19/09/2026
দৌড়ানো শুরু করার আগে গন্তব্য ঠিক করা জরুরী!
আমরা অনেকেই প্রয়োজনে,শখে,ঠেকায় পড়ে,যেকোন নির্দিষ্ট কাজে নেশাগ্রস্ত হয়ে যাই!
ক্ষমতা,টাকা,মদ,মেয়ে,জুঁয়া, সম্পদ পাওয়া নিয়ে তীব্র জোঁকে জীবন অতিবাহিত করি।পাশের জন কী বলল,কে কিভাবে মূল্যায়ন করল তার ধার ধারিনা!
যে ক্ষমতার জন্য দৌড়ায়, তার কাছে অন্য সব তুচ্ছ,যে টাকার পিছনে দৌড়ায় সে সবকিছু মূল্যায়ন করে টাকার মানদণ্ডে, যে নেশা নিয়ে ব্যাস্ত তার কাছে স্ত্রী,পুত্র নস্যি,যে মেয়ে নিয়ে ব্যস্ত লোকের মন্দ কিংবা তার পারিবারিক ঐতিহ্য তার কাছে নগন্য!
যাঁরা জোঁকের মধ্যে আছেন তাদের জন্য আমার কিছু কথা!
আমরা কেন ক্ষমতা,টাকা,মদ,নেশা,,জুয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকি!উদ্দেশ্য একটাই,সুখি হওয়া!
ক্ষমতা মানুষকে সুখি করবে,টাকা সুখ আনবে,নেশা করলে সুখ পাওয়া যায়,এইতো!
আজ রাতে ঘুমানোর আগে এক মিনিট চোখ বন্ধ করে নিজের জন্য চিন্তা করুন!
আমি যা করছি তাতে কে সুখি হবে?আমি?আমার আত্মীয়, পরবর্তী প্রজন্ম!
হিসাব মেলানো যাবেনা!ধনীরা প্রচুর টাকা আয় করছে,পরিশ্রম করে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে!আর যখন ধন ধরা দিল,ঘুম উধাও হল!ঘুমের ওষুধের ডোজ বৃদ্ধিতেও আগের তৃপ্তির ঘুম আসেনা!নতুন ঘুমের ওষুধের পিছনে তাদের আয় করা টাকা বিনিয়োগ করছেন,বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়ে যাচ্ছে শুধু ঘুমের নতুন ওষুধ আবিস্কারের আশায়!অথচ কত হেলায় সে সুযোগ আমরা হারিয়ে ফেলেছি!
আমরা টাকা আয় করছি,প্রচুর থেকে প্রচুরতর!টাকা আয় হওয়া দেখলে ঘুমতো এমনিতেই চলে যায়!দিনে দুই ঘন্টা সময় বাড়িয়ে দিলে আয় আরো বাড়ছে,সম্পদ আরো বাড়ছে!আহ,শান্তির আশা!এই ভেবে আরো শ্রম দিচ্ছি,আরো সময় দিচ্ছি!!
কিন্তু যারা প্রচুর টাকা আয়ে ব্যস্ত তারা সর্বশেষ কখন নিজের রক্তের আত্মীয়কে খবর নিয়েছেন মনে পড়ে!হয়ত বিপদে কিছু টাকা দিয়েছেন,কিন্তু কাছে থাকা যাকে বলে,যাওয়ার সময় তোমার সামান্য স্পর্শ যার কামনা সে কী দীর্ঘশ্বাস ফেলে চিরবিদায় নিল তার খবর কয়জনেই বা রাখতে পারেন!
ক্ষমতার শীর্ষে পৌছানোর জন্য কত ত্যাগ,কত কস্ট সয়ে গেলেন!ক্ষমতা ধরাও দিল!কিন্তু হারিয়ে গেক যৌবন,যৌবনে আপনার প্রেয়সীর কাছে কতক্ষনেই বা থাকতে পেরেছেন!হয় পালিয়ে নয়ত কাওকে লেলিয়ে দিতেই ব্যস্ত সময় কাটালেন! যখনই ক্ষমতা ধরা দিল তখনেই অধরা থেকে গেল কত কিছুই!
আমি এক জেলের গল্প জানি,যে কিনা সকালে নদীতে মাছ ধরে,বাজারে বিক্রি করে প্রয়োজনীয় সদায় শেষে দুপুরের আহার শেষে হালকা ঘুমিয়ে তার ছেলেকে নিয়ে পাহাড়ে,সাগর পাড়ে,বিস্তীর্ণ মাঠে ঘুরে বেড়ায় নিয়ত!
