেন মমতা। ইমাম গাযালী রহিমাহুল্লাহ বলেন-

والاحتياط في حقها أهم لأنها رقيقة بالنكاح لا مخلص لها ، والزوج قادر على الطلاق بكل حال. عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِى بَكْرٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهَا قَالَتْ : إِنَّمَا النِّكَاحُ رِقٌّ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ أَيْنَ يُرِقُّ عَتِيْقَتَهُ ومن هنا وجب على الولي وعلى المرأة أن يتخيرا طيبا أصيلاً

বিয়ের ব্যাপারে নারীদের ক্ষেত্রে একটু বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কেননা বিয়ের মাধ্যমে নারী আবদ্ধ হয়ে যায়, এ থেকে (স্বামীর মৃত্যু বা তালাক ছাড়া) সহজে নিষ্কৃতির কোনো পথ খোলা থাকে না। পক্ষান্তরে পুরুষ লোক যেকোনো সময় বিবাহবন্ধন ছিন্ন করার সামর্থ্য রাখে। আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, বিবাহ হচ্ছে এক ধরনের বন্দিত্বের নাম। সুতরাং লোকেরা যেন খেয়াল করে তার প্রিয় আজাদ সন্তান (কন্যাকে) কোথায় বন্দি করছে।’ [সুনানে বায়হাকী : ১৩৮৬৩] একারণেই নারীর অভিভাবকের কর্তব্য হচ্ছে উত্তম, দীনদার ও সৎ ব্যক্তিকে বর হিসেবে নির্বাচন করা।

নারীর যে জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই জীবন সম্পর্কেই তারা সবচেয়ে বেশি উদাসীনতা, খামখেয়ালী ও আবেগপ্রবণতা দেখাচ্ছে! যে নারীজীবন সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকেই মুসলিম মনীষীগণ সতর্ক করে আসছেন, যে জীবন নারীজীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক বলে অভিহিত করছেন সেই জীবনকে নিয়েই খেলছেন স্বয়ং নারীগণ! এই খেলার ফলাফল মোটেই নারীদের পক্ষে যাচ্ছে না। খেলতে গিয়ে নিজেরাই খেলনার পাত্রী হচ্ছেন। আমাদের আলোচ্য মমতাও সেই খেলনার নির্মমতার শিকার একজন নারী।

স্বামীর পক্ষ থেকে স্বাভাবিকভাবে ঘরে তোলার প্রক্রিয়া না দেখে মমতা শঙ্কিত হন। তার বাড়ির লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও হন ব্যর্থ। এরই মধ্যে একটা অদ্ভুত ঘটনার সূচনা হয়। মামুনের মোবাইল থেকে কৌশলে একটা নাম্বার সংগ্রহ করেন মমতা। একদিন ভয়ে ভয়ে কল দেন সেই নাম্বারে। কল গ্রহণ করেন একজন বৃদ্ধ। মমতা আমতা আমতা করে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং খালু সম্বোধন করেন। বৃদ্ধের সরলতা মমতাকে মুগ্ধ করে। তিনি তাকে খালু থেকে বাবা সম্বোধন করে বসেন। সম্বোধনের নৈকট্যে অভিভূত হন ওই বৃদ্ধ। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন মারে! জীবনে এই প্রথম মেয়ের কণ্ঠে বাবা ডাক শুনলাম। তিনি আরো বললেন, মা! যেহেতু তুই আমাকে বাবা ডেকেছিস তাই আমিও তোকে মেয়ে হিসেবে বরণ করে নিলাম।

এরপর থেকে বাবা-মেয়ের সম্পর্কে কথোপকথন হতে থাকে তাদের। বিষয়টি মামুনও জানত না এবং ওই বৃদ্ধও জানতেন না এই মেয়েটি কে? মমতা অনুমান করতে থাকেন এই বৃদ্ধই হবেন মামুনের বাবা। তাই শ্বশুরের পরিচয় পোক্ত করতে বাবার পরিচয়টা আরো জোরালো করতে থাকেন। সম্পর্ক গভীর থেকে গভীর হলে একবার বাবার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার আব্দার করেন মমতা। মমতার আব্দারে বর্তে যান বৃদ্ধ। তিনি কল্পনাই করতে পারেন না ঢাকার একটি মেয়ে সামান্য মেয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে তার বাড়িতে বেড়াতে যাবেন। তাই সন্দিগ্ধ বৃদ্ধ বলেন, মা! আমাদের এই অজপাড়া গাঁয়ে তুমি বেড়াতে আসবে?

