10/07/2025
যতটুকু অবগত আছি সম্ভবত আজ এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে আমরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ সবসময় ভাল কিছু ফলাফল প্রত্যাশা করি। তবে ভালো ফলাফল করার পিছনে যে পরিমাণ সময়, শ্রম, শৃঙ্খলা ইত্যাদি নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয় সেটার দিকে তেমন মনোযোগী হই না।
আমি সবসময় বিশ্বাস করি আজকে আমি যে ফল/ফলাফল পেয়েছি সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পূর্বের কর্মের ফল, আর ভবিষ্যৎতে যেটা পাব সেটা নির্ধারণ করবে আজকে থেকে শুরু করে আগামীর কর্মের উপর।
তবে একটা বিষয় হলো সফলতার জন্য নির্দিষ্ট বয়স নেই। একটা মানুষ চাইলে পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো সময় নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন।
ক্ষুদ্র জীবনে শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে অভিজ্ঞতা হয়েছে টুকটাক ব্যবসা করার,কৃষি কাজ করার ।
তবে যেটা দেখলাম বেশিরভাগ বড় বড় শিল্পপতি/ ব্যবসায়ী কিন্তু খুব ভালো সার্টিফিকেটের অধিকারী নয় তবে তারা অনেক পরিশ্রমী ও সুশৃংখলভাবে জীবন যাপন করেন।
পৃথিবীতে আমরা যাদেরকে সফল বলি আমরা শুধুমাত্র তার সফলতার গল্প শুনতে ভালবাসি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা জানি না তার সফলতার পিছনের গল্প।
যাইহোক অন্য বিষয়ে আজকে আর না বলি মহান আল্লাহ পাক সকল শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভাল ফলাফল দান করুন সেই কামনা করি।
তবে একটা কথা হল ভাল এবং মন্দ এই দুইটা শব্দ সকল ক্ষেত্রে অতপ্রত ভাবে জড়িত। মন্দ না থাকলে যেমন ভালোর মূল্য থাকেনা ঠিক তেমনি ভাল না থাকলেও মন্দের তুলনা হয়না।
একটা কথা পরিষ্কার, জীবনে যে যত বেশি মেনে নিতে পারবে সে তত বেশি সুখী হতে পারবে।ফলাফল যাইহোক মেনে নিতে হবে এবং আরো ভালো কিছু করতে চাইলে পরিশ্রমের মাধ্যমে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। একটা পরীক্ষা, একটা ফলাফল মানুষের জীবনের সবকিছু নির্ধারণ করতে পারেনা। পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকতে হবে এইরকম শত শত পরীক্ষায় (একাডেমিক বাদ দিয়েও) অংশগ্রহণ করতে হবে চেষ্টা করতে হবে সব পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার। অনেক সময় সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ হয় না তবে লেগে থাকতে হবে।কর্মের মাঝে যে কোন কাজে লেগে থাকলে সফলতা আজ অথবা কাল ধরা দিবেই। যদি হঠাৎ ব্যতিক্রম হয় তবে কাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে।
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলতে চাই,ফলাফল প্রকাশের দিন আপনারা আপনার সন্তানের পাশে থাকুন। ফলাফল যেমনটাই হোক মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল না হলে সন্তানকে এত বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না যার জন্য আপনার সন্তানের জীবন হুমকির দিকে পতিত হয়। আমরা যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি তারা প্রায় সকলেই অবগত আছি পৃথিবীটা একটা পরীক্ষা কেন্দ্র, জীবনটাও ক্ষণস্থায়ী, ইহকালীন জীবন শেষ হয়ে গেলে আর পৃথিবীতে ফিরে আসার সুযোগ নেই।
তাই শুধুমাত্র একাডেমিক পরীক্ষা নয় পরকালীন পরীক্ষার কথা ভেবেও আমাদের কাজ করতে হবে।
আবারো সকল সম্মানিত অভিভাবক মহোদয়গণকে অনুরোধ করে বলছি সন্তানদের পাশে থাকুন, সব সময় তাদের খোঁজ খবর রাখুন, চেষ্টা করুন তাদের কাজে সহযোগিতা করার। ইনশাআল্লাহ আজ অথবা আগামীকাল ভাল ফলাফল আসবেই....