Ibrahim Khalil

Ibrahim Khalil

Share

দূর দৃষ্টি | পরিকল্পনা | অধ্যাবসায় | সাধনা | সাফল্য

চিন্তা,চেতনায়, ব্যক্তিত্ব-বাদে পরিবর্তন এবং
সময়ের গতি ও নিজের সুষ্ঠু পরিকল্পনাই জীবনের সফলতা বয়ে আনে.

10/03/2026

মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানিতে জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ.....

01/03/2026

আমাদের এক অদ্ভুত প্রতিভা আছে। পৃথিবীর যেখানেই যুদ্ধ লাগুক, আমরা সঙ্গে সঙ্গে মানসিকভাবে উপস্থিত হয়ে যাই। সোফায় বসে থাকি, কিন্তু মন চলে যায় সীমান্তে। হাতে চা, মুখে বিশ্লেষণ। পাঁচ মিনিটেই ঠিক করে ফেলি, কে ন্যায্য, কে অন্যায়।
ইরান এর খবর এলে আমরা খুব আবেগী হয়ে যাই। মনে হয়, ইতিহাসের দায় এখন আমাদের কাঁধে। আবার আফগানিস্তান আর পাকিস্তান মুখোমুখি দাঁড়ালে আমরা হঠাৎ খুব চুপ। ভাবি আচ্ছা, এবার কার পাশে দাঁড়াব? পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের কাছে নৈতিক দায়িত্বের মতো। শুধু নিজের পাশে দাঁড়ানোটা বাদ পড়ে যায়।

আমাদের অবস্থান খুব দ্রুত বদলায়। ফেসবুক পোস্ট বদলাতে যত সময় লাগে, তত সময়েই মতাদর্শ বদলে যায়। সকালে এক দেশ নায়ক, বিকেলে আরেক দেশ। রাতের বেলা আমরা নিরপেক্ষ কারণ তখন ঘুম পায়।

আমরা কথায় খুব শক্ত। বাস্তবে একটু নরম। “আমেরিকা আমাদের শত্রু” এই ঘোষণা দিতে দিতে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ দেখি। দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ভেতরে ঢুকে হাসিমুখে বলি, স্টাডি পারপাস।” বাইরে বের হয়ে বলি, ওদের সংস্কৃতি আমাদের ধ্বংস করছে।

ধর্মের কথা বললে আমরা গম্ভীর হয়ে যাই। দুর্নীতির সময় একটু ব্যস্ত থাকি। নামাজ শেষে ঠিকাদারি দরপত্রে ফোন দিই। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে নৈতিকতার বক্তৃতা দিই, পেছনে গোপনে সুবিধার হিসাব করি। ইসলাম আমাদের কাছে কখনও আত্মশুদ্ধি নয়, বরং পরিচয়পত্র। দরকার হলে দেখাই, দরকার না হলে পকেটে রাখি।

বিজ্ঞান, গবেষণা, পড়াশোনা, এসব নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী। আশা করি, কেউ না কেউ করবে। বিদেশে কেউ আবিষ্কার করলে আমরা গর্বিত হই। নিজেরা গবেষণাগারে ঢুকতে একটু ক্লান্ত লাগে। কারণ সেখানে লাইক-কমেন্ট কম।

আমরা সব বিষয়ে জানি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামরিক কৌশল, জ্বালানি বাজার, ইতিহাস সব। শুধু নিজের সমাজ কেন পিছিয়ে আছে, সেটা জানার সময় পাই না। আমাদের রাগ আছে, আবেগ আছে, অবস্থান আছে। পরিকল্পনা নেই।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমরা সবাই ভালো মানুষ। অন্তত নিজেদের কাছে। সমস্যাটা অন্যদের। রাজনীতি খারাপ, বিশ্ব খারাপ, ব্যবস্থা খারাপ। আমরা না থাকলে পৃথিবীতে ইসলাম থাকতো না।

হয়তো একদিন আমরা বুঝব, পৃথিবীর যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান নেওয়ার আগে নিজের অজ্ঞতার বিরুদ্ধে একটু যুদ্ধ করা দরকার। উন্নতির শুরুটা হয় লড়াই দিয়ে নয়, লজ্জা দিয়ে। নিজের দিকে তাকানোর লজ্জা। ততদিন পর্যন্ত আমরা পোস্ট লিখব। মত বদলাব। ঘৃণা করব। ভালোবাসব।

আর লাইনে দাঁড়িয়ে আমেরিকার ভিসার অপেক্ষা করব।

04/02/2026

আমার মৃত্যুর সংবাদে'ও এক বিন্দু দুঃখ কারো না হোক-এই প্রার্থনাটা আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নয়, বহু আগেই করে ফেলেছিলাম। কারণ আমি ধীরে ধীরে বুঝে গিয়েছিলাম, এই পৃথিবীতে মানুষ কাঁদে অভ্যাসে, ভালোবাসে শর্তে, আর ভুলে যায় সুবিধামতো।