বৃদ্ধের কণ্ঠে যতটুকু না আকুতি মমতার কণ্ঠে তারচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠা। তাই তিনি ততোধিক ব্যাকুলতার সঙ্গে এই নতুন বাবার বাড়িতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি সময় করে সেই বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পথে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে তার শঙ্কা, সংকোচ ও উত্তেজনায়। যদি সত্যিই তার শ্বশুরবাড়ি হয় এটা তবে কেমন লাগবে? দুরুদুরু বুকে তিনি নতুন বাবার বাড়িতে হাজির হন। ওই বাড়ির লোকজন মমতাকে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে নেয়। নতুন বাবার অকৃত্রিম স্নেহ ও পরিবারের লোকদের একনিষ্ঠ আন্তরিকতায় আপ্লুত হন মমতা। কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই পরিবারের একজন লোকের উপস্থিতি তাকে হতচকিত করে তোলে। তার এই নতুন বাবা বলেছিলেন, জীবনে কখনও মেয়ের কণ্ঠে বাবা ডাক শোনেননি অর্থাৎ তার কোনো কন্যাসন্তান নেই। তবে সন্তানসমেত এই মহিলা কে? ভাবনা তাকে অস্থির করে। তাই এধরনের অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা থেকে নিবৃত থাকেন তিনি।

রাতে ওই মহিলার সঙ্গে মমতার শোবার ব্যবস্থা হয়। ওই মহিলাও মমতাকে নিজের বোনের মতো আপন করে নেন। রাতে শুয়ে শুয়ে সুখ-দুঃখের গল্প জুড়ে দেন। গল্পের এক ফাঁকে বলেন, এই দাঁড়াও আমার স্বামীর সঙ্গে একটু কথা সেরে নিই। এই বলে মহিলা ঢাকায় তার স্বামীর সঙ্গে কথা শুরু করে দেন। পাশের মহিলার স্বামী-কথনে মমতাও নিজ স্বামীর সঙ্গে কথোপকথনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং মুঠোফোন বের করে মামুনের নাম্বারে কল দেন। কিন্তু যতবারই কল দেন ততবারই তার নাম্বার বন্ধ দেখতে পান। এভাবে ওই মহিলা যতক্ষণ কথা বলেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজ স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। অনেকক্ষণ পর ওই মহিলা মোবাইল ছাড়লে মামুনের নাম্বারে মমতার কল ঢোকে। তাই এবার তিনি নিজ স্বামীর সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন।

মমতা তার স্বামীর সঙ্গে কথা শুরু করে দেয়ার কিছুক্ষণ পর ওই মহিলা কি এক অসম্পূর্ণ কথা শেষ করার জন্য স্বামীর নাম্বারে পুনরায় কল দেন। এবার তার পালা! মমতা যতক্ষণ পর্যন্ত তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন ততক্ষণ পর্যন্ত এই মহিলা পান তার স্বামীর নাম্বার বন্ধ! মমতা অনেকক্ষণ কথা বলে মোবাইলটা ছাড়লে তখন কল ঢোকে এই মহিলার স্বামীর নাম্বারে। বিষয়টা বেশ অদ্ভুত হলেও তখন আর কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামান না।

গল্পে গল্পে কেটে যায় রাত। রাতের গল্পে মমতা মেজবান বাড়ির অনেক কাহিনী শোনেন। শোনেন এই মহিলার বিয়ে এবং বিবাহপূর্বক বর্তমান স্বামীর সঙ্গে প্রেমকাহিনী। মহিলা খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার প্রেম এবং তার প্রতি স্বামীর অগাধ ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন।

সব কাহিনী গল্প আর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানার পর বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে মমতার। তিনি যে ধারণা করেছিলেন সেটাই ঠিক। তার বানানো এই বাবা তারই শ্বশুর, মামুনের বাবা! কিন্তু রাতে যে মহিলার সঙ্গে ঘুমালেন সে কে? মামুনের বউ, যাকে সে পরম ভালোবাসা দিয়ে বিয়ে করে এনেছে! ভেতরটা ভেঙে খান খান হয়ে যেতে চায় মমতার। পরেরদিন একটু আড়ালে গিয়ে বলে আমি অমুক জায়গায় অমুকের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। কথা শুনে মাথায় বাজ পড়ে মামুনের। নিজের গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অস্থির হয়ে ওঠে সে। মমতাকে প্রথমে ধমকি এবং পরে অনুনয়-বিনয় করে পরিচয় প্রকাশ না করতে এবং ঢাকা আসলে সব কথা বলবে বলে মমতার পায়ে পড়তে থাকে।

মমতা দিশেহারা হয়ে যান। একবার ইচ্ছা করেন নিজের পরিচয়টা প্রকাশ করে দিতে। কিন্তু পরক্ষণেই ভেসে ওঠে মামুনের বউটার কথা, রাতে যে তাকে তার স্বামীর পরম ও অকপট ভালোবাসার কথা শুনিয়েছে। এমন একজন সরল মনের মেয়েকে কষ্ট দিতে চান না মমতা। কষ্ট দিতে চান না মামুনের বাবাকে। তাই সফর সংক্ষিপ্ত করে সেদিনেই ঢাকা রওয়ানা হন। ঢাকা আসার পর মামুন তার প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হয়। কেন তাকে না বলে সেখানে গেল- এই অপরাধে তাকে টর্চার করতে থাকে। মামুনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবার কাছে সব তথ্য ফাঁস করে দেন মমতা। মমতার কথায় গোটা পরিবার মাথায় হাত দিয়ে বসে। বেশি আঘাত পান মামুনের পূর্বের বউ। মমতার কাছে ছোটো হয়ে যায় সে। বুকটা কত উঁচু করেই না মমতার কাছে স্বামীর গুণকীর্তন করেছিল সে। কিন্তু স্বামী তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে কিনা সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ, কিন্তু মমতার সঙ্গে যে প্রতারণা করেছে তা নির্ঘাত সত্য।

কেননা ঘরে বউ-বাচ্চা থাকা সত্ত্বেও অবিবাহিত বলে বিয়ে করেছে মমতাকে। তাই মমতার জন্য করুণা হয় তার। মামুনের বাবাও মমতাকে খুব স্নেহ করেছিলেন। এখন তাকে কোন মর্যাদায় ভূষিত করবেন তা ভেবে গলদঘর্ম হন। কারণ, মামুনের প্রথম বউকেও তিনি অনেক স্নেহ করেন। মেয়েটা অনেক ভালো। সংসারের সবাইকে সে আপন করে নিয়েছে অতি আন্তরিকতায়। তাই তার সমপর্যায়েও কাউকে রাখতে মনে সায় দেয় না তার। তাই মমতাকে অবাস্তব এক প্রস্তাব দিয়ে বসেন তিনি। তাকে তার মেয়ে হিসেবেই রেখে দিতে চান এই সংসারে। কিন্তু তা কি করে সম্ভব মমতার জীবনে? স্বামীর সংসারে কেউ কি ‘রিজার্ভ সদস্য’ হয়ে থাকতে চায়?

মমতার উপলব্ধিতে আজ বাস্তবতা ফিরে এসেছে। তিনি ভাবেন, স্বরচিত উপন্যাসের কল্পিত গল্পের চেয়েও মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক ও অবিশ্বাস্য তার বাস্তব ও ঘটমানজীবন!

- বেলা ফুরাবার আগে

03/06/2020

শির্কের ভয়ে দো‘আ

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া ‘আনা আ‘লামু ওয়া আস্তাগফিরুকা লিমা লা আ‘লামু।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি জ্ঞাতসারে আপনার সাথে শির্ক করা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই এবং অজ্ঞতাসারে (শির্ক) হয়ে গেলে তার জন্য ক্ষমা চাই।

আহমাদ ৪/৪০৩, নং ১৯৬০৬; ইমাম বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৭১৬। আরও দেখুন, সহীহ আল জামে ৩/২৩৩; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আলবানী, ১/১৯।

01/06/2020

»» দেনমোহর ««

যেদেশে ‘রাত্তিরেতে বেজায় রোদ, দিনে চাঁদের আলো।’ যে দেশে কিছু কিনতে গেলে ক্রীতবস্ত্তর বিনিময়ে কোন অর্থ দিতে হয় না; বরং বস্ত্তর সাথে ইচ্ছামত অর্থ পাওয়া যায়! এখন বাস্তব-জগতের কথায় আসা যাক।

বিবাহ এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অন্যের কাছে উপকৃত ও পরিতৃপ্ত। কিন্তু স্বামীর অধিকার বেশী। তাই স্ত্রীর কর্তব্য অধিক। স্ত্রী তার দেহ-যৌবন সহ স্বামীর বাড়িতে এসে বা সদা ছায়ার ন্যায় স্বামী-পাশে থেকে তার অনুসরণ ও সেবা করে। তাই তো এই চুক্তিতে তাকে এমন কিছু পারিতোষিক প্রদান করতে হয় যাতে সে সন্তুষ্ট হয়ে স্বামীর বন্ধনে আসতে রাজী হয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তা সবয়ং মানুষকে এ বিধান দিয়েছেন। তিনি বলেন,

﴿وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ كِتَابَ اللهِ عَلَيْكُمْ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً﴾

‘‘উল্লেখিত (অবৈধ) নারীগণ ব্যতীত অন্যান্য নারীগণকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তোমাদের সবীয় অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য, ব্যভিচারের জন্য নয়। তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা উপভোগ করবে তাদেরকে নির্ধারিত মোহর অর্পণ করবে।’’[1]

তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً﴾

‘‘এবং তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্টমনে দিয়ে দাও।’’[2]

আর প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

إِنَّ أَحَقَّ الشَّرْطِ أَنْ يُوفَى بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ.

‘‘সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যা পূরণ করা জরুরী, তা হল সেই বস্ত্ত যার দ্বারা তোমরা (স্ত্রীদের) গুপ্তাঙ্গ হালাল করে থাক।’’[3]

সুতরাং স্ত্রীকে তার ঐ প্রদেয় মোহর প্রদান করা ফরয। জমি, জায়গা, অর্থ, অলঙ্কার, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি মোহরে দেওয়া চলে। বরং প্রয়োজনে (পাত্রীপক্ষ রাজী হলে) কুরআন শিক্ষাদান, ইসলাম গ্রহণও মোহর হতে পারে।[4]

মোহর কম হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে সেবচ্ছায় বেশী দেওয়া নিন্দনীয় নয়। মহানবী (সাঃ) তাঁর কোন স্ত্রী ও কন্যার মোহর ৪৮০ দিরহাম (১৪২৮ গ্রাম ওজনের রৌপ্যমুদ্রা) এর অধিক ছিল না।[5] হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর মোহর ছিল একটি লৌহবর্ম।[6] হযরত আয়েশা বলেন, তাঁর মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম (১৪৮৭,৫ গ্রাম ওজনের রৌপ্য মুদ্রা)।[7] তবে কেবল উম্মে হাবীবার মোহর ছিল ৪০০০ দিরহাম (১১৯০০ গ্রাম রৌপ্য মুদ্রা)। অবশ্য এই মোহর বাদশাহ নাজাশী মহানবী (সাঃ) এর তরফ থেকে আদায় করেছিলেন।[8]

তাছাড়া তিনি বলেন, ‘‘নারীর বর্কতের মধ্যে; তাকে পয়গাম দেওয়া সহজ হওয়া, তার মোহর সবল্প হওয়া এবং তার গর্ভাশয়ে সহজে সন্তান ধরা অন্যতম।’’[9]

হজরত মূসা (আঃ) তাঁর প্রদেয় মোহরের বিনিময়ে শ্বশুরের আট অথবা দশ বছর মজুরী করেছিলেন।[10]

মোহর হাল্কা হলে বিবাহ সহজসাধ্য হবে; এবং সেটাই বাঞ্ছিত। পক্ষান্তরে পণপ্রথার মত মোহর অতিরিক্ত বেশী চাওয়ার প্রথাও এক কুপ্রথা।

মোহরের অর্থ কেবলমাত্র স্ত্রীর প্রাপ্য হক; অভিভাবকের নয়। এতে বিবাহের পরে স্বামীরও কোন অধিকার নেই। স্ত্রী বৈধভাবে যেখানে ইচ্ছা সেখানে খরচ করতে পারে।[11] অবশ্য স্ত্রী সন্তুষ্টচিত্তে সেবচ্ছায় স্বামীকে দিলে তা উভয়ের জন্য বৈধ।[12]

স্ত্রীকে মোহর না দিয়ে বিবাহ করলে অনেকের নিকট বিবাহ বাতিল।[13]

