25/01/2024
🔴 অনুশীলন একাডেমী প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট 🔴
Courtesy : Abu Hanif Chowdhury
সময়টা ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাস। স্কুল করার ধারনা প্রথম সোয়াইবুল ইসলাম সবুজের সাথে শেয়ার করি। এর পূর্বে এলাকায় উদ্যমী, মেধাবী ও পরিশ্রমী একজনকে নির্বাচন করার জন্য প্রায় সবখানে পর্যবেক্ষন করি। সেদিন আমার চোখে তার বিকল্প ছিল না। স্কুলের ধারনাটা তার কাছে খুবই চমৎকার মনে হয়েছে বলে জানাল। আমি এটি ভেবে স্বস্তি পেলাম যে,প্রথম পদক্ষেপটা যথাযথ হল। এবার বাস্তবায়ন পর্যায়। প্রায় প্রতিদিন তার সাথে বৈঠক হত। সামাজিক সমর্থন, গৃহ নির্মাণ, পাঠদান পদ্ধতি, নাম, শিক্ষক নির্বাচন ইত্যাদি নানা বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা তৈরী করতে থাকি। এপর্যায়ে আমি বুঝে গেলাম, এই তরুনের হাত সৃষ্টিশীল কাজের জন্য ব্যার্থ হবার নয়।
স্কুল প্রতিষ্টার প্রেক্ষাপট । তখন মাতামুহুরী নদীর এপারে সরকারী-বেসরকারী বৃত্তি প্রাপ্তির হার ছিল প্রায় শুন্য। মানসম্মত শিক্ষা বলতে শীলখালী আর বিদ্যাপীঠকে নির্দেশ করত। ফলে তাবৎ এলাকার শিক্ষানুরাগীগণ ওই বিদ্যালয়ে ভীড় জমাত।
আমি আর সবুজ প্রতি বিকালবেলা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে দেখা করতে থাকি। তাঁদের কাছে নতুন একটি স্কুল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করি। এবিষয়ে তাঁদের পরামর্শ গ্রহন অব্যাহত রাখি।একটি শক্তিশালী জনমত অনুকুলে আসতে থাকে।
অপরদিকে স্কুলের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়। বিলের একেবারে দক্ষিণ পুর্ব কোণের উঁচু একখণ্ড জমি।তার সামান্য পিছনেই ছিল ইট ভাটার ৭/৮ হাত গভীর গর্ত। ইট তৈরীর জন্য মাটি তোলার ফলে গর্তটি সৃষ্টি হয়ে থাকবে। ৪০/৫০ হাত দূর হতে মাটি এনে গর্তটি ভরাটের উদ্যোগ গ্রহন করি। এত অর্থ ছিলনা যে শ্রমিক দিয়ে গর্ত ভরাট করব! তাই রাতেরবেলা আবছার ভাই, ইব্রাহীম হুজুর, আমি ভ্যান গাড়ি দিয়ে মাটি ভরাট করতে থাকি। এ কার্যক্রমে আর কেউ ছিল কিনা স্মরণে নেই। খুব সম্ভব ২০/২৫ দিন মাটি ভরাট করতে হয়।ঐ স্থানে আমার আর রেজাউল করিমের একটি নার্সারী ছিল। নার্সারীর অফিস ছিল, একটি গোল ঘর। বাঁশ শনে নির্মিত ঘরটি বেশ সুন্দরই দেখাত। ঐ ঘরসহ বিদ্যালয়টি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমাদের নার্সারী বিলের উত্তর পশ্চিম কোণায় পুন:স্থাপনের কার্যক্রমও চলতে থাকে। এ সময় আমার আর সবুজের চোখে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্নই যেন ঘুরপাক খাচ্ছিল।৷