একদিন সাগর পাড়ে স-স্ত্রীক বেড়াতে আসলেন সাগড় পাড়ে হালকা বিনোদনের আশায়!লোকটির চোখ পড়ল তারই মত এক জেলে ছেলেকে নিয়ে সাগর পাড়ে মহানান্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে!তাকে কাছে ডাকলেন,জিজ্ঞেস করলেন,তুমি কী কর?লোকটি জবাব দিল আমি জেলে,নদীতে সকালে এক ঘন্টা মাছ ধরি,বাজারে তা বিক্রি করি,প্রয়োজনীয় সদাই সারি সে টাকায়!
তুমি দিনে এক ঘন্টা মাছ ধরে তোমার প্রয়োজনীয় সদাই সারতে পার!
হ্যা,কেন নয়?
তুমি চাইলে আরেকটু পরিশ্রম করে আয় আরো বাড়াতে পার!
জেলেটি বলল,আমারতো এর বেশি লাগেনা!
আরে বেকুব,তুমি যখন এক ঘন্টার স্থলে আরো দুই তিন ঘন্টা মাছ ধর,তবে তুমি প্রয়োজন সেরে আরো কিছু জমাতে পার!
জেলে ভাবল,কথাটাতো ঠিকই!সে আগ্রহ দেখাল।
স্যার আমি যদি টাকা জমাই কী হবে?.ধনী লোক বলল,তুমি টাকা জমিয়ে একদিন আমার মত ধনী হবে,প্রচুর পরিশ্রম করলে একদিন আমার মত গাড়ির মালিক হবে,শহরে বাড়ি হবে!
জেলে বলল তারপর!
লোকটি জানাল তোমার যখন অনেক টাকা হবে একদিন স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এরকম গ্রামের সুন্দর সাগর পাড়ে বেড়াতে আসবে,বেশ তৃপ্তি পাবে!
স্যার আপনারা কতদিন অন্তর বেড়ানোর জন্য বের হন?
আমরাতো প্রতি মাসেই বের হতে পারি,কেননা আমাদের প্রচুর সম্পদ!
তারপর?
তারপর আবার কী?এভাবে জীবনকে সুখে কাটিয়ে দিতে পারবে?
জেলেটি বেশ চিন্তায় পড়ে গেল!জাস্ট এটা?
জেলেটি গভীর চিন্তায় পড়ে গেল!
ধনী লোকটি বলল,তুমিতো কিছুই বলছনা?
জেলের সম্বিত ফিরে আসল,এবং বলল,"স্যার আপনি যে কাজটি করার জন্য আপনার জীবনের মূল্যবান অনেক সময় ব্যয় করেছেন,নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন,সে কাজটি আমি প্রতিদনই করি!আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আমি প্রতি দিনই বিকেলে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাই!"আপনি যেটা পাওয়ার জন্য অনেক কিছুই ছেড়েছেন, আমি প্রায় কিছু না ছেড়েই সে জিনিস পেয়েছি!"
জেলেটি বুঝতে পেরেছিল,আমাদের উদ্দেশ্য কী?যা সহজে পেতে পারি তা পেতে অনেক দূর ঘুরে আসা লাগেনা!
আমি অনেক মানুষ সম্পর্কে জানি যে অনেক পরিশ্রম আর মিতব্যয়ী হয়ে সম্পদ বাড়িয়েছে!গাড়ির ড্রাইভারেরও সামান্য দেরীতে আসা মেনে নাওয়া লোক,যার ড্রাইভার ভাবত এত এত পরিশ্রম করি,তবুও লোকটির বাহবা পাইনা!
কিন্তু অকালে মারা যাওয়া সে লোকের স্ত্রী যখন সে ড্রাইভারকে বিয়ে করে সুখি হওয়ার চেষ্টা করে!
ড্রাইভার শেষে এসে ভাবে,এতদিন কে কার জন্য এত পরিশ্রম করল?
আমি মালিকের জন্য,নাকি মালিক আমার জন্য?
কারণ মালিকের স্ত্রীকে বিয়ে করে সকল সম্পদের মালিক এখন ড্রাইভার!
আগের কথাতেই আসছি,আমরা যখন দৌড়াব,গন্তব্য ঠিক রেখে যেন দৌড়াই!আমাদের চিন্তা যেন জেলেটির চেয়ে নিছু না হয়,দীর্ঘশ্বাস যেন ড্রাইভারের মত না হয়!
আসলেই আমরা কে কার জন্য এত পরিশ্রম করছি?
আসলেইতো জানিনা!
যে টাকা আয় করার জন্য শরীরে কঠিন রোগের বাসা বাধতে দিচ্ছি,জীবনের সব সঞ্চয় আবার সে রোগ সারাতে ব্যয় করছি!
আহারে জীবন!!!
মুহাম্মদ রেজাউল করিম
প্রধান শিক্ষক
চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়।
,