21/11/2014
আলু চাষে করণীয়
……………………….
আলু চাষের উপযুক্ত সময় এখনই। তাই আলু চাষের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবারের বিশেষ প্রতিবেদন –
আলু বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় সবজি। সেই সাথে অর্থকরী ফসলও। প্রতি বছর এ দেশে আলুর উৎপাদন যে পরিমাণে হিমাগারে রাখা যায় তার চেয়েও বেশি। তার পরও খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার দিন দিন এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, বাজারে আলুর দাম কখনোই আর কম থাকছে না। সে জন্য প্রতি বছরই আলুর মৌসুম শুরুর আগে শুধু কৃষকরাই নয়, যারা কৃষি কাজের সাথে জড়িত নন এমন অনেকেই আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ আলু চাষে স্বল্প সময়ে লাভ বেশি।
কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ না রাখায় আলু চাষে অনেকেই কাংক্ষিত ফল বা ফলন পান না। তখন বিভিন্ন জনকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করেন। তাই আলু চাষে নামার আগে থেকেই যদি কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় তাহলে আলুর কাংক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
প্রথমেই জমি নির্বাচন। বেলে বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে আলু ভালো হয়। সূর্যের আলো প্রচুর পড়ে এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি আলু চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। জমিতে পানি সেচ দেয়া ও পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্খা থাকাও প্রয়োজন। এ জন্য জমি সমতল করতে হয়। যেহেতু আলু মাটির নিচের ফসল, তাই জমি গভীর চাষ দিতে হয়। জমি চাষ দেয়ার পর ৭ থেকে ১৫ দিন রোদে ফেলে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন পোকা, পোকার কিড়া ও পুত্তলী এবং রোগজীবাণু রোদের আলো ও তাপের সংস্পর্শে এসে নষ্ট হয়। আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মাটি এমনভাবে চিকন ও ঝুরঝুরে করতে হয় যেন মাটির মধ্যে বাতাস চলাচল ভালোভাবে করতে পারে, যাতে আলুর টিউবার গঠন কাজটি সহজ হয়। চাষের শেষে জমির সব আগাছা ও আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে দূরে কোথাও পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হয়।
তবে জমি তৈরির আগে মাটি শোধন করে নিতে পারলে ভালো হয়। এতে আলুর ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধ করা যায়। আগের বছর ঢলে পড়া রোগ হয়নি বা রোগ হয়েছে এমন যেকোনো জমিতেই মাটি শোধন করে নিতে হয়। শেষ চাষের আগে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে চাষ দিয়ে সেচ দিতে হয়। ব্লিচিং পাউডার জমির মাটির সাথে মেশানোর পর জমিতে অবশ্যই জো অবস্খা থাকতে হয়। এভাবে ২৮ থেকে ৩০ দিন জমি ফেলে রাখতে হয়। এতে জমির মাটি শোধন হয় অর্থাৎ মাটির বিশেষ বিশেষ রোগ জীবাণু ধ্বংস হয় বা তাদের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
জানা উৎস বা বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আলুবীজ সংগ্রহ করতে হয়। বীজ আলু যদি খারাপ হয় তাহলে আলু চাষের সব আয়োজনই বিফলে যেতে বাধ্য। তাই যেনতেন জায়গা বা যে কারো কাছ থেকে বীজআলু সংগ্রহ না করে এমন উৎস থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয় যেন আলুর বীজ খারাপ হলে তার জন্য জবাবদিহিতা থাকে।
