The Creator is Everything

The Creator is Everything

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from The Creator is Everything, Religious school, Chittagong.

There is many Religion in the Earth.Every religion has a HISTORY.All Religion show respect to their HISTORY.But SANATAN IS A SELF-SUFFICIENT RELIGION .I love the religion from my Heart.THANKS

Photos 21/06/2020

⛅ শ্রীব্রহ্মা, নারদমুনি ও সনৎকুমার সংবাদে 'শ্রীকৃষ্ণ-নামের মাহাত্ম্য ।' (নারদ যেভাবে হরিভক্ত হলেন) 🌞

🙏সবাইকে সুন্দর একটি সকালের শুভেচ্ছা । আমরা জানি ভগবান শ্রীহরির শ্রেষ্ঠ ভক্তদের একজন নারদমুনি । যিনি ধর্মের বাস্তবিক রূপ জানা বারোজন মহাজনদের একজন । চলুন জেনে নেয়া যাক, নারদমুনি কিভাবে ভগবান শ্রীহরির ভক্ত হলেন;

🌿একসময় নারদমুনি মন্দাকিনীর তটে তপস্যা করছিলেন । কিন্তু তিনি দৈববাণী শুনতে পেলেন,
-"শ্রীহরি যদি আরাধিত না হন, তবে তপস্যার কি দরকার ? শ্রীহরি যদি আরাধিত হন, তবে তপস্যারও কি দরকার ।"

🌷দৈববাণী শুনে নারদ শ্রীহরিস্মরণ করছিলেন, তখন পিতৃদেব ব্রহ্মাকে দেখতে পেলেন । ব্রহ্মাকে প্রণতি নিবেদন করে জলপূর্ণ নয়নে নারদ জিজ্ঞেস করলেন,
-"এই দৈববাণীর অর্থ কি ?"

🌺ব্রহ্মা বললেন,
-"হে বৎস ! যদি কোনও ব্যক্তি ভক্তিসহকারে শ্রীহরির আরাধনা, তবে সেই ব্যক্তির তীর্থভ্রমণ, তপস্যার প্রয়োজন নেই । ভারতবর্ষে কৃষ্ণমন্ত্র-উপাসক জীবন্মুক্ত ব্যক্তির পক্ষে তপস্যার প্রয়োজন হয় না । হে নারদ, শ্রীকৃষ্ণনামমন্ত্র গ্রহণ মাত্রেই তাঁর বংশের শত পুরুষ ও বন্ধুবান্ধবেরাও অনায়াসে পবিত্র হয় । শ্রীকৃষ্ণসেবা থেকে অন্য কোন ধর্ম বড় নয়, অন্য কোন তপস্যা শ্রেয় নয় । কৃষ্ণসেবা পরায়ণ ব্যক্তিদের তপস্যার পরিশ্রম অনাবশ্যক । হে পুত্র, শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে ব্রতী ব্যক্তিই মহা পবিত্র । তাঁর তীর্থস্থান, তাঁর অনশন, তাঁর বেদ অধ্যয়ন বিড়ম্বনা মাত্র । হে বৎস, আগুন পবিত্র, নির্মল জল পবিত্র, ভারতবর্ষ পবিত্র এবং তীর্থস্বরূপ তুলসীপত্র পরম পবিত্র । কিন্তু কৃষ্ণনাম-পরায়ণ, কৃষ্ণসেবা-পরায়ণ ব্যক্তি অবলীলাক্রমে এই সকলকে পবিত্র করেন, আর এঁরাও সাদরে কৃষ্ণভক্ত ব্যক্তির স্পর্শ বাঞ্ছা করেন । বসুন্ধরা হরিভক্তের পদধূলি দ্বারা তৎক্ষনাৎ পবিত্র হন । হে নারদ, জানবে যে, এই ব্রহ্মাণ্ডে শ্রীকৃষ্ণসেবক অপেক্ষা কোন বস্তু বা কোনও ব্যক্তি অধিক পবিত্র নয় ।
"যে ব্যক্তি প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণপূজা করে এবং শ্রীকৃষ্ণচরণামৃত ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে, সেই মহা পবিত্র । হে নারদ, কৃষ্ণভক্ত যে বংশে জন্মগ্রহণ করে সেই বংশ পবিত্র হয় । জগতে যে ব্যক্তি কৃষ্ণভজনা করে না, তার তপস্যা, তার কর্মপ্রচেষ্টা, তার পরিশ্রম বৃথা । গঙ্গাজল যেমন মদের ভাণ্ডকে পবিত্র করতে পারে না, সেরকম বৈদিক কর্মকাণ্ডীয় যজ্ঞ, উপবাস, তপস্যা, ব্রত, দান, শুভকর্ম__ এ সবই অভক্ত ব্যক্তিকে পবিত্র করতে পারে না ।
"শ্রীকৃষ্ণে যে ভক্তি-পরায়ণ নয়, সেই ব্যক্তি যদি তীর্থে স্নান করতে যায় তবে তীর্থ বিচলিত হন । বসুন্ধরা অভক্তের ভারে দুঃখে কম্পিত হয়ে থাকেন ।
" হে বৎস, শ্রীকৃষ্ণের কথাই বেদশাস্ত্রের সারবস্তু । যে মহাত্মা স্বপ্নে ও জাগরণে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তা করেন, তিনি নিষ্পাপ হয়ে জগৎকে পবিত্র করেন, ভগবানের সুদর্শন চক্র সেই মহাত্মাকে সুরক্ষিত করেন । শ্রীকৃষ্ণের নিরন্তর স্মরণকারী ভক্ত অপেক্ষা আত্মা, প্রাণ, দেহ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, আমি, শিব তাঁর কাছে কিছুই প্রিয় নয় । পরমপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভক্তগত প্রাণ এবং ভক্তগণ হচ্ছেন কৃষ্ণগত প্রাণ । ভক্ত শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করেন, শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের ধ্যান করেন ।
"হে নারদ, যারা শ্রীকৃষ্ণসেবা-পরায়ণ নয়, তাদের জ্ঞান, তাদের তপস্যা, তাদের ব্রত, তাদের নিয়ম, তাদের তীর্থ স্নান, তাদের পুণ্যকর্ম সমস্তই নিষ্ফল । যারা ব্রাহ্মণ, অথচ কৃষ্ণভক্ত নয়, তারা ধর্মভ্রষ্ট পতিত জীব । কৃষ্ণভক্তিহীন ব্রাহ্মণ অপেক্ষা স্বধর্মাচারশীল চণ্ডাল, ম্লেচ্ছ এমনকি কুকুর-শূকরেরাও ভালো । হে নারদ, ধর্মহীন ব্রাহ্মণেরা যা আহার্যরূপে গ্রহণ করা উচিত নয়, সেইগুলিও তারা ভক্ষণ করে । প্রতিদিন বিপরীত ধর্মাচার দ্বারা তারা পতিত হয়ে চণ্ডাল অপেক্ষাও অধম হয় ।

🌵নারদমুনি প্রশ্ন করলেন,
-" হে পিতা, ব্রাহ্মণদের স্বধর্ম কি ? তাঁদের ভক্ষ্য বস্তু কি ?"

🌺ব্রহ্মা বললেন,
-"হে পুত্র, ব্রাহ্মণদের নিরন্তর কৃষ্ণসেবন করাই স্বধর্ম । এই জন্যই অন্যান্য লোকেরা ব্রাহ্মণকে সশ্রদ্ধ সম্মান জ্ঞাপন করে থাকে, ব্রাহ্মণদের উচ্ছিষ্ট ও পদধৌত জল পান করে থাকে । ব্রাহ্মণরা প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণ ভোগ নিবেদন করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ-প্রসাদই তাঁদের আহার্য বস্তু ।"

🌻নারদমুনি প্রশ্ন করলেন,
-"হে পিতা, ব্রাহ্মণরা যদি প্রত্যহ কৃষ্ণপ্রসাদ না গ্রহণ করে অন্য কোন খাদ্য গ্রহণ করে, তবে দোষ কি ?"

