22/09/2018
সরবশক্তিমান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন “আশরাফুল মাখলুকাত” হিসাবে মানুষের জন্য নির্ধারিত অশেষ রহমতের অন্যতম একটি রহমত হোল প্রানিসম্পদ। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রানিসম্পদের অন্যান্য প্রজাতির মাঝে গরু “সমন্বিত কৃষি খামার পদ্ধতির” একটি গ্রহণযোগ্য উপযোগী ও গুরত্তপুরন উপাদান। নামে গরু হলেও কাজে আমাদের জীবন ও জীবিকার অতি প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন অশেষ রহমত হিসাবে আদর্শ পুষ্টিকর খাদ্য দুধ ও দুধজাত পণ্য, গোস্ত ও গোস্তজাত পণ্য, জ্বালানি হিসাবে ঘুঁটা, লুন্দা, জমির জন্য আদর্শ কম্পসট সার, অথবা বিজ্ঞানের যাদু “বায়োগ্যাস প্লান্ট” প্রদান করে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে গরু একটি অবিছেদ্দ অংশ হিসাবে কৃষির পাশাপাশি আদিকাল হতে পালন করে আসছে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবার তাদের কৃষি কাজের পাশাপাশি প্রানিসম্পদ হিসাবে গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি পালন করে কম পুঁজি ও কায়িক শ্রমে, বিনিময়ে “জীবন্ত ব্যাংক হিসাবে” প্রানিসম্পদ পরিবারের যেকোনো জরুরী প্রয়োজনে অর্থের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সকল সদস্যর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, পাশাপাশি অবদান রাখে বাংলাদেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে।
প্রানিসম্পদের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবারের জীবন ও জীবিকার মান উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য প্রানিসম্পদের অর্থনীতিক গুরুত্ব উপলব্ধি করতঃ আমাদের উপলব্ধি করতে হবে প্রানিসম্পদের সাথে ধর্মীয় ভাবের যোগসাধন যা নিচে বিবরণের চেষ্টামাত্রঃ
• পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ্ ঘোষণা করেছেন “ মানুষ জাতির জন্য কল্যাণ রয়েছে চার পা যুক্ত পশুর মাঝেও, তবে কেন তোমরা শুকরিয়া করবেনা সরবশক্তিমান আল্লাহ্ তা’আলার? (সুরা ইয়াছিন, আয়াত ৭৩)
• পবিত্র কুরআন শরীফে মোট ১১৪ টি সুরার মাঝে ২ টি সুরার নামকরণ করা হয়েছে গরু প্রজাতি হতে যার মধ্যে একটি সুরা “ আল-বাকারা” যার অর্থ গাভী in English Cow, অপরটি “আল-আ’নাম” যার অর্থ গরু /Cattle বা চার পা যুক্ত তৃণভোজী গবাদি পশু যথা গরু, মহিষ, ছাগল, ভেরা, উট, দুম্বা।
• চিন্তার বিষয় আল্লাহ্ তা’আলার অসংখ্য মাখলুকাতের মাঝে গরু এতটাই পছন্দ যে দুই- দুইটা সুরা অবতীর্ণ করলেন গরু প্রজাতির নামে। আমরা আমাদের সন্তানের নামকরণের পূরবে অর্থ যুক্ত ভালো নামকরণ করতে হয়েছে অথবা আমাদের পিতামাতা আমাদের নামকরণ অনেক চিন্তা-ভাবনা করে রেখেছেন, সেইখানে আল্লাহ্ জ্ঞানীর জ্ঞানী মহা জ্ঞানী, কেনইবা আল্লাহ্ পবিত্র কুরআন শরীফে মোট ১১৪ টি সুরার মাঝে ২ টি সুরার নামকরণ করলেন গরু প্রজাতি হতে, গাভী ও গরু নামে।
• আমাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে যেখানে পবিত্র কুরআন শরীফের প্রথম সুরা-ফাতিহার ৫ম আয়াতে “ আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাও” বলে আল্লাহ্র কাছে দিক নিরদেশনা চাওয়া হচ্ছে সঠিক রাস্তার আর দ্বিতীয় সুরা নাযিল করলেন গাভী নাম দিয়ে । হয়তবা গাভী পালনের মাঝেই কল্যাণ এমনই নির্দেশনা আল্লাহ্ তা’আলার।
• হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সুন্নাত হিসাবে হযরত ইসমাইল (আঃ) এর পরিবরতে দুম্বা কুরবানির মাধ্যমে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইদ-উল-আযহা পালন করা হয় যেখানে স্পষ্টভাবে প্রানিসম্পদেরই সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু উপলব্ধি করার বিষয়, আজ হাট হতে গরু/ছাগল কিনে কাল কুরবানি করলে সন্তান কুরবানির আত্মত্যাগ আসবে কি করে যদিনা গরু জন্ম হওয়া থেকে শুরু করে যত্ন করে পালন করে কুরবানি করা হয়। নিজের হাতে মায়া মমতায় অতি যত্ন সহকারে লালন-পালন করে যখন কেও কুরবানী করতে পারবেন তখনই হয়তবা উপলব্ধি করা সম্ভব হবে বাবা হিসাবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মনের অবস্থা যখন তিনি আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে নিজ সন্তান হযরত ইসমাইল (আঃ) এর গলায় কুরবানী করার উদ্দেশ্য চাকু ধরেছিলেন।
• শুধুমাত্র ইদ-উল-আযহাই নয়, মুসলমানদের অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন আকিকা, বিবাহ ইত্যাদির সাথে প্রানিসম্পদের উল্লেখযোগ্য সম্পরক রয়েছে।
• মানুষ জাতির মতই প্রানিসম্পদেরও ইতিহাস অতি প্রাচিন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবী জুরে সকল জাতি সেই আদিকাল হতে প্রানিসম্পদ পালন করে আসছে। পৃথিবীর সকল নবী-রাসুলও প্রানিসম্পদ পালন করেছেন যার মধ্যে রয়েছেন আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) যিনি মক্কায় প্রানিসম্পদ পালন করেছেন।
• ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত আবু বক্কার (রাঃ) প্রানি চিকিৎসায় পারদর্শী ছিলেন।
• পবিত্র কুরআন শরীফ হতে পাওয়া যায়, হযরত সয়ায়েব (আঃ) এর কন্যাগণ প্রানিসম্পদ হিসাবে ছাগল পালন করতেন।
• ইসলাম ধরমের ন্যায় পৃথিবীর অন্যান্য ধরম যেমন হিন্দু, জৈন সহ অন্যান্য প্রাচীন ধরমে গরু একটি যুক্তিসঙ্গত সমালোচনার উরধে পরম পবিত্র বলে বিবেচিত। হিন্দু সম্প্রদায়ে গাভীকে “মা” জাতির সাথে তুলনা করা হয়েছে (ভারতে গো-মাতা হিসাবে পরিচিত) এবং প্রাচীনকাল হতে সম্পদের ধারক হিসাবে চিন্তা করা হয়।
• শুধুমাত্র গ্রামীণ অশিক্ষিত মানুষ নয়, বাকারা ও আনামের শাব্দিক অরথ উপলব্ধি করতে হবে সমাজের শিক্ষিত মানুষদের যারা সত্যিকার অরথে বাকারার খামার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে যেখানে থাকবে সকল প্রকার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কারিগরি সহযোগিতা। হতে পারে সেই বাকারা/আনামের খামার ভেট এক্সিকিউটিভ এর ২৩/২৫ জন ভেটেনারীয়ান দ্বারা। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় কারণ তারা কেও সেই জেলার নয়, চাকুরীর প্রয়োজনে ভিন্ন জেলায়। তাই কেও সেই খামারে বিনিয়গে আগ্রহী নয়। সমাধান হতে পারে বলতে যদি পারতাম আমদের সকলের দেশ বাংলাদেশ। আজ যদি আমরা সকলে মিলে রাজশাহীতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রানিসম্পদ খামার গড়ে তুলতে পারি যা হবে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার বাস্তব শিক্ষা।