ইবনু আব্বাস (রা) বলেন: দিমাদ নামে আযদ শানুআ গোত্রের এক ব্যক্তি মক্কায় আগমন করে। সে বাতাস লাগা, যাদু-টোনা, বদনযর ইত্যাদির ঝাড়ফুঁক করত। সে মক্কার অর্বাচীনদের বলতে শোনে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাগল। তখন সে বলে, আমি যদি এ লোকটিকে দেখতে পারতাম তাহলে হয়ত আল্লাহ আমার হাতে লোকটিকে সুস্থ করে তুলতেন। এরপর দিমাদ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে সাক্ষাত করে। সে বলে, মুহাম্মাদ, আমি বদ-বাতাসের ঝাড়ফুঁক করি এবং আল্লাহ আমার হাতে যাকে ইচ্ছা তাকে সুস্থ করেন। আমি কি তোমার চিকিৎসা করব? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَمَّا بَعْدُ
“নিশ্চয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন তাকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর।”
কথাগুলি শুনেই দিমাদ বলে, তুমি কথাগুলি আমাকে আবার শুনাও। এভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথাগুলি তাকে তিনবার শুনান। তখন সে বলে: আমি গণক, যাদুকর ও কবিদের কথা শুনেছি, কিন্তু কখনো তোমার এ কথাগুলির মত কথা শুনি নি। এগুলি সমূদ্রের গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। এরপর সে বলে: তুমি তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, আমি ইসলামের বাইয়াত গ্রহণ করব, একথা বলে সে ইসলাম গ্রহণ করে। ১.
আবূ মূসা আশআরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে খুতবাতুল হাজাত নিম্নরূপ শিক্ষা দিতেন:
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ [وَنَسْتَغْفِرُهُ] وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُِ.
“নিশ্চয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং আমাদের খারাপ কর্মগুলি থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন তাকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।” তিনি বলতেন,
فإن شئت أن تصل خطبتك بآي من القرآن تقول ..... أما بعد ثم تكلم بحاجتك
“তুমি যদি তোমার খুতবার সাথে কুরআনের কয়েকটি আয়াত সংযুক্ত করতে চাও তাহলে বলবে: (সূরা আল ইমরানের ১০২ আয়াত, সূরা নিসার ১ আয়াত ও সূরা আহযাবের ৭০-৭১ আয়াত)। এরপর তুমি বলবে, “আম্মা বা’দু”: অতঃপর, এরপর তুমি তোমার প্রয়োজন বলবে।” ২.
ইবনু মাসঊদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে সালাতের খুতবা ও হাজতের খুতবা শিক্ষা দেন। সালাতের খুতবা হলো: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ....। আর হাজতের খুতবা নিম্নরূপ শিক্ষা দেন। অন্য বর্ণনায় ইবনু মাসঊদ বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য বক্তব্য পেশের বা হাজতের খুতবা নিম্নরূপ শিক্ষা দেন: (ইন্নাল হাম্দা.... থেকে মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু পর্যন্ত)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: এরপর তুমি তোমার খুতবার সাথে কুরআনের তিনটি আয়াত সংযুক্ত করবে (পূর্বোক্ত আয়াতগুলি)। ৩.
