19/05/2026
জামিয়াতুল আজহার থেকে এবারই প্রথম ৫ম, ৭ম ও ৯ম শ্রেণীর ২৯ জন বাছাইকৃত শিক্ষার্থী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (২০২৫-২৬) বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।
শিক্ষক শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর শিক্ষার্থীদের কঠোর সাধনায় সবার মনে অন্তত এই আত্মবিশ্বাস ছিল, প্রথমবার হিসেবে রেজাল্ট যেমনই হোক, কেউ “ফেল” করার মতো পরীক্ষা দেয়নি।
কিন্তু রেজাল্ট প্রকাশের পর যা দেখা গেল, তা শুধু হতাশাজনকই নয়, রীতিমতো অবিশ্বাস্য এবং কলঙ্কজনক! অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে গণহারে “ফেল” করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবাস্তব রেজাল্ট শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহলের কারো পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না।
আমরা জানি, কওমি মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে আসে। ফলে পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) যে খরচ, তা বহন করার সামর্থ্য এই অসহায় পরিবারগুলোর ছিল না। কিন্তু নিজেদের মেধা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর শতভাগ ভরসা রেখে, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও মাত্র ২ জন অভিভাবক চ্যালেঞ্জ করে ২/১ টি বিষয়ে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।
আর এখানেই বেরিয়ে এলো বেফাকের থলের বিড়াল!
পুনঃনিরীক্ষণের পর দেখা গেল, একেকটি বিষয়ে প্রায় ১২ থেকে ২০ নম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে! (ভাবা যায়?) যে শিক্ষার্থীকে খাতায় ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা আসলে সসম্মানে পাস করেছে!
মাত্র দুই-একটা বিষয়ের খাতা দেখেই যদি এই হাহাকার অবস্থা বের হয়, তবে আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস! বাকি শিক্ষার্থীদের সবগুলো খাতা যদি সঠিকভাবে পুনরায় যাচাই করা হয়, তবে পুরো রেজাল্টই পাল্টে যাবে। অনুত্তীর্ণ দেখানো সিংহভাগ শিক্ষার্থীই মেধার ভিত্তিতে পাস করে যাবে।
বেফাকের দায়িত্বশীলদের প্রতি আমাদের তীব্র ধিক্কার ও প্রশ্ন:
১. এটা কি আপনাদের চরম কান্ডজ্ঞানহীনতা এবং খামখেয়ালিপনা নয়?
২. খাতা মূল্যায়নের নামে নিরীহ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে?
৩. যেসব গরিব শিক্ষার্থী টাকার অভাবে খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারল না, তাদের এই মানসিক নির্যাতন আর এক বছরের জীবন ধ্বংসের দায় কে নেবে?
পরীক্ষকদের এমন অন্ধ ও দায়িত্বহীন মূল্যায়নের কারণে আজ শত শত শিক্ষার্থীর কওমি শিক্ষার প্রতি আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চায়, এভাবে খামখেয়ালি করে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন অন্ধকার ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
আমরা অবিলম্বে জামিয়াতুল আজহারসহ ভুক্তভোগী সকল শিক্ষার্থীর খাতা পুনঃমূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, বেফাকের এই চরম স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। গরিবের চোখের পানির হিসাব আপনাদের দিতেই হবে!
#বেফাক_বোর্ড_পরীক্ষা #রেজাল্ট_জালিয়াতি #জবাবদিহিতা_চাই #কওমি_শিক্ষা