21/06/2020
⛅ শ্রীব্রহ্মা, নারদমুনি ও সনৎকুমার সংবাদে 'শ্রীকৃষ্ণ-নামের মাহাত্ম্য ।' (নারদ যেভাবে হরিভক্ত হলেন) 🌞
🙏সবাইকে সুন্দর একটি সকালের শুভেচ্ছা । আমরা জানি ভগবান শ্রীহরির শ্রেষ্ঠ ভক্তদের একজন নারদমুনি । যিনি ধর্মের বাস্তবিক রূপ জানা বারোজন মহাজনদের একজন । চলুন জেনে নেয়া যাক, নারদমুনি কিভাবে ভগবান শ্রীহরির ভক্ত হলেন;
🌿একসময় নারদমুনি মন্দাকিনীর তটে তপস্যা করছিলেন । কিন্তু তিনি দৈববাণী শুনতে পেলেন,
-"শ্রীহরি যদি আরাধিত না হন, তবে তপস্যার কি দরকার ? শ্রীহরি যদি আরাধিত হন, তবে তপস্যারও কি দরকার ।"
🌷দৈববাণী শুনে নারদ শ্রীহরিস্মরণ করছিলেন, তখন পিতৃদেব ব্রহ্মাকে দেখতে পেলেন । ব্রহ্মাকে প্রণতি নিবেদন করে জলপূর্ণ নয়নে নারদ জিজ্ঞেস করলেন,
-"এই দৈববাণীর অর্থ কি ?"
🌺ব্রহ্মা বললেন,
-"হে বৎস ! যদি কোনও ব্যক্তি ভক্তিসহকারে শ্রীহরির আরাধনা, তবে সেই ব্যক্তির তীর্থভ্রমণ, তপস্যার প্রয়োজন নেই । ভারতবর্ষে কৃষ্ণমন্ত্র-উপাসক জীবন্মুক্ত ব্যক্তির পক্ষে তপস্যার প্রয়োজন হয় না । হে নারদ, শ্রীকৃষ্ণনামমন্ত্র গ্রহণ মাত্রেই তাঁর বংশের শত পুরুষ ও বন্ধুবান্ধবেরাও অনায়াসে পবিত্র হয় । শ্রীকৃষ্ণসেবা থেকে অন্য কোন ধর্ম বড় নয়, অন্য কোন তপস্যা শ্রেয় নয় । কৃষ্ণসেবা পরায়ণ ব্যক্তিদের তপস্যার পরিশ্রম অনাবশ্যক । হে পুত্র, শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে ব্রতী ব্যক্তিই মহা পবিত্র । তাঁর তীর্থস্থান, তাঁর অনশন, তাঁর বেদ অধ্যয়ন বিড়ম্বনা মাত্র । হে বৎস, আগুন পবিত্র, নির্মল জল পবিত্র, ভারতবর্ষ পবিত্র এবং তীর্থস্বরূপ তুলসীপত্র পরম পবিত্র । কিন্তু কৃষ্ণনাম-পরায়ণ, কৃষ্ণসেবা-পরায়ণ ব্যক্তি অবলীলাক্রমে এই সকলকে পবিত্র করেন, আর এঁরাও সাদরে কৃষ্ণভক্ত ব্যক্তির স্পর্শ বাঞ্ছা করেন । বসুন্ধরা হরিভক্তের পদধূলি দ্বারা তৎক্ষনাৎ পবিত্র হন । হে নারদ, জানবে যে, এই ব্রহ্মাণ্ডে শ্রীকৃষ্ণসেবক অপেক্ষা কোন বস্তু বা কোনও ব্যক্তি অধিক পবিত্র নয় ।
"যে ব্যক্তি প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণপূজা করে এবং শ্রীকৃষ্ণচরণামৃত ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে, সেই মহা পবিত্র । হে নারদ, কৃষ্ণভক্ত যে বংশে জন্মগ্রহণ করে সেই বংশ পবিত্র হয় । জগতে যে ব্যক্তি কৃষ্ণভজনা করে না, তার তপস্যা, তার কর্মপ্রচেষ্টা, তার পরিশ্রম বৃথা । গঙ্গাজল যেমন মদের ভাণ্ডকে পবিত্র করতে পারে না, সেরকম বৈদিক কর্মকাণ্ডীয় যজ্ঞ, উপবাস, তপস্যা, ব্রত, দান, শুভকর্ম__ এ সবই অভক্ত ব্যক্তিকে পবিত্র করতে পারে না ।
"শ্রীকৃষ্ণে যে ভক্তি-পরায়ণ নয়, সেই ব্যক্তি যদি তীর্থে স্নান করতে যায় তবে তীর্থ বিচলিত হন । বসুন্ধরা অভক্তের ভারে দুঃখে কম্পিত হয়ে থাকেন ।