আমি ছিলাম সেই মানুষ, যাকে সবাই কাজে লাগিয়েছে, কিন্তু কেউ রাখেনি। হাসি ছিল ধার করা, স্বপ্ন ছিল একতরফা, আর ভালোবাসা ছিল সর্বদা অপূর্ণ। আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি-তাই নিজেকেই বারবার ভেঙেছি।

ছোটবেলা থেকেই শিখে গেছি চুপ করে থাকা। বাবা বলতেন, "চুপ থাকলে ঝামেলা কম হয়।" মা বলতেন, "নিজেকে মানিয়ে নে।" আমি মানিয়ে নিতে নিতে একসময় নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ দেখলে মনে হতো-এই মানুষটা কে? কবে এত নিঃসঙ্গ হয়ে গেল?

আমি কাউকে ভালোবেসেছিলাম। খুব সাধারণভাবে, খুব নীরবে। কোনো দাবি ছিল না, শুধু চেয়েছিলাম-থাকুক। সে থাকেনি। যাওয়ার সময় বলেছিল, "তুমি খুব ভালো, কিন্তু.." এই 'কিন্তু' শব্দটাই আমার জীবনের সবচেয়ে লম্বা বাক্য হয়ে রইল।

তারপর জীবন চলেছে। অফিস, রাস্তা, চা, রাত-সব একই রকম। কেউ ফোন করলে ধরতাম, কিন্তু কেউ খোঁজ না নিলে আমিও ডাক দিতাম না। ধীরে ধীরে আমি এমন একজন মানুষ হয়ে উঠলাম, যার না থাকা কারো জীবনে কোনো ফাঁকা জায়গা তৈরি করবে না।

আমি লক্ষ্য করেছি-আমি হাসলে মানুষ স্বস্তি পায়, আমি চুপ থাকলে কেউ প্রশ্ন করে না। তাই আমি হাসতাম। ভেতরে ভেতরে ডুবে যাচ্ছিলাম, আর বাইরে ভাসমান মানুষ সেজে ছিলাম।

একদিন মনে হলো, যদি আমি হঠাৎ না থাকি-কি হবে? হয়তো দুই একদিন কথা হবে, কেউ বলবে, "ভালো ছেলে ছিল।" তারপর সবাই নিজের জীবনে ফিরে যাবে। আমার জায়গায় কেউ বসবে, আমার কাজ কেউ করবে, আমার নামটা ধীরে ধীরে উচ্চারণের বাইরে চলে যাবে।

এই উপলব্ধিটাই আমাকে শান্ত করেছিল। আমি বুঝে গিয়েছিলাম-আমার মৃত্যুতে যদি কেউ কাঁদে, তবে সেটা আমার জন্য নয়, নিজের অভ্যাসের জন্য। তাই আমি চাই না কেউ কাঁদুক।

আমার মৃত্যুর সংবাদে'ও যদি কেউ দুঃখ না পায়, তবে সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। কারণ আমি কারো জীবনের বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি-না জীবনে, না মৃত্যুর পরে।

যদি কখনো কেউ আমার কথা মনে করে, শুধু এইটুকু ভাবলেই চলবে-একজন মানুষ ছিল, যে খুব চুপচাপ সবাইকে ভালোবেসে গিয়েছিল। কোনো অভিযোগ না রেখে, কোনো হিসাব না চেয়ে।

আর যদি কেউ একেবারেই মনে না করে-তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি তো আগেই নিজেকে ভুলে যেতে শিখে গিয়েছিলাম।

29/08/2025

পছন্দের কতকিছুই ছেড়ে দিয়েছি। ছোটবেলার সেই আটানা দামের চকলেট; দুই টাকা দামের আইসক্রিম, পছন্দের ছিলো খুব কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ছেড়ে দিয়েছি।

মাটির টুকরো কিংবা ইটের টুকরো গাছে ছুড়ে মেরে কাঁচা আম খাওয়াটা ছিলো অতি পছন্দের। এখন ফ্রিজে থাকতে থাকতে পচে যায় কিন্তু খাওয়া হয়না। ছেড়ে দিয়েছি।

পছন্দের খেলা ছেড়ে দিয়েছি। বেসুরো গলায় পছন্দের গান গাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যাওয়াও ছেড়ে দিয়েছি। পছন্দের অনেক কিছুই ছেড়ে আসা মানুষ আমি।

তোমাকে আমার পছন্দ। তাই বলে যে তোমাকে আমি ছাড়তে পারবোনা এমন টা ভাবার প্রয়োজন নেই। তুমি সেখানে যেতে পারো যেখানে তোমার মন টানে।

আমাকে ছেড়ে গিয়ে তুমি অন্য কোথাও ভালো থাকলে, আমি তোমাকে সেখানে এগিয়ে দিয়ে আসতে চাই।

21/08/2025

ক্ষমতা, গণতন্ত্র, দাসত্ব—
শুধু পালা বদলায়, কিন্তু শিকল থেকে যায়।
এক রাক্ষস যায়, আরেক রাক্ষস আসে।
রক্তাক্ত জুলাই আজও নীরব।
২৪ জুলাই, আবারো ব্যর্থ এক অধ্যায়—
স্বপ্নের বাংলাদেশের রুপরেখা আঁকা হয়নি।
হে নব তরুণ!
আমাদের ব্যর্থতা যেন তোমাদের শৃঙ্খল না হয়।
গড়ে তোলো এক নতুন বিপ্লব—
বৈষম্যহীন, খিলাফত শাসন, সাহসী বাংলাদেশ।
আমরা পারিনি... কিন্তু তোমরা পারবে!