🌺ব্রহ্মা বললেন,
-"পণ্ডিতেরা সেই খাদ্যকে অখাদ্য বলে বর্ণনা করেন । সেই অন্ন বিষ্ঠা সম, সেই পানীয় মূত্র সম হয় । কোল ভীল ম্লেচ্ছ চণ্ডালেরা ভগবানকে অনিবেদিত অন্ন, রক্তমাংস জাতীয় অমেধ্য বস্তু ভক্ষণ করে থাকে, কিন্তু ব্রাহ্মণ যদি সেই বস্তু ভক্ষণ করে তবে চণ্ডালাধম বলে গণ্য হয় ।
"হে নারদ, এখন আমি তোমাকে যে নির্দেশ দিতে ইচ্ছা করছি, তা হল এই, কৃষ্ণভক্ত শিবকে গুরুরূপে গ্রহণ করে অচিরেই কৃষ্ণদাস্য ভক্তি লাভ কর । তোমার এরকম নির্জনে বসে তপস্যা করার দরকার নেই । শ্রীকৃষ্ণভক্তিই দুঃখময় সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হবার নৌকা স্বরূপ । গুরুদেব সেখানে কর্ণাধার স্বরূপ । হে নারদ, তুমি যে দৈববাণী শুনেছিলে, দেবী সরস্বতীই তোমার উদ্দেশ্যে এই কথা বলে প্রস্থান করেছেন ।"

🀄শ্রীব্রহ্মা যখন নারদকে এই সমস্ত কথা বলছিলেন, তখন ব্রহ্মার পুত্র সনৎকুমার বললেন,
-"হে পিতা, আমি কোনও কথা বুঝতে পারিনি, দয়া করে আমাকে পুনরায় বলুন । শ্রীকৃষ্ণকে যে আরাধনা করেছে তাঁর আর তপস্যা করা অনর্থক এবং যে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেনি তারও তপস্যা ব্যর্থ হয়, যদি এই দুই জনই তপস্যারহিত হয়, তবে তপস্যার স্থান কি ধরনের লোকের প্রতি নির্দিষ্ট থাকল ?"

🍂ব্রহ্মা বললেন,
-"হে বুদ্ধিমান, তোমাকে পুত্ররূপে পেয়ে আমার জীবন ধন্য । 'আরাধিত' কথাটিতে আ অর্থ বিশেষণরূপে 'রাধিত' শব্দটি প্রাপ্তবাচক হয় । অতএব যিনি শ্রীহরিকে প্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁর তপস্যার প্রয়োজন নেই । কোনও মূঢ় ব্যক্তি, যখন শ্রীকৃষ্ণে বিমুখ, তার তীর্থ, দান, তপস্যা, পুণ্য, ব্রত তাকে পবিত্র করতে পারে না ।"

🌝সনৎকুমার জানতে চাইলেন,
-"হে পিতা, কোন ধরনের ব্যক্তি তপস্যা করবে ?"

🌹ব্রহ্মা বললেন,
-"যে ব্যক্তি মূঢ়তম কিংবা যে ব্যক্তি সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিলাভ করেছে, এই উভয় ব্যক্তিই সুখী । তাদের তপস্যা করার দরকার নেই । কিন্তু মধ্যম লোকেরাই তপস্যা করবার অধিকারী বা উপযুক্ত হয়ে থাকে । মধ্যম ব্যক্তিরা যারা গৃহস্থ সাধক, সংসারে ব্যাপৃত থেকে পূর্ব কর্মের ফলভোগে অনুরাগী হয়ে অভীপ্সিত শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম পাওয়ার বাসনায় তারা তপস্যা করে ।"

🍂সনৎকুমার প্রশ্ন করলেন,
-"হে পিতা, তারা কিরকম তপস্যা করবে ?"

🍀ব্রহ্মা বললেন,
-"শ্রীকৃষ্ণের সেবা, শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান, শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ-কীর্তন, শ্রীকৃষ্ণের চরণামৃত ও মহাপ্রসাদ সেবন করাই সকলের বাঞ্ছিত শ্রেষ্ঠ ধর্ম ।"

-"হে পিতা, অধিকাংশ লোকেরই তা হলে শ্রীকৃষ্ণভক্তিমূলক তপস্যার প্রয়োজন আছে । তবুও আমার জানতে ইচ্ছা হয় যে, সংসারের সব লোক কৃষ্ণভজন করে না কেন ?"

-"হে বৎস, যার বুদ্ধি পূর্বজন্মকৃত কর্মদোষে মন্দ হয়েছে এবং অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে গুরুরূপে গ্রহণ করেছে, তারা তমোগুণের অধীন হয়ে থাকে । তার ফলে তারা ত্রিগুণের অতীত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারে না, এমনকি জানতেও আগ্রহ থাকে না । সংসারের সেই সব লোক তাই কৃষ্ণভজন করবে না ।"

🌺সনৎকুমার জানতে চাইলেন,
-"হে পিতা, তা হলে সংসারের সেই সব কৃষ্ণবিমুখ লোকদের কিভাবে সদ্গতি হবে ?"

🌞ব্রহ্মা বললেন,
-"হে পুত্র, অজ্ঞানে বা সজ্ঞানে, সাধুসঙ্গক্রমে কিংবা সৌভাগ্যক্রমে কেউ যদি অপ্রসাদভোজী না হয়ে কৃষ্ণপ্রসাদভোজী হয়, তা হলে, তার হৃদয়ে সমস্ত পাপ ক্ষয় হবে, সে দেহত্যাগের পর দিব্যরথে করে গোলোকে কিংবা উৎকৃষ্ট কোনও গ্রহলোকে স্বেচ্ছামতো গমন করতে সমর্থ হবে ।"
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹💜🌹🌹🔔🌴

Photos 13/06/2020

▪◾◼⬛কর্মাবাঈ এর খিচুড়ি⬛◼◾▪

🙏সবাইকে নমস্কার । আমাদের আজকের বিষয় জগন্নাথ মন্দিরের জনপ্রিয় প্রসাদ 'কর্মাবাঈ এর খিচুড়ি' । এটি পাঠ করে আপনি অবশ্যই পরমানন্দ লাভ করবেন ।

🌻মহারাষ্ট্রের পাণ্ডারপুর গ্রামে কর্মাবাঈ নামে এক নারী বসবাস করতেন । তাঁর গুরুদেব ভগবানের এক মহান ভক্ত প্রবীণ সাধু যাঁর নাম ছিল ইন্দ্রভার্মা । তিনি এবং তাঁর গুরুদেব একদা পুরীর উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিলেন । দৈব অনুপ্রেরণায়, কর্মাবাঈ এবং ইন্দ্রভার্মা উভয়েই তাঁদের বাকী জীবন পুরীতে থাকতে সঙ্কল্পিত হলেন । কর্মাবাঈ প্রধান সড়কের কাছে একটি ছোট্ট গৃহ নির্মাণ করলেন, যেখানে তিনি ভক্তিমূলক ভজন গেয়ে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন । তাঁর সুন্দর ভজন এবং ইন্দ্রভার্মার শাস্ত্রীয় প্রবচন শোনার জন্য অনেক মানুষ সেখানে আসত ।

