17/02/2022
দুই বুয়েটিয়ানের এমআইটির স্বপ্নযাত্রা!
দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পিএইচডি প্রোগ্রামে যাচ্ছেন দুই বুয়েটিয়ান, যারা বর্তমানে বুয়েটেই প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পৌনঃপুনিক '১৫ ব্যাচের এই দুই বন্ধু হলেন শাশ্বত সৌম্য ও মাহমুদুল ইসলাম।
ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে স্কুল ও কলেজ জীবন শেষ করে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ২৬তম স্থান অধিকার করেন মাহমুদুল ইসলাম। ভর্তি পরীক্ষায় শুরুর দিকে স্থান থাকা সত্ত্বেও নিজের একান্ত ভালোলাগা থেকেই বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন তিনি।
অন্যদিকে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র শাশ্বত সৌম্য সপ্তম শ্রেণিতে গণিতে অনেক কম নম্বর পাওয়ার পর পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে শুরু করেন। আইডিয়াল থেকে স্কুলজীবন ও নটরডেম কলেজে থেকে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভর্তি হন বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই গবেষণায় মনোযোগী হওয়া মাহমুদুল ইসলামের কাছে বুয়েট জীবনের সুন্দর কোনো স্মৃতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে আমি একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম, যা সেইসময়ে কম্পোজিট পার্ট বি নামের স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল, যেটা আমার কাছে ছিল স্বপ্নের মতো ।' শাশ্বত সৌম্য বলেন, 'সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আমাদের টিম রিকম্ব নামে একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে থিসিস পেপার উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছে, যেটা অনেক আনন্দের।'
একদম ছোটবেলা থেকেই সংগীতের ভুবনে বিচরণ করা শাশ্বত সৌম্য বুয়েটে কাটানো সময় নিয়ে বলতে গেলেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার গান গাওয়ার স্মৃতিগুলো রোমন্থন করেন। তিনি নটরডেম 'কালচারাল ক্লাব' এবং 'বুয়েট-মূর্ছনার' হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পড়াশুনার বাইরে এসব কাজে যুক্ত থেকেও তিনি নিজ ব্যাচে তৃতীয় হয়ে স্নাতক শেষ করেন। অন্যদিকে মাহমুদুল ইসলাম তার যন্ত্রকৌশল বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। বর্তমানে এই দুই বন্ধুই বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
বাংলাদেশ থেকে আইভি লীগ কিংবা শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক কম শিক্ষার্থীই পিএইচডি করার সুযোগ পায়। এর কারণ জানতে চাইলে তারা বললেন, 'প্রথমত, আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে সবারই। আর ভালো নেটওয়ার্কিং এবং নিজেদের কাজগুলোকে সুন্দর করে উপস্থাপন করাটা অনেক জরুরি, যেটাতে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে।'
এমআইটির সাথে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়— কার্নেগী মেলন ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অফার পাওয়া শাশ্বত সৌম্য বলেন, 'বিশ্বের সেরা এইসব বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একাডেমিক রেজাল্ট কিংবা গবেষণাই নয়, তারা লেটার অব রেকমেন্ডেশন, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), চাকরির অভিজ্ঞতা কিংবা ভাষার দক্ষতা— সবকিছু মিলিয়েই তারা আবেদনগুলোকে যাচাই করে। তাই সবার উচিত প্রতিটি অংশে নিজের সর্বোচ্চটাই দেওয়া।'
ছোটবেলা থেকে নাম শুনে আসা, সিনেমায় দেখা সেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারা আর পছন্দের বিষয়ের বিশ্ববিখ্যাত মানুষগুলোর সাথে কাজ করতে পারার অনুভূতি অবর্ণনীয়, বলছিলেন মাহমুদুল। আর অন্যদিকে শাশ্বত সৌম্য বললেন, 'বুয়েট সিএসই থেকে প্রথমবারের মতো এমআইটি, কার্নেগী মেলন ও প্রিন্সটন- তিন বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়াটা স্বপ্নের মতো সুন্দর একটা অনুভূতি, যেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।'