08/05/2015
ঘটনাটা আমার এক
আঙ্কেলের কাছে
শোনা, উনার নাম
মফিজুর রহমান ।
উনি ১৯৭১-এ যুদ্ধ
করেছেন । যুদ্ধ
শেষ হবে এমন
সময় কোন একটা
অপারেশনে
উনাদের একজন
যোদ্ধা সাথী
মারা যান কপালে
গুলি খেয়ে, যার
নাম সফি উল্লাহ্ ।
কয়েকদিন বাদেই
যুদ্ধ শেষ হলো ।
আঙ্কেল ঠিক
করলেন সফি
উল্লাহ্র বাড়িতে
যাবেন উনার
মৃত্যুর খবর দিতে ।
সফি উল্লাহ্র কিছু
ব্যক্তিগত চিঠি
থেকে উনার
স্ত্রীর ঠিকানা
জোগাড় করা হলো ।
জায়গাটা
বাগেরহাটের
খান জাহান আলীর
ষাট গম্বুজ
মসজিদের
আশেপাশে কোন
একটা গ্রাম ।
কোন একদিন
আঙ্কেল রওনা
দিলেন, একে তো
রাস্তার অবস্থা
খারাপ তারপর
যুদ্ধ পরবর্তী
অবস্থা । অনেক
কষ্টে সন্ধ্যায়
গিয়ে
পৌঁছালেন ওই
গ্রামে, মানুষ
জনকে জিজ্ঞেস
করে সফি উল্লাহ্র
বাড়িও খুঁজে
পেলেন ।
ছনের কুঁড়ে ঘরের
মত ছোট্ট ঘর,
বাইরে থেকেই
দেখলেন ভিতরে
কুপির আলো জ্বলছে
। উনি সফি
উল্লাহ্র স্ত্রী ও
মেয়ের সাথে
দেখা করলেন আর
তাদের জানালেন
মৃত্যুর খবরটা ।
খবরটা শুনে ওদের
মধ্যে কোন
ভাবান্তর হলো না
। সফি উল্লাহ্র
স্ত্রী বলল হঠাৎ
“আপনি অপেক্ষা
করেন উনি আইসে
পরবিনে ।”
আঙ্কেল বুঝতে
পারলেন না,
ভাবলেন ওদের
কোন আত্মীয়র কথা
বলছে । রাতের
খাবার তিনি
ওখানেই খেলেন,
পরে বাইরে
উঠানে সিগারেট
ধরালেন আর
সারাদিনের কথা
চিন্তা করলেন ।
কেন সফির স্ত্রী
আর মেয়ে কোন
রকম কান্নাকাটি
করল না, কেনই বা
এরকম ভাব করল ।
তখনই হঠাৎ একটা
কণ্ঠস্বর বলল আরে
মফিজ ভাই কেমন
আছেন ? কণ্ঠস্বর
শুনেই
আঙ্কেল
বুঝেছিলেন এটা
সফির গলা ।
অন্ধকারে সফির
অবয়বটাও ভালোই
বোঝা যাচ্ছে ।
তিনি আর অপেক্ষা
না করে পিছনের
মাঠ দিয়ে
দৌড়াতে লাগলেন
। পালানোর সময়
পিছন দিক দিয়ে
বিকট আর অদ্ভুত
আওয়াজ
পাচ্ছিলেন, এক
পর্যায়ে তিনি
অজ্ঞান হয়ে যান ।
সকালের দিকে
জ্ঞান ফিরলে
তিনি দেখেন
তিনি খান জাহান
আলীর দীঘির
পাশে পড়ে আছেন ।
আশেপাশে লোকজন,
তিনি সবাইকে
ঘটনা খুলে বলেন ।
ওরা জানায়
কিছুদিন আগে
পাকিস্তানিরা
ওই বাড়িতে আগুন
ধরিয়ে দেয় আর
মা ও মেয়ে মারা
যায় ।
উনি পরে গিয়ে
ওখানে কোন বাড়ি
দেখতে পাননি ।
যেই লোক বাড়ির
পথ দেখিয়েছিল
তাকেও পাননি
খুঁজে । পড়ে তিনি
ফিরে আসেন । সফি
উল্লাহ্ একটা
অপারেশনে মারা
যান, উনার লাশ
খুঁজে পাওয়া
যায়নি ।
Amnura HBS College