🌷কর্মাবাঈ অত্যন্ত প্রীতি সহকারে প্রতিদিন তাঁর গৃহের জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা বিগ্রহের জন্য রান্না করতেন ও ভোগ নিবেদন করতেন । একবার তিনি জগন্নাথকে খিচুড়ি নিবেদন করতে মনস্থ করলেন, তাই তিনি অত্যন্ত উন্নতমানের চাল, মটরশুঁটি এবং শাক-সবজি সংগ্রহ করলেন এবং রান্নার জন্য একটি মাটির পাত্র কিনলেন । তিনি সেটি তৈরী করে ভক্তি সহকারে ভগবানকে অর্পণ করলেন । এরপর থেকে সেই খিচুড়ি কর্মাবাঈয়ের প্রাত্যহিক ভোগের মানদণ্ডে পরিণত হয় ।

🌹এর কিছুদিন পর ভাবগ্রাহী-জনার্দন হিসেবে বিখ্যাত জগন্নাথ, যিনি তাঁর ভক্তদের ভালোবাসা গ্রহণ করেন, তিনি গজপতি মহারাজ নৃপ কিশোরীর স্বপ্নে আবির্ভূত হলেন । জগন্নাথ বললেন:
~"মহারাজ ! আমার ভক্ত কর্মাবাঈ প্রতিদিন আমার জন্য যে ভোগ তৈরী করে তাতে আমি খুব খুশি । কেউ তাঁকে চেনে না । সে মূল সড়কের কাছে একটি ছোট্ট কুটিরে থাকে এবং প্রতিদিন আমাকে সুস্বাদু খিচুড়ি নিবেদন করে । আমি চাই মন্দিরে তাঁর তৈরীকৃত খিচুড়ি আামকে নিবেদন করা হোক । যেহেতু আমার ভক্ত কর্মাবাঈ খুব দরিদ্র, তাই আমি চাই তুমি তাঁর ভরণপোষণের সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ কর ।"

🌱জেগে উঠার পর মহারাজ নৃপ কিশোরী সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করলেন, কিন্তু তিনি সেটিকে অত গুরুত্ব দিলেন না এবং দ্রুতই সেই বিষয়টি ভুলে গেলেন ।

⛅পুরীতে জগন্নাথ মন্দিরের প্রথা অনুসারে, ভগবানকে ভোগ দ্রব্য নিবেদনের পর পূজারী তার হাতে অল্প একটু জল রাখেন, এরপর তিনি তার হাতের তালুতে অবস্থিত জলের উপর জগন্নাথের প্রতিফলন খোঁজেন । যদি ভগবানকে সে জলের মধ্যে দেখা না যায় তবে সে ভোগ নিবেদন অপবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অর্থাৎ জগন্নাথ গ্রহণ করেন নি । সেই খাদ্যদ্রব্য তখন ফেলে দেওয়া হয় এবং পুনরায় ভোগ রন্ধন করা হয় । রাজার স্বপ্নের পর পাণ্ডারা দেখলেন, জগন্নাথকে প্রতিফলন হিসেবে জলের মধ্যে আর দৃশ্যমান হচ্ছে না ।

🌺এভাবে সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, পাণ্ডারা বিষয়টি রাজাকে অবহিত করলেন, কিছু একটা ত্রুটি হয়েছে এবং এজন্য জগন্নাথ ভোগ গ্রহণ করছেন না । রাজা তখন সেই স্বপ্নটি স্মরণ করলেন এবং অনতিবিলম্বে কর্মাবাঈয়ের অনুসন্ধান করতে লাগলেন । যখন তিনি অবশেষে খুঁজে পেলেন, তিনি তাঁর চরণে পতিত হলেন, আর বললেন:
~"আপনি একজন মহান ভক্ত । অনুগ্রহপূর্বক আমাকে ক্ষমা করুন । জগন্নাথ আমাকে আদেশ করেছিলেন, আপনার যত্ন গ্রহণের সমস্ত ব্যবস্থাপনা করার জন্য ।"

🌿কর্মাবাঈ তা প্রত্যাখান করে বললেন:
~"প্রথমে আপনি আমাকে অনুমোদন করুন যে আমি যা কিছু রন্ধন করব সেগুলো যেন জগন্নাথ স্বর্ণ থালায় রাজভোগ নিবেদনের সময় নিবেদন করা হয় ।"

🍁রাজা তাতে সম্মত হলেন । এ বিষয়টি যখন পাণ্ডারা শুনলেন তখন তারা ক্রোধান্বিত হলেন এবং রাজার সেই নির্দেশ প্রত্যাখান করলেন । রাজা তাদেরকে বললেন:
~"আপনাদের অবশ্যই কর্মাবাঈ কর্তৃক রন্ধনকৃত খিচুড়ি নিবেদন করতে হবে, তা না হলে জগন্নাথ কোন ভোগদ্রব্য গ্রহণ করবেন না ।"

🌾অবশেষে পাণ্ডারা শান্ত হলেন এবং প্রধান পূজারী যখন কর্মাবাঈ-এর খিচুড়ি নিবেদন করলেন, তিনি তার হাতে রাখা জলের মধ্যে জগন্নাথের প্রতিফলন পুনরায় দর্শন করে উৎপুল্ল হন ।

👉সেদিন থেকে পূজারীরা জগন্নাথকে প্রাত্যহিকভাবে কর্মাবাঈ এর খিচুড়ি নিবেদন করতে থাকেন । কর্মাবাঈ'র দেহ ত্যাগের পরও জগন্নাথকে তাঁর নামে নামকৃত খিচুড়ি এখনও অবধি নিবেদন করা হয় । আজ, কর্মাবাঈ'র খিচুড়ি হল জগন্নাথ মন্দিরের অন্যতম সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রসাদ ।

📚সূত্র: পরম করুণ দেবী ও রাহুল আচার্য ।
পুরী, দ্য হোম অব লর্ড জগন্নাথ,
জগন্নাথ বল্লভ রিসার্চ সেন্টার,
চন্দনপুর, উড়িষ্যা, ২০০৯ এবং
অন্যান্য আরো কিছু উৎস ।...With-
______The Creator is Everything______
🌞🌞🌞🌞🌞🌈🌈🌈🌈🌈🌞🌞🌞🌞

06/06/2020

🌿আমরা হোমো স্যপিয়েন্স, কিন্তু আমাদের ব্যবহার তো পশুর ন্যায় । তারপরও এ ঘটনা আমাদের ভবিষ্যতে প্রভাভ ফেলবেই ।
🌻🌻🌻🌻🌻🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀

🍍আনারসের ভিতরে আতশবাজি দিয়ে এক অবলা প্রাণীকে হত্যা করলাম । __ এ আমাদের বুদ্ধির পরিচয় ।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

👉 https://www.facebook.com/110806460595603/photos/a.133375178338731/133375135005402/?type=3&app=fbl

💗💗💗💗💗💗💗💗💗💗💗💗💗

📝ধন্যবাদ__ শ্রী সুদর্শন পট্টনায়ককে ।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

Photos 03/06/2020

🔱দেবী কালী কৃষ্ণপূজারই নির্দেশ দেন 🌷
(দুইটি ঘটনা)

🙏শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদবর্গের অন্যতম শ্রীল জীব গোস্বামীর সুযোগ্য শিষ্য শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর একদিন পদ্মায় স্নান করতে যাচ্ছিলেন । এমন সময় দুই ব্রাহ্মণ কুমার তাদের পিতার আদেশে দুর্গাপূজায় বলি দেয়ার জন্য কতগুলো ছাগল ও মেষ নিয়ে নদীতে যাচ্ছে । ঠাকুর মহাশয় তাদের নিকট রাজস ও তামস ভাবযুক্ত জীবহত্যাজনিত পাপের নরকযন্ত্রণারূপ ভয়ংকর পরিণতি ও ভগবৎ-আরাধনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন । তখন তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে ঠাকুর মহাশয়ের নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করল এবং তার কাছ থেকে কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করল ।