বীজ সংগ্রহের পর বীজ শোধন করতে হয়। এ জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্খা না করলেও চলে। যেমন কেউ কেউ কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে থাকেন। এ জাতীয় ছত্রাকনাশক বীজ আলু শোধনে ব্যবহার করলে ১ গ্রাম ছত্রাকনাশক ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১ কেজি কাটা বীজ আলু ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে বীজবাহিত ছত্রাকঘটিত রোগজীবাণু ধ্বংস হয়। আলুর ঢলে পড়া ও গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে স্ট্রেপটোমাইসিন মিশ্রিত করতে হয়। বীজ আলু সংগ্রহের পর কাটার আগে আলো-বাতাস চলাচল করে এমন পরিষ্কার সমতল জায়গায় বস্তা খুলে আলু বের করে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু স্তূপ বা হিপ করে ছড়িয়ে রাখতে হয়। মাঝে মধ্যে ওলটপালট করতে হয়।
বীজআলু শুধু লম্বালম্বি এমনভাবে দু’ভাগ করে সমভাবে কাটতে হয়, যাতে কর্তিত দু’অংশে কমপক্ষে দুটি করে চোখ থাকে। এই অংশের ওজন ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম এবং ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট হতে হয়। অনেকেই চোখের সাথে আলুর অংশ কম রেখে বাকিটুকু খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন, এটা ঠিক নয়। কর্তিত অংশের সাথে যতটুকুই থাকুক সবটুকুই রাখতে হয়। বীজ কাটার সময় চাকু বা বঁটির দুই পাশ জীবাণুনাশকে ভেজানো কাপড়ের টুকরো দিয়ে মাঝে মধ্যে মুছে নিতে হয় যেন রোগজীবাণু এক আলু থেকে অন্য আলুতে ছড়াতে না পারে। আলুর কাটা অংশ উপরের দিকে করে মাটিতে ছড়িয়ে বিছিয়ে রাখতে হয়। কখনোই গাদাগাদি করে রাখা উচিত নয়। রাখার স্খানে আলো এবং বাতাস চলাচলব্যবস্খা থাকতে হয়। এভাবে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা রেখে দিলে কাটা অংশের ওপরে একটি শক্ত কালচে ধরনের স্তর পড়ে, যাকে সোবারাইজেশন বলে। এই অংশ ভেদ করে কোনো রোগজীবাণু ঢুকতে পারে না। কাটা অংশে ছাই ব্যবহার করা যেতে পারে, তাতে অতিরিক্ত হিসেবে পটাশিয়াম সরবরাহ করা হয়। আবার পোকার বিকর্ষক হিসেবেও এটি কাজ করে।
আলু রোপণের উপযুক্ত সময় হলো নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেষ পর্যন্ত। দিন পেছালে শীতে গাছের বৃদ্ধি কমে, গাছ খুব বেশি বড় হওয়ার আগেই টিউবার গঠন কাজ শুরু হয়ে যায়। এতে টিউবার সংখ্যা কমে যায়। শীতে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের টিউবার গঠন ভালো হয়। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আলুবীজ রোপণ করা যায়, তবে ফলনও আনুপাতিক হারে কমে যায়।
আলু চাষে কম্পোস্ট সার ব্যবহার না করা ভালো। কারণ যেসব কম্পোস্টের উপাদান হিসেবে শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ বা গাছ-গাছড়ার বা যেকোনো জৈব জিনিসের পচনশীল অংশ ব্যবহার করা হয় সেসবের সাথে ঢলে পড়া রোগের রোগজীবাণু থাকতে পারে, যা এই রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এ জন্য কম্পোস্টের পরিবর্তে ভালোভাবে পচানো শুকনো গোবর সারই জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে সংগ্রহ করা শুকনো সার।