আক্দের সময় মোহর নির্ধারিত না করলেও বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মিলনের পর স্ত্রী সেই মহিলার সমপরিমাণ চলতি মোহরের অধিকারিণী হবে, যে সর্বদিক দিয়ে তারই অনুরূপ। মিলনের পূর্বে স্বামী মারা গেলেও ঐরূপ চলতি মোহর ও মীরাসের হকদার হবে।[14]

মোহর নির্দিষ্ট না করে বিবাহ হয়ে মিলনের পূর্বেই স্বামী তালাক দিলে স্ত্রী মোহরের হকদার হয় না। তবে তাকে সাধ্যমত অর্থাদি খরচ-পত্র দেওয়া অবশ্য কর্তব্য।[15]

বিবাহের সময় মোহর নির্ধারিত করে সম্পূর্ণ অথবা কিছু মোহর বাকী রাখা চলে। মিলনের পর স্ত্রী সে ঋণ মওকুফ করে দিতে পারে। নচেৎ ঋণ হয়ে তা স্বামীর ঘাড়ে থেকেই যাবে।

মোহর নির্ধারিত করে বা কিছু আদায়ের পর বিবাহ হয়ে মিলনের পূর্বে স্বামী মারা গেলেও স্ত্রী পূর্ণ মোহরের হকদার হবে। স্ত্রী মারা গেলে স্বামী মোহর ফেরৎ পাবে না।[16]

মোহর নির্দিষ্ট করে আদায় দিয়ে মিলন করার পর স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিলে মোহর ফেরৎ পাবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَاراً فَلا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئاً أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً- وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقاً غَلِيظاً﴾

‘‘আর যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচারণ দ্বারা তা গ্রহণ করবে? কিভাবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, অথচ তোমরা পরস্পর সহবাস করেছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছে?’’[17]

মোহর ধার্য হয়ে আদায় না করে মিলনের পূর্বেই তালাক দিলে নির্দিষ্ট মোহরের অর্ধেক আদায় করতে হবে। অবশ্য যদি স্ত্রী অথবা যার হাতে বিবাহবন্ধন সে ( স্বামী) মাফ করে দেয়, তবে সে কথা ভিন্ন। তবে মাফ করে দেওয়াটাই আত্মসংযমের নিকটতর।[18]

মিলনের পূর্বে যদি স্ত্রী নিজের দোষে তালাক পায় অথবা খোলা তালাক নেয়, তবে মোহর তো পাবেই না এবং কোন খরচ-পত্রও না।[19] মোহর আদায় দিয়ে থাকলে মিলনের পরেও যদি স্ত্রী খোলা তালাক চায়, তাহলে স্বামীকে তার ঐ প্রদত্ত মোহর ফেরৎ দিতে হবে।[20]

কোন অবৈধ বা অগম্যা নারীর সাথে ভুলক্রমে বিবাহ হয়ে মিলনের পর তার অবৈধতা (যেমন গর্ভ আছে বা দুধ বোন হয় ইত্যাদি) জানা গেলে ঐ স্ত্রী পূর্ণ মোহরের হকদার হবে। তবে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ওয়াজেব।[21]

একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে সকল স্ত্রীর মোহর সমান হওয়া জরুরী নয়।[22]

স্ত্রীর মোহরের অর্থ খরচ করে ফেলে স্বামী যদি তার বিনিময়ে স্ত্রীকে তার সমপরিমাণ জমি বা জায়গা লিখে দেয় তবে তা বৈধ।[23] পক্ষান্তরে অন্যান্য ওয়ারেসীনরা রাজী না হলে কোন স্ত্রীর নামে (বা কোন ওয়ারেসের নামে) অতিরিক্ত কিছু জমি-জায়গা উইল করা বৈধ নয়। কারণ, কোন ওয়ারেসের জন্য অসিয়ত নেই।[24]

পাত্রীর নিকট থেকে ৫০ হাজার (পণ) নিয়ে ১০ বা ২০ হাজার তাকে মোহর দিলে অথবা নামে মাত্র মোহর বাঁধলে এবং আদায়ের নিয়ত না থাকলে অথবা দশ হাজারের দশ টাকা আদায় ও অবশিষ্ট বাকী রেখে আদায়ের নিয়ত না রাখলে; অর্থাৎ স্ত্রীর ঐ প্রাপ্য হক পূর্ণমাত্রায় আদায় দেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে এই ধোঁকায় বিবাহ হবে কি না সন্দেহ। অবশ্য একাজ যে আল্লাহর ফরয আইনের বিরুদ্ধাচরণ তাতে কোন সঃন্দেহ নেই।