🌿কিছুদিন পর দুই ভাই গৃহে ফিরে গেলে তাদের বৈষ্ণবীয় বেশভূষা দেখে তাদের পিতা শিবানন্দ আচার্য অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেন । পিতার কটুবাক্য শুনে তারা বলতে লাগলেন- "যে ধর্মে কিংবা কর্মে অন্যের প্রতি হিংসা হয়, তা ধর্ম কিংবা কর্ম বলে অভিহিত হতে পারে না । তার নাম বিকর্ম কিংবা অধর্ম । হে পিতা, শ্রীশালগ্রাম নারায়ণ ছাড়া কোনো দেব-দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হতে পারে কি ? সেই নারায়ণ ভজন বাদ দিয়ে কেবল দেবদেবীর পূজা নিরর্থক মনে করি ।"

🙇শিবানন্দ আচার্য ও স্মার্ত পণ্ডিতগণ তাদের দুজনের কাছে শাস্ত্রসিদ্ধান্তে পরাস্ত হলেন । তারা লজ্জায় অধোবদনে সভা ত্যাগ করলেন । শিবানন্দ আচার্য পরাভূত হয়ে রাতে দেবীর চিন্তা করতে লাগলেন । তিনি নিদ্রিত হলে দেবী তার স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বলতে লাগলেন- "ওহে শিবানন্দ, সকলের পতি, গতি ও প্রভু হলেন শ্রীহরি । তাঁকে অবজ্ঞা করে যারা আমাকে ভজনা করে, আমি তাদের বিনাশ করে থাকি । যারা শ্রীহরিকে মানে না, তারা দৈত্য । যারা শ্রীহরির প্রিয় ভক্ত, তারাই বাস্তবে আমার প্রিয় । তুই যদি রক্ষা পেতে চাস, তবে নরোত্তমের চরণে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অন্যথায় বৈষ্ণব অপরাধী তোকে আমি বিনাশ করব ।" দেবী শিবানন্দ আচার্যকে এরূপ বাক্যে শাসন করে অন্তর্হিত হলেন । পরদিন শিবানন্দ দেবীর কথামতো ঠাকুর মহাশয়ের কাছে ক্ষমাভিক্ষা করে তার চরণাশ্রয় গ্রহণ করলেন ।
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌵🌻🌻🌻🌻🌻🌻

🔭বহুকাল পূর্বে গোবিন্দ দাস নামে এক মহান কালীভক্ত ছিলেন । কালীমাতাকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে তিনি তাঁর নিকট মুক্তি প্রার্থনা করলেন । তখন দেবী কালী তাকে বললেন- "শোন গোবিন্দ দাস, এ জড়জগতের বন্ধন থেকে মুক্তিদাতা কেবল ভগবান মুকুন্দ; আমি তাঁর সেবিকা মাত্র । তুমি সর্বতোভাবে প্রভু শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হয়ে তাঁর আরাধনা করো ।" তখন থেকে গোবিন্দ দাস পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভজনা করে মহান ভগবদ্ভক্তে পরিণত হন ।

🙆গোবিন্দ দাসের রচিত বিখ্যাত গীতি- 'ভজ হু রে মন, শ্রীনন্দনন্দন, অভয়চরণারবিন্দরে ।' আজও বৈষ্ণবগণের মুখে শোনা যায় ।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌱🌹🌹🌹🌹🌹

👉নমস্কার । মাতা আমাদের সর্বদাই সঠিক পথে চলতে শেখান । প্রতিদিনের জীবনে মাতাই আমাদের সঠিকটা শেখান__ এ তো আমরা স্বগৃহেই প্রত্যক্ষ করি । ঠিক তদ্রুপ মাতা কালী হলেন আমাদের জগত-জননী । ঘরের মাতার মতো তিনিও আমাদের সঠিক এবং যথার্থ পথই দেখান । কখনো কখনো মাতার আদেশ-নির্দেশ পালন না করলে তিনি আমাদের শাসন করেম, মাতা কালীও সন্তানকে এরূপ শাসন করেছেন । যেমন: শিবানন্দ আচার্য ।

🎻আমাদের মঙ্গলার্থে তিনি কৃষ্ণপূজারই নির্দেশ দেন । তাই দুর্গা বা কালীপূজায়, এমনকি প্রতিদিন হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ অথবা কীর্তন করলেই মা কালী সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন । আর এটিই শ্রীকৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করার সবচেয়ে সহজ এবং সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা ।

____________🚩জয় শ্রী কৃষ্ণ👪_____________
👑👑👑👑👑🌾🌾🌾🌾🌾🌾🍀🍀🍀🌺

27/05/2020

👉"যে রাজা জগন্নাথকে মাংস নিবেদন করতে চেয়েছিল"👈

মহারাজ মত্তভানু ১৩৩৬-১৩৫৯ খ্রিষ্টাব্দ পুরীর রাজা ছিলেন । কথিত হয় যে তিনি কোনো এক বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন । ঐ রকম উন্মত্ত অবস্থায় তিনি তখন নির্দেশ দিলেন জগন্নাথকে মাছ-মাংস নিবেদন করা উচিত এবং সে প্রসাদ তার কাছে নিয়ে আসতে হবে । এই নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি ঘুমাতে চলে গেলেন ।

এই সিদ্ধান্তে গভীরভাবে বিরক্ত হয়ে রাজার মন্ত্রীরা মন্দিরের রাধুনীদের একত্রিত করে কি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে লাগলেন । রাজার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়া অসম্ভব বিধায় রাধুনীরা সিদ্ধান্ত নিলেন জগন্নাথকে সাদা মিষ্টি কুমড়ার সিরাপ বা রস খাওয়াবেন । উড়িষ্যাতে অনেক কট্টর হিন্দুরা সাদা মিষ্টি কুমড়াকে মাংস হিসেবে বিবেচনা করেন ।

রাজা ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিক চেতনা ফিরে পেলেন এবং তার সেই সিদ্ধান্তের জন্য শোক করতে শুরু করলেন । 'আমি এই কি ধরনের নির্দেশ দিলাম ? আমি মহাপাপ কর্ম করেছি ।' তিনি এরপর জগন্নাথের কাছে গিয়ে মস্তক থেকে মুকুট নামিয়ে ভগবানের সম্মুখে অবস্থিত সিংহাসনের উপর রাখলেন । এরপর তিনি বললেন : 'হে ভগবান, আমি এই মুকুট ধারণের অযোগ্য যা আপনার কৃপাশীর্বাদে গ্রহণ করেছিলাম । কৃপা করে এই পদটি অন্য কাউকে প্রদান করুন ।'

সেই রাতে জগন্নাথ রাজার স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন : 'তুমি নিষ্পাপ, তোমার উচিত আমার মুকুট ধারণ করে আমার প্রতিনিধি রূপে রাজকার্য চালিয়ে যাওয়া ।'

যখন রাজা জেগে উঠলেন তখন বিষয়টি গভীরভাবে ভাবলেন এবং এরকম ভুল যাতে পুনরায় আর না ঘটে সেজন্য তিনি পরিচ্ছা নামে নতুন একটি পদ সূচনা করলেন । যে পদটি হলো মন্দির অধ্যক্ষের পদ যার জন্য তিনি কিছু ব্যক্তিকে নিয়োগ করলেন ।
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌿🌿🌿🌿🌷🌷🌷🌷
📑১৯ শতকের অগ্রভাগে রচিত "কটক রাজ বংশাবলী" (একটি সংস্কৃত কর্ম) থেকে উপরের কাহিনী সংগৃহীত🙏
🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍁🍁🍁🍁🍁🌺🌺