" হে বৎস, শ্রীকৃষ্ণের কথাই বেদশাস্ত্রের সারবস্তু । যে মহাত্মা স্বপ্নে ও জাগরণে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তা করেন, তিনি নিষ্পাপ হয়ে জগৎকে পবিত্র করেন, ভগবানের সুদর্শন চক্র সেই মহাত্মাকে সুরক্ষিত করেন । শ্রীকৃষ্ণের নিরন্তর স্মরণকারী ভক্ত অপেক্ষা আত্মা, প্রাণ, দেহ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, আমি, শিব তাঁর কাছে কিছুই প্রিয় নয় । পরমপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভক্তগত প্রাণ এবং ভক্তগণ হচ্ছেন কৃষ্ণগত প্রাণ । ভক্ত শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করেন, শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের ধ্যান করেন ।
"হে নারদ, যারা শ্রীকৃষ্ণসেবা-পরায়ণ নয়, তাদের জ্ঞান, তাদের তপস্যা, তাদের ব্রত, তাদের নিয়ম, তাদের তীর্থ স্নান, তাদের পুণ্যকর্ম সমস্তই নিষ্ফল । যারা ব্রাহ্মণ, অথচ কৃষ্ণভক্ত নয়, তারা ধর্মভ্রষ্ট পতিত জীব । কৃষ্ণভক্তিহীন ব্রাহ্মণ অপেক্ষা স্বধর্মাচারশীল চণ্ডাল, ম্লেচ্ছ এমনকি কুকুর-শূকরেরাও ভালো । হে নারদ, ধর্মহীন ব্রাহ্মণেরা যা আহার্যরূপে গ্রহণ করা উচিত নয়, সেইগুলিও তারা ভক্ষণ করে । প্রতিদিন বিপরীত ধর্মাচার দ্বারা তারা পতিত হয়ে চণ্ডাল অপেক্ষাও অধম হয় ।
🌵নারদমুনি প্রশ্ন করলেন,
-" হে পিতা, ব্রাহ্মণদের স্বধর্ম কি ? তাঁদের ভক্ষ্য বস্তু কি ?"
🌺ব্রহ্মা বললেন,
-"হে পুত্র, ব্রাহ্মণদের নিরন্তর কৃষ্ণসেবন করাই স্বধর্ম । এই জন্যই অন্যান্য লোকেরা ব্রাহ্মণকে সশ্রদ্ধ সম্মান জ্ঞাপন করে থাকে, ব্রাহ্মণদের উচ্ছিষ্ট ও পদধৌত জল পান করে থাকে । ব্রাহ্মণরা প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণ ভোগ নিবেদন করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ-প্রসাদই তাঁদের আহার্য বস্তু ।"
🌻নারদমুনি প্রশ্ন করলেন,
-"হে পিতা, ব্রাহ্মণরা যদি প্রত্যহ কৃষ্ণপ্রসাদ না গ্রহণ করে অন্য কোন খাদ্য গ্রহণ করে, তবে দোষ কি ?"
🌺ব্রহ্মা বললেন,
-"পণ্ডিতেরা সেই খাদ্যকে অখাদ্য বলে বর্ণনা করেন । সেই অন্ন বিষ্ঠা সম, সেই পানীয় মূত্র সম হয় । কোল ভীল ম্লেচ্ছ চণ্ডালেরা ভগবানকে অনিবেদিত অন্ন, রক্তমাংস জাতীয় অমেধ্য বস্তু ভক্ষণ করে থাকে, কিন্তু ব্রাহ্মণ যদি সেই বস্তু ভক্ষণ করে তবে চণ্ডালাধম বলে গণ্য হয় ।
"হে নারদ, এখন আমি তোমাকে যে নির্দেশ দিতে ইচ্ছা করছি, তা হল এই, কৃষ্ণভক্ত শিবকে গুরুরূপে গ্রহণ করে অচিরেই কৃষ্ণদাস্য ভক্তি লাভ কর । তোমার এরকম নির্জনে বসে তপস্যা করার দরকার নেই । শ্রীকৃষ্ণভক্তিই দুঃখময় সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হবার নৌকা স্বরূপ । গুরুদেব সেখানে কর্ণাধার স্বরূপ । হে নারদ, তুমি যে দৈববাণী শুনেছিলে, দেবী সরস্বতীই তোমার উদ্দেশ্যে এই কথা বলে প্রস্থান করেছেন ।"
🀄শ্রীব্রহ্মা যখন নারদকে এই সমস্ত কথা বলছিলেন, তখন ব্রহ্মার পুত্র সনৎকুমার বললেন,
-"হে পিতা, আমি কোনও কথা বুঝতে পারিনি, দয়া করে আমাকে পুনরায় বলুন । শ্রীকৃষ্ণকে যে আরাধনা করেছে তাঁর আর তপস্যা করা অনর্থক এবং যে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেনি তারও তপস্যা ব্যর্থ হয়, যদি এই দুই জনই তপস্যারহিত হয়, তবে তপস্যার স্থান কি ধরনের লোকের প্রতি নির্দিষ্ট থাকল ?"