এবার ভয় হচ্ছিল, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী পাচ্ছি কিনা। গণসংযোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থী যোগাড়ের জোর তৎপরতা চালাতে থাকলাম। এই দৌঁড়-ঝাপে আমার চাইতে সবুজের শ্রমই বেশি ছিল। কেননা আমার একখানা অর্ধ দিবসের চাকুরি ছিল। স্কুলগৃহ নির্মাণের টাকা জোগাড় হয় চড়া মূল্যে। আজ এ বিষয়ে লিখছি না। পরে ছাপার অক্ষরে বিস্তারিত লিখার জন্য তোলা রইল। সিকদার পাড়া থেকে সেন্টারিং এর বাঁশ কেনে আনে সবুজ। বাঁশ-শন দিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্যের একটি স্কুল ঘর তৈরী হয়। ঘরের কাঠ দিয়ে বেশ কিছু ফার্নিসারও বানানো সম্পন্ন হয়। অন্তরালে বেশ কজন হাসাহাসি করতেও ছাড়েনি। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ফেল অনিবার্য।
জনাব আবু তাহের আজিজি, জনাব ডা আবু তাহের, এম, ইউ, পি মরহুম নূরুল আবছার, জনাব মরহুম ফারুক সওদাগর, সবুজের সম্মানিত পিতা মরহুম মীর কাসেম সাহেব, জনাব হায়দার আলী স্যার প্রধান শিক্ষক ভেওলা মানিক চর উচ্চ বিদ্যালয়,জনাব নেওয়াজ সাহেব, জনাব রেজাউল করিম,(আমার পার্টনার) এর অকুন্ঠ সমর্থন আমাদের পথ চলাকে মসৃণ করে দিচ্ছিল।
ইতিমধ্যে স্কুলের একটি নামও স্থির করা হয়। আমরা অনেকগুলো নাম সংগ্রহ করে ছিলাম। কিন্তু প্রফেসর জনাব রশিদ আহমদ সাহেবের প্রস্তাবিত অনুশীলন একাডেমী নামটি আমাদের পছন্দ হয়।
সবুজ আর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলই করব। চট্টগ্রাম থেকে দুই/তিন ক্লাসের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বই সংগ্রহ করি।স্কুলের পাবলিসিটি জন্য পোস্টার প্রয়োজন।বড় ভাই নাসিম হাসান বাবুল কিছু ইংরেজীতে পোষ্টার লিখে দেন। কিন্তু বইগুলো পড়ে বুঝলাম,এটা হবার নয়।তাই বাংলা মাধ্যমে ফিরার সিদ্ধান্ত নেই।স্কুলের একটি ব্যাবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয়।আবু তাহের আজিজী, ডাঃআবু তাহের, দেলোয়ার হোসেন এম,ইউ,পি,আমি এবং সবুজ নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। প্রথম বছর আমি বিদ্যালয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করি ( সে সময়ের রিজুলেশন বইটি আছে)।স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৯৬ সালের ১ম কার্যদিবসটি শুরু হয়। মাসিক ১০০ টাকা ফি নেবার সিদ্ধান্ত ছিল। মাত্র১৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।
খুবই অল্প শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুলের প্রচন্ড দৈনতায় স্কুলের শুরু।তৈয়বা খানম,মৌলভী ইব্রাহীম,জসীম উদ্দিন, সবুজ আর আমি,এই হলো শিক্ষকমন্ডলী। হিসাব নিকাশ সবই সবুজের হাতে।আমরা প্রত্যেকেই মাসে ২০০ টাকা করে সম্মানী পেতাম। সেমিষ্টার পদ্ধতি, নৈশকালীন শিক্ষার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়
লুটেরা গোষ্ঠী এটি লুন্টনের মাধ্যমে কৃর্তীমান হবার হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করেছে বা করছে তাদের বেশীর ভাগ সে সময় বালেগ হয়েছ কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন। একজনকে দেখি কি গভীর প্রচেষ্ঠায় লুন্ঠিত ধনের যত্ন নিচ্ছে।লজ্জা! যেন তার বাবার সম্পত্তি।