আলু চাষে একর প্রতি ইউরিয়া ১১২ কেজি, টিএসপি ৭৫ কেজি, এমওপি ১১২ কেজি, জিপসাম ৪০ কেজি, জিংক সালফেট ৫ কেজি এবং বোরণ সার ৪ কেজি ব্যবহার করতে হয়। অর্ধেক ইউরিয়া, অর্ধেক এমওপি ও সম্পূর্ণ টিএসপি এক সাথে মিশিয়ে বীজ আলু বপনের পাশে সারের নালায় দিতে হয়। বাকি সার রোপণের ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। আর জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বোরণ সার শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। যেসব অঞ্চলের মাটিতে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি আছে সেসব অঞ্চলে ম্যাগনেশিয়াম সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হয়।
উপরি সার প্রয়োগের পর আলুর সারিতে বা গাছের গোড়ায় উঁচু করে (প্রায় ২০ সেন্টিমিটার) মাটি তুলে দিতে হয়। ভেলির গোড়া চওড়া রাখার জন্য ১৫ সেন্টিমিটার প্রস্খের ছোট কোদাল ব্যবহার করতে হয়। মাটি তোলার সময় লক্ষ্য রাখতে হয় যেন কোদালের সাথে প্রয়োগকৃত সার উঠে না আসে।
আলু চাষে সেচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোপণের সময় জমির জো অবস্খা থাকতে হয় এবং রোপণের পর ১ থেকে ২টি গাছ যখন মাটির ওপরে উঠে আসে তখন প্রথমবার সার উপরি প্রয়োগের পর একটি হালকা সেচ দিতে হয়। এটি সাধারণত রোপণের ৭ দিনের মধ্যে দিতে হয়। এবপর মাটির প্রকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ বার সেচ দিতে হয়। তবে টিউবার গঠনের শুরুর সময় অর্থাৎ ৪০ থেকে ৪৫ দিনের সময় মাটিতে রস না থাকলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বা ফলন কমে যেতে পারে। সুষম সেচের জন্য তাই নিয়মিত জমি পরিদর্শন করতে হয়।
খাবার আলু ৯৮ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। আর বীজ আলু ৭২ থেকে ৭৫ দিন পর গাছ তুলে রেখে ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে তুলতে হয়। জাত ভেদে বাংলাদেশে আলুর ফলন একর প্রতি ৭ থেকে ১০ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বাড়িতে আলু সংরক্ষণের পদ্ধতি
……………………………….
প্রতি বছরই আমাদের দেশে আলুর বাম্পার ফলন হয় । কিন্তু হিমাগারের অভাবে আলু সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে; নষ্ট হচ্ছে। দেশে এবার প্রায় এক কোটি টনের মত আলু উৎপাদন হয়েছে। অথচ দেশে অবস্থিত মোট ৩৩৭টি হিমাগারের মোট ধারণ ক্ষমতা ২২ লাখ টন। অর্থাৎ উৎপাদিত আলুর মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ আলু সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি বছর শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ আলু নষ্ট হয়।
প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস আলু সংরক্ষণ করতে হয়। হিমাগার ছাড়াও কৃষকরা নিজ বাড়িতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করতে পারেন। হিমাগারের এক বস্তা আলু সংরক্ষণ করতে ২৫ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হয়। কৃষকরা বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করলে খরচ পড়ে প্রতিবস্তা মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা। এ জন্য কৃষকরা সহজেই বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করতে পারেন। নিচে আলু সংরক্ষণের পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো :
আলু সংগ্রহের পর প্রখর সূর্যালোকে আলু রাখা ঠিক নয়। এতে আলুতে ব্যাকহার্ট রোগ হতে পারে। আলু সংগ্রহের পর কাটা, রোগাক্রান্ত, পচা, ক্ষত, থ্যাতলানো ও বেশি ছোট আলু বাদ দিতে হয়। শুধু ভাল আলু গুদামে রাখা উচিত। আলো-ছায়ায় শুকিয়ে গুদামজাত করতে হবে।