Photos 22/05/2020

⛅জগন্নাথের পেট ব্যাথা🍀

আজ উপস্থাপন করছি পুরীতে জগন্নাথের এক লীলা-কথা।

একসময় পুরীতে মস্তক মুণ্ডিত একজন বৈষ্ণবী ছিলেন এবং তিনি নাম ভজন করতেন যাকে সবাই নন্দী মাতা ডাকত । 'নন্দী' মানে হল মুণ্ডিত মস্তক পুরীতে তাঁর একটি ছোট আশ্রম যেটি এখনও অবধি নন্দী মাতা মঠ নামে পরিচিত । তিনি প্রতিদিন ভগবান জগন্নাথের দর্শন করতে মন্দিরে যেতেন এবং তিনি তাঁর নিজের পুত্র গোপাল হিসেবে ভগবানকে বাৎসল্য রসে পূজা করতেন ।

একবার তিনি মন্দিরে গিয়ে দেখেন তাঁর পুত্র গোপাল অনেক ধরনের মিষ্টান্ন ভোজন করছেন । তখন তিনি ভাবতে লাগলেন, এভাবে যদি সে এত মিষ্টান্ন খায় তবে সে অর্থাৎ ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে যাবে । পাকস্থলীতে কীট আসার কারণে গোপালের পেট ব্যাথা হতে পারে । তাই সেই বৃদ্ধা ভাবল তাঁকে এখন থেকে তাঁর পুত্র ছোট্ট গোপালের জন্য একধরনের তেতো শাক নিয়ে আসবে ।

পরদিন, নন্দী মাতা বিভিন্ন ধরনের তেতো শাকের পাতা সংগ্রহ করে সুন্দর একটি খাবার তৈরি করেন যেটি তিনি একটি পাথরের থালায় করে মন্দিরে নিয়ে আসেন ।

কেউ দেখে ফেলবে এই ভেবে তিনি খাবারটিকে একটি কলাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখেন এবং শাড়ীর আঁচলের নিচে করে ভগবানের সম্মুখে নিয়ে আসেন । গরুড় স্তম্ভের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি ভগবানকে নিবেদন করে অনুরোধ করলেন সেই খাবারটি গ্রহণ করার জন্য । সর্বকৃপাময় ভগবান তৎক্ষণাৎ সবকিছু খেয়ে ফেললেন । নন্দী মাতা এতে অত্যন্ত খুশি হন এবং অনেক ধরনের মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা সত্ত্বেও তাঁর পুত্র যে খাচ্ছে সেজন্য উৎপুল্ল হন । তিনি ভাবলেন, এই তেতো খাবারটি গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর শারীর-স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে । প্রতিদিনই তিনি তাঁর পুত্রের জন্য খাবারটি নিয়ে আসতেন ।

একদিন এক প্রহরী লক্ষ্য করল নন্দী মাতা শাড়ীর আঁচলের নিচে করে মন্দিরের ভিতর কিছু যেন নিয়ে যাচ্ছে । প্রহরী তাঁকে থামাল এবং জিজ্ঞেস করল : "মন্দিরের ভিতরে এটি কি নিয়ে যাচ্ছে ?"
নন্দী মাতা উত্তর দিলেন যে : তিনি ভিতরে তাঁর পুত্রের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন ।
প্রহরী জিজ্ঞেস করল : "তোমার পুত্র কোথায় ?"
তিনি বললেন : "আমার পুত্র মন্দিরের ভিতর বসে আছেন এবং আমি তার জন্য অল্প একটু তেতো খাবার নিয়ে যাচ্ছি ।"
প্রহরী তাঁকে বলল মন্দিরের ভিতর বাইরের রন্ধনকৃত কোন খাবার আনার কোন নিয়ম নেই । নন্দী মাতা তার কথা না শুনেই দৌড়ে ছুটে গেলেন মন্দিরের দিকে । প্রহরী তখন তাঁর পিছু নিয়ে জোড়পূর্বক সেই ভোগের থালাটি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন ।

নন্দী মাতা আর মন্দিরে প্রবেশ করতে না পেরে তখন তাঁর মঠে ফিরে গেলেন । মঠে দ্বার রুদ্ধ করে বিষণ্ন চিত্তে ঘুমিয়ে পড়লেন । রাতে স্বপ্নে তিনি দুজন ছোট বালককে দেখলেন যাদের একজনের শরীরের রং কালো, অন্যজনের সাদা ।

তারা দুজন পেঠে হাত রেখে কান্না করে বলছিলেন: "হে মাতা ! আজকে খুব বেশি মিষ্টি জাতীয় আহার করার কারণে পেঠে খুব ব্যথা হচ্ছে ! আজকে আমাদের তেতো শাকটি দেননি !"
মাতাজী বললেন : "হে আমার পুত্রগণ ! দয়া করে শোন ! আজ আমি তোমাদের জন্য তেতো শাকটি তৈরি করেছিলাম, কিন্তু তোমার প্রহরী সেটি ছুড়ে ফেলে দিল । আমার কিবা করার আছে ?"
তারা উত্তর দিলেন : "মাতা, দয়া করে আগামীকাল পুনঃরায় সেটি আমাদের জন্য নিয়ে আসবেন ।"

ঐ একই রাতে ভগবান যুগপৎভাবে পুরীর রাজা ও জগন্নাথ মন্দিরের পূজারীর স্বপ্নে আবির্ভূত হন । ভগবান তাদেরকে বলেন : "আমার মাতা নন্দী কাল আমাদের জন্য তেতো শাক নিয়ে আসবে, তাঁকে কেউ থামাবে না !" পরদিন রাজা মন্দিরে গিয়ে প্রধান পূজারীর সাথে কথা বলে ।

তারা দুজনই তার সিংহদ্বারে প্রতীক্ষায় অপেক্ষা করছিল সেই নন্দী মাতাকে দর্শন করার জন্য । কিছুক্ষণ পর নন্দী মাতা তাঁর ছোট্ট পাথরের থালায় করে তেতো শাকটি নিয়ে আসেন । পাণ্ডাগণ ও রাজা সেই বৃদ্ধা মহিলাকে পূর্ণশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।

এতে নন্দী মাতা অস্বস্তি অনুভব করে বললেন : "এসব কি হচ্ছে ?" রাজা তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা প্রদান করে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গেলেন যাতে করে তিনি ভগবানকে তাঁর ভোগ নিবেদন করতে পারেন । সেই থেকে রাজা নিয়ম প্রবর্তন করেন যে নন্দী মাতা প্রতিদিন এসে ভগবানকে তাঁর তেতো শাক নিবেদন করবেন । কিছুদিন পর সেই বৃদ্ধা মারা গেলে রাজা তবুও এই প্রথা অব্যাহত রাখলেন যে, ভগবানকে অবশ্যই প্রতিদিন তাঁর নামে নামাঙ্কিত সেই তেতো শাক নিবেদন করতে হবে । এই সেবাটি এখনও অবধি অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁর সেই ভোগ দ্রব্যটি "নন্দী মাতা পিঠা শাগ" নামে পরিচিত ।

🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌈🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
📖সূত্র : শ্রী রবীন্দ্রনাথ প্রতিহরি , শ্রী দারু ব্রহ্মক মহা প্রসাদ-রহস্য । এস বি পাবলিকেশন্স , কটাক , ২০১২ , আশুতোষ নায়ক , ভক্তের জগন্নাথ , উড়িষ্যা গ্রন্থ স্টোর , কটক , ২০১০।🔰
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
򣰽🌽জ򣶜য় 🌍 জ গ ন্না থ👑
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾☀🌞🌞🌞🌞🌞🎑

Photos 15/05/2020

🙏"আমরা শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন পালন করি, কিন্তু মৃত্যুদিবস পালন করি না কেন ?"🔭