সহীহ হাদীসগুলিতে খুতবাতুল হাজাত এরূপই বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় বাক্যগুলির মধ্যে সামান্য হেরফের রয়েছে। এ সকল হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সকল প্রকার বক্তব্য, খুতবা, দরস, আলোচনা বা ওয়াযের আগে এ কথাগুলি দিয়ে বক্তব্য শুরু করা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। বিভিন্ন হাদীস থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, তিনি সকল বক্তব্যের আগে সর্বদা এ কথাগুলি দিয়ে বক্তব্য শুরু করতেন। সাহাবীদেরকেও এরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। সালাতের মধ্যে তাশাহ্হূদ বা “আত্তায়্যিাতু”-র মতই এগুলি তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। কাজেই আমাদের সকলেরই উচিত সাধ্যমত আমাদের সকল বক্তব্যের শুরতে এগুলি বলা। আরবী বাক্যগুলি মুখস্থ বলা সম্ভব না হলে অর্থ অন্তত বাংলায় বলা যেতে পারে। হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, এটি নিয়মিত পালনের সুন্নাত। এ সুন্নাত পালন ও জীবন্ত করার মধ্যে সাওয়াব, বরকত ও অনেক ভাল প্রভাব রয়েছে।
উপরের হাদীসগুলি থেকে আমরা দেখি যে, এগুলির দুটি পর্যায় রয়েছে, প্রথম পর্যায় হলো আল্লাহর প্রশংসা, গুণবর্ণনা, সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা-মূলক বাক্যগুলির সাথে শাহাদাতাইন বলা। দ্বিতীয় পর্যায় হলো এরপর কুরআনের আয়াতগুলি বলা। সর্বদা দ্বিতীয় পর্যায়টি রক্ষা করতে না পারলেও ন্যূনতম প্রথম পর্যাটি রক্ষা করতে সর্বদা চেষ্ট করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:
كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا تَشَهُّدٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ
“যে খুতবা বা বক্তব্য-ওয়াযের শুরুতে তাশাহ্হূদ নেই তা কর্তিত হস্তের ন্যায়।” ৪.
এখানে তাশাহ্হূদ বলতে শুধু “শাহাদাতাইন” বুঝানো হয় নি, বরং হামদ, সানা ও তাশাহ্হূদের সম্মিলিতি সে পদ্ধতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিখিয়েছেন তাই এখানে উদ্দেশ্য। যেমন সালাতের মধ্যে তাশাহ্হূদ বলতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণবর্ণনা সহ শাহাদাতাইন বলার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেখানো বাক্যগুলি বুঝানো হয়।
সাহাবী, তাবিয়ী ও পূর্ববর্তী যুগের আলিম ও বুজুর্গগণ তাদের সকল দরস, ওয়ায ও বক্তব্যের শুরুতে এ কথাগুলি বলতেন। আশা করি আমাদের আলিম, খতিব, ওয়ায়িয ও ‘দায়ী’গণ এ সুন্নাতটি জীবিত করবেন এবং তাঁদের দরস, তাদরীস, ওয়ায, খুতবা ও সকল বক্তব্য এ মাসনূন বাক্যগুলি বলে শুরু করবেন। বিবাহ অনুষ্ঠান, দরস, ওয়ায বা বক্তব্যের শুরুতে এ মাসনূন খুতবাটি বলার মধ্যে সুন্নাত পালন ও জীবিত করার সাওয়াব ছাড়াও সুন্নাতের কারণে বিশেষ বরকত ও প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আমাদের এ খুতবা সংকলনের প্রতিটি আরবী খুতবার শুরুতে এ মাসনূন বাক্যগুলি লেখা হয়েছে। বাংলা আলোচনার শুরুতে শুধু সংক্ষেপে “নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম” লেখা হয়েছে। তবে মুহতারাম খতীবগণের প্রতি আমার অনুরোধ হলো, উপর্যুক্ত মাসনূন তাশাহ্হূদ বা খুতবাতুল হাজাতের প্রথম অংশটুকু অন্তত মুখস্থ করে নেবেন এবং প্রতি জুমুআর বাংলা আলোচনা এ মাসনূন বাক্যগুলি দিয়ে শুরু করবেন। আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নাতের অনুসরণ ও জীবনদানের তাওফীক দিন। আমীন।
----------------------------
১.মুসলিম, আস-সহীহ ২/৫৯৩।
২.আবূ ইয়ালা, আল-মুসনাদ ১৩/১৮৫-১৮৭। হাদীসটির সনদ সহীহ।
৩. ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ১/৬০৯। আলবান, সহীহ সুনানি ইবন
মাজাহ ২/১৩৪। হাদীসটি সহীহ।
৪.তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৪১৪। হাদীসটি সহীহ।
আল মক্কা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা
এটি একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।যা চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় অবস্থিত।
★★★নবী ﷺ এর প্রতি ভালবাসার নমুনা
উমার রাঃ এর হুশ-বুদ্ধি সম্পুর্ন লোপ পেতে থাকে; কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না যে আল্লাহর রাসূল ﷺ আর নেই!
