11/08/2025
টাকা জমাবেন কেন?
অনেকে সঞ্চয় করে বিপদের কথা মাথায় রেখে — আমি যদি বিপদে পড়ি তাহলে এ টাকাটা আমার কাজে লাগবে। ব্যাপারটা এমন যেন, আপনি যেচে গিয়ে বিপদকে ডেকে আনছেন। কারণ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বিখ্যাত 'ইন্নামাল 'আমালু বিন নিয়্যাহ' হাদিসের পরের বাক্যটিতেই বলেছেন, 'ইন্নামা লিকুল্লিম রিইম মা নাওয়াহ।' অর্থাৎ সে তেমনটাই পাবে যেমনটা সে ইচ্ছে করেছিল।
সঞ্চয় ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু আপনি কেন টাকা জমাচ্ছেন সেটা নিজেকে জিজ্ঞেস করে নিন। হজ্বের জন্য টাকা জমালে আল্লাহ আপনাকে হজ্ব করার তাওফিক দেবেন।
আপনি যদি আপনার গ্রামের বাড়িতে একটা মাসজিদ বানানোর স্বপ্ন দেখেন, সেই উদ্দেশ্যে অল্প করেও টাকা জমান, দেখবেন আল্লাহ ঠিকই আপনাকে দিয়ে একটা মাসজিদ তৈরি করে নিয়েছেন।
আপনার বেতন অল্প — কিন্তু খুব ইচ্ছা কুরবানি করার? প্রতিমাসে অল্প করে টাকা জমান, দেখবেন ঈদের সময় পশু কেনার পয়সা হয়ে গিয়েছে।
অবিবাহিত ভাইদের উচিত বিয়ের মোহরের জন্য, ওয়ালিমার জন্য টাকা জমানো।
আপনি ভালো কাজের নিয়াহ করে টাকা জমান। আল্লাহ আপনাকে সেই ভালো কাজের নিয়ত পূর্ণ করে দেবেন। আপনি অভাবের জন্য টাকা জমালে সম্ভাবনা আছে আল্লাহ আপনাকে সেই অভাবে ফেলবেন।
যারা অসুস্থ হওয়ার কথা চিন্তা করে টাকা জমান — দেখা যায় তাদের অনেকের কাছ থেকে হসপিটালের বিল বাবদ ওই টাকাটা আল্লাহ বের করে নেন। বিপদ আল্লাহই দেন। বিপদ থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হচ্ছে আল্লাহর কাছে দু'আ করা। তাঁকে বলা,
"মালিক, আমার জমানো টাকাটা আপনি আপনার জন্য, ভালো কাজ খরচ করার সামর্থ্য দেন। অসৎ, অসাধু, স্বার্থপর লোকদের পেটে যেন আমার এই হালাল টাকা না যায়।"
দেখবেন, আল্লাহ আপনাকে হিফাজাত করবেন, আপনার আয়ে বারাকাহ দেবেন এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য থাকায় নিতান্ত দুনিয়াবি কাজের মাধ্যমেও আল্লাহ আখিরাতে আপনাকে পুরষ্কৃত করবেন।
10/08/2025
হেদায়েত কেন হারিয়ে যায়?
আল্লাহ তায়ালা কেবল তাঁর বাছাইকৃত বান্দাদেরই হেদায়েত দান করেন। হেদায়েত আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ। হেদায়েত পাওয়ার পর তা ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আল্লাহর কিছু বান্দাকে দেখা যায় হঠাৎ খুব ইবাদত বন্দেগী করছেন। কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি হেদায়েত হারিয়ে ফেলেন, ইবাদতে আগের মত স্পৃহা পান না। এর উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ নিম্নরূপ:
(১) ফিতনা:
হেদায়েত পেলেই কারো জান্নাত নিশ্চিত নয়। হেদায়েতপ্রাপ্তকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। নানারকম ফিতনা তার সামনে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফিতনা হলো বিপরীত লিঙ্গের ফিতনা। এসব ফিতনা থেকে বাঁচতে চোখের হিফাজত করা ও ফিতনায় পড়লে আল্লাহর দেওয়া শিক্ষার অনুযায়ী আচরণ করা জরুরি।
(২) দ্বীনদারদের সান্নিধ্যে না থাকা:
অনেকে হেদায়েত পাওয়ার পর ব্যক্তিজীবনে কেবল নামাজকে ধরে রাখেন। ইসলামের ফরজ জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করেন না, দ্বীনি মাজলিসগুলোতে যান না, আলেমদের সাথে থাকেন না। সরাসরি আলেমদের থেকে জ্ঞানার্জন করতে না পারলে অনলাইনে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা শোনা যেতে পারে।
(৩) সঠিক পদ্ধতিতে জ্ঞানার্জন না করা:
সদ্য হিদায়াতপ্রাপ্ত অনেককে দেখা যায় ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে অনেক গভীর বা ইখতিলাফি বিষয় নিয়ে পড়ে আছেন যেগুলো সম্পর্কে তার প্রাথমিক জ্ঞান নেই। কেউ হয়তো নাস্তিকদের সাথে তর্কে জড়াচ্ছে, কেউ বা শিয়া রাফেজিদের নিয়ে পড়াশোনা করে বিভ্রান্ত হচ্ছে। অথচ প্রত্যেকের জন্য জরুরি হলো দ্বীনের মৌলিক বিষয় যেমন : ঈমান, আকীদা, সালাত, পবিত্রতা, কুরআন, হাদীস, আখলাক ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা।
(৪) অহংকার করা:
অনেকেই হিদায়াত পেয়ে অহংকারী হয়ে ওঠেন, অন্য মুসলিম ভাইবোনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। পোশাক, চলাফেরা, গুনাহ কিংবা ইবাদতের দৈন্যতা নিয়ে তাদের সমালোচনা করেন, খাটো চোখে দেখেন, জাহান্নামী বলে কটাক্ষ করেন। কে হাফপ্যান্ট পরে মসজিদে এলো, কে কানে দুল পরে মসজিদে এলো, কার হিজাব পরিপূর্ণ না ইত্যাদি দোষত্রুটি ধরা শুরু করেন। এতেও হেদায়েত হারিয়ে যায়।
(৫) দুআ না করা:
অনেকেই ভাবেন হেদায়েত চিরস্থায়ী। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দোয়া শিখিয়েছেন,
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে পুনরায় বাঁকা করে দেবেন না এবং আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৮)
নবীজী সাঃ ও হেদায়েত ধরে রাখার জন্য অনেক দোয়া করতেন যেমন: يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك
অর্থাৎ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।
সুতরাং হেদায়েত ধরে রাখতে অধিক পরিমাণে দোয়া করা জরুরি।
(৬) নিয়মিত তাওবাহ ইস্তিগফার না করা:
মানুষ হিসেবে নিজের অজান্তেই আমাদের অনেক গুনাহ হয়ে যায়। এসব গুনাহ থেকে বাঁচতে ও নিজের হেদায়েতকে নবায়ন করতে নিয়মিত তাওবাহ ইস্তিগফার করা জরুরি। গুনাহের জন্য নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা না করলে গুনাহ জমতে জমতে মানুষ একসময় হেদায়েত থেকে ছিটকে পড়ে।
হারিকেনের মৃদু আলোকে যেমন বাতাস থেকে রক্ষা করতে হয়, চিমনির ভেতর অনেক যত্ন আগলে রাখতে হয়, তেমনি হেদায়েত ধরে রাখার জন্য এর যত্ন ও পরিচর্যা করা জরুরি।
©
22/10/2023
'তোমরা কি মনে করেছো যে, আমি তোমাদের অনৰ্থক সৃষ্টি করেছি? তোমাদেরকে কখনো আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না'। সূরা-মু'মিনুন (আয়াত:১১৫)
•

13/10/2023
আকসা রক্ষায় শারীরিকভাবে তাদের পাশে পারিনি আমি থাকতে। তাতে কি হয়েছে , তাদের আমি রাখবো আমার মোনাজাতে।
সকলেই আকসা বাসীকে আপনাদের মোনাজাতে স্মরণ করবেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে তাদের জন্য ও সকল মুসলিমদের জন্য দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ।
28/07/2023
"কিয়ামতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে,তারা হলেন ঐসব ব্যক্তি যারা সুখে দুঃখে সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করেন"!
(আলহামদুলিল্লাহ)
[মিশকাতুল :-২৩০৮]🌻
04/07/2023
একজন প্রকৃত মুসলিমের বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান যেমন হওয়া দরকার! এ যেনো এক বাস্তব নমুনা! সুবাহানাল্লাহ
ভাবা যায়? আমাদের ইসলাম কতটা সুন্দর ও সহজ ব্যবস্থাপনা দিয়েছে, অথচ আমরাই তা কঠিন করে ফেলেছি!
#আশাকরি এই পোষ্টটি আপনাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে ইনশাআল্লাহ
27/06/2023
ইসলামিক পদ্ধতিতে গরু জবাইয়ের সময় গরু ব্যাথা অনুভব করে কি না এ নিয়ে একটা পরীক্ষা করা হয়েছিল। গরু জবাইয়ের সময়ে EEG পরীক্ষা করে গরুর মস্তিষ্ক এবং ECG করে গরুর হার্ট দেখা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়,
*জবাইয়ের প্রথম ৩সেকেন্ডে EEG গ্রাফে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না, অর্থাৎ গরু কোনো ব্যাথা পায় না।
*পরের ৩ সেকেন্ডের EEG রেকর্ডে দেখা যায়, গরু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার মতো অচেতন হয়ে থাকে,শরীর হতে প্রচুর রক্ত বের হয়ে যাওয়ায় ব্রেইনে রক্ত সরবরাহ হয় না বলে এই অচেতন অবস্থা হয়।
*এই প্রথম ৬ সেকেন্ড পরে EEG গ্রাফে Zero level দেখাচ্ছিলো, তার মানে গরু কোনো ব্যাথা পাচ্ছিলো না।
*গরুর যে খিচুনি আমরা দেখি সেটা Spinal cord এর একটি Reflex Reaction, এটা মোটেও ব্যাথার জন্য হয় না।
(এই পরীক্ষাটি করেন জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রফেসর শুলজ এবং ডক্টর হাজিম।)
সুবহানাল্লাহ।
আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীন এমন ভাবে সব কিছু সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিখুঁত। যারা ভাবেন যে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে মুসলমানরা পশুকে কষ্ট দিচ্ছে তারা আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীনের এই রহমতের কথা জানতে পারলে সত্যিই অবাক হবে।