09/05/2025
হিফজ মাদরাসার মেহনত সিলেবাস,শেয়ার করে আপনার ফেসবুকে রেখে দিন,কাজে আসবেই,হিফজ খানার মেহনতের প্রাথমিক কিছু কিছু পদ্ধতি,বিস্তারিত আমাদের লেখা তাহফিজ সিলেবাসে পাবেন।
১।হাফেজ ছাত্ররা প্রতিদিন যতটুকু পড়া উস্তাদকে পড়া শুনাবে। (বিনা লোকমায়)তার আগে সে উস্তাদের কাছ থেকে দেখে দেখে শুনিয়ে সুর শিখে নিবে উস্তাদ সুর পারলে নিজে শিখাবে নতুবা আরবীয় কোন অডিওর মাধ্যমে ধরিয়ে দিবে এবং তার গলার অবস্থা অনুযায়ী উস্তাদ যে সুর ধরিয়ে দিয়েছেন সেই সুরেই তাজভীদ,মাদ,গুন্নাহ,পুর বারিক ওয়াকফ ইবতিদা,সুর ছাত্র উস্তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে তারপর ছাত্র ইয়াদ করা শুরু করবে তানাহলে ভুলগুলো আরো বেশী মজবুত হয়ে যাবে।
এভাবে ১ পারা ইয়াদ করতে যতক্ষণ সময় লাগে ইয়াদ করতে হবে প্রয়োজনে রাতে ইনফেরাদীভাবে ইয়াদ করে তারপর ঘুমাতে যেতে হবে,উস্তাদ এমন ভাবে পড়া শুনবে যেন ভবিষ্যতে তার এই পারা কোন আয়াতে পৃথীবির বিশ্বখ্যাত হাফেজরা ধরলে দেশ বিদেশের প্রতিযোগিতায় পড়লে কোন ভুল খুজে না পায়,হাফেজ ছাত্ররা একবার ভালো করে ১ পারা করে শুনাবে ৩০ দিন পর খতম শেষ হলে উস্তাদের দায়িত্ব অনেকটায় কমে আসবে কারন তখন তার পড়ার মধ্যে কোন ভুল থাকবেনা তখন সারা দিন তিলাওয়াত করবে আর সুয়াল পড়বে অথবা আরেকজন ছাত্র ভাইয়ের সাথে দাওর করবে। আর উস্তাদ আরেকজন ছাত্রকে ধরবে এভাবে সারা বছরে অনেক ছাত্রকে গড়ে তুলতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
যখন উস্তাদ উল্লেখ্য (যদি আপনার কাছে ছাত্রটি সবক না পড়ে অন্য মাদরাসা থেকে এসে ভর্তি হয়ে থাকে)
যদি আপনার কাছে সবক পড়ে থাকে তখন তার জন্য পদ্ধতি ভিন্ন হবে।
হাফেজ ছাত্ররা নিয়মিত কমপক্ষে প্রথম খতম নিয়ম অনুযায়ী শুনানোর পর এক খতম পড়ার চেষ্টা করতে হবে কমপক্ষে ১০ পারা তিলাওয়াত করতে হবে।
এবং সবকী ছাত্ররা কমপক্ষে তিন পারা তিলাওয়াত করতে হবে এবং আসরের পর পিছনের পড়া ইয়াদ রাখতেছে কিনা সেই জন্য পিছনের সব পড়া থেকপ সুয়াল করে খবর রাখতে হবে।
এশার নামাজের পর নিয়মিত ১ পারা নামাজে তিলাওয়াত করবে।
আসরের পর ১৫ মিনিট দুইজন ছাত্র পরষ্পর প্রশ্ন পরবে উস্তাদ উপস্থিতিতে হলে আরো বেশী ফায়দা হবে।
২।সবকী ছাত্ররা সবক, সাতসবক, আমুখতা শুনাবে।(বিনা লোকমায় এবং বিনা টোকায়)
সবকি ছাত্রদেরকে উস্তাদগন, নাজেরা শুনার সময় সুর ধরিয়ে দিবে নিজে অথবা আরবী সুরের অডিওর মাধ্যমে এবং ভুলগুলোর মধ্যে কলম দিয়ে দাগ লাগিয়ে দিবে এবং ধীরে ধীরে সুর দিয়ে সবক ইয়াদ করার কথা বলে দিবে।
এবং ঐ সুরেই সবক শুনাবে তার গলার অবস্তা বুঝে আপনি যে সুর থাকে ধরিয়ে দিয়েছেন।
ইয়াদ করার সময় প্রত্যেকটি শব্দ বাক্যকে কমপক্ষে ৩০/৪০/৫০ বার করে বার বার পড়বে।
এভাবে বার বার পড়ার পর ১ বার না দেখে পরবে,,,, যদি প্রত্যেকটি হরফ, হরকত, নুকতা, শব্দ, বাক্য, চোখে ভাসে তাহলে ইয়াদ হয়েছে আর না হয় আবার নতুন করে প্রত্যেকটি শব্দ বাক্যকে ১০/২০ বার পড়বে।
খাবার সময়,অবসর সময়গুলোতে, বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারী যারা আছেন যেমনঃ( শায়খ মাহমূদ খালিল আল হুসারী রহঃ, শায়খ মুহাম্মাদ সিদ্দিক আল মিনশাবি রহঃ, শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ূব রহঃ, শায়খ রাশেদ মাশারী আল আফাসী, , শায়খ আলী আল হুজাইফী, শায়খ সাউদ বিন ইব্রাহীম আশ শুরাইম, শায়খ আলী জাবের, শায়খ বান্দার বিন আব্দুল আজিজ আল বালিলাহ, শায়খ মাহের আল মুয়াইকিলি, শায়খ আব্দুল ওয়ালী আল আরাকানী, শায়খ সালেহ আল আনসারী, শায়খ ইসমাতুল্লাহ , শায়খ মুহাম্মাদ জিবরাঈল, শায়খ আব্দুল্লাহ বাসফার হাফিজাহুমুল্লাহ ) সহ এধরনের আরো যারা রয়েছেন উনাদের তিলাওয়াত খুব বেশি শুনবে। সম্ভব হলে ভিডিও তিলাওয়াত দেখবে। এবং বাংলাদেশের যারা বিশ্বজয় করেছে তাদের প্রতিযোগিতার তিলাওয়াত শুনবে অথবা দেখবে। যেমন: বাহরাইন, দুবাই , কুয়েত,সৌদি আরব ,কাতার, জর্ডান ,মিশর সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীতার তিলাওয়াত।