05/08/2025

“যাকে দেখতেছেন, সে একটা স্বনামধন্য অফিসে চাকরি করে। আজকে লাঞ্চের সময় সে এখানে শুয়ে আছে… পাশে জুতা। তার গেটআপ ইত্যাদি দেখে, আমি আর আমার এক বন্ধু তার পাশে গেলাম। বললাম, ‘এভাবে শুয়ে আছেন কেনো?’ বলতেছে, ‘ছোট ভাই, ডিস্টার্ব করো না, ঘুমটা নষ্ট করে ফেলো না!’

তখন বলল, ‘শোনো, আমি বিয়ে করেছি প্রায় তিন বছর হলো। আমার পিতা-মাতা মেনে নেয়নি… কারণ আমার শ্বশুর নেই (আরো অনেক কারণ বলেছে)। আমি এখানে চাকরি করি, আমার ওয়াইফকে নিয়ে এখানেই একটা ভাড়া বাসা নিয়ে থাকি। আলহামদুলিল্লাহ, চার দিন হলো আমাদের একটি কন্যা সন্তান হয়েছে—সিজারের মাধ্যমে। তিনদিন হসপিটালে থাকতে হয়েছে ওয়াইফকে নিয়ে। আমার কোম্পানি আমাকে তিনদিন ছুটি দিয়েছিল। আজ আমার ছুটি শেষ, তাই অফিসে এসেছি। এই তিনদিন আমি প্রায় ঘুমবিহীন অতিবাহিত করেছি। কারণ আমার ওয়াইফ ও সন্তান দেখার মতো এই শহরে কেউ নেই। আমাকে একাই সব সামলাতে হয়েছে। দেখো ছোট ভাই, এই প্যান্ট আমি চারদিন ধরে পড়ে আছি।’

আমি বললাম, ‘আপনার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট অবস্থায়—আপনার বাবা-মা বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তাকে নিতে আসেনি? বা দেখতে আসেনি?’

বললো, ‘আমার শাশুড়ি মারা গেছেন প্রায় এক বছর হলো। আর শ্বশুরবাড়িতেও আমার বউয়ের আপন কেউ নেই যে আসবে। আর আগেই তো বলেছি, আমার পরিবার মেনে নেয়নি। আমি যোগাযোগ করতে চাইলেও তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে না। আমাকে বলে, এই বউ বাদ দিতে! না হলে বাড়ির মায়া ছাড়তে হবে। আমার ওয়াইফ আমাকে অনেক ভালোবাসে এবং বিশ্বাস করে। আমিও তাকে ভালোবাসি। আমি ছাড়া ওর আপন কেউ নেই। তাহলে বলো ভাই, এই মেয়েটাকে আমি কীভাবে ছেড়ে দিই? আমি আমার পরিবারকে খুশি রাখতে পারিনি, তাই তারা আমার খোঁজও রাখে না।’

আমি বললাম, ‘লাঞ্চ করছেন?’

সে বললো, ‘সকালে রান্না করে ওয়াইফকে খাইয়ে নিজেও খেয়ে এসেছি।’

আমি বললাম, ‘তাহলে লাঞ্চ টাইমে বাসায় যাননি কেন?’

বললো, ‘এখান থেকে বাসায় যেতে ১৫ মিনিট, আসতে ১৫ মিনিট—টোটাল ৩০ মিনিট। আমার লাঞ্চ টাইম ৪৫ মিনিট। ওয়াইফকে বলে এসেছি, দুপুরে খাবারটা তুমি খেয়ে নিও। আমি বাইরে খেয়ে নেব। আমার চোখ আর কুলাচ্ছে না। অফিসে ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই এখানে… ৩০ মিনিটের জন্য এলার্ম দিয়ে পকেটে ফোনটা রেখে ঘুমিয়েছিলাম। আর ২০ মিনিট না যেতেই আপনারা ডেকে তুললেন।’

শেষে বলল, ‘শোনো ছোট ভাই, জীবন সহজ না। বাবা-মার কথা মেনে চলো, তাহলে তাদেরকে পাশে পাবে। না হলে নয়।’

😔😔

04/08/2025

বুকে থাকলেই সবাই আপন হয় না, বরং অনেক সময় বিশাল ক্ষতি করে বসে 🖤

22/07/2025

মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি

22/07/2025

ছুটি 💔 😔😔

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Bandar Chattogram
Chittagong