06/07/2026
# # **প্রশ্নপত্রের পরিচিতি ও নির্দেশনা**
* **পরীক্ষার নাম:** ফেনী জহিরিয়া জামে মসজিদের প্রথম ইমাম নির্বাচনের প্রশ্নপত্র
* **পূর্ণমান:** ৪০ | **সময়:** ১ ঘণ্টা
* **নির্দেশনা:** আরবি, উর্দু বা বাংলা—যেকোনো ভাষায় যেকোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
# # **১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (السؤال الأول)**
**প্রশ্ন:** সূরা "আল-আদিয়াত" মুখস্থ লেখো, অতঃপর এর অনুবাদ ও মূল দাবি/শিক্ষা বর্ণনা করো। (মান: ১৪)
# # # **ক) সূরা আল-আদিয়াত (আরবি)**
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
১. وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحًا
২. فَالْمُورِيَاتِ قَدْحًا
৩. فَالْمُغِيرَاتِ صُبْحًا
৪. فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعًا
৫. فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا
৬. إِنَّ الْإِنسَانَ لِرَبِّهِ لَكَنُودٌ
৭. وَإِنَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ لَشَهِيدٌ
৮. وَإِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيدٌ
৯. أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ
১০. وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ
১১. إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّخَبِيرٌ
# # # **খ) বাংলা অনুবাদ**
১. শপথ উর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বসমূহের,
২. অতঃপর খুর আঘাত করে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপকারী অশ্বসমূহের,
৩. অতঃপর সকালবেলায় আক্রমণকারী অশ্বসমূহের,
৪. ফলে সে সময়ে ধূলি উড়ায়,
৫. অতঃপর শত্রুদলের মাঝখানে ঢুকে পড়ে,
৬. নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অত্যন্ত অकृतজ্ঞ।
৭. এবং সে নিজেই এ বিষয়ে সাক্ষী।
৮. এবং সে ধন-সম্পদের মোহে অত্যন্ত আসক্ত।
৯. তবে কি সে জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থাপিত হবে?
১০. এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করা হবে?
১১. নিশ্চয়ই তাদের রব সেদিন তাদের সম্পর্কে পূর্ণ সম্যক অবগত।
# # # **গ) সূরার মূল দাবি ও শিক্ষা (مطالب)**
* **আল্লাহর নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা:** মানুষ আল্লাহর দেওয়া জীবন ও সম্পদ পেয়েও তাঁর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা বর্জনীয়।
* **সম্পদের অতিমোহ:** মানুষের স্বভাবজাত ধন-সম্পদের লোভকে এখানে নিন্দা করা হয়েছে।
* **আখিরাতের জবাবদিহিতা:** মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মৃত্যুর পর কবর থেকে পুনরুত্থান এবং অন্তরের গোপন নিয়তের হিসাব নেওয়া হবে।
# # **২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (السؤال الثاني)**
**প্রশ্ন:** সূরা "আল-কারিয়াহ" মুখস্থ লেখো, অতঃপর এর অনুবাদ ও মূল দাবি/শিক্ষা বর্ণনা করো। (মান: ১৪)
# # # **ক) সূরা আল-কারিয়াহ (আরবি)**
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
১. الْقَارِعَةُ
২. مَا الْقَارِعَةُ
৩. وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ
৪. يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ
৫. وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ
৬. فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ
৭. فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ
৮. وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ
৯. فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ
১০. وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ
১১. نَارٌ حَامِيَةٌ
# # # **খ) বাংলা অনুবাদ**
১. মহাপ্রলয় (কিয়ামত)!
২. মহাপ্রলয় কী?
৩. তুমি কি জানো মহাপ্রলয় কী?
৪. সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো,
৫. এবং পর্বতসমূহ হবে ধুনিত রঙিন পশমের মতো।
৬. অতঃপর যার (নেক আমলের) পাল্লা ভারী হবে,
৭. সে এক সন্তোষজনক ও সুখী জীবনে থাকবে।
৮. আর যার (নেক আমলের) পাল্লা হালকা হবে,
৯. তার ঠিকানা হবে 'হাবিয়াহ' (গভীর গর্ত/জাহান্নাম)।
১০. তুমি কি জানো তা কী?
১১. তা হলো অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন!
# # # **গ) সূরার মূল দাবি ও শিক্ষা (مطالب)**
* **কিয়ামতের ভয়াবহতা:** কিয়ামতের দিন প্রকৃতির চেনা রূপ সম্পূর্ণ বদলে যাবে, পাহাড় তুলার মতো উড়বে।
* **আমলনামা ওজন:** মানুষের ভালো ও মন্দ কাজের পরিমাপ করা হবে (মিযান)।
* **চূড়ান্ত পরিণতি:** পরকালে মানুষের স্থান কেবল দুটি—হয় চিরসুখের জান্নাত, না হয় জ্বলন্ত জাহান্নাম।
# # **৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (السؤال الثالث)**
**প্রশ্ন:** হযরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসটিতে হরকত (জের-জবর-পেশ) দাও, অনুবাদ করো এবং এর সারমর্ম বুঝিয়ে দাও। (মান: ১৩)
# # # **ক) হরকতসহ হাদীস শরীফ**
> عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْنِ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا أَنْتَظِرُ الْآخَرَ: حَدَّثَنَا: "إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جِذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ". وَحَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِهَا قَالَ: "يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْوَكْتِ ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ مَجْلِ الْجَمْرِ كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ، وَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ وَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّي الْأَمَانَةَ فَيُقَالُ: إِنَّ فِي بَنِي فُلَانٍ رَجُلًا أَمِينًا وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ: مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدَهُ وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ".