একটাও আলু যাতে ভেজা না থাকে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
গুদামজাতকরণ : তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা ও বায়ু চলাচল করে এমন শুষ্কস্থানে আলু সংরক্ষণ করতে হয়। বাঁশের চাটাইয়ের বেড়া এবং ছনের ছাউনি দিয়ে ভূমি থেকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে উচুঁ করে ঘর তৈরি করতে হয়। আলুর শ্বাস-প্রশ্বাসের তাপ বের হওয়া এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। মেঝেতে বাঁশের চাটাই কিংবা বালু বিছিয়ে এর ওপর স্তুপাকারে আলু রাখতে হবে। তবে স্তুপ যেন এক মিটার উঁচু এবং ২ মিটারের বেশি প্রশস্ত না হয় এবং যথেষ্ট বায়ু চলাচলের সুবিধা থাকে। ২ থেকে ৩টি তাক করে স্তরে স্তরে স্তুপ করে আলু রাখা যেতে পারে। পাত্রে আলু সংরক্ষণ করা যায়। বাঁশের ঝুড়ি, ডোল বা বাঁশের ও মাটির যে কোনো পাত্রে আলু রাখা যায়। এক্ষেত্রে পাত্রগুলো ঠাণ্ডা স্থানে রাখতে হবে। আলুর রোগ ও পোকা দ্বারা আক্রমণ রোধ করার জন্য নিম, নিশিন্দা, বিষ কাটালি ইত্যাদির পাতা গুঁড়ো করে আলুর স্তুপে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে। তবে কীটনাশক দেয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, ক্ষেত্রে আলু পরিপক্ব হওয়ার সময় থেকে আলুর সুপ্তাবস্থা শুরু হয়। আলু গুদামে রাখার কিছুদিন আগেও সুপ্তাবস্থা শুরু হতে পারে। মোটামুটিভাবে কোনো মারাত্মক ক্ষতি ছাড়া আলুর সুপ্তাবস্থা শেষ হওয়া থেকে প্রায় এক মাস অথবা অঙ্কুরোদগম পুরোপুরি শুরু হওয়া পর্যন্ত আলু গুদামে রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস আলু এভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
পর্যবেক্ষণ : ১৫ দিন পর পর সংরক্ষিত আলু দেখতে হবে। খারাপ গন্ধ হলে বুঝতে হবে দু’একটি আলু পচেছে। পচা আলু সরাতে হবে। ইঁদুরের উপস্থিতির কোনো লক্ষণ দেখলে ইঁদুর মারতে হবে। পোকা-মাকড় ও রোগ-জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত আলু বাছাই করতে হবে। স্তুপের নিচের আলু উপরে এবং উপরের আলু নিচে নেড়ে দিতে হবে।
বীজ হিসেবে রাখা আলুর অঙ্কুর গজানো শুরু হলেই আলাদাভাবে গুদামজাত করতে হবে। যেখানে দিনের আলো পড়ে (কিন্তু সকালে এবং দিনের শেষ ভাগ ছাড়া সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না) এমন স্থানে তাক বা মেঝের উপর ২ থেকে ৩টি স্তরে আলু গুদামজাত করা যায়। অঙ্কুর গজানো শুরু হলেই বুঝতে হবে বায়ু চলাচলকৃত গুদামে আলু আর বেশি দিন রাখা যাবে না। সুতরাং বীজ আলু পরিত্যক্ত আলুর গুদামে স্থানাস্তর করতে হবে।
চাষি পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ
………………...........
গত বছর হিমাগারের অভাবে আলু সংরক্ষণ করা যায়নি বলে প্রচুর আলু পচে গেছে। অপর দিকে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ খরচও বেশি। হিমাগারে এক বস্তা আলু রাখতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাগে। চাষিরা নিজেরাই আলু সংরক্ষণ করলে খরচ হয় মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা। দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয় সে পরিমাণ হিমাগার নেই। প্রতি বছরই আলু পচে যায় এবং অল্প দামে বিক্রি করে। চাষিরা নিজের বাড়িতে সহজেই আলু সংরক্ষণ করতে পারেন। আলু পরিপক্ব হওয়ার পর থেকে উফশী জাত দু-তিন মাস এবং দেশী জাতের সুপ্তাবস্খা চার-ছয় মাস থাকে। ক্ষেতে আলু পূর্ণ বৃদ্ধি হওয়ার ১০ থেকে ১৪ দিন পর অর্থাৎ গাছ মরতে শুরু করলে আলু সংগ্রহ করতে হবে। মাটি ভেজা অবস্খায় কোনোক্রমেই ফসল সংগ্রহ করা উচিত নয়। আলু স্খানান্তর যত্নের সাথে করতে হবে এবং শক্ত মেঝের ওপর ফেলা ঠিক নয়।