উমার রাঃ উন্মুক্ত তলোয়ার নিয়ে ঘোষণা দিতে থাকলেন, যে বলবে মুহাম্মদ ﷺ নেই তার গর্দান উড়িয়ে দেব!
আবু বকর রাঃ শান্তভাবে উমার রাঃ কে বসতে বললেন, উমার রাঃ বসলেন না!
অত:পর আবু বকর রাঃ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করে বললেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদের ইবাদত করে (তারা জেনে রাখুক), মুহাম্মাদ ﷺ মারা গেছেন। আর যারা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে (তারা জেনে রাখুক) আল্লাহ তা‘আলা চিরঞ্জীব কখনো মৃত্যুবরণ করেন না।
অত:পর আবু বকর রাঃ পাঠ করলেন,
আর মুহাম্মাদ কেবল একজন রাসূল। তার পূর্বে নিশ্চয় অনেক রাসূল বিগত হয়েছে। যদি সে মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তোমরা কি তোমাদের পেছনে ফিরে যাবে ? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন। (সূরা আলে-ইমরান:১৪৪)
‘উমার (রাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি যখন আবূ বাকর (রাঃ)-কে এ আয়াত পাঠ করতে শুনলাম তখন আমি অত্যন্ত লজ্জিতবোধ করলাম। (অথবা আমার পিঠ ভেঙ্গে পড়ল) এমনকি আমার দ্বারা আমার পা উঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি আবূ বাকর (রাঃ)-কে এ আয়াত পাঠ করতে শুনে আমি মাটির দিকে গড়িয়ে পড়লাম। কারণ, আমি তখন অনুধাবন করতে সক্ষম হলাম যে, নাবী কারীম ﷺ প্রকৃতই ওফাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আল্লাহু আকবার! রাসূল ﷺ এর প্রতি কেমন ভালবাসা ছিল সাহাবাদের? আল্লাহ তা'য়ালা আমাদেরকেও সেইরূপ ভালবাসার সক্ষমতা দান করুন।
আপনাকে ভালবাসি হে আল্লাহর রাসূল ﷺ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
🔘 রেফারেন্সঃ ইবনু হিশাম ২য় খন্ড ৬৫৫ পৃঃ; সহীহুল বুখারী ২য় খন্ড ৬৪০ পৃঃ; সূরা আলে-ইমরান আয়াত ১৪৪ এর তাফসীর ইবনে কাসীর, বুখারীঃ ১২৪১, ১২৪২, ৪৪৫৩, ৪৪৫৪, আর-রাহীকুল মাখতূম।
21/08/2020
26/07/2020
ইসলাম সত্য ধর্ম, আর সত্যকে শায়ত্বান ভয় পায়।
* স্পেনে যখন প্রতি বছর ছুরি চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হাজার হাজার ষাঁড়কে হত্যা করা হয় তখন তারা বলে: এটি তো একটি খেলা।
* ডেনমার্ক এ প্রতি বছর সাগরের মধ্যে শতশত ডলফিনকে হত্যা করা হয়, এমন কি সমুদ্রের পানি পর্যন্ত তাদের রক্তে লাল হয়ে যায়, তখন তার বলে এটি একটি উৎসব।
* ইয়াহুদীদের একটি গোত্র প্রতি বছর হাজার হাজার মুরগিকে পাথর মেরে হত্যা করে। তাদের আক্বীদাহ্ হলো এভাবে পাথরের উপর মুরগী হত্যা করা হলে তাদের গুনাহ্ মাপ হয়ে যায়। তখন তারা বলে এটি তাদের ধর্ম ও বিশ্বাস।
* খ্রিস্টানরা নব বর্ষ উদযাপনের নামে খাওয়ার জন্য হাজার হাজার ভারতীয় পাখিকে হত্যা করে। এই পাখি খাওয়াকে তারা নববর্ষের উত্তম খাবার মনে করে।