প্রকাশ যে, মোহর বিজোড় বাঁধা বা এতে কোন শুভলক্ষণ আছে মনে করা বিদআত।

﴿اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلاَ تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ﴾

(হে মানুষ!) ‘‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ কর এবং তাঁকে ছাড়া ভিন্ন অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।’’[25]

[1] (সূরা আল-বাক্বারা (৪) : ২৪)

[2] (সূরা আল-বাক্বারা (৪) : ৪)

[3] (সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ১৫৪৭)

[4] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২০২-৩২০৯)

[5] (ইরওয়াউল গালীল ১৯২৭)

[6] (সহীহ আবু দাউদ, আল্লামা আলবানী ১৮৬৫, নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ১/৮০)

[7] (সহীহ আবু দাউদ ১৮৫১)

[8] (সহীহ আবু দাউদ ১৮৫৩)

[9] (সহীহুল জামে ২২৩৫)

[10] (সূরা স-দ (২৮) : ২৭)

[11] (ফাতাওয়াল মারআহ ১০৫-১০৯পৃঃ)

[12] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৪)

[13] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৯)

[14] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৯-১৫০)

[15] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৬)

[16] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৮)

[17] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২০-২১)

[18] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৭)

[19] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৫১-১৫২)

[20] (বুখারী, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৭৪)

[21] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৪৯)

[22] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬২)

[23] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৫/৪৭)

[24] (মিশকাতুল মাসাবীহ ৩০৪৭, ইরঃ ১৬৫৫)

[25] (সূরা আল-আ‘রাফ (৭) : ৩)

01/06/2020

»» বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ««

মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করতে অভ্যস্ত। একাকী বাস তার সবভাব-সিদ্ধ নয়। তাই প্রয়োজন পড়ে সঙ্গিনীর ও কিছু সাথীর; যারা হবে একান্ত আপন। বিবাহ মানুষকে এমন সাথী দান করে।

মানুষ সংসারে সবয়ংসম্পূর্ণ নয়। বিবাহ মানুষকে দান করে বহু আত্মীয়-সবজন, বহু সহায় ও সহচর।

মানুষের প্রকৃতিতে যে যৌন-ক্ষুধা আছে, তা দূর করার বৈধ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা হল বিবাহ।

বিবাহ মানুষকে সুন্দর চরিত্র দান করে, অবৈধ দৃষ্টি থেকে চক্ষুকে সংযত রাখে, লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে।

বিবাহের মাধ্যমে আবির্ভাব হয় মুসলিম প্রজন্মের। এতে হয় বংশ বৃদ্ধি, রসূল (সাঃ) এর উম্মত বৃদ্ধি।

পৃথিবী আবাদ রাখার সঠিক ও সুশৃঙ্খল বৈধ ব্যবস্থা বিবাহ। বিবাহ আনে মনে শান্তি, হৃদয়ে স্থিরতা, চরিত্রে পবিত্রতা, জীবনে পরম সুখ। বংশে আনে আভিজাত্য, অনাবিলতা। নারী-পুরুষকে করে চিরপ্রেমে আবদ্ধ। দান করে এমন সুখময় দাম্পত্য, যাতে থাকে ত্যাগ ও তিতিক্ষা, শ্রদ্ধা, প্রেম, স্নেহ ও উৎসর্গ।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ﴾

অর্থাৎ, তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও স্নেহ সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।[1]

ইসলামে বৈরাগ্যের কোন স্থান নেই।
‘‘বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়,
অসংখ্য বন্ধন মাঝে মহানন্দময়
লভিব মুক্তির স্বাদ----।’’

এই হল মুসলিমের জীবন। তাই তো বিবাহ করা প্রত্যেক নবীর সুন্নত ও তরীকা। বিবাহ করা এক ইবাদত। স্ত্রী-সঙ্গম করা সদকাহ্তুল্য।[2] যেহেতু এই পরিণয়ে মুসলিমের বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে নিজেকে ব্যভিচার থেকে রক্ষা করা, স্ত্রীর অধিকার আদায় করা এবং তাকেও ব্যভিচারের হাত হতে রক্ষা করা, নেক সন্তান আশা করা, অবৈধ দৃষ্টি, চিন্তা প্রভৃতি থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

إذَا تَزَوَّجَ العَبدُ فَقَد استَكمَلَ نِصْفَ الدِّين فَلْيَتَّقِ اللهَ في النِّصف البَاقي.