সংরক্ষণ পদ্ধতি : আলু সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাঠ থেকে আলু সরানো উচিত এবং প্রখর সূর্যালোকে ফেলে রাখা উচিত নয়। এতে আলুর ব্ল্যাক হার্ট রোগ হতে পারে। আলু সংগ্রহের পর কাটা, রোগাক্রান্ত, পচা, ক্ষত, থেঁতলানো ও বেশি ছোট আলু বাছাই করতে হবে। শুধু ভালো আলু গুদামে রাখা উচিত। আলু ছায়াযুক্ত স্খানে শুকিয়ে গুদামজাত করতে হবে। একটা আলুও যাতে ভেজা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গুদামজাতকরণ : তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা ও বায়ু চলাচল করে এমন স্খানে আলু সংরক্ষণ করতে হয়। বাঁশের চাটাইয়ের বেড়া এবং ছনের ছাউনি দিয়ে ভূমি থেকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে উঁচু করে ঘর তৈরি করতে হয়। টিউবার (আলু) জীবন্ত উদ্ভিদাংশ বলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় তাপ সৃষ্টি করে ও পানি বের করে দেয়। এ তাপ গুদামজাতকালীন সময় বায়ু চলাচলের মাধ্যমে অবশ্যই বের করে দিতে হবে। এ জন্য তাপ বের হওয়া ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্খা করতে হবে। মেঝেতে বাঁশের চাটাই কিংবা বালু বিছিয়ে এর ওপর স্তূপাকারে আলু রাখতে হবে। তবে আলুর স্তূপ যেন তিন ফুট উঁচু ও ছয় ফুটের বেশি প্রশস্ত না হয় এবং যথেষ্ট বায়ু চলাচলের সুবিধা রাখতে হবে। দু-তিনটি তাক করে স্তরে স্তরে স্তূপ করে আলু রাখা যেতে পারে। বাঁশের ঝুড়ি, ডোল বা বাঁশের ও মাটির যেকোনো পাত্রে আলু রাখা যায়। এ ক্ষেত্রে পাত্রগুলো ঠাণ্ডা স্খানে রাখতে হবে। আলু পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত রোধ করার জন্য নিম, নিশিন্দা, বিষকাটালি ইত্যাদি পাতা গুঁড়ো করে আলুর স্তূপে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে। তবে কীটনাশক দেয়া যাবে না।
মনে রাখতে হবে, ক্ষেতে আলু পরিপক্ব হওয়ার সময় থেকেই আলুর সুপ্তাবস্খা শুরু হয়। আলু গুদামে রাখার কিছু দিন আগেও সুপ্তাবস্খা শুরু হতে পারে। মোটামুটিভাবে কোনো মারাত্মক ক্ষতি ছাড়া আলুর সুপ্তাবস্খা শেষ হওয়া থেকে প্রায় এক মাস অথবা অঙ্কুরোদগম পুরোপুরি শুরু হওয়া পর্যন্ত আলু গুদামে রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রায় সাত-আট মাস আলু এভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
পর্যবেক্ষণ : ১৫ দিন পর পর গুদামে বা পাত্রে সংরক্ষিত আলু দেখতে হবে। খারাপ গìধ হলে বুঝতে হবে দু-একটি আলু পচেছে। পচা আলু সরাতে হবে। ইঁদুরের কোনো চিহ্ন দেখলে বা টের পেলে ইঁদুর মারার ব্যবস্খা করতে হবে। স্তূপের নিচের আলু ওপরে এবং ওপরের আলু নিচে নেড়ে দিতে হবে। আলু ভিজে গেলে হালকা রোদে শুকিয়ে আবার গুদামজাত করতে হবে।