>
# # # **খ) বাংলা অনুবাদ**
হযরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যার একটি আমি (বাস্তবায়িত) দেখেছি এবং অপরটির প্রতীক্ষা করছি। তিনি আমাদের বলেছেন: **"আমানতদারিতা মানুষের অন্তরের মূলে অবতীর্ণ হয়েছিল, তারপর তারা কুরআন থেকে জ্ঞান লাভ করেছে এবং সুন্নাহ থেকে জ্ঞান লাভ করেছে।"**
অতঃপর তিনি আমাদের কাছে আমানত উঠে যাওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা করে বললেন: **"মানুষ ঘুমাবে, আর তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে, ফলে তার সামান্য কালো দাগের মতো চিহ্ন বাকি থাকবে। তারপর সে আবার ঘুমাবে, তখন আবার আমানত তুলে নেওয়া হবে, ফলে ফোস্কার মতো তার দাগ বাকি থাকবে; যেমন একটি জ্বলন্ত অঙ্গার তুমি তোমার পায়ের ওপর গড়িয়ে দিলে এবং তা ফুলে উঠল, তুমি তা ফোলা দেখছ অথচ তার ভেতরে কিছু নেই। এরপর মানুষ সকালে উঠে কেনাবেচা করবে, কিন্তু কেউই আমানত রক্ষা করতে চাইবে না। এমনকি বলা হবে, 'অমুক বংশে একজন আমানতদার লোক আছে।' এবং কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে, 'সে কতই না বুদ্ধিমান! কতই না চতুর! কতই না বীর!' অথচ তার অন্তরে একটি সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে না।"**
# # # **গ) হাদীসের শিক্ষা ও দাবি (مطالب)**
* **আমানতের গুরুত্ব:** আমানতদারিতা মানুষের ঈমানের মূল ভিত্তি, যা মানুষ কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে মজবুত করে।
* **কিয়ামতের আলামত:** শেষ জামানায় মানুষের অন্তর থেকে সততা ও আমানতদারিতা উঠে যাবে। বাহ্যিক চাতুর্য বা বুদ্ধিমত্তা থাকলেও মানুষের অন্তরে খাঁটি ঈমান থাকবে না।
# # **৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (السؤال الرابع)**
**প্রশ্ন:** উদ্দীপকে উল্লেখিত ফিকহী ইবারতটির (অনুচ্ছেদ) অনুবাদ করো এবং ইমামদের মতভেদসহ মাসআলাটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা করো। (মান: ১৩)
# # # **ক) ইবারতের বাংলা অনুবাদ**
"তাঁর উক্তি: *'রক্ত এবং পুঁজ যখন শরীর থেকে বের হয়ে এমন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে যা পবিত্র করার (ধোয়ার) বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং মুখভর্তি বমি...'*"
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: *"দুটি রাস্তা (মূত্র ও মলদ্বার) ব্যতীত অন্য অঙ্গ থেকে যা বের হয় তা ওযু ভঙ্গ করে না। কারণ বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বমি করেছেন কিন্তু ওযু করেননি। তাছাড়া, আঘাতের স্থান ধৌত করা একটি ইবাদত সংক্রান্ত বিষয় (তাআব্বুদী), তাই এটি শরীয়তের মূল উৎসের (প্রধান দুটি নির্গমন পথ) ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে।"*
আমাদের (হানাফী মাযহাবের) দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: *"প্রত্যেক প্রবাহিত রক্তের কারণে ওযু ওয়াজিব।"* এবং তাঁর বাণী: *"যার বমি হবে বা নাক দিয়ে রক্ত পড়বে, সে যেন নামায ছেড়ে গিয়ে ওযু করে নেয় এবং তার নামাযের বাকি অংশ পূর্ণ করে, যতক্ষণ না সে কথা বলে।"* তাছাড়া নাপাকী বের হওয়া পবিত্রতা নষ্টের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে এবং এই যুক্তিটি বোধগম্য (মা'কূল)। আর ওযুর চার অঙ্গে সীমাবদ্ধ রাখা যুক্তি বহির্ভূত (গায়রে মা'কূল), তবে প্রয়োজনে প্রথম অঙ্গে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে শুধু বের হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং প্রবাহিত হয়ে পবিত্রকরণের স্থানে পৌঁছালেই ওযু ভঙ্গ হওয়া সাব্যস্ত হবে।
# # # **খ) মাসআলার বিবরণ ও ইমামদের মতভেদ (الإختلاف)**
মাসআলাটি হলো: **"লজ্জাঝাঁড় বা প্রধান দুটি পথ ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অংশ থেকে রক্ত, পুঁজ বের হলে বা বমি হলে ওযু ভাঙবে কি না?"**
* **ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মত:** শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা বমি হলে ওযু ভাঙবে না (যতক্ষণ না তা মূল দুটি রাস্তা দিয়ে বের হয়)। তাঁর যুক্তি হলো, ওযুর বিধান সম্পূর্ণ 'তাআব্বুদী' বা যুক্তির ঊর্ধ্বে। হাদীসে বমি করার পর ওযু না করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
* **ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফী মাযহাবের মত:** শরীর থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে যদি তা প্রবাহিত হয় (যে অংশ ধোয়া ফরয বা সুন্নাত সেখানে পৌঁছায়) অথবা মুখভর্তি বমি হয়, তবে ওযু ভেঙে যাবে। তাঁদের দলিল হলো, নাপাকী শরীর থেকে বের হওয়াই ওযু ভাঙার মূল কারণ। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন, যেখানে রক্তপ্রবাহ ও বমির কারণে ওযুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
**[প্রশ্নপত্রের সমাপ্তি উক্তি: আল্লাহ তোমাদের উত্তম উত্তর দেওয়ার তাওফীক দান করুন]**