কিন্তু মুসলমানরা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো প্রাণীকে যবাই করে, আর সেই পশুটিকে যবাইয়ের সময় ছুরিকে খুব ভালে করে ধার করে নেয়। তাকে আদর যত্ন করে। খাবার খাওয়ায়, পানি পান করায়। জবাইয়ের সময় অন্য পশুদের থেকে দূরে নিয়ে যবাই করে। যবাইয়ের পর তার গোস্ত গরীব মুসলমানদের মাঝে বিতরণ করে।
এতদির এবং এত নিশংসভাবে পশু হত্যার সময় হলুদ মিডিয়ার সাংঘাতিকরা মুখে তালা ঝুলিয়ে রাখলেও কিন্তু মুসলামানদের এই কোরবাণীর সময় তারা বের হয়ে আসে। ইসলামের শত্রুদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে তাদের উচ্ছিষ্টভোগের রাস্তা উন্মুক্ত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়া কান্না জুড়ে দেয়। কারণ কি? ইসলাম সত্য ধর্ম । আর শায়ত্বান সত্যকে ভয় পায় তাই।
Writer:A.R. Nadwi Sir
❏ মনমুগ্ধকর নাত সুবহান-আল্লাহ।
একজন নেককার ব্যক্তি মৃত্যুর সময় কাঁদছিলেন।
তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘কোন জিনিস আপনাকে কাঁদাচ্ছে?’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘আমি আর কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) দ্বারা প্রশান্তি লাভ করতে পারবো না! (তাই কাঁদছি)।’’
সাতশ হিজরীর আলেমদের যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নামাজ ত্যাগকারীর বিধান কী? তারা বলেছিলেন, "এটি একটি আনুমানিক মাসআলা। বাস্তবে এর কোনও অস্তিত্ব নেই।" তারা কল্পনাই করতে পারেন নি যে, কোনও মুসলিম নামায পড়ে না!
#উস্তাদ
‘শরীর যেভাবে রোগাক্রান্ত হয়, সেভাবে অন্তরও রোগাক্রান্ত হয়; এর প্রতিষেধক হলো তাওবাহ। অন্তরও উন্মুক্ত হয়ে থাকে, যেভাবে শরীর উন্মুক্ত থাকে; এর সাজসজ্জা হলো তাকওয়া। দেহ যেভাবে ক্ষুধার্ত হয়, সেভাবে অন্তরও ক্ষুধার্ত হয়; এর খাবার হলো আল্লাহকে ভালোবাসা এবং তাঁর উপর ভরসা করা।’
—ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ্)
Mashallah awesome voice 💝💝💝
#শিশুদের_চুমু_দেয়া_সুন্নত:
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, কতক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললো, আপনারা কি আপনাদের শিশুদের চুমু দেন? সাহাবীগণ বলেন, হাঁ। তারা বললো, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমরা চুমু দেই না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়ামায়া তুলে নিয়ে থাকেন তাহলে আমি আর কী করতে পারি। [২৯৯৭]
ফুটনোটঃ
[২৯৯৭] সহীহুল বুখারী ৫৯৯৮, মুসলিম ২৩১৭, আহমাদ ২৩৭৭০,২৩৮৮৭।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৬৬৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Copy
#করোনাভাইরাস_থেকে_বাঁচার_উপায়
#বেশি_বেশি_অযুকরা
আল্লাহ ইরশাদ করেন '
وينزل عليكم من السماء ماء ليطهركم به(الانفال)
অর্থ :তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন তোমাদের পবিত্র তার জন্য। অর্থাৎ আল্লাহ্ অজুর মাধ্যমে আমাদেরকে পাপ ও জীবাণু থেকে রক্ষা করবে।
#অযু_জীবাণু_নাশক
রাসূল স. ইরশাদ করেন.