🌻সাধারণের মনে উপরোক্ত প্রশ্নটি উত্থাপন হওয়া খুব একটা বিচিত্র নয় । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান । এ পেজের একটা লেখাতে 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম-কর্ম এবং জীবের জন্ম-কর্মের মধ্যে পার্থক্য' -এর বর্ণনা করা হয়েছে । তাই এখানে সে বিষয়ে লিখলাম না । চলুন আজকের প্রশ্নের উত্তরে ।

🌞মৃত্যুদিবস ? কার মৃত্যুদিবস ? ভগবান তো মৃত্যু বরণ করেন নি । তিনি তো লীলা সংবরণ করেছিলেন ।

⛅আবার হয়ত আপনি বলতে পারেন, যার জন্ম আছে তার মৃত্যুও আছে । হ্যাঁ ! ঠিকই তো যার জন্ম আছে তার অবশ্যই মৃত্যু আছে ।

👪কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের জন্য । ভগবান তো জন্মমৃত্যু রহিত । কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি জীবের কল্যাণে লোকশিক্ষা প্রদানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । ভগবান কখনো সর্বসাধারণকে বলেন নি-“আমি ভগবান’’__ জ্ঞানীরা বুঝে নেয় । আর যারা তাঁর লীলা বুঝতে সক্ষম তাদেরকেই তিনি নিজ মহিমা বলেন । আর বাকিদের জন্য এমন কিছু করে যান যাতে তারা ভগবানকে বুঝতে পারে । এই লীলাটিও তাদের জন্যই । আর কোথায় পাওয়া গেছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু হয়েছে ?(,) প্রমাণ আছে কারো কাছে ? এবার হয়ত বলতে পারেন, ”জরা নামক ব্যাধ তো শ্রীকৃষ্ণকে তীর মেরে হত্যা করেছিল ।’’ জরা ব্যাধ তীর মেরেছিল এইটুকু সকল শাস্ত্রে লেখা আছে । তারপর আরো লেখা আছে । জরার তীরে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর লীলা সংবরণ করেন ।

🔔এখন জানা যাক, এই ব্যাধ কে ? স্মরণে রাখবেন, ভগবানের কর্ম কখনো সাধারণের কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় । আর তিনি কর্ম করেন না, লীলা করেন । তাঁর প্রত্যেকটি কর্মই তাৎপর্যবহ এবং মহিমান্বিত । সেটা কখনো সাধারণের বোধগম্য হতে পারে না । ভগবান সময়ের শুরুতেই কথা দিয়েছিলেন তিনি সর্বদা ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করবেন ।

👉ত্রেতাযুগে রাম অবতারের সময়ে জরা ব্যাধ ছিলেন বালিপুত্র অঙ্গদ । রামচন্দ্র বালিকে বধ করেন । অঙ্গদ পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন । পরবর্তীতে ভগবান রামচন্দ্রের শরণাগত হয়ে পরম ভক্তে পরিণত হন । ত্রেতাযুগে এই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ না হওয়ায় দ্বাপরযুগে স্বয়ং ভগবান ভক্তের প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেন ।

📑(শ্রীমদ্ভাগবত) জীব কল্যাণে যে অভিনয় করতে এসেছিলেন তার অব্যাহতি ঘটান ।

✏এখানে কোথাও লেখা নেই ভগবান মৃত্যুবরণ করেন । প্রকৃতপক্ষে, প্রভাস ক্ষেত্র জঙ্গলের মধ্যে জরার তীরে বিদ্ধ হওয়ার পর ভগবান কিছুক্ষণ জরার সাথে কথা বলেন । তারপর ওই জঙ্গলে থাকা বিষ্ণু মন্দিরে গিয়ে বিগ্রহের সাথে বিলীন হয়ে যান । সেই জায়গা এখন প্রভাস তীর্থ নামে পরিচিত । অর্থাৎ ভগবানের সাধারণ মানুষের মত মৃত্যু হয় নি । এখানেই ভগবানের সাথে আমাদের আরো একটি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় । তাই পরিশেষের বিষয় হচ্ছে, যেখানে ভগবানের মৃত্যুই হয়নি সেখানে মৃত্যুদিসব পালন করার প্রশ্নই আসে না ।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌴🌹🌹🌹🌹🌹💜

Photos 13/05/2020

🌻শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অমৃত বাণী :🌞

🎸পরমপ্রেমময় ঠাকুর শ্রীশ্রীঅনুকূলচন্দ্র । তাঁর বাণীগুলো মনকে-বিবেককে ভিতর থেকে নাড়া দেয় । মানবজীবনে এ বাণীগুলো তাৎপর্যবহ ।

১. যদি সাধনায় উন্নতি লাভ করতে চাও, তবে কপটতা ত্যাগ কর ।

২. হিন্দুধর্ম, মুসলমানধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, খ্রিস্টানধর্ম ইত্যাদি কথা আমার মতে ভুল, বরং ওসবগুলি এক একটি মত ।

৩. যার কাছ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা পেয়ে, পালন পোষণ পেয়ে আজ আমি পূর্ণ, তার শরীর হতে আমার শরীর আর এই মহান মানুষটিকেই আমরা পিতা বলি ।

৪. অশিক্ষিতকে শিক্ষা দেওয়া বরং অনেক সোজা হয়, কুশিক্ষিতদের শিক্ষক হওয়া__ সেটাই কঠিন কাজ সোজা নয়।

৫. কপট হয়োনা, ঠকও হয়োনা আর অপরকেও ঠকিও না ।

৬. সরল ব্যক্তি উদ্ধদৃষ্টিসম্পন্ন চাতকের মত । কপটী নিম্নদৃষ্টিসম্পন্ন শকুনের মত । ছোট হও, কিন্তু লক্ষ্য উচ্চ হোক; বড় এবং উচ্চ হয়ে নিম্নদৃষ্টিসম্পন্ন শকুনের মত হয়ে লাভ কী ?

৭. অমৃতময় জল কপটের নিকট তিক্ত লবনময়, তীরে যাইয়াও তার তৃষ্ণা নিবারিত হয় না ।

৮. তুমি লাখ গল্প কর, কিন্তু প্রকৃত উন্নতি না হলে তুমি প্রকৃত আনন্দ কখনওই লাভ করতে পারবে না। কপটশয়ের মুখের কথার সঙ্গে অন্তরের ভাব বিকশিত হয় না, তাই আনন্দের কথাতেও মুখে নিরসতার চিহ্ন দৃষ্ট হয়; কারণ মুখ খুললে কী হয়, হৃদয়ে ভাবের স্ফূর্তি হয় না ।

৯. কপট ব্যক্তি অন্যের নিকট সুখ্যাতির আশায় নিজেই নিজেকে প্রবঞ্চনা করে, অল্প বিশ্বাসের দরুন অন্যের প্রকৃত দান হতেও প্রবঞ্চিত হয় ।

১০. পরনিন্দা করাই পরের দোষ কুড়িয়ে নিয়ে নিজে কলঙ্কিত হওয়া; আর, পরের সুখ্যাতি করার অভ্যাসে নিজের স্বভাব অজ্ঞাতসারে ভালো হয়ে পড়ে । তাই বলে কোনো স্বার্থবুদ্ধি নিয়ে অন্যের সুখ্যাতি করতে নেই । সে তো তোষামোদ । সেক্ষেত্রে মন ও সুখ প্রায়ই এক থাকে না । সেটা কিন্তু বড়ই খারাপ, আর তাতে নিজের স্বাধীন মত প্রকাশের শক্তি হারিয়ে যায় ।