🍂ব্রহ্মা বললেন,
-"হে বুদ্ধিমান, তোমাকে পুত্ররূপে পেয়ে আমার জীবন ধন্য । 'আরাধিত' কথাটিতে আ অর্থ বিশেষণরূপে 'রাধিত' শব্দটি প্রাপ্তবাচক হয় । অতএব যিনি শ্রীহরিকে প্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁর তপস্যার প্রয়োজন নেই । কোনও মূঢ় ব্যক্তি, যখন শ্রীকৃষ্ণে বিমুখ, তার তীর্থ, দান, তপস্যা, পুণ্য, ব্রত তাকে পবিত্র করতে পারে না ।"
🌝সনৎকুমার জানতে চাইলেন,
-"হে পিতা, কোন ধরনের ব্যক্তি তপস্যা করবে ?"
🌹ব্রহ্মা বললেন,
-"যে ব্যক্তি মূঢ়তম কিংবা যে ব্যক্তি সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিলাভ করেছে, এই উভয় ব্যক্তিই সুখী । তাদের তপস্যা করার দরকার নেই । কিন্তু মধ্যম লোকেরাই তপস্যা করবার অধিকারী বা উপযুক্ত হয়ে থাকে । মধ্যম ব্যক্তিরা যারা গৃহস্থ সাধক, সংসারে ব্যাপৃত থেকে পূর্ব কর্মের ফলভোগে অনুরাগী হয়ে অভীপ্সিত শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম পাওয়ার বাসনায় তারা তপস্যা করে ।"
🍂সনৎকুমার প্রশ্ন করলেন,
-"হে পিতা, তারা কিরকম তপস্যা করবে ?"
🍀ব্রহ্মা বললেন,
-"শ্রীকৃষ্ণের সেবা, শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান, শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ-কীর্তন, শ্রীকৃষ্ণের চরণামৃত ও মহাপ্রসাদ সেবন করাই সকলের বাঞ্ছিত শ্রেষ্ঠ ধর্ম ।"
-"হে পিতা, অধিকাংশ লোকেরই তা হলে শ্রীকৃষ্ণভক্তিমূলক তপস্যার প্রয়োজন আছে । তবুও আমার জানতে ইচ্ছা হয় যে, সংসারের সব লোক কৃষ্ণভজন করে না কেন ?"
-"হে বৎস, যার বুদ্ধি পূর্বজন্মকৃত কর্মদোষে মন্দ হয়েছে এবং অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে গুরুরূপে গ্রহণ করেছে, তারা তমোগুণের অধীন হয়ে থাকে । তার ফলে তারা ত্রিগুণের অতীত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারে না, এমনকি জানতেও আগ্রহ থাকে না । সংসারের সেই সব লোক তাই কৃষ্ণভজন করবে না ।"
🌺সনৎকুমার জানতে চাইলেন,
-"হে পিতা, তা হলে সংসারের সেই সব কৃষ্ণবিমুখ লোকদের কিভাবে সদ্গতি হবে ?"
🌞ব্রহ্মা বললেন,
-"হে পুত্র, অজ্ঞানে বা সজ্ঞানে, সাধুসঙ্গক্রমে কিংবা সৌভাগ্যক্রমে কেউ যদি অপ্রসাদভোজী না হয়ে কৃষ্ণপ্রসাদভোজী হয়, তা হলে, তার হৃদয়ে সমস্ত পাপ ক্ষয় হবে, সে দেহত্যাগের পর দিব্যরথে করে গোলোকে কিংবা উৎকৃষ্ট কোনও গ্রহলোকে স্বেচ্ছামতো গমন করতে সমর্থ হবে ।"
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹💜🌹🌹🔔🌴
13/06/2020
06/06/2020
03/06/2020
22/05/2020
15/05/2020
13/05/2020
10/05/2020
09/05/2020
08/05/2020
07/05/2020