من توضأ فأحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من أظفاره (صحيح مسلم)
অর্থ :যে ব্যক্তি সঠিক ভাবে অযু করল তার শরিরের জীবাণু দূরিভুত হল এমন কি তার নকের নিচে থেকেও।
তাই রাসূল স. মুমিনদের অজুর তাকিদ দিয়েছেন।
لايحافظ على الوضوء إلا مؤمن(المؤطا للأمام مالك)
অর্থ :প্রকৃত মুমিন অযুকে হিফাজত (রক্ষা) করবেই।
#বারবার_হাত_ধুয়ে_ফেলুন:
বিশেষত ঘুম থেকে উঠে রাসূল স. ইরশাদ করেন.
اذا قام أحدكم من نومه فليغسل يديه فلايدري أحدكم أين باتت يداه (البخاري)
অর্থ : যদি তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠে তার হাত দুটি যেন ভালভাবে ধৈত করে ফেলে।
#কাপড়_পরিস্কার_রাখা
আল্লাহ ইরশাদ করেন.
وثيابك فطهر(المدثر)
অর্থ. তোমার কাপড় পরিস্কার রাখ।
#ঘর ও তার আশপাশের এলাকা পরিস্কার রাখা :
রাসূল স. ইরশাদ করেন
نظفوا أفنيتكم ودوركم (الترمذي)
অর্থ তোমাদের ঘর ও তার আশপাশের এলাকা পরিস্কার রাখা।
#পাবলিক_প্লেযে_মল_ত্যাগ_না_করা:
اتقوا الملاعين الثلاث : التغوط في المورد وفي الظل وفي طريق الناس
অর্থ : তোমারা তিনটি পাবলিক প্লেযে মলমূত্র ত্যাগনা না কর কর কর।
পানির ঘাটে ছায়ার নিচে চলাচলের পথে।
#হাঁছির_সময়_মূখ_ডাকা
বর্তমানে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য মানুষেরা মাক্স ব্যবহার করছে এবং হাঁচি আসলে চিকিৎসকরা মুখে হাত অথবা টিসু পেপার ও কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ হাঁচি বহু রোগের জীবাণু ছড়ায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচি দ্বারা ছড়িয়ে পাড়া রোগ থেকে বেঁচে থাকার উপায় বাতলিয়ে দিয়েছেন। আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নিশ্চয় নবী সা. যখন হাঁচি দিতেন তার হাত অথবা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির শব্দকে খুব নিচু করে রাখতেন। ( সুনানে তিরমিজি নাম্বার - ২৭৪৫)
চৌদ্দশ ৫০ বছর পূর্বে বিশ্বনবী যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তা আজকে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অসংখ্য রোগের ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে করোনা ভাইরাস ফুসফুসে পৌছার পূর্বে চারদিন যাবৎ কন্টনালিতে অবস্থান করে। সে সময় আক্রান্ত ব্যক্তির কাশী সহ গলার ভিতর অংশে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। তখন বেশি পরিমাণে গরম পানি পান ও লবন মিশানো পানি দিয়ে গরগরা করলে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
Collected
💠যিকরের ফযীলত💠
🖊️ *পবিএ কুরআন এর আলোকে যিকর*
☑️ "সুতরাং আমার স্মরণ করো,আমিও তোমাদের স্মরণ করবো।আর আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।"
(সূরা বাক্বারাহ,আয়াত নং-১৫২)
☑️"হে ঈমানদারগণ!আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো।"
(সূরা আহযাব,আয়াত নং-৪১)
☑️"নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণ সর্বোপেক্ষা বড় এবং আল্লাহ জানেন যা তোমরা করো।"
(সূরা আনকাবুত,আয়াত নং-৪৫)
☑️"আপন রবকে খুব স্মরণ করো,আর বিকালে ও প্রভাতে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।"
(সূরা আলে ইমরান,আয়াত নং-৪১)
☑️"নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসূলের অনুসরণ উত্তম,তাঁরই জন্য,যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে খুব স্মরণ করে।"
(সূরা আহযাব,আয়াত নং-২১)