রোগ ও পোকা দমন : গুদামে আলু সংরক্ষণ করার পর জাবপোকা ও আলুর টিউবার মথ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। জাবপোকা দমনের জন্য গুদামের আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নিম, নিশিন্দা, ল্যান্টানা, বিষকাটালির পাতা গুঁড়ো করে আলুতে দিতে হবে। টিউবার মথ দমনের জন্য ক্ষেতে আলু মাটি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। মথ দ্বারা ছিদ্র করা আলু বাছাই করা, খুব শুকনো বালু দিয়ে আলু গুদামে ঢেকে রাখা উচিত। গুদামজাত অবস্খায় সৃষ্ট রোগের অধিকাংশ জীবাণু জমি থেকে আসে এবং গুদামে রোগের অনুকূল পরিবেশে বিস্তার লাভ করে। আলুর গাছ জন্মানোর শুরু থেকেই রোগ দমন ব্যবস্খাপনা শুরু করা উচিত। এজন্য আগাম বীজ রোপণ, ফসল সংগ্রহ ও গুদামজাতকরণ। আলু হালকা রোদে বা ছায়ায় শুকিয়ে সংরক্ষণ করা উচিত।
শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচির (সিডিপি) আওতায় আলু সংরক্ষণের ওই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যেকোনো পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস এবং উপসহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
স্টেম কাটিং প্রযুক্তির আলু বীজ
……………………………
আলু চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ বীজের। দেখা যায়, আলু চাষে বীজের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে আবাদ করতে তিন থেকে পাঁচ কেজি ধান বীজ বা এক কেজি পাটের বীজ প্রয়োজন হয়, অথচ আলু চাষে দরকার হয় প্রায় ২০০ কেজি বীজ।
প্রতিবছর যে পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়, তার জন্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টন বীজ আলুর দরকার হয়। বিএডিসি এবং অন্যান্য বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, বিদেশ থেকে আমদানি করে এই চাহিদা পূরণ করে থাকে। এ রকম অবস্থায় 'স্টেম কাটিং' প্রযুক্তির প্রয়োগ করে দেশেই মানসম্পন্ন বীজ আলুর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
স্টেম কাটিং কী? আলু গাছের কাণ্ডের অগ্রভাগ থেকে কাণ্ড সংগ্রহ করে সেই কাণ্ড থেকে আরেকটি গাছ জন্মানো যায়। বীজ আলু উৎপাদনের দ্রুতবর্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে স্টেম কাটিং পদ্ধতি অন্যতম। স্টেম কাটিং পদ্ধতি অনেকটা চন্দ্রমলি্লকা এবং ডালিয়া ফুলের বংশবিস্তার যেভাবে ঘটানো হয়, ঠিক সে রকম।
কেন স্টেম কাটিং?
বীজের জন্য কোনো খরচ ছাড়াই বা কম খরচে একজন চাষি খুব সহজেই কাঙ্ক্ষিত মানের প্রয়োজনীয় পরিমাণ আলু গাছ বা বীজ উৎপাদন করতে পারবেন। ফলে বীজের জন্য চাষিকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হবে না। মাতৃ আলুর সঙ্গে কাণ্ডের কোনো সংযোগ থাকে না, এ জন্য অনেক বীজ এবং মাটিবাহী নন-সিস্টেমিক রোগ যেমন নেমাটোড, ছত্রাকঘটিত এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত উইল্ট প্রভৃতি রোগমুক্ত বীজ আলু উৎপাদন করা সম্ভব। আলু ক্ষেতের অন্যতম শত্রু ভাইরাস সংক্রমণ। এই পদ্ধতিতে আলু চাষ করলে ভাইরাসমুক্ত আলু উৎপাদন করা সম্ভব। কারণ আলু গাছের যে স্থান থেকে কাণ্ড সংগ্রহ করা হয়, সেখানে কিছু ভাইরাসের উপস্থিতি থাকলেও তা পরে খুব একটা বিস্তার ঘটাতে পারে না। এ ছাড়া সুস্থ-সবল গাছ থেকে কাণ্ড সংগ্রহ করা হলে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে না।
এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২-১৩ হাজার পর্যন্ত বীজ আলুর খণ্ড থাকে। গাছ জন্মানোর পর জমিতে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কাণ্ড পাওয়া যায়। যখন আলু গাছের ২৫ থেকে ৩০ দিন হয়, তখন সতেজ গাছ থেকে একটি করে কাণ্ড কেটে নিতে হবে। এভাবে দুই হাজার কাণ্ড সংগ্রহ করা যায়। এই কাণ্ডগুলো রুটিং হরমোনে ট্রিটমেন্ট করে বেডে বা মোটা বালুতে লাগাতে হবে। এর পর ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মূল জমিতে রোপণ উপযোগী কাটিং-চারা হয়ে উঠবে। ডায়মন্ড, কার্ডিনাল এবং গ্রানুলা জাতের আলুর কাণ্ডে ৯০ শতাংশের বেশি শেকড় গজায়। তবে ৭৫ শতাংশ কাণ্ডে শেকড় বের হলে কাটিং-চারা জমিতে লাগানো যাবে।
