11/08/2022
উচ্চমাত্রার জ্বর আর সর্বাঙ্গে ব্যাথা
সময়ের কাজ সময়ে করো,বাড়াও স্বাস্থ্য সচেতনতা।
বর্তমানে চট্টগ্রাম সহ সারাদেশের শহরাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অতিমাত্রায় বেড়ে চলেছে।গণমাধ্যম গুলোতে এই নিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার আরো বাড়ানো দরকার।ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত জ্বররোগ।এর কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।এটি একটি self-limiting disease অর্থাৎ আপনা আপনি ই নিরাময় যোগ্য ।ডেঙ্গু রোগ এমন একটা ব্রেকফেল হওয়া গাড়ি যা নিজে নিজেই এক সময় থেমে যাবে। চালকের আসনে সময়ভেদে কখনো রোগী কিংবা রোগীর লোক, কখনো ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী কে বসে এমন ভাবে এই গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে কোন কোল্যাটারাল ডেমেজ না হয় অর্থাৎ ডেঙ্গুর কারণে সৃষ্ট জটিলতা কমানো কিংবা জটিলতা সৃষ্টি হতে না দেয়াই থাকে ডেঙ্গু চিকিৎসার মূল লক্ষ্য।চালকের আসনে রোগীর লোক বসার অর্থ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যাতে চিকিৎসা ঠিক সময়ে শুরু করা যায়। আসুন জেনে নিই ডেঙ্গু মহামারি মোকাবিলায় কখন কি করতে হবেঃ
★★★ #কুসংস্কার/অজ্ঞতা/ভুল জানা থেকে বেরিয়ে আসাঃ
★রক্ত দেয়াঃ
ডেঙ্গু রোগী এবং রোগীর লোকদের এই বিষয়টি নিয়ে খুব বেশী উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিষ্প্রয়োজন।বর্তমানে ইন্টারনেট খুব সহজলভ্য হওয়ায় গুগল কিংবা সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের রেফারেন্স দিয়ে কম্পলিট ব্লাড কাউন্ট পরীক্ষায় প্লাটিলেট কাউন্ট কম দেখে এমন ধারণা হয় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্যি নয়।
★ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ ডায়রিয়া।
এই ডায়রিয়া তীব্র হলে রোগীর শরীরে বিশেষ করে ছোট বাচ্চা এবং অতি বয়স্কদের শরীরে পানি এবং রক্তে লবন ঘাটতির ফলস্বরুপ এলোমেলো কথা বলা এবং অস্থির আচরণ করে।অনেকে তখন ঝাড়ফুঁক করতে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায় যা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুনে বাড়ায়।
★বিপদজনক লক্ষণসমূহ (নিম্মে উল্লিখিত)দেখা দিলে চেম্বার কিংবা ফার্মেসিতে দৌড়াদৌড়ি করে চিকিৎসায় বিলম্ব ও ব্যাঘাত সৃষ্টি।
★★★ #সাধারণ_লক্ষণসমূহঃ
লোকসমাজে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে।
"সর্বাঙ্গে ব্যাথা;ঔষধ দিবো কোথা।" ডেঙ্গুতেও অনেক টা তাই হয়ঃ
★উচ্চমাত্রার জ্বর (সাধারণত ২ থেকে ৭ দিনের মতো স্থায়ী হয়।)
★সারাগায়ে ব্যাথা (বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে),মাংসপেশিতে ব্যাথা,চোখের পিছনে ব্যাথা,মাথা ব্যাথা,গলা ব্যাথা,ঢোক গিলতে ব্যাথা
★খাবারে অরুচি,বমি/বমি ভাব,পাতলা পায়খানা,শারিরীক দুর্বলতা
★★★ #বিপদজনক_লক্ষণসমূহঃ
★তীব্র পেটব্যাথা,পেট ফুলে যাওয়া
★শ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া,শ্বাস নেয়ার সময় বুক ব্যাথা
★অনর্গল বমি করা,অতিমাত্রায় পাতলা পায়খানা
★★শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লালচে দাগ(র্যাশ),দাঁতের মাড়ির গোড়ায় রক্তপাত,কাশি বা বমির সাথে রক্তপাত,পায়খানার সাথে রক্তপাত (এটি সাধারণত জ্বর আসার ৩য় দিন থেকে শুরু করে ৭ম থেকে ৯ম দিনে দেখা দেয় এবং ১ থেকে ২ দিন স্থায়ী হয়।)
★শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া,জ্ঞানের মাত্রা কমে যাওয়া,তন্দ্রা ভাব চলে আসা,এলোমেলো কথা বলা।
★★★ #ঝুঁকিপূর্ণ_গ্রুপঃ
★শিশু(বয়স১৮ এর কম),অতি বয়স্ক(বয়স ৬৫ এর বেশী,গর্ভবতী মহিলা)
★এলকোহল সেবনকারী
★হাসপাতাল থেকে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী
★এস্পিরিন,ক্লোপিডগ্রেল,হেপারিন,ওয়ারফারিন এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এমন ঔষধ সেবনকারী
★হৃদরোগ,শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা(এজমা/সিওপিডি),কিডনী রোগ,উচ্চরক্তচাপ এবং বিভিন্ন রক্তরোগে ভুগতে থাকা রোগীরা।
★★★★★ ি_সিদ্ধান্তঃ
★সাধারণ লক্ষণ >>>>>বাসায় অথবা চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা
★সাধারণ লক্ষণ +ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ >>>>>>প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকের চেম্বার। উন্নতি না হলে হাসপাতাল চিকিৎসা
★বিপদজনক লক্ষণ>>>>>>হাসপাতাল চিকিৎসা
★বিপজ্জনক লক্ষণ +ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ>>>>অতি দ্রুত হাসপাতাল চিকিৎসা