15/08/2024
ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় হোক তার! যে যেই ফিল্ডের ক্যাডার সেই তার মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত হোক। প্রকৌশলী-ডাক্তার-সাধারণ বৈষম্য দূর হোক!
প্রথাগত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সরকার কীভাবে কাজ করে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অধীনে কিছু মন্ত্রণালয় থাকে। মন্ত্রণালয়গুলোতে কয়েকটি করে বিভাগ/অধিদপ্তর/পরিদপ্তর প্রভৃতি থাকে। মন্ত্রণালয় গুলোর প্রধান থাকেন সচিব এবং তার উপরে থাকেন মন্ত্রী মহোদয়গণ। প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্ঠার কার্যালয়ে যারা থাকেন তাদের সবাই প্রশাসন ক্যাডারের, ফলে দেশ চালনার জন্য যে অন্য সার্ভিসের লোকজনের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার ফল সরকার প্রধানের কাছে যায় না।
সেজন্য বিসিএস ক্যাডার অফিসারদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য দূর হোক। উদাহরণস্বরূপ, বিসিএস( সড়ক ও জনপথ-সওজ) ক্যাডারের কর্মকর্তারা বিসিএসের মাধ্যমে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরে যোগদান করেন। পদন্নোতি পেয়ে তারা উক্ত অধিদপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন কেবল একজন। সেই চিফ ইঞ্জিনিয়ারের বস আবার একজন প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা সচিব। এছাড়া অত্র মন্ত্রণালয়টি প্রকৌশল নির্ভর হলেও অন্য বিভাগ বা অধিদপ্তর যেমন- সেতু বিভাগের প্রধান নির্বাহী পরিচালক একজন নন টেক অফিসার। অথচ তার কাজ ব্রিজ নির্মাণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া। এভাবে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের প্রধান হলেন সচিব যিনি একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। বর্তমান সচিবদের প্রায় ৯৫% প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিতে পারেন না। কারণ তারা সেসব মিটিংয়ে থাকার মতো সুযোগ থাকে না। ফলে কৃষি/স্বাস্থ্য/পূর্ত/রেল/বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি/আইসিটি/টেলিযোগাযোগ এরকম টেকনিক্যাল সবগুলো মন্ত্রণালয়ের কাজের সিদ্ধান্ত অনেকসময় বাস্তবতা বিবর্জিত হয়। কেননা সরকারকে একজন পেশাজীবী মাঠের অবস্থা বোঝে যেভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, সেভাবে অন্য ক্যাডারের লোক উপস্থাপন করতে পারবেন না।
স্বাস্থ্যখাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ব্যাক্তিটি যেমন ডাক্তার হওয়া দরকার, তেমন প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দরকার প্রকৌশলী, কৃষিক্ষেত্রে হওয়া উচিত কৃষিবিদ। রাষ্ট্রের স্বার্থে দেশের উন্নয়নে অবশ্যই এর বাস্তবায়ন জরুরি।
এবার একটু সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনে নেয়া যাক,
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলি কোনো ক্যাডার পদ নয়, সরকারের নিজস্ব বিশেষ পদ। এই পদগুলির জন্য ১৯৭৪ সালে সিনিয়র সার্ভিস পুল গঠন করা হয় যেটি ১৯৮৯ সালে বাতিল করে দেয়া হয়।উক্ত পুলে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদে সরকারী কর্ম কমিশন কর্তৃক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের কথা এবং তা সব ক্যাডারের জন্য উন্মুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয় । ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ ডজন কমিশন/কমিটি এবং পে এন্ড সার্ভিস কমিশন ১৯৭৭ একই সুপারিশ করে। ১৯৯৭ সালে সামসুল হক কমিশন গঠিত হয়। সে কমিশনও পরীক্ষাভিত্তিক মেধাক্রমে নিয়োগের মাধ্যমে সচিবালয়ে সকল ক্যাডারের বা অধিনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বশীল যোগ্য প্রশাসন গড়ে তোলার সুপারিশ করে। মেধাভিত্তিক সেই পদ্ধতির পরিবর্তে সংবিধানের ১৯, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করে বর্তমানে শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যাডার (সাবেক রাজস্ব ক্যাডার) থেকেই ৭৫% এবং অন্যান্য সকল ক্যাডার থেকে মাত্র ২৫% অসাংবিধানিক কোটাভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।
অন্যদিকে মন্ত্রণালয়-এ প্রশাসন ক্যাডার থেকে আগত উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব পদের কর্মকর্তাগন সাময়িক সময় (২-৩ বছর) দায়িত্ব পালন করেন এবং সচিব পদের কর্মকর্তাগন কোন কোন ক্ষেত্রে এক বছর দায়িত্ব পালন করেন। ফলে উক্ত সময় পরে কর্মকর্তা পরিবর্তনের ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যহত হয় ও সিদ্ধান্তে সুফল কম পাওয়া যায়।
তাই মন্ত্রণালয়গুলোতে বৈষম্য দূর করতে প্রশাসন ক্যাডার থেকে ৭৫% এবং অন্যান্য সকল ক্যাডার থেকে মাত্র ২৫% অসাংবিধানিক কোটাভিত্তিক নিয়োগ বাদ দিয়ে, সরকারী কর্ম কমিশন কর্তৃক সকল ক্যাডারের জন্য উন্মুক্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে উপসচিব পদে পদন্নোতি দিলে এবং এভাবে তৈরিকৃত লিস্ট থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী উপসচিব থেকে থেকে সচিব পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদান করলে রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করি। নাহলে সংস্কার না হয়ে শুধু ক্ষমতার পালাবদলই চলবে আর এক কেন্দ্রিক ও একটা বিশেষ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হবে নির্বাহী বিভাগ।
আরো অনেক বৈষম্য আছে, কোটা আছে- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটা প্রকল্পেএ আওতায় বিসিএস ক্যাডারদের বিদেশে পড়তে স্কলারশিপ দেয়া হয়। সেখানে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার থেকে পায় ৭০% আর বাকি ২৫টি ক্যাডার থেকে পায় ৩০%. যা আরেকটি চরম বৈষম্য। তাছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের জন্য আলাদা স্কলারশিপও আছে যেটা আবার অন্যদের নাই। বাসা, গাড়ি এসব তো আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। তাই কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এর বিকল্প নেই।।
[তথ্যসূত্রঃ গুগল ও অন্যান্য]