কাণ্ড সংগ্রহ জাতভেদে গাছের বয়স যখন ২৫ থেকে ৩০ দিনের হয় তখন কাণ্ড সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। এক-দুই ইঞ্চি লম্বা কাণ্ড সংগ্রহ করতে হবে। বিকেলের দিকে কাণ্ড সংগ্রহ করা ভালো। বেডে কাণ্ডগুলোকে দুই-আড়াই ইঞ্চি দূরত্বে রোপণ করতে হবে। রোপণের ১২ থেকে ১৫ দিন পর মূল জমিতে রোপণ উপযোগী কাণ্ড-চারা পাওয়া যায়। কাণ্ড-চারা সংগ্রহের ৩০ মিনিট আগে ঝরনা দিয়ে বেডে ভালোভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে।
রুট হরমোন না থাকলে মোটা বালিতে থালাটবের কাণ্ডে শেকড় গজিয়ে নেওয়া যেতে পারে। শেকড় গজাতে চার-পাঁচ দিন বেশি সময় লাগে এবং শেকড়ের সংখ্যা কিছু কম থাকে। একটি ১০ ইঞ্চি মাপের মাটির থালাটবে ৪০টি পর্যন্ত কাটিং বসানো যায়।
জমিতে রোপণ লাইন করে বা বেডপদ্ধতি উভয়ভাবেই কাণ্ড (চারা) রোপণ করা যায় । পরিমাণমতো টিএসপি, অর্ধেক ইউরিয়া এবং অর্ধেক পটাশ নালায় প্রয়োগ করে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে সার মিশিয়ে কাণ্ড রোপণ করতে হবে। বোরন, জিঙ্ক, জিপসাম স্বাভাবিকভাবে আলু চাষের মাত্রানুযায়ী শেষ চাষের আগে প্রয়োগ করতে হয়। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ২২ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ছয় ইঞ্চি রাখা ভালো। স্টেম কাটিংয়ের জন্য বেলে বা বেলে দো-আঁশ ধরনের হালকা বুনটের মাটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী। যদি বেড পদ্ধতিতে তিন বা চার লাইনে কাণ্ড লাগানো যায়, তবে একক জমিতে অধিকসংখ্যক কাণ্ড বসানো যাবে। ফলে ফলন আরো বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং বীজের আকারও ভালো হবে।
চারার যত্ন চারা মাটিতে না লাগা পর্যন্ত ঝরনা দিয়ে পানি দিতে হবে। প্রথমবার এমনভাবে পানি দিতে হবে, যেন চারার শেকড়ের সঙ্গে মাটি সংযোগ খুব ভালোভাবে হয়। এরপর চার-পাঁচ দিন সকাল এবং বিকেলে হালকাভাবে পানি দিতে হয়। গাছ লেগে গেলে জমিতে ভাসাভাবে সেচ দিতে হবে (যেভাবে গমের জমিতে সেচ দিতে হয়), তবে খেয়াল রাখতে হবে, পানি যেন খুব বেশি না দেওয়া হয়। জমিতে 'জো' আসার পর নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করে কুপিয়ে লাইনের মাঝখান থেকে গাছের গোড়ায় দিয়ে ভেলি করে দিতে হবে। এ সময় প্রয়োজনমতো ইউরিয়া ও পটাশ সার দিতে হবে।
পানি সেচ প্রথমবার ভাসাভাবে সেচ দেওয়ার পর যখন জমিতে জো আসবে তখন কুপিয়ে আলু গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিলে একটি নালার সৃষ্টি হবে। জমির রসের অবস্থা বুঝে এই নালার মাধ্যমে সেচ দিতে হবে।
গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়াগাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে। সাধারণত টপ ড্রেসিংয়ের পর দুই বার মাটি তুলে দিতে হয়। বীজ আলু উৎপাদনের অন্য বিষয়গুলো যেমন স্প্রে শিডিউল অনুসরণ, রোগিং, হামপুলিং কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে করতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আবাদ করা বীজ আলু যেভাবে সংগ্রহ করা হয়, সেই একইভাবে বীজ আলু সংগ্রহ করতে হবে। সঠিক সময়ে কাণ্ড রোপণ করতে পারলে স্টেম কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে একরপ্রতি ১০ টন পর্যন্ত বীজ আলু আমাদের দেশে উৎপাদন করা সম্ভব।
