08/05/2026
‼️ পরকালীন বিচারে পাওনাদারদের অধিকার আদায়ের মাধ্যমে প্রকৃত দেউলিয়া হওয়ার সতর্কতা
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো প্রকৃত দেউলিয়া বা ইফলাসগ্রস্ত ব্যক্তি কে? সাহাবায়ে কেরাম উত্তর দিলেন, আমাদের মধ্যে যার কোনো দিরহাম বা অর্থসম্পদ নেই, তাকেই আমরা দেউলিয়া মনে করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম এবং যাকাত নিয়ে আসবে। কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো ওপর অপবাদ আরোপ করেছে, কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। তখন সেই নির্যাতিত ব্যক্তিদের একে একে সামনে আনা হবে। সে ব্যক্তি তার কৃতকর্মের বদলা হিসেবে তার সালাত, সাওম ও যাকাতের নেক আমল থেকে পাওনাদারদের অধিকার পরিশোধ করতে থাকবে। এভাবে পাওনাদারদের অধিকার পরিশোধ করতে করতে তার সমস্ত নেক আমল নিঃশেষ হয়ে যাবে। এরপরও যদি পাওনাদারদের হক বাকি থেকে যায়, তবে সেই পাওনাদারদের গুনাহগুলো তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এটিই হলো সেই ব্যক্তির চরম দুর্ভাগ্যের দিন, যে দুনিয়াতে ইবাদত করেও কিয়ামতের ময়দানে পাওনাদারের পাওনা পরিশোধের চাপে নিঃস্ব ও দেউলিয়া হয়ে গেল।
Reference: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৮১।
Key Points:
✧ প্রকৃত দেউলিয়া বা ইফলাস কেবল আর্থিক নিঃস্বতা নয়, বরং ইবাদত করেও পাওনাদারের হক আদায় করতে গিয়ে নেক আমল হারিয়ে জাহান্নামী হওয়া। ✧ মানুষের হক বা অধিকার নষ্ট করা অত্যন্ত ভয়ংকর অপরাধ, যা পরকালে ইবাদতের বিনিময়েও শোধ করতে হয়। ✧ কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে হলে দুনিয়াতেই মানুষের পাওনা পরিশোধ করা এবং কারো প্রতি অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।