ইজতিমায়ী মাশক্বের ইহতিমাম করবে।
ইনফিরাদী বা একাকী আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ ক্বারী উস্তাদের কাছে দৈনন্দিন এক পৃষ্ঠা করে মাশক্বের পদ্ধতিতে তিলাওয়াত শুনিয়ে শুনিয়ে মাশক করবে।
ফজরের রয়েছে ২ রাকাত সুন্নাহ নামাজ,যোহরের ৬ রাকাত, মাগরিবের ২ রাকাত, এশার ২ রাকাত সুন্নাহ নামাজ এবং ৩ রাকাত বিতর নামাজ। এই নামাজগুলোর প্রত্যেক রাকাতে এক পৃষ্ঠা করে মোট ১৫ পৃষ্ঠা সুন্নাহ এবং বিতর নামাজে তিলাওয়াত করবে।এবং ঘুমানোর সময় সিটে বসে ৫ পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করবে, এভাবে ১ পারা তিলাওয়াত পূর্ণ হলো।
হাটতে, চলতে, উঠতে, বসতে,মনে মনে দিনে রাতে ১ পারা তিলাওয়াত করবে।
সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে না হয় অন্তত প্রতি মাসে একবার বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজ পরে নফল নামাজে দাড়াবে এবং শুক্রবার ফজর পর্যন্ত ১৫ পারা অথবা সম্ভব হলে এক খতম নামাজে তিলাওয়াত করবে এ ছাড়াও মাসিক সবিনা পড়া হবে একজন পড়বে ৪ জন ধরবে এটা একটা বেশী ইয়াদ করার সিস্টেম যেটা আমাদের সিলেবাস কিতাবে লেখা আছে।
যেকোনো একজন বিশ্ববিখ্যাত হাফেজ ক্বারীর তিলাওয়াতের সুর হুবহু তাকলিদ অথবা অনুসরণ করবে। অতঃপর নিজস্ব কিছু সুর সংযোজন করবে ।
মাখারিজ,সিফাতসমূহ আয়ত্ত করবে।
যথাসম্ভব একজন উস্তাদের কাছেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করবে।
অবশ্যই তাহাজ্জুদের নামাজ পরবে।
বিশুদ্ধ নিয়ত করবে।
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন শিখবে।
প্রতিদিন অল্প সময় হলেও ওভার টাইম পরার অভ্যাস করবে।
পড়া লেখার বিষয়ে উস্তাদের পরামর্শ মেনে চলবে।
সর্বদা পাক পবিত্র এবং অজু অবস্থায় থাকবে।
বেশি বেশি رب زدني علما পড়বে এবং যেকোনো দুরুদ পাঠ করবে।
উত্তম আখলাক,আদব, ইজতিহাদ,এবং ইত্তেবায়ে সুন্নাহর ইহতিমাম করবে।
ধারাবাহিকভাবে একাগ্রচিত্তে মেহনত করবে।
উস্তাদের খিদমত করবে।
সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে ইলমের জন্য দোয়া করবে এবং এস্তেমায়ী ও ইনফেরাদী তাহাজ্জুদ পড়বে
এবং উস্তাদকে খুশি রেখে তার জন্য দোয়া করাতে বাধ্য করানোর মত পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং ছাত্রদের সাথে এমন ব্যাবহার করবে তারা ও যেন তার জন্য দোয়া করে কুরআন তাজভীদ সহ ইয়াদ করার জন্য।
মাদ্রাসার যেকোনো কাজকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের, সাওয়াবের এবং উপকারী মনে করে মুহাব্বাত নিয়ে করবে।
২৬/ সম্ভব হলে মাদ্রাসার টয়লেট সাফাই করবে এই নিয়তে যেনো আল্লাহ অন্তরের ময়লা দূর করে সিনায় কুরআন বসিয়ে দেন।
২৭/ যখনই পড়ায় অমনোযোগ আসবে সাথে সাথে দুই রাকাত সালাতুল হাজত আদায় করবে, এবং বেশি বেশি পরবে
أعوذ بالله من الشيطان الرجيم
২৮/ ইশরাকের নামাজ আদায় করবে।
২৯/ মিসওয়াক করবে এবং পাগড়ি পরিধান করবে।
৩০/ ছোট বড় যে কোনো গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলবে।
বিস্তারিত জানতে আমাদের তাহফিজ সিলেবাসের কিতাবগুলো সংগ্রহ করুন 01856-176482
বি দ্র:আমাদের দেশের নুরানী নাজেরা ও হিফজ মাদরাসার সিলেবাস এক হওয়া জরুরি এবং নুরানী এক বছর দুই বছর তিন বছর এবং নাজেরার এক বছর দুই বছর তিন বছর পড়িয়ে বাচ্চাদের জীবন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছি সেখান থেকে আমাদেরকে ফিরে আসতে হবে।
©নেছার আহমাদ