‘‘(মুসলিম) বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন সে তার অর্ধেক ঈমান (দ্বীন) পূর্ণ করে, অতএব বাকী অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’’[3]

ব্যভিচার থেকে বাঁচার জন্য ও পবিত্র জীবন গঠনের উদ্দেশ্যে বিবাহ করলে দাম্পত্যে আল্লাহর সাহায্য আসে।[4]

আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿وَأَنْكِحُوا الأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ﴾

‘‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।[5]

জগদ্গুরু মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন,

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ.

‘‘হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে দস্ত্তরমত সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রিয় দমনকারী।’’[6]

তিনি আরো বলেন,

النِّكَاحُ من سُنَّتي . فَمَن لَم يَعمَل بسُنَّتي فَلَيسَ مني.

‘‘বিবাহ করা আমার সুন্নত (তরীকা)। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নত (তরীকা) অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।’’[7]

সুতরাং বিয়ের বয়স হলে, যৌন-পিপাসায় অতিষ্ঠ হলে এবং নিজের উপর ব্যভিচারের অথবা গুপ্ত অভ্যাসে স্বাস্থ্য ভাঙ্গার আশঙ্কা হলে বিলম্ব না করে যুবকের বিবাহ করা ওয়াজেব। বাড়ির লোকের উচিৎ, এতে তাকে সহায়তা করা এবং ‘ছোট’ বা ‘পড়ছে’ বলে বিবাহে বাধা না দেওয়া। যেমন পূর্বে আরো অবিবাহিত ভাই বা বোন থাকলে এবং তাদের বিয়ের ব্যবস্থা বা ইচ্ছা না হলে এই যুবককে বিবাহে বাধা দেওয়ার অধিকার পিতা-মাতার বা আর কারো নেই। আল্লাহর আনুগত্যে গুরুজনের আনুগত্য ওয়াজেব। যেখানে আল্লাহর অবাধ্যতার ভয় ও আশঙ্কা হবে, সেখানে আর কারো আনুগত্য নেই। বরং এই সব ক্ষেত্রে বিশেষ করে ‘মনমত পণ’ না পাওয়ার জন্য বিয়ে না দিলে মা-বাপের আনুগত্য হারাম। সুতরাং যুবকের উচিৎ, যথাসময়ে বিনা পণে মা-বাপ রাজী না হলেও রাজী করতে চেষ্টা করে বিবাহ করা। নচেৎ তার অভিভাবক আল্লাহ।

অনেক সময় দ্বীনদার-পরহেজগার পরিবেশের পুণ্যময়ী সুশীলা তরুণীর সাথে বিবাহে মা-বাপ নিজস্ব কোন স্বার্থে রাজী হয় না। অথবা এমন পাত্রী দিতে চায়; যে দ্বীনদার নয়। দ্বীনদার যুবকের এ ক্ষেত্রেও মা-বাপের কথা না মানা দ্বীনদারী।[8]

বৈবাহিক জীবন দু-একদিনের সফর নয়; যাতে দু-একদিন পর সহজভাবে সঙ্গী পরিবর্তন করা যাবে। সুতরাং এখানে ছেলে-মেয়ে সকলেরই বুঝাপড়া ও পছন্দের অধিকার আছে।­

পক্ষান্তরে দ্বীন ছাড়া অন্য স্বার্থে ছেলে যদি মা-বাপের কথা না মেনে তাদেরকে নারাজ করে বিবাহ করে, তবে এমন ছেলে নিশ্চয়ই অবাধ্য। অবাধ্য মাতা-পিতার এবং অবাধ্য আল্লাহ ও তাঁর রসূলের। এ বিষয়ে আরো কিছু আলোচনা আসবে ‘বিবাহ প্রস্তাব ও তার শর্তাবলী’তে।

[1] (সূরা আর-রূম (৩০) : ২১)

[2] (মুসলিম ১০০৬)

[3] (সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৬১৪৮)

[4] (সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৩০৫০, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩০৮৯)

[5] (সূরা আন-নূর (২৪) : ৩২)

[6] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩০৮০)

[7] (ইবনে মাজাহ ১৮৪৬)

[8] (আল-লিকাউশ শাহরী ৩/৪২পৃঃ, ফাতাওয়াল মারআহ ৫৬পৃঃ)

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Chittagong
4315