17/11/2021
'অনার্স থার্ড ইয়ারে থাকতে এক স্বনামধন্য প্রফেসর স্যারের ছেলেকে পড়াতাম। নিজের শিক্ষকের ছেলেকে তার বাসায় পড়াতে গিয়ে দেখলাম, আমি পড়ার টেবিলে বসলে আমার স্টুডেন্ট যতটা তাড়াহুড়া করে তার বই খাতা আনতো, তার চেয়ে প্রফেসর স্যার আরো দ্রুত তার ছেলের বই খাতা নিয়ে আসতো আই মিন ছেলেকে হেল্প করতেন। ওনার ছেলে পড়া না শিখলে স্যার এসে ক্ষমা চেয়ে নিতেন! মারার জন্যে বেত দিয়ে যেতেন!
আমার প্রতি আমার ছাত্রের যতটা না ভক্তি ছিলো, তার চেয়েও বেশি ভক্তি এবং শ্রদ্ধা ঐ প্রফেসর স্যার আমাকে করতেন। আমি নিজেই লজ্জা পেয়ে যেতাম। চুপ করে থাকতাম স্যারের কান্ড দেখে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আরও বেড়ে যেতো।
স্যারকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম, 'স্যার আপনি তো আমাকে নাম ধরেই ডাকতে পারেন!' তখন স্যার উত্তর দিলেন, "মা, আমি যেভাবে তোমাকে ট্রিট করবো, আমার ছেলেও তোমাকে সেভাবেই ট্রিট করবে, আমি তোমাকে সম্মান প্রদর্শন না করলে, সে শিখবে কোথা থেকে? আমার ছেলে, শিক্ষকের সম্মান বুঝবে কি করে, আমি যদি তার শিক্ষককে ঐ সম্মানটা দিতে না পারি!'
আমি জাস্ট অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম!!
এখনকার বাবা-মা'রা তার ছেলে-মেয়েদের সামনেই শিক্ষককে প্রশ্ন করে -- কি ব্যাপার কাল আসলা না কেনো? সময় দিয়ে পড়াও না কেনো? শিখায়ে দাওনা কেনো? তোমার পড়ানো বুঝেনা কেনো? শিক্ষক বেরিয়ে গেলে তার মোজার গন্ধ- মুখের গন্ধ- পোশাক নিয়ে হাসাহাসি হয়!!! আরও অনেক কিছু!
অভিভাবক হিসেবে যে শিক্ষককে অসম্মান করছি তার স্টুডেন্ট এর সামনে, সেই শিক্ষক যদি তাকে পড়াশোনা গলাধঃকরণ করেও দেয়, দিন শেষে এই শিক্ষা আপনার ছেলে-মেয়ের কোনো কাজে আসবেনা! লিখে রাখেন! কারন স্ব-সম্মানিত মানুষ যা বুঝাবে আপনার ছেলে-মেয়ে তার কিয়দংশ হলেও গ্রহন করতে পারবে। আর অসম্মানিত মানুষ আপনার বাচ্চাকে যা-ই পড়াক না কেনো, ঐ পড়া কিন্তু তার মাথায় সহজে ঢুকবেনা। কারণ সন্তানের কাছে ঐ শিক্ষকের ভ্যালু আপনি যদি না দেন।