☑️"হে ঈমানদারগণ!তোমাদের ধন-সম্পদ,তোমাদের সন্তান-সন্ততি কোন কিছুই যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে;এবং যে কেউ তেমন করে;তবে ওই সমস্ত লোক ক্ষতির মধ্যে রয়েছ। [সূরা মুনাফিকুন,আয়াত নং-৯]
🖊️*পবিত্র হাদিস এর আলোকে যিকর*
☑️হযরত আবু দাররা রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,আমি কি তোমাদেরকে এমন আমল সম্পর্কে সুসংবাদ দেবোনা,যা হবে তোমাদের সর্বোত্তম আমল,তোমাদের মুনিবের নিকট ও পছন্দনীয় এবং মর্যাদার নিরিখে যা বুলন্দ,স্বর্ণ ও সম্পদ ব্যয় করার চেয়ে ও উত্তম,এমনকি শত্রুর সাথে জিহাদ করা অপেক্ষা ও উত্তম।সাহাবীগণ আরয করলেন,হে আল্লাহর রাসূল আপনি আমাদেরকে বলু! তখন রাসূল সল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-(তাহলো)আল্লাহর যিকর।"[তিরমিযী]
☑️হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত,"রাসূল সল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেছে, আমার সত্ত্বা সম্পর্কে বান্দা যে ধারণা করে আমি তার প্রতি সেরূপ আচরণ কর। যখন সে (বান্দা)আমার যিকর করে তখন আমি তার সাথে থাকি।যদি সে একাকী আমার স্মরণ করে,তাহলে আমিও একাকী তাকে স্মরণ করি এবং যদি কোন সমাবেশে সে আমার যিকির(স্মরণ)করে,তাহলে আমি তার চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ কর।" [বোখারী শরীফ]
☑️হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে,আল্লাহর যিকর ঈমানের অন্যতম নির্দশন।এটা মুনাফেক্বী থেকে দূরে রাখে, শয়তান থেকে হিফাযত করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে ও মুক্তি দেয়।যিকরে ইত্যাকার উপকারিতার দরুণ আল্লাহর যিকরকে অন্যান্য বহু ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়েছ। বিশেষ করে শয়তানের মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যিকরে ইলাহী শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।
🖊️*সুফী ও আউলিয়া- ই কেরামের দৃষ্টিকোণ থেকে*
. ☑️হযরত জুনাইদ বাগদাদী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন আমি হযরত সারিউস সাক্বতী রহমাতুল্লাহি আলায়হিকে বলতে শুনেছি যে,আল্লাহ তা'আলা আসমানী কিতাবসমূহে বলেছেন-যখন বান্দাদের মধ্যে আমার যিকর প্রাধান্য পায়,তখন সে আমার আশেক্ব হয়ে যায় এবং আমি ও তার আশেক্ব হয়ে যাই।
☑️হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন যে,আল্লাহর নিকট ওই ব্যক্তি বেশী পছন্দনীয়,যে অধিক হারে আল্লাহর যিকর করে।
☑️হযরত খাজা বাক্বী বিল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন,আল্লাহ তা'আলা যার কল্যাণ চান,তাঁকে স্বীয় যিকরের তাওফীক্ব দান করেন।কেননা,আল্লাহ তাআলার নৈকট্য প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম হল আল্লাহর যিকর।
☑️হযরত আবু বকর শিবলী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন,যিকরের মহাত্ন্য হলো এ যেন,বান্দা আল্লাহ তা'আলার যিকরের মধ্যে রাত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর এতটুকু নিকটতর হয়ে যায় যে,আল্লাহর দীদার বা দর্শন লাভ করে নিজের অস্তিত্বের কথা ভুলে যায়।
#আল্লাহ পাক আমাদেরকে বেশি বেশি যিকর করার তাওফীক্ব নাসীব করুন। আ-মিন
19/03/2020
ভর্তি চলছে
ভর্তি চলছে
ভর্তি চলছে।
আল মক্কা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা।
স্থান : জেলা পরিষদ আ/এ, অক্সিজেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Chittagong