আজ হতে সুদীর্ঘ পাঁচ দশকেরও অধিক সময় পূর্বে প্রতিষ্ঠিত সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয়ের স্মৃতি রোমন্থন করা আমার জন্য এক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। এই সময়ে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যগত পরিচিতি কাউকে বড় কিংবা খাটো করা অথবা নিজেকে জনমানসে উপস্থাপন করে আত্মপ্রচারের হীন মানসিকতা কখনো মনের মধ্যে বাসা বাঁধেনি। নতুন প্রজনের কাছে বিবেকের দায়বদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের দিন লিপিতে বিদ্যালয়টির জন্ম বৃত্তান্ত
সার সংক্ষেপ উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করছি। ১৯৭০ সালে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের একজোট মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত ফসল। কারো একক প্রয়াসে নয়। পাকিস্তানের মোহকাটা এবং বিরুদ্ধবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনকারী সচেতন বিদ্যোৎসাহী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের সেই জোটটি সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকল্পে তাঁদের কর্মে, চিন্তা-চেতনা ও ত্যাগ অদম্য স্পৃহার তিলক অংকন করে গিয়েছেন, যাঁদের উপর ছিল এলাকার গণ-মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও অকৃপণ সহযোগীতা।
সময়ের বিবর্তনের পরিক্রমায় ও বাস্তবতার আলোকে মুক্তিযুদ্ধের সেই সংগঠিত জোটটির অন্যতম এবং আমাদের অগ্রজ মরহুম এডভোকেট জনাব আলহাজ্ব নুরুচ্ছফা তালুকদার। যুক্ত ছিলেন প্রয়াত বাবু মৃণাল কান্তি তালুকাদার যিনি জীবদ্দশায় প্রচুর জমি-জমা বিক্রি করে অর্থের যোগান দিয়েছিলেন অত্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাও উন্নতিকল্পে। এই মহৎ প্রচেষ্ঠায় আরো যাঁদের অসামান্য অবদান ছিল তাঁদের মধ্যে জনাব আব্দুল মোতালের মাষ্টার (প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক), মরহুম জনাব হারুন অর রশিদ তালুকদার (প্রভাষক), প্রয়াত বিস্তৃতি রঞ্জন মুৎসুদ্দী ও প্রয়াত ব্রজেন্দ্র লাল তালুকদার। এই জোটের সমন্বয়কারী হিসেবে গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্ব পালন করার ভূমিকায় ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ১০ নং পদুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে যিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত একাধারে দুঃসময়ের কান্ডারী ও পরামর্শ সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে বিদ্যালয়কে স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন মরহুম জনাব গোলাম কবির তালুকদার। এই মহৎ কর্মের সাথে আরো তিনজন ব্যাক্তি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন তারা হলেন যথাক্রমে মরহুম হাজী নুরুচ্ছফা তালুকদার (পরবর্তীতে চেয়ারম্যান), মরহুম হাজী বশরত আলী (ভূমিদাতা) ও বাবু কুণাল কান্তি তালুকদার (ভূমিদাতা)। পরবর্তীতে তিলে তিলে আরো যাদের আর্থিক অনুদান ও ভূমিদান সহায়তা পেয়ে বিদ্যালয়টি আজকের রূপ পরিগ্রহ করছে তাদের কথা স্বীকার না করলে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যগত পরিচিতির পূর্ণতা আসে না তারা হলেন জনাব আলহাজ্ব কবির আহমদ তালুকদার, জনাব শওকত আলী তালুকদার, জনাব মোঃ নুরুল আবছার তালুকদার, আলহাজ্ব মোঃ লোকমান হাকিম, মুহাম্মদ খালেদ মাহমুদ, শিল্পপতি জনাব মোঃ জসীম উদ্দীন (নোয়াপাড়া রাউজান), জনাব আলহাজ্ব এরশাদ মাহমুদ, মিসেস মাহনূর তাসনিম (জনাব খালেদ মাহমুদের সহধর্মিনী), জনাব মোঃ রাশেদ তালুকদার, মিসেস শাকিলা আক্তার (জনাব এরশাদ মাহমুদের সহধর্মিনী), জনাব সাজ্জাদ আলী তালুকদার প্রমূখ।