১১. হীরক যেমন কয়লা প্রভৃতি আবর্জ্জনায় থাকে, উত্তমরূপে পরিষ্কার না করলে সেটার জ্যোতি বেরোয় না, তেমনই তিনি তো সংসারে সাধারণ জীবের মত থাকেন, কেবল প্রেমের প্রভাবেই তাঁর দীপ্তিতে জগৎ উদ্ভাসিত হয় । প্রেমই তাঁকে ধরতে পারে । প্রেমের সঙ্গ কর, তিনি আপনিই প্রকট হবেন ।

১২. কারো সাহায্য যখন তুমি না পাও, তখন পিতার কাছে যাও । সে তাঁর সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে তোমাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকবেন । কৃতজ্ঞতাবোধ থাকতে হবে নচেৎ অমানুষ সেই সন্তান ।

১৩. যে শাশুড়ি মা সে কিন্তু তোমার অর্ধেক অঙ্গের মা অর্থাৎ তুমি আর তোমার স্বামী দুজনে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ । আর মা মানেই জগৎ জননী সর্বেসর্বা । বৌমা আসলে তার আস্তে আস্তে কর্তৃত্ব হরায়, আবার ছেলেকে হারানোর ভয় থাকে । ছেলেরা আগে মাকে ঘিরে থাকে বিয়ের পর আস্তে আস্তে কমে যায় । তাই একটু দোষগুণ ধরে একটু রেগে কথা বলে । হয়তোবা মনের কিছু দুঃখ অন্য কাউকে বলে । সব বিষয় গুলো যদি গভীরভাবে ভাবো দেখতে পাবে মায়ের কোনো দোষ নেই । তখন তাকেই মাথায় করে রাখবে তুমি গৃহিণীর কন্যা হয়েই থাকবে ।

১৪. মাটির শরীর মাটি হবে মাটি ছাড়া নাই বিধান,
মাটিরে তুই কররে খাঁটি অমৃতেরই এনে নিদান ।

১৫. কেউ যদি তোমার নিন্দা করে করুক, কিন্তু খেয়াল রেখো তোমার চলন চরিত্রে নিন্দনীয় কিছু যেন কোনোক্রমে স্থিতিলাভ করতে না পারে, তাহলে নিন্দা ব্যর্থ হয়ে উঠবে এমনিতেই ।

১৬. যতই পরের দোষ দিবি
তুই নিজের যা দোষ এড়াতে,
পেয়ে বসবে সে দোষ তোমায়
দেবে না পা বাড়াতে ।

১৭. সহিতে তুমি না পারো যদি অন্যের কটু ব্যবহার
কেমন করে সইবে তোমার তিক্ত আচার ।

১৮. কাউকে যদি বলিস কিছু সংশোধনের তরে,
গোপনে তাকে বুঝিয়ে বলিস সমবেদনা ভোরে ।

১৯. তুমি যায় দেখোনা কেন, অন্তরের সহিত সবার আগে তার ভালোটুকু দেখার চেষ্টা করো আর এই অভ্যাস তুমি মজ্জাগত করে ফেলো ।

২০. আত্ম প্রতিষ্ঠার তাগিদে যারা শক্তিমান হয় তারা শক্তির দম্ভে সৎলোককে অবমাননা করতে শুরু করে । চাটুকার ছাড়া অন্য লোককে তারা বরদাস্ত করতে পারে না । বহু লোক তাদের আচরণে অন্তরে অন্তরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আর তাই হয় তাদের কাল । অন্তত লোকের অন্তরে তাদের কোনো আসন প্রতিষ্ঠিত হয় না ।

২১. তোমার নজর যদি অন্যের কেবল খারাপটাই দেখে, তবে তুমি কখনোই কাউকে ভালোবাসতে পারবে না । আর যে সৎ দেখতে পারে না সে কখনই সৎ হয় না ।

২২. যার উপর যা কিছু সব দাঁড়িয়ে আছে তাই ধর্ম, আর তিনিই পরম পুরুষ । ধর্ম কখনওই বহু হয় না ধর্ম একই প্রকার আর তার কোনো প্রকার নেই । মত বহু হতে পারে, এমনকি যত মানুষ তত মত হতে পারে কিন্তু তাই বলে ধর্ম বহু হতে পারে না ।

২৩. সব মতই সাধনা বিস্তারের জন্য, তবে তা নানান প্রকারের হতে পারে; আর যতটুকু বিস্তারে যা হয় তাই অনুভূতি ও জ্ঞান । তাই ধর্ম অনুভূতির উপর ।

২৪. কোনো মতের সঙ্গে কোনো মতের প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমের বিভিন্নতা বলেই নানা প্রকারের এরকম অনুভব ।

২৫. তোমার মন যত নির্মল হবে, তোমার চোখ ততই নির্মল হবে, আর জগৎটা তোমার নিকট নির্মল হয়ে ভেসে উঠবে ।

২৬. এটা খুবই সত্য কথা যে, মনে যখনই অপরের দোষ দেখার প্রবৃত্তি এসেছে তখনই ঐ দোষ নিজের ভিতরে এসে বাসা বেধেছে । তখনই কালবিলম্ব না করে ওই পাপপ্রবৃত্তি ভেঙ্গেচুরে ঝেঁটিয়ে সাফ করে দিলে তবেই নিস্তার, নইলে সব নষ্ট হয়ে যাবে ।

২৭. হে আমার পালনকর্তা তুমি আমার ভেতর থেকে সকল কপটতাকে দূর করে দাও এবং কপট মানুষও যদি আমার সঙ্গ লাভ করে তবে তারা যেন সহজ সরল হয়ে যায় ।

২৮. সৎসঙ্গী হওয়া মানে সবার বাঁচা-বাড়ার সেবক হওয়া । অন্যের বেঁচে থাকা ও বৃদ্ধি পাওয়াকে অক্ষুণ্ন ও অব্যাহত রাখিয়া জীবন ও বৃদ্ধিকে লাভ করার জন্য যাহারা যত্নশীল তাহারাই সৎসঙ্গী । 'আত্ননঃ সর্বেষাং হি জীবনবর্দ্ধনাধীগম পরো যঃ স এব সৎসঙ্গী' -- অর্থাৎ আমি সৎসঙ্গী তার মানে আমি প্রতি-প্রত্যেকের জীবন বৃদ্ধির সঙ্গী ।

২৯. তোমার ভাষা যদি কুৎসা-কলঙ্কজড়িতই হয়ে থাকে, অপরের সুখ্যাতি করতে না পারো, তবে যেন কারো প্রতি কোনো মতামত প্রকাশ না করো। আর মনে-মনে তুমি নিজ স্বভাবকে ঘৃণা করতে চেষ্টা করো এবং ভবিষ্যতে কুৎসা-নরক ত্যাগ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও ।

৩০. ধর্মে সবাই বাঁচে বাড়ে
সম্প্রদায়টা ধর্ম নারে ।
☀☀☀☀☀🌺🌺🌺🍃🍃🍃🌼🌼⛅⛅⛅💝

10/05/2020

🌹সবাইকে মা দিবসের শুভেচ্ছা __♠

Photos 09/05/2020

📑শ্রীমদ্ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণের পরমেশ্বরত্বই প্রতিপন্ন🌷

🌻ভগবদগীতাতেই ভগবদগীতার মূল ভাব ব্যক্ত হয়েছে । এটি ঠিক এই রকম- আমরা যখন কোনো ঔষধ খাই, তখন যেমন আমরা আমাদের ইচ্ছামতো সেই ঔষধ খেতে পারি না, ডাক্তারের নির্দেশ বা ঔষধের শিশিতে দেওয়া নির্দেশ অনুসারে খেতে হয়, তেমনি ভগবদগীতাকে গ্রহণ করতে হবে ঠিক যেভাবে তার বক্তা তাঁকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন । ভগবদগীতার বক্তা হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ । ভগবদগীতার প্রতিটি পাতায় বলা হয়েছে যে, শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান ।

