14/04/2023
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান উন্নয়নে যেভাবে স্মার্টফোন কাজ করছে।
---------------------------------------------------------------------
১. বিগত ২০২০ ও ২০২১ সালে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস নামে মোবাইল প্রশিক্ষণে সেরাদের সেরা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের আসক্তি বেড়েই চলেছে। এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
২. আমরা কী প্রকৃতপক্ষেই ভেবে দেখেছি যে,এই শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন খুবই প্রয়োজন? যে শিক্ষার্থীর লেখাপড়া করার কথা ছিলো,তারা আজ দিন দিন বখাটে হচ্ছে এবং মোবাইলে ভিডিও দেখে আনন্দ নিচ্ছে, কিশোর অপরাধে জড়াচ্ছে, বাল্য বিবাহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, শিশু শ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে, এভাবে কী লেখাপড়া করা সম্ভব হবে?
৩. শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সময় পেয়ে সময় কাটানোর একমাত্র অবলম্বন হিসেবে মোবাইল কে সঙ্গী করে নিয়েছে। অনেকে আবার দারিদ্র্যতার কারণে মোবাইল দিতেই পারেনি,তাদের ঘরে খাবারও নেই।
৪. শিক্ষার্থীর মা ও বাবা মোবাইল চাপছে সাথে সন্তানকেও একটি দিয়েছে,তা না হলে সন্তান স্কুলে যেতে চায় না। আবার অভিভাবক তার সন্তানের ভালো ফলাফল আশা করে। শিক্ষকবৃন্দ নাকি ঠিক মত তার সন্তানের যত্ন নেয় না।
৫. ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু,মেসেঞ্জার, ইউটিউব ছাড়া কী বর্তমান শিক্ষার্থীদের একদিন চলে? মনে হয় না! এগুলোর নেশায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে থাকতে চায় না। লেখাপড়া ভালো লাগে না,ভালো লাগে স্মার্টফোন। এই স্মার্টফোন সন্তানকে উপহার দিয়ে অভিভাবক আজ মুক্ত।
৬. শিক্ষার্থীদের ফেসবুক আইডিতে অসংখ্য আগাছার মত বন্ধু আছে। এদের চুলের স্টাইল খুবই সুন্দর। এরা যে কাজ করে আগাছা বন্ধুরা তা সমর্থন করে। এরা মাঝে মাঝে জোসনা,সখিনা,রকি ও বিজলী বেগমের সাথে ফুচকা ও চটপটি দোকানেও বসে। আবার এদের বিভিন্ন জলকুটির ও ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে বার্গার ও কফি খাইতেও দেখা যায় এবং এই টাকার যোগান দেয় অভিভাবক। এরা টাকা না দিলে নাকি স্কুলে যেতে চায় না। এগুলো হলো স্মার্টফোনের অবদান আর এইটার নাম হলো লেখাপড়া।
৭. সন্তান যা বলে মা বাবা তাই বিশ্বাস করে আর শিক্ষকরা মিথ্যা বলে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা ট্যালেন্ট আর শিক্ষকরা নাকি কিছুই জানে না,দাবি সন্তান ও অভিভাবকদের। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা এ্যালোমেলো কিছু করতে পারে ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে। হায়রে নিয়তি!!!
৮. ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার,ব্যাংকার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বড় চাকরি করেন কিন্তু শিক্ষকের মূল্য তুচ্ছ। আমরা যত বড় চাকরি করি না কেনো তবে মানুষ হয়েছি কতজন? কেউ কী ভেবে দেখেছি? চারদিকে এ+ কিন্তু মেধার বিকাশ ঘটেছে কী? কড়া শাসন ভালো লাগে না,শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ। শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের কী বিচার করবেন? আজ অভিভাবকরাই শিক্ষকদের বিচার করেন কিন্তু নিজ সন্তানের জন্য সময় দিতে চায় না এমনকি তাদের খুঁজও নেন না। এর সবকিছুর মূলে স্মার্টফোন। এখন লেখাপড়া আর লেখাপড়া, উন্নয়ন আর উন্নয়ন।
এখন কে শিক্ষক,কে অভিভাবক আর কে শিক্ষার্থী বুঝতে পারাই মুশকিল।