14/08/2026
সমাস — সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও সহজে চেনার কৌশল।
নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও জব প্রস্তুতি প্রোগ্রাম সকলের জন্য সমাস।
আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন সবাই?
বাংলা ব্যাকরণের এক মজার রাজ্যে আজ আমরা ঘুরতে যাব। যেখানে শব্দরা হাত ধরাধরি করে নতুন অর্থ তৈরি করে। ভাবছেন, এটা আবার কী? আরে বাবা, এটা হলো “সমাস”!
আচ্ছা, ‘সিংহাসন’ শব্দটি শুনেছেন তো? ‘সিংহের আসন’—এতগুলো কথা না বলে এক শব্দে বলি সিংহাসন। এই যে বহু কথাকে সংক্ষেপ করে এক পদে প্রকাশ করা—এটাই সমাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তাহলে চলুন, সমাসের অলিগলি ঘুরে আসি এবং জেনে নিই এর ভেতরের সবকিছু।
সমাস কী?
সহজ ভাষায়, একাধিক পদকে এক পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
ব্যাকরণের ভাষায়—
“দুই বা ততোধিক পদ এক পদে মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।”
সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করা এবং অল্প কথায় অধিক অর্থ প্রকাশ করা।
যেমন—
বই ও পুস্তক = বইপুস্তক
মা ও বাবা = মা-বাবা
সমাসের প্রয়োজনীয়তা
সমাসের মাধ্যমে—
• ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করা যায়।
• নতুন শব্দ সৃষ্টি করা যায়।
• অল্প কথায় অধিক অর্থ প্রকাশ করা যায়।
• ভাষার সৌন্দর্য ও শ্রুতিমাধুর্য বৃদ্ধি পায়।
সমাসের প্রকারভেদ
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার—
১. দ্বন্দ্ব সমাস
২. কর্মধারয় সমাস
৩. তৎপুরুষ সমাস
৪. বহুব্রীহি সমাস
৫. দ্বিগু সমাস
৬. অব্যয়ীভাব সমাস
সহজে সমাস মনে রাখার উপায়:
“দিক অত বদদোয়া”
দি = দ্বিগু
ক = কর্মধারয়
অ = অব্যয়ীভাব
ত = তৎপুরুষ
ব = বহুব্রীহি
দ = দ্বন্দ্ব
১। দ্বন্দ্ব সমাস
“দ্বন্দ্ব” মানে মিলন বা জোড়া।
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর প্রত্যেকটির অর্থ প্রধান থাকে এবং পরস্পরের মধ্যে ‘ও’, ‘এবং’, ‘আর’ ইত্যাদি অব্যয় দ্বারা সম্পর্ক বোঝানো যায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
উভয় পদ প্রধান।
উদাহরণ
মা ও বাবা = মা-বাবা
ভাই ও বোন = ভাই-বোন
তাল ও তমাল = তাল-তমাল
মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি
চা, বিস্কুট ও কেক = চা-বিস্কুট-কেক
দ্বন্দ্ব সমাসের প্রকারভেদ
দ্বন্দ্ব সমাস প্রধানত চার প্রকার—
১. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
২. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
৩. বহুপদী দ্বন্দ্ব
৪. অলুক দ্বন্দ্ব
উদাহরণ—
চা-বিস্কুট — মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
দা-কুমড়া — বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
হাত-পা-মুখ-চোখ — বহুপদী দ্বন্দ্ব
দুধে-ভাতে — অলুক দ্বন্দ্ব
২। কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন এবং পরপদ বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
উদাহরণ
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
মহান যিনি নবী = মহানবী
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা
নববধূ = নব যে বধূ
কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ
১. সাধারণ কর্মধারয়
২. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
৩. উপমান কর্মধারয়
৪. রূপক কর্মধারয়
৩। তৎপুরুষ সমাস
যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
উদাহরণ
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
দেবকে দত্ত = দেবদত্ত
বইয়ের জন্য আলয় = বইআলয়
তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ
তৎপুরুষ সমাস প্রধানত—
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ
৭. নঞ্ তৎপুরুষ
৮. উপপদ তৎপুরুষ
৯. অলুক তৎপুরুষ
৪। বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
উদাহরণ
যার দশ আনন = দশানন — রাবণ
যার হাতে বীণা = বীণাপাণি — সরস্বতী
নেই জ্ঞান যার = অজ্ঞান
বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
২. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
৩. নঞ্ বহুব্রীহি
৪. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
৫. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
৬. অলুক বহুব্রীহি
৭. ব্যতিহার বহুব্রীহি
৮. উপমান বহুব্রীহি
৫। দ্বিগু সমাস
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বপদ হিসেবে থাকে এবং সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
উদাহরণ
তিন মাথার সমাহার = তেমাথা
পাঁচ নদীর সমাহার = পঞ্চনদ
সাত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি
অষ্টপ্রহর = অষ্ট প্রহরের সমাহার।
৬। অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
উদাহরণ
কূলের সমীপে = উপকূল
মরণ পর্যন্ত = আমরণ
আমিষের অভাব = নিরামিষ
সমাস চেনার সহজ উপায়
সমাস চেনাটা প্রথমে একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে কয়েকটি বিষয় মনে রাখলে সহজেই সমাস শনাক্ত করা যায়।
প্রথমে শব্দটির অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন।
তারপর—
১. শব্দটিকে ভেঙে দেখুন।
২. প্রতিটি পদের অর্থ আলাদাভাবে বের করুন।
৩. কোন পদ প্রধান তা নির্ণয় করুন।
৪. বিভক্তি বা অব্যয় লোