#সিএ_করার_সুবিধা_কি?
১. সিএ ফার্মে ২-৪ বছর থাকতে হয় বলে কর্পোরেট জবে ঢোকার আগেই ভাল একটা এক্সপেরিয়েন্স হয়ে যায়।
২. সিএ তে কোন সাবজেক্ট পাস না করলেও (যদিও কাম্য নয়), ভাল ফার্ম থেকে সিসি নিয়ে বের হয়েও ভাল জব পাওয়া যায়।
৩. সিএ সিসি থাকলে, জব পেতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়না। কোন কোম্পানিতে জব না হলেও সিএ ফার্মেই এমপ্লয়ি হিসেবে জব করা যায়।
৪. সিএ লেভেল ওয়াইজ পাস করলে জবে প্রমোশন পাওয়া যায় এবং সেলারি দ্রুত বাড়তে থাকে।
৫. সিএ পাস করে এসিএ হয়ে গেলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। লাইফ সেট হয়ে যাবে।
৬. সিএ পাস করলে অন্যান্য প্রফেশনাল একাউন্টিং ডিগ্রীগুলোতে বেশ কিছু সাবজেক্টস এক্সেমশন পাওয়া যায়। ফলে অন্য ডিগ্রীগুলোও পাস করা সহজ হয়ে যায়।
৭. এখন চাইলে অনার্স পড়া অবস্থাতেই সিএ পড়া যায়। তবে অনার্স পাস করে সিএ ফার্মে সিসি করার জন্য অবশ্যই যেতে হবে।
৮. সিএ পাস করলে নিজের সিএ ফার্ম দেয়া যায়।
৯. শুধু সিএ সিসি ডিগ্রিও যদি থাকে, তবে যদি আপনি ট্যাক্স ভ্যাট এর কাজ ভাল জানেন, তাহলে নিজের ট্যাক্স ভ্যাট এর ফার্ম দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ITP ও VAT Consultant পরীক্ষা দিতে পারেন।
#সিএ_করার_অসুবিধা_কি?
১. সিএ করতে গেলে সিএ ফার্মে বাধ্যতামূলকভাবে ২-৪ বছর থাকতে হয়। সেসময় অন্য কোথাও জব করা যায় না। যাদের ফিনান্সিয়াল সমস্যা আছে, তারা অনেক সময় আর্থিক ইস্যুর কারণে সিএ করতে পারে না বা খুব কষ্টে দিন পার করে।
২. সিএ ফার্মে কাজের প্রেসারের ভয়ে অনেকে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সিএ ফার্মে সিসি করতে যায়। পরবর্তীতে সিএ পাস করতে পারে না এবং সিসি করা সিএ ফার্মের তেমন নাম-ঢাক না থাকায়, চাকরি পেতে কষ্ট হয়।
৩. সিসি পিরিয়ডে ফার্ম ভাল না হলে কাজ শেখার সুযোগ কম। ফলস্বরুপ ইন্টারভিউতে বা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে নানান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
৪. সিএ পাস করলে লক্ষাধিক টাকা বেতন ভেবে সিএ পড়তে এসে পাস না করতে পারা অনেকেই ক্যারিয়ারের শুরুতেই ঝড়ে পড়ে যায়। যার ইমপ্যাক্ট ক্যারিয়ারে বাজে ভাবে পড়তে পারে।
৫. সিএমএ এর তুলনায় সিএ কোর্সে খরচ অনেক বেশি।
৬. সিএ করার সময়ে আড্ডা, বন্ধুবান্ধব, মাস্তি ইত্যাদি বাদ দিতে হবে। সিএ পাস করতে হলে শুধু পড়াশোনা করে যেতে হবে।
Ideal Study Aid
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ideal Study Aid, Education, Chittagong.
28/04/2022
চীন এখন সারা দুনিয়া থেকে তরুণদের আকৃষ্ট করছে। কি করে মেধাবীদের ছেঁকে ছেঁকে চীনে নেয়া যায় সেজন্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে। ক্রমাগত নতুন নতুন প্রকল্প নিচ্ছে।
২০১৭ সালে, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ বিদেশী স্টুডেন্ট চীনে পড়তে গেছে। ২০২২ সালে তাদের লক্ষ্য ছয় লাখ স্টুডেন্টকে আকৃষ্ট করা।
চীন হয়তো আমেরিকা-ইউরোপ থেকে অনেক স্টুডেন্ট পাচ্ছে না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে মেধাবীদের নিয়ে নিচ্ছে। এই যায়গায় তারা আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে।
আরব দেশগুলো থেকে বহু স্টুডেন্ট চীনে গবেষণা করতে যায়। আফ্রিকার স্টুডেন্টরা যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক স্টুডেন্টরা চীনে ঝুঁকবে সেটা আমি বহুবার লিখেছি।
চীনে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় আছে। পড়াশুনা ও গবেষণার মান বিশ্বমানের। দিন দিন মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে যেতে জিআরই, টোফেল, আইএলটিএস—এই বিষয়গুলো সবসময় প্রয়োজন হয় না। কিংবা রিকোয়ারমেন্ট খুব শক্ত না। চীনে লিভিং কস্ট তুলনামূলক কম। বাংলাদেশের অনেক স্টুডেন্ট ঢাকার প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে যে টাকায় পড়ছে, সে টাকায় চীন গিয়ে পড়ে আসতে পারছে। অনেকে সেখানে পড়াশুনা শেষ করে ইউরোপ-আমেরিকা চলে যাচ্ছে। চীনকে তারা একটা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে।
চীনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ স্টুডেন্ট প্রতিবছর আমেরিকায় ঢুকে। ইউরোপে ঢুকে প্রায় দেড়-দুই লাখ। আর চীন এই শূণ্যতার কিছুটা হলেও পূরণ করবে অন্যদেরকে নিয়ে।
একটা দেশ এভাবেই দাঁড়ায়। শিক্ষা ও গবেষণাকে শক্ত করে গড়ে তুলে সারা দুনিয়ার মেধাবীদের আকৃষ্ট করা যায়। সেসব মেধাবীদের সময় ও মাথাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা যায়। চীন কখনো ব্রেইন ড্রেইন নিয়ে চিন্তা করে না। আমরা শুধু ব্রেইন ড্রেইন বলে বলেই আক্ষেপ করি। আর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ দেই ব্যাচেলর পাশ স্টুডেন্ট!
সারা দুনিয়া থেকে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার মতো বিশ্ববিদ্যালয় কি আমরা কোনদিন গড়তে পারবো? অন্তত আগামি ত্রিশ বছরে?
……………………
Alam
07/02/2022
সন্তানের জন্য বৃদ্ধ বাবার লেখা অসাধারন এক চিঠি।
প্রিয় সন্তান,
আমি তোমাকে ৩ টি কারনে এই চিঠিটি লিখছি ️
১। জীবন, ভাগ্য এবং দুর্ঘটনার কোন নিশ্চয়তা নেই, কেউ জানে না সে কতদিন বাঁচবে।
২। আমি তোমার বাবা, যদি আমি তোমাকে এই কথা না বলি, অন্য কেউ বলবে না।
৩। যা লিখলাম, তা আমার নিজের ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা- এটা হয়তো তোমাকে অনেক অপ্রয়োজনীয় কষ্ট পাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
জীবনে চলার পথে এগুলো মনে রাখার চেষ্টা কর ️।
১। যারা তোমার প্রতি সদয় ছিল না, তাঁদের উপর অসন্তোষ পুষে রেখোনা। কারন, তোমার মা এবং আমি ছাড়া, তোমার প্রতি সুবিচার করা কারো দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা। আর যারা তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে - তোমার উচিত সেটার সঠিক মূল্যায়ন করা এবং কৃতজ্ঞ থাকা। তবে তোমার সতর্ক থাকতে হবে এজন্য যে, প্রতিটি মানুষেরই প্রতি পদক্ষেপের নিজ নিজ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একজন মানুষ আজ তোমার সাথে ভালো- তার মানে এই নয় যে সে সবসময়ই ভালো থাকবে। কাজেই খুব দ্রুত কাউকে প্রকৃত বন্ধু ভেবোনা।
২। জীবনে কিছুই কিংবা কেউই "অপরিহার্য" নয়, যা তোমার পেতেই হবে। একবার যখন তুমি এ কথাটির গভীরতা অনুধাবন করবে, তখন জীবনের পথ চলা অনেক সহজ হবে - বিশেষ করে যখন বহুল প্রত্যাশিত কিছু হারাবে, কিংবা তোমার তথাকথিত আত্মীয়-স্বজনকে তোমার পাশে পাবেনা।
৩। জীবন সংক্ষিপ্ত। আজ তুমি জীবনকে অবহেলা করলে, কাল জীবন তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে। কাজেই জীবনকে তুমি যতো তাড়াতাড়ি মূল্যায়ন করতে শিখবে, ততোই বেশী উপভোগ করতে পারবে।
৪। ভালবাসা একটি ক্ষণস্থায়ী অনুভূতি ছাড়া কিছুই নয়। মানুষের মেজাজ আর সময়ের সাথে সাথে এই অনুভূতি বিবর্ণ হবে। যদি তোমার তথাকথিত কাছের মানুষ তোমাকে ছেড়ে চলে যায়, ধৈর্য ধরো, সময় তোমার সব ব্যথা-বিষন্নতা কে ধুয়ে-মুছে দেবে। কখনো প্রেম-ভালবাসার মিষ্টতা এবং সৌন্দর্যকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেনা, আবার ভালবাসা হারিয়ে বিষণ্ণতায়ও অতিরঞ্জিত হবে না।
৫। অনেক সফল লোক আছেন যাদের হয়তো উচ্চশিক্ষা ছিলনা- এর অর্থ এই নয় যে তুমিও কঠোর পরিশ্রম বা শিক্ষালাভ ছাড়াই সফল হতে পারবে! তুমি যতোটুকু জ্ঞানই অর্জন করোনা কেন, তাই হলো তোমার জীবনের অস্ত্র। কেউ ছেঁড়া কাঁথা থেকে লাখ টাকার অধিকারী হতেই পারে, তবে এজন্য তাকে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে।
৬। আমি আশা করি না যে, আমার বার্ধক্যে তুমি আমাকে আর্থিক সহায়তা দিবে। আবার আমিও তোমার সারাজীবন ধরে তোমাকে অর্থ সহায়তা দিয়ে যাবনা। যখনি তুমি প্রাপ্তবয়স্ক হবে, তখনি বাবা হিসেবে আমার অর্থ-সহায়তা দেবার দিন শেষ। তারপর, তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তুমি কি পাবলিক পরিবহনে যাতায়াত করবে, নাকি নিজস্ব লিমুজিন হাঁকাবে; গরীব থাকবে নাকি ধনী হবে।
৭। তুমি তোমার কথার মর্যাদা রাখবে, কিন্তু অন্যদের কাছে তা আশা করোনা। মানুষের সাথে ভালো আচরন করবে, তবে অন্যরাও তোমার সাথে ভালো থাকবে- তা প্রত্যাশা করবেনা। যদি তুমি এটি না বুঝতে পারো, তবে শুধু অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণাই পাবে।
৮। আমি অনেক বছর ধরে লটারি কিনেছি, কিন্তু কখনও কোন পুরষ্কার পাইনি। তার মানে হলো এই যে- যদি তুমি সমৃদ্ধি চাও তবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিনামূল্যে কোথাও কিছু জুটবে না।
৯। তোমার সাথে আমি কতোটা সময় থাকবো- সেটা কোন ব্যাপার না। বরং চলো আমরা আমাদের একসাথে কাটানো মুহুর্তগুলো উপভোগ করি ...মূল্যায়ন করি।
ইতি
ভালোবাসা সহ,️
তোমার বাবা।
------------------------------------------------
সেই বাবা হলেন একজন চাইল্ড সাইকোলজিষ্ট এবং হংকং-এর প্রখ্যাত টিভি সম্প্রচারকারী। তার কথাগুলো বয়োজ্যেষ্ঠ, বয়োকনিষ্ঠ, বৃদ্ধ কিংবা তরুন, শিশু ও আমাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য।
23/01/2022
কুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্ররা তাদের ডিগ্রি সমাপনী উপলক্ষে একটি আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানে তারা সেজেছে কয়েদীর সাজে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা যে মোটেও উপভোগ্য কিছু নয়, ওখানের খাবার ও বাসস্থানের মান যে জেলখানার চেয়ে উন্নত নয়, তা এ সাজে প্রতীকীভাবে ফুটে উঠেছে।
শিক্ষাঙ্গন থেকে যারা কারামুক্তির আনন্দ নিয়ে বের হয়, তাদের কাছ থেকে দেশবাসীর কোনোকিছু আশা করা উচিত নয়। কারণ এ কয়েদীদের ভেতর আমরা সিস্টেম্যাটিক্যালি প্রতিশোধস্পৃহা ঢুকিয়ে দিয়েছি। আমাদের সরকারি চাকুরেদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতি ও অনাচারের এতো অভিযোগ, তার একটি বড় কারণ আমি মনে করি এই প্রতিশোধস্পৃহা। কয়েদীরা যখন মুক্ত হয়ে চাকুরিতে ঢোকে, তখন তারা ওই সিস্টেমের মালিকদের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। আর এরকম মুক্তির আনন্দ পাওয়া মানুষেরা যখন স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যায়, তখন আমাদের অবাক না হওয়াই ভালো।
- মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
29/12/2021
Tyranny of Merit- মেধার ঔদ্ধত্য!
হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল ফিলাসফির প্রফেসর মাইকেল স্যান্ডেল সর্বপ্রথম এই টার্মটি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির এডমিশন, জব এক্সাম ও কম্পেটিটিভ লাইফে যারা সফল হয় তাদেরকে মনে করা হয় তারা তাদের যোগ্যতা ও মেধার কারনেই সফল হয়েছে। যারা ব্যার্থ হয়েছে তারা যোগ্যতার অভাবেই ব্যার্থ হয়েছে। কিন্তু স্যান্ডেলের মতে এখানে মেধা বা যোগ্যতা ফ্যাক্টর নয়। তার মতে ফ্যাক্টর হচ্ছে "Equal opportunity in Condition"।
স্যান্ডেলের মতে আজকের একুশ শতকে এসে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ বা কর্পোরেশনগুলা এই মেধা ও যোগ্যতা তৈরি হওয়ার পেছনে যে ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে সেটা কেউই কেয়ার করছে না। লক্ষ করা হয় না জীবনে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ-সুবিদা (Opportunities) সমান ছিলো কিনা। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়া আর ধনী পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তানদের সুবিধা এক ছিলো কিনা (Equality in Conditions)।
একটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করছি। ধরুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায় এক থেকে দুই হাজার পর্যন্ত সিরিয়ালে যারা থাকবে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো। এখন যেই ছেলেটা ২০০১তম হয়েছে সে কিন্তু এডমিশন নিতে পারবে না। দেখা গেলো ২০০১ তম হওয়া এই ছেলেটার পড়াশোনা করার যথেষ্ট সুযোগ ছিলোনা, প্রাইভেট পড়া বা কোচিং করার মতো টাকা ছিলো না। এবং পড়াশোনার মাঝে মাঝে পিতার কৃষি কাজেও তাকে সাহায্য করতে হয়েছে। অথচ এই সময়টাতে সেও অন্যদের মতো পড়াশোনা করতে পারতো। এই ছেলেটার যদি ধনী পরিবারে জন্ম হওয়া স্টুডেন্টদের মতো যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা থাকতো (Equal opportunity in condition) তাহলে সে-ও ভর্তি পরিক্ষায় এক থেকে দুই হাজার স্টুডেন্টদের মধ্যে থাকতে পারতো।
তাই নিজের সফলতার কারনে মেধার ঔদ্ধত্যকে অনৈতিক বা Immoral হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রফেসর স্যান্ডেল। এই Tyranny of Merit কে অনেকে আবার "Meritocratic Hubris" ও বলে থাকে। ❤
Muhammad Miraj Mia
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
09/12/2021
বুয়েটের এই ২৫ জন মার্ডারারের জীবনী বাংলাদেশের প্রতিটা বাপ মাকে পড়ানো উচিত।
বাংলাদেশের বাপ মায়েদের জানা উচিত, ইউনিভার্সিটিতে উঠে গেলেই বাপ মায়ের দায়িত্ব শেষ না।
ছেলে মেয়েকে শুধু দেশের সেরা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়ানোই যেন আপনাদের জীবনের উদ্দেশ্য না হয়। দেশের সেরা ইউনিভার্সিটিতে পড়েও আপনাদের ছেলেরা খুনি হতে পারে। হাসতে হাসতে পিটিয়ে নিজেদের সহপাঠীকে মেরে ফেলতে পারে। ফিজিক্স কেমিস্ট্রি আর ম্যাথের পাশাপাশি সন্তানকে যদি জীবনের বেসিক ক্লিয়ার করে না দেন, তাহলে আপনার ছেলে বা মেয়ে যেকোন সময় ইউজ হয়ে যাইতে পারে।
এই ছেলেগুলোর জন্য আমার কোনো সমবেদনা নাই, তবে করুণা আছে। এদের মা বাপ এদের শুধু ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি পারা জানোয়ার বানাইসে, মানুষ বানাইতে পারে নাই, এই অপরাধে এদের বাপ মায়েরও শাস্তি হওয়া উচিত ছিলো বলে মনে করি।
সিস্টেমের দোষ অবশ্যই আছে, বাট ঐ সিস্টেমেই বুয়েটের আরো কয়েক হাজার ছেলে পড়াশোনা করেছে, কই, ওরা তো কাউকে খুন করেনি? কাজেই, সিস্টেমের দোষ সিস্টেমের দোষ বলে ওদের ২৫ জনের অপরাধ লঘু করে ফেলার কোনো সুযোগ নাই।
একই সাথে এই ২৫ টা ছেলের জীবনের গল্প বাংলাদেশের প্রতিটা ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। যাতে পাখনা গজানোর আগে, রাজনীতি করার আগে বা গেস্টরুমে বড় ভাই সাজার সময় এই পরিণতিগুলো সবার চোখের সামনে ভেসে উঠে।
- সাদিকুর রহমান খান
09/12/2021
পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় সাতটি ধাপ সাফল্যের সাথে পার হয়ে এসেছিলেন বরিশালে হিজলার আসপিয়া ইসলাম। সবগুলো উর্ত্তীর্ণ হওয়ার পর জানলেন নিজেদের জমি না থাকায় তার চাকরি হচ্ছে না। ডিআইজির কাছে যাওয়ার পর তিনি জানান জমি না থাকলে চাকরি দেওয়ার আইন নেই।
মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান লাভ করা আসপিয়া পিতৃহীন। থাকেন অন্যের জায়গায় আশ্রিত হিসেবে। মেধা আর দৃঢ়তা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আমাদের আহাম্মক সিস্টেম তাকে পথেই বসিয়ে দিয়েছে।
কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জমি থাকা কেন বাধ্যতামূলক তা জানি না৷ আদৌ এটা লিখিত কোন নিয়ম কিনা সেটাও জানা নেই। আর লিখিত হলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কেন উল্লেখ করা হলো না? তাহলে দুর্গম হিজলার একটা মেয়েকে পরীক্ষার পেছনে এত সময় নষ্ট করতে হতো না। তার মনও ভাঙত না।
03/12/2021
🎉 ‘ঠিকানাহীন’ শোভার ঠিকানা এখন বুয়েট 🎉❤️
******************★**************★**********
জন্মের আগেই বাবাকে হারিয়েছিলেন। ‘অপয়া’ সেই মেয়েকে নিয়ে এরপর প্রতিমা রানীর নিরন্তর সংগ্রাম। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় শোভা রানীও যোগ দেয় মায়ের সংগ্রামে। অবশেষে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোভা সুযোগ পেলেন বুয়েটে। তিনি এই যুদ্ধ জয়ের গল্প শুনিয়েছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ককে
আমি মায়ের গর্ভে থাকতেই বাবা মারা যান। ফলে জন্মের পরপরই লোকের কাছে ‘অপয়া’ ছিলাম। বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন মা মামার বাড়ি গেলেন। আমার দিদিমাও মারা গিয়েছিলেন। পরে দাদু দ্বিতীয় বিয়ে করেন। যে কারণে মামাবাড়িতেও এক ধরনের আগন্তুকের মতো ছিলাম। স্থানীয় একটা স্কুলে দপ্তরির কাজ করতেন মা। তত দিনে আমি অ আ ক খ শিখে ফেলেছি। সেই সময়কার একটা ঘটনা মনে আছে। একটা জামা বা কী যেন কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরেছিলাম। মায়ের হাতে পয়সা নেই। পরে ঘরের মুরগির ডিম বিক্রি করে সেটা কিনে দিয়েছিলেন। এটা জানতে পেরে মামা রাগ করে আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছিলেন। একটা পোঁটলা আর আমাকে নিয়ে মা বাড়ি ছাড়লেন। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি। মায়ের চোখে জল। কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা যে আমাদের নেই!
🎉 দিদিমার নিজের চলাই দায়
- উপায়ান্তর না দেখে মা তখন তাঁর পিসির বাড়িতে গেলেন। কিন্তু তাঁদের সংসারেও নুন আনতে পান্তা ফুরায়। দুই-তিন মাস পর মায়ের একটা কাজ জুটল। কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ। সেই বাড়িতে রান্নাঘরের পাশে ছোট্ট একটা রুমে আমরা থাকতাম। সেখানে বেগমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন বাড়িওয়ালা বললেন, ‘কাজ করে একজন। খায় দুজন। তোমার মেয়েকে কেন রাখব?’ এক পর্যায়ে সেই বাসাও ছাড়তে হলো।
- কিন্তু কোথায় যাবে মা?
অনন্যোপায় হয়ে আবার গন্তব্য মামাবাড়ি। অনুনয়-বিনয়ের পর মামার দয়া হলো। সেখানে একটা স্কুলে ক্লাস ফোরে ভর্তি হলাম। তত দিনে কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি মা। ফলে মাস দুয়েক পর আবার মামার বাড়ি ছাড়তে হলো। এবারও শেষ ঠিকানা মায়ের সেই পিসির বাড়ি। পরে মা সেই বাড়িতে আমাকে রেখে কুমিল্লা চলে গেলেন। এক বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ পেলেন। মা যে বাসায় কাজ করতেন বছরখানেক পর তারাও অন্যত্র চলে যায়। ফলে মা আবার গ্রামে ফেরেন।
-আবার বিয়ের পিঁড়িতে
তখন অবস্থা এমন যে মামার বাড়িতেও আমাদের ঠাঁই নেই, দিদিমণির বাড়িতেও থাকার উপায় নেই। এদিকে আমি বড় হচ্ছি। মা-মেয়ের স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই। আজ এখানে তো কাল ওখানে। ফলে প্রতিবেশীরা চাচ্ছিল মাকে আবার বিয়ে দিতে। কিন্তু মা রাজি ছিলেন না। অনেকে বোঝানোর পর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবেই রাজি হলেন। তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। বিয়ের পর কামাল্লা থেকে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চলে আসি। সেখানে আদর্শ কিন্ডারগার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। পিএসসি পাসের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভর্নমেন্ট মডেল গার্লস হাই স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। কয়েক শ শিক্ষার্থীর মধ্যে আমিসহ মাত্র ১২০ জন ভর্তির সুযোগ পেল। স্কুলের কাছেই ছিল নিউ অক্সফোর্ড কোচিং সেন্টার। সেখানে দিদার স্যার এবং পার্থ স্যার অল্প টাকায় আমার পড়ার ব্যবস্থা করলেন। স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অষ্টম হয়েছিলাম।
- বাবা ছিলেন উদাসীন
তাঁর সহায়-সম্পত্তি বলতে কিছুই ছিল না। চায়ের দোকানে কাজ করতেন। একদিন কাজ করলে দুই দিন বসে থাকতেন। ছোট্ট এক রুমের ভাড়া বাসায় উঠিয়েছিলেন আমাদের। ঠিকমতো চাল-ডাল আনতেন না। ঘরভাড়াও বাকি পড়ত। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়াঝাঁটি হতো। একটু উচ্চবাচ্য করলেই মায়ের ওপর চলত নির্যাতন। পড়ার টেবিলে বসে আমি কাঁদছি। চোখের জলে বইয়ের পাতা ভিজে গেছে কত দিন! খাবারদাবার বা অন্য কোনো কিছুর জন্য নয়, সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু প্রার্থনা করতাম, আমাকে এমন একটা পরিবেশ দাও যেন একটু পড়তে পারি। জীবনে আর কিছুই চাই না। শুধু পড়াশোনা করতে চাই!
- টিউশনি শুরু করলাম
তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তাম। খাবার, পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে সব কিছু মাকেই জোগাড় করতে হতো। স্থানীয় একটা কারখানায় আচার, চকোলেট ইত্যাদির প্যাকেট বানাতেন মা। আচারের এক হাজার প্যাকেট বানালে ৩০ টাকা পেতেন। আমি এলাকার কয়েকটা বাচ্চাকে পড়ানো শুরু করলাম। সপ্তাহে সাত দিন।
মাসে একেকজনের কাছ থেকে ৫০-১০০ টাকা করে পেতাম।
জীবনে কোনো দিন অপচয় করেছি বলে মনে পড়ে না। যতটুকু লাগত তার চেয়ে কম বৈ বেশি চাইনি। দিন দিন পড়াশোনার খরচ বাড়ছিল। আমাদের এমন করুণ অবস্থার কথা স্কুলে তখনো জানত না। স্কুলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েরা পড়ে। সব সময় মনে হতো তারা জানলে কী ভাববে।
-চোখের জল ফুরাত না
জেএসসি পরীক্ষার রাতগুলোও খুব কষ্টের ছিল। বাবা প্রায়ই এসে ঝগড়া করতেন। রাতে ঘুমাতে যেতাম কাঁদতে কাঁদতে। সকালে উঠে কোনো মতে পরীক্ষার হলে যেতাম। এসবের মধ্যেও পড়তে চেষ্টা করতাম। জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেলাম। বৃত্তিও পেলাম। নবম শ্রেণিতে চেয়েছিলাম কমার্সে পড়তে। কারণ বিজ্ঞানে পড়ার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই। পরে স্যাররা পাশে দাঁড়ালেন। বললেন, তুমি বিজ্ঞানেই পড়বে। নবম ও দশম শ্রেণিতে ক্লাসে প্রথম হয়েছিলাম।
-ভেবেছিলাম আর হবে না
ক্লাস নাইনে ওঠার পর ভেবেছিলাম, আর পড়াশোনা করব না। এমন পরিস্থিতি কত সহ্য করা যায়? আগে তো বাঁচতে হবে। একদিন বইপত্র সব বস্তায় ঢুকিয়ে ফেলেছি। মাকে বললাম—চলো, যাই। কিন্তু প্রতিবেশীরা তখন বুঝিয়েছে। কোচিং সেন্টারের স্যাররাও বলেছেন, কষ্টসৃষ্টে এই স্কুল থেকেই এসএসসি শেষ করো। ফলে আবারও সত্বাবার ঘরে ফিরে গেলাম।
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন খবর পেলাম, আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে একটা বৃত্তি এসেছে। ক্লাসে দাঁড়িয়ে ম্যাডামকে বললাম, বৃত্তিটা পেলে খুব উপকার হবে। বৃত্তিটা পেলাম। এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস এবং বৃত্তি পেয়েছি। এসএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগের রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে বাবা ঘর থেকে বের করে দেন। রাতভর কিছুই পড়তে পারিনি। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানে ৯৮ নম্বর পেয়েছিলাম। এসএসসিতে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও উচ্চতর গণিতে আমার গড় নম্বর ছিল ৯৮.৯১।
এসএসসি ফল প্রকাশের দিনও একই ঘটনা ঘটল। তখনো ভেবেছিলাম, আর নয়। কোচিং সেন্টারের স্যাররা আবার বোঝালেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হলাম। তখন একটা বেসরকারি ট্রাস্ট থেকে অদম্য মেধাবী হিসেবে বৃত্তি পেলাম।
- অবশেষে ঘর ছাড়লাম
এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে শহরে একটা মেসে উঠলাম। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে কেন্দ্রবিন্দু একাডেমিক কেয়ারে বিনা পয়সায় কোচিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। তারা বৃত্তি দিত। টিউশনি করতাম। অপুষ্টি, ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে মা তত দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিডনি, মেরুদণ্ডের সমস্যাসহ নানা রকম জটিলতায় ভুগছিলেন। নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি মাসে আড়াই হাজার টাকার মতো মায়ের চিকিৎসার পেছনে খরচ হতো। এসবের মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা হলো।
-এবার ভর্তিযুদ্ধে
এইচএসসি পরীক্ষার আগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ঘুড্ডি ফাউন্ডেশন একটা পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। সেখানে নির্বাচিত হয়ে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ও হোস্টেলে থাকার সুযোগ পেলাম। সেই থেকে ঢাকায় হোস্টেল জীবন। এর মধ্যে ঈদ আসে, পূজা আসে। সবাই নিজ নিজ বাড়ি যায়। কিন্তু আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই! মন খারাপ হতো। কিন্তু আবার নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আমাকে হতেই হবে।
-মা তখনো কাঁদছিলেন
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফরম পূরণ, যাতায়াতসহ সব খরচ দিয়েছিল মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। তারা মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে। যাহোক বুয়েট, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, বুটেক্সসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি। সব কটিতে মেধাতালিকায় প্রথম দিকে আছি। ২৫ নভেম্বর বুয়েটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হলো। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। খবরটা জেনে সবার আগে মাকে ফোন করেছি। মুঠোফোনের অন্য প্রান্তে মা তখনো কাঁদছিলেন। তবে এ কান্না আনন্দের!
~~ আমার জীবন একটা কষ্টের সাগর
বাচ্চাটারে নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। কোনো মতে ডাইল-ভাত খাইয়া বাচ্চাটারে দাঁড় করাইচি। ম্যালা জায়গায় কাজ করচি। বাবারে তোমারে কী কমু, মালিকেরা তো বেশি ভালা না। মাইয়া মানুষ কোন জায়গায় নিরাপদ? পরে বিয়া কইরা যার কাছে আইছি হেও কষ্ট দিছে। তাও ভাবছি, যতই কষ্ট হউক শোভারে পড়ামু। বাচ্চাটা টিফিন খাইব। দিমু যে দুইডা টাকা, হেই সামর্থ্য আছিল না। আমার জীবনটা একটা কষ্টের সাগর। আমি তো কষ্ট পাইছি। শোভাও প্রচুর কষ্ট পাইছে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইনসের ঋণ শোধ করতে পারুম না।
Credit : Kaler Kantho
28/11/2021
গৃহহীন মা-মেয়ে, মেয়ের চান্স বুয়েটে!
হ্যাঁ, এটাই বাস্তব সত্য, এই বাংলাদেশে, এমনকি বিশ্বেও এরকম ঘটনা হয়তো প্রথম। গৃহহীন অবস্থা থেকে একটা দেশের টপ বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশনে সামনের দিকে স্থান করে নেয়া!
মেয়েটার নাম শোভা রানী... আগে বিভিন্ন ভার্সিটির পজিশনগুলো দেখে নেয়া যাক, তারপর একটা ছোট টুকরো গল্প..
বুয়েট...৭২২,
ইন্জিনিয়ারিং গুচ্ছ...৮৮৬,
ঢাবি..১০৯
রাবি...৩য়
বুটেক্স...৩৬৫
শোভার জন্মের কয়েক মাস আগেই তার বাবা মারা যান। ক্লাশ ফাইভ পর্যন্ত পড়ুয়া তার মা। নানু অকালে মারা যাওয়ায় মায়ের বিয়ে হয় মাত্র ১৩/১৪ বছর বয়সে। বিয়ের পর স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর সদ্য জন্ম নেয়া মেয়েকে নিয়ে কি করে চলে 'অপয়া' মায়ের সংসার?
শোভা পেল না পৈতৃক ভিটা। মেয়ে, মায়ের অধিকার নাই সেখানে (হায়রে আইন!)! বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর মামার বাড়িতে ঠাঁই। সেখান থেকেও একসময় বিদায় নিতে হলো। কখনো স্কুলের দপ্তরী, কখনো গৃহপরিচারিকা। গৃহকর্তা একটা সময় পর আর দুইজনকে জায়গা দিতে রাজি না। বের হয়ে যেতে হলো। মেয়ে বাচ্চা, নিজেও অল্পবয়সী। সীমাহীন নিরাপত্তার ঝুঁকি! স্বামীহীন অবস্থায় শোভার মাকে এলাকাবাসী, আত্মীয়স্বজন বাধ্য করে ২য় বিয়ে করতে। কিন্তু সেখানে চলে নির্যাতন। রাত-দিন ঝগড়া! শোভা বড় হতে থাকে। এরকম পরিবেশে পড়াশোনা?
শোভা ৭ম শ্রেণিতে উঠার পর শুরু করে টিউশনি। মায়ের দায়িত্ব, নিজের দায়িত্ব নিয়ে নেয় নিজেই! হুম, এই বয়সেই! শুধু সামাজিকতার খাতিরে লোক দেখানো সৎ বাবার বাড়িতে তার মাথা গোঁজা। খাওয়া-দাওয়া পড়াশোনার দায়িত্ব এই শোভার কাঁধেই!
শোভা আরো বড় হতে থাকলো। পিএসইসি, জেএসসি, এসএসসি, সব পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০ পেয়ে গেলো। তার এই খবর শুনে প্রথম আলো এগিয়ে আসলো এইচএসসি এর সময়।
এরপর এডমিশন কোচিং?
হুম৷ আবারো সেই ঘুড্ডি ফাউন্ডেশন, আমাদের কোলাবরেটর। তাদের নেয়া পরীক্ষায় এই শোভা রানী বেশ ভালো নাম্বার পায়, বৃত্তি পায় ঢাকায় বর্ণ কোচিং-এ ফ্রি কোচিং এবং থাকা-খাওয়ার।
শোভার সাথে আমাদের ফাউন্ডেশনের পরিচয় তার প্রথম তিন মাসের বৃত্তি শেষ হওয়ার পর। মেয়েটা খুব ভালো করছে কোচিং-এ, কিন্তু বাড়ি ফিরে যাবে সেই অবস্থাও নাই গৃহহীন মেয়েটার। মা নির্যাতন সহ্য করে সৎ বাবার বাড়িতে থাকেন। এদিকে করোনার কারণে কোচিং এর মেয়াদ বাড়তে থাকে ঢাকায়। কিন্তু স্পন্সর যদি আর চালাতে না চান, সেই কারণে আমাদের ফাউন্ডেশনে তার আবেদন জমা পড়ে।
সৌভাগ্যক্রমে সেই স্পন্সর আবার সাগ্রহে ফিরে আসেন। এত মেধাবী মেয়েটা যাওয়ার জায়গা নাই কোথাও। শোভা সেই থেকে হোস্টেলে। ঈদ আসে, পূজা আসে, শোভার যাওয়া হয় না মায়ের কাছে! পূজা উদযাপন? না, জন্মাবধি সেই উৎসব তার পালন করা হয় নি তার!
শোভার আবেদন আমাদের ফাউন্ডেশনে আবার আসে এই ভার্সিটি ভর্তি ফর্ম ফি ও যাতায়াত খরচ নিয়ে। আমরা যা পেরেছি, নিয়মানুযায়ী দিয়েছি। আমাদের কনট্রিবিউশন জাস্ট এইটুকুই!
এতগুলো পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে একের পর এক টপে তার নাম আসার পর শ্রদ্ধায় আমার মাথা নত হয়ে আসে।আমি আমার মায়ের মৃত্যু বার্ষিকীর দিন (৬ই নভেম্বর) ওর ব্যাপারে পুরো জানার পর সারাটা দিন মন খুব খারাপ করেছিলাম, অনেক কান্না করেছিলাম। আমি খুব অবিশ্বাস্য এক ঘোরের মধ্য দিয়ে গেলাম। বাধ্য হলাম ওর সাথে সরাসরি কথা বলার ব্যবস্থা নিতে। না হলে আমার যে মনটা শান্ত হচ্ছিল না!
ওর সাথে থাকা আমাদের ফাউন্ডেশনের মোমিনা এবং হোস্টেলের পরিচালক আব্দুল মোমিন মারফত তার সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হলো। ওর সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো। মাথা নুইয়ে সেই ভিডিও কলে আমি মাথা নত করে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়েছি তাকে, এবং বলেছি আরো অনেক শ্রদ্ধা ও সম্মান ওর মাকে পৌঁছে দিতে।
এদিকে এই শোভাও নাকি আমার সাথে কথা বলার জন্য মুখিয়েছিল অনেক আগে থেকে। জিজ্ঞেস করলাম কেনো? কারণ আমরা তো আগে তাকে মাসিক বৃত্তি দেই নি। তাই সরাসরি কথা বলার সুযোগ হতো না। সে বললো, যারা মাসিক বৃত্তি পেত, তাদেরকে নিয়ে যে আমি প্রতিমাসে একবার অনলাইনে বসতাম, তখন তার ইচ্ছে হতো আমার সাথে কথা বলার। সেই সুযোগ না পেয়ে সে আমার মিটিং এর রেকর্ড করা কথাগুলো শুনতো মোটিভেশন এর জন্য! আমি অবাক হয়ে বললাম, তুমি এই বয়সে যে দিগ্বিজয়ী, তাতে আর কারো মুখের বুলি শোনার দরকার আর পড়ে না। বরং তোমার এই ছোট্ট জীবন থেকে আমি আজ যা শুনলাম, তাতে আমার মায়ের কথা বারবার মনে হচ্ছে।
শোভার সাথে আজ আবারো আমার কথা হলো। আমিই উদগ্রীব ছিলাম ওকে আবারো সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানানোর জন্য! সাথে ছিল আমার বাসার বেড়াতে আসা আমাদের ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর আতিকুর রহমান ভুঁইয়া... সেও অভিনন্দন জানালো!
শেষ কথাঃ
এত সুখের খবরেও মেয়ে মায়ের কাছে যেতে পারছে না। শোভা এবং তার মা যে এখনো গৃহহীন। মেয়ে থাকে ঢাকায় হোস্টেলে, আর মা কোনোরকমে অন্যের বাড়িতে...
শোভাকে শুধু কথা দিয়েছি, সামনের দিনগুলোতে আমরা আছি সবসময়। সেই সুযোগ পেলে আমরাই বরং ধন্য ও গর্বিত হবো। আর তার মাকে নিয়ে একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থাও আমরা করার চেষ্টা করবো।
চন্দ্রনাথ সাহা
মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
একটি পশ্চিমা দেশে একটি চাকরির ইন্টারভিউতে খুবই জটিল একটি প্রশ্ন করা হলো। প্রশ্নটি এমন ছিল,
"তুমি প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছো। পথে একটি বাস স্টপে তুমি ৩ জনকে দেখতে পেলে যাদের তোমার সাহায্যের দরকার।
প্রথম হলো একটি মেয়ে যে তোমার মনের মতো জীবনসঙ্গী হতে পারে, দ্বিতীয়জন তোমার এক পুরোনো বন্ধু যে একবার তোমার জীবন বাঁচিয়েছিলো। আর তৃতীয় হলেন একজন বৃদ্ধা মহিলা যিনি খুবই অসুস্থ। তোমার গাড়িতে মাত্র একটি সিট আছে, তুমি এদের মধ্যে কাকে সাহায্য করবে?
- অসুস্থ বৃদ্ধা মহিলা যাঁকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নেয়া দরকার?
- পুরানো সেই বন্ধুটি যার কাছে তুমি চিরকৃতজ্ঞ, যাকে সাহায্য করলে তোমার ঋণ শোধ হতে পারে?
- বৃদ্ধা বা বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে মনমতো জীবনসঙ্গী হতে পারা মেয়েটিকে হাতছাড়া করে ফেলবে?"
২০০ জন আবেদনকারীদের মধ্যে নীতিবোধ ও মূল্যবোধ ঠিক রেখে সবাই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরিটি একটি ছেলে পেয়েছিলো যে তার "out of the box" চিন্তাধারা দিয়ে নিয়োগ দাতাদের একেবারেই চমকে দিয়েছিলো।
ছেলেটির perfect উত্তরটা এমন ছিল,
"আমি অসুস্থ বৃদ্ধা মহিলাটিকে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ির চাবিটা আমার বন্ধুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলবো মহিলাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। আর আমি বাস স্টপে আমার মনমতো জীবনসঙ্গী হতে পারা মেয়েটির সাথে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিবো। বৃদ্ধা মহিলাটিও বাঁচবে, আমার বন্ধুকেও সাহায্য করা হবে আর জীবনসাথীকেও পেতে পারবো!
________________________ সংগৃহীত....
22/11/2021
*পরীক্ষায় প্রথম হয়েও সরকারি চাকরি পাওয়া হল না ঢাবির সেই অপুর**
**“বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগের ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। **
* **তিনি খেয়াল করলেন, যে ছেলেটা এমসিকিউ ও রিটেন পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে, সে ভাইভা দিতে আসেনি। তখন তিনি সংশ্লিষ্টদের বললেন, ওই নিয়োগ প্রার্থীকে ফোন দিতে। **
**তারা জানালেন, ছেলেটা গতমাসে মারা গেছে। বুকের মধ্যে ধাক্কা লেগে উঠলো ওই শিক্ষকের। তিনি তালিকার নামটা ভালোভাবে পড়ে দেখলেন- ছেলেটার নাম মাসুদ আল মাহাদী (অপু)। **
* **তার প্রিয় ছাত্রদের একজন।” ঘটনাটি নিজ ফেসবুক পোস্টে বর্ণনা করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র তারেক হাসান নির্ঝর।**
**গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ প্রার্থী ও ঢাবির সাবেক ছাত্র মাসুদ আল মাহদী অপু (২৬) আত্মহত্যা করেন। বিএসইসি'র নিয়োগ পরীক্ষা ছিল আর জীবনের শেষ চাকরি পরীক্ষা। **
**রাজধানীর চাঁনখারপুলের নাজিম উদ্দিন রোডের একটি বাসা থেকে অপুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।**
* **সূত্র মতে, ১৮ নভেম্বর আয়োজিত ওই ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ওই শিক্ষক নিজেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লিখিত ও এমসিকিউ পরীক্ষায় এত ভালো নম্বর দেখে আমরা ওই নিয়োগ প্রার্থীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। **
**কিন্তু পরে জানতে পারলাম ছেলেটি আমার বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহাদী (অপু)। যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেও খুব কষ্ট পেয়েছি। **
**অপু সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে জন্মগ্রহণ করা অপু দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিলেন। নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করা ছিল তার স্বপ্ন। স্নাতকোত্তর শেষে তিনি সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। **
> **বছর খানেকের অক্লান্ত প্রস্তুতির পর সফলতা না পেয়ে হতাশার কাছে হার স্বীকার করে নেন। জীবনের শেষ পরীক্ষায় প্রথম হয়েও সেই সুসংবাদ আর পাওয়া হলো না তার।**
**সূত্র :দি ডেইলি ক্যাম্পাস **
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Chittagong
4000