🌸ভগবান শব্দটি অবশ্য কখনো কখনো কোনো শক্তিমান পুরুষ অথবা কোনো দেব-দেবীর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয় । এখানে ভগবান শব্দটির দ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে মহাপুরুষ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে আমাদের জ্ঞাত হওয়া উচিত যে, শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন 'পরমেশ্বর ভগবান' । ভগবান শ্রীকৃষ্ণই যে পরমেশ্বর তা স্বীকার করেছেন সমস্ত সত্যদ্রষ্টা ও ভগবৎ-তত্ত্ববেত্তা আচার্যেরা__ যেমন শঙ্করাচার্য, রামানুজাচার্য, মধ্বাচার্য, নিম্বাকাচার্য, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আদি ভারতের প্রতিটি মহাপুরুষ ।

🔔শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ভগবদগীতাতে বলে গেছেন যে, তিনিই হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান । ব্রহ্মসংহিতা ও সবকটি পুরাণে, বিশেষ করে ভাগবত-পুরাণ শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবানরূপে বর্ণনা করা হয়েছে ( কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্ ) । তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেমনভাবে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, ঠিক তেমনভাবে ভগবদগীতাকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে ।
⛅⛅⛅⛅⛅⛅⛅🌿🌿🌿🌺🌺🍍🌵🌵

🏆অর্জুনকে গীতাজ্ঞান দানের কারণ👇

🙏তিনি অর্জুনকে বললেন,
"তুমি আমার ভক্ত সখা, তাই রহস্যাবৃত এই পরম জ্ঞান আমি তোমাকে দান করছি ।"
এই কথার তাৎপর্য হচ্ছে যে, ভগবদগীতার গীতার জ্ঞান কেবল ভগবানের ভক্তই আহরণ করতে পারে । অধ্যাতবাদীদের সাধারণত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা- জ্ঞানী, যোগী ও ভক্ত অথবা নির্বিশেষবাদী, ধ্যানী ও ভক্ত । এখানে ভগবান স্পষ্টভাবে অর্জুনকে বলেছেন যে, পূর্বের পরম্পরা নষ্ট হয়ে যাবার ফলে তিনি তাঁকে দিয়ে পুনরায় সেই পুরাতন যোগের প্রচার করলেন । তিনি চেয়েছিলেন যে, অর্জুন এই জ্ঞানকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করে তার প্রচার করবেন ।

🌍আর এ কাজের জন্য তিনি অর্জুনকেই কেবল মনোনীত করলেন, কারণ অর্জুন ছিলেন তাঁর ভক্ত, তাঁর অন্তরঙ্গ সখা ও তাঁর প্রিয় শিষ্য । তাই ভগবানের ভক্ত না হলে অর্থাৎ ভক্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাঁর অন্তরঙ্গ সান্নিধ্যে না এলে ভগবানের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারা সম্ভব নয় । তাই অর্জুনের গুণে গুণান্বিত মানুষেরাই কেবল শ্রীমদ্ভগবদগীতাকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে ।
👑👑👑👑👑🔮🔮🔮🔮🔮🎆🎆🎌🀄🀄

🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌲🌲🌲
💜কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ🌙
🌹🌹🌹ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ🌹🌹🌹🌹
🎸🎻🎸🎻🎸🎻🎸🎻🎸🎻🎸🎻🎸🎻🎸

08/05/2020

🌍ভগবানের প্রিয় ভক্তের স্বভাব বা লক্ষণ ______♣ :
________শ্রীমদ্ভগবদগীতা💜

_________________শুভ দুপুর____________

Photos 07/05/2020

📑 শ্রীমদ্ভগবদগীতা বিষয়ক প্রশ্ন 👇

🔭প্রশ্ন : ক : ব্রহ্ম উপলব্ধির পাঁচটি স্তর কি ? 👈

🌹উত্তর : ব্রহ্ম উপলব্ধির পাঁচটি স্তর হল অন্নময়, প্রাণময়, জ্ঞানময়, বিজ্ঞানময়, আনন্দময় ।

১. অন্নময় - পরমেশ্বর ভগবানের অন্নময় নামে একটি শক্তির প্রকাশ হয়, যার ফল জীব তার জীবন ধারণের জন্য অন্নের উপর নির্ভর করে । এটি পরমেশ্বর ভগবান সম্বন্ধে একটি জড় উপলব্ধি ।

২. প্রাণময় - অন্নের মধ্যে পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করার পর প্রাণের লক্ষণের মধ্যে বা জীবের চেতনার মধ্যে পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করা ।

৩. জ্ঞানময় - এই স্তরে প্রাণের প্রকাশ চিন্তা, অনুভূতি এবং ইচ্ছাশক্তিতে বিকশিত হয় ।

৪. বিজ্ঞানময় - এই স্তরটি হচ্ছে ব্রহ্মউপলব্ধির স্তর । এই উপলব্ধির ফলে জীবের চেতনা এবং জীবনের লক্ষণগুলি থেকে জীবকে স্বতন্ত্র বলে উপলব্ধি করা যায় ।

৫. আনন্দময় - আনন্দময় স্তর হচ্ছে আনন্দময় প্রকৃতির উপলব্ধি করা ।

প্রথম তিনটি স্তর - অন্নময়, প্রাণময়, জ্ঞানময়__ জীবসত্তার কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ।

এই সকল কর্মক্ষেত্রের উর্ধ্বে হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান যাকে বলা হয় আনন্দময় । "আনন্দময়োহভ্যাসাৎ" - পরমেশ্বর ভগবান স্বভাবতই আনন্দময় এবং তাই সে দিব্য আনন্দ উপভোগ করার জন্যে তিনি নিজে বিজ্ঞানময়, প্রাণময়, জ্ঞানময় এবং অন্নময় রূপে প্রকাশিত হন ।
🎌🎌🎌🎌🌵🌵🌵🌵🌵🌲🌻🌻🌻🌻🌻☀

🌞প্রশ্ন : খ : প্রকৃতির তিনটি গুণ অনুসারে সুখ কি ?👇

🌹উত্তর :
১. যে সুখ প্রথমে বিষ পরিণামে অমৃত তুল্য, আত্মনিষ্ঠ বুদ্ধির নির্মলতা থেকে উৎপন্ন, সেই প্রকার সুখকে সাত্ত্বিক সুখ বলা হয় ।

২. বিষয় ও ইন্দ্রিয়ের সংযোগের ফলে যে সুখ প্রথমে অমৃতের মতো পরিণামে বিষের মত অনুভূত হয়, তাকে রাজসিক সুখ বলা হয় ।

৩.যে সুখ প্রথমে ও পরিণামে আত্মজ্ঞানরহিত, যা নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদ থেকে উৎপন্ন হয়, তা তামসিক সুখ বলে কথিত হয় ।
👑👑👑🍐🍐🍐🍐🌿🌿🌿🌿🌿🌈🌺🌺🌸

🌝প্রশ্ন : গ : কিভাবে কর্ম করেও কর্মের শুভ ও অশুভ ফল থেকে মুক্ত হয়ে কর্মবন্ধন থেকে নিস্তার লাভ করা যাবে ? 👈

🌹উত্তর : যা কর্ম করা হয়, যা আহার করা হয়, যা পূজা করা হয়, যা দান করা হয়, যা তপস্যা করা হয় সে সমস্ত কর্মের ফল ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করলে কর্মের শুভ ও অশুভ ফল থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে । ফলতঃ কর্মবন্ধন থেকে এভাবে নিস্তার লাভ করা যাবে ।
🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌙💜

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Chittagong