বিনা চাষে আলু আবাদ
……………………
আলুর ফলন ভাল হওয়া সত্বেও বিভিন্ন এলাকায় কোল্ড-স্টোরেজ সংকটে পড়ে অনেক আলু নষ্ট হয়ে যায়। তারপর আবার সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় চাষ খরচও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে খরচ কমিয়ে এই ফসল চাষ করার পদ্ধতিও আছে। এতে করে যেমন কৃষকের জন্য অনেক সাশ্রয়ী হবে, তেমনি অনেক পতিত জমিও চাষের আওতায় আসবে।
জোয়ার প্লাবিত দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান কাটার পর মাটি শুকাতে অনেক বেশি সময় নেয়ায় সঠিক সময়ে আলু চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেরীতে আবাদের জন্য ফলনও অনেক কমে যায়। তাই যেসব এলাকা নীচু এবং বর্ষার পানি নামতে দেরী হয় সেখানে কৃষকরা বিনা চাষে আলু আবাদ করতে পারেন। এভাবে আবাদের ফলে চাষ খরচ অনেক কম যায় কারণ কচুরিপানার লাভজনক ব্যবহার হয়, একে মালচিং দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করে মাটির রস সবসময় সংরক্ষণ করা য়ায়, সেচ খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়, অনেক কম রাসায়নিক সার দরকার হয়, জমিতে আগাছা কমে যায়, আলু বেশি সুস্বাদু হয় এবং এর আকারও অনেক বড় হয়।
এভাবে আলু চাষের জন্য এমন জমি নির্বাচন করতে হবে যেখানে বৃষ্টিপাত হলে পানি জমে না। সাধারণত উচ্চ ফলনশীল এবং স্থানীয় জাতের ধান কাটার পর জমি ফাঁকা হবার সঙ্গে সঙ্গেই আলু আবাদের সুযোগ ঘটে। কাছাকাছি নদী বা পুকুরে কচুরীপানার উৎস থাকতে হবে। নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত এ আলু চাষের উপযুক্ত সময়। তবে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত বিরনা চাষ পদ্ধতিতে আলু আবাদ সম্ভব।
বীজ ব্যবস্থাপনা: হিমাগারে সংরক্ষিত অনুমোদিত জাত যেমন- কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি শতকে ৬-৮ কেজি বীজের দরকার হবে। ২৫-৩০ গ্রাম ওজনের ছোট আলু বা বড় আলুর কমপক্ষে দুই চোখ বিশিষ্ট কাটা অংশই আলুর বীজের জন্য ভাল। কাটা অংশে ছাই লাগিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। রোপণের আগে এসব বীজ অনুমোদিত ছত্রাকনাশক (যেমন-ব্যাভিস্টিন বা ডাইথেন এম-৪৫) দিয়ে শোধন করে নেয়া ভাল। ২০ ইঞ্চি দূরে সারি করে ১০ ইঞ্চি দূরে প্রতিটি বীজ আঙুলের চাপ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। যদি মাটি কিছুটা শক্ত হয় তবে হাত লাঙল টেনে ১০ সেঃ মিঃ গভীর করে নালায় বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা: বীজ রোপণের আগে শতক প্রতি ১.৩ কেজি ইউরিয়া এবং আধা কেজি টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে। বীজ রোপণের আগের দিন পটাশ ও গোবর সার একত্রে মিশিয়ে ছিঁটিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে বীজের গায়ে যেন কোনভাবেই রাসায়নিক সার না লাগে।
মালচিং বা আচ্ছাদন: কচুরিপানা, খড়, নাড়া ইত্যাদি আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নদী বা খাল থেকে কচুরীপানা তুলে রেখে দিয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়ে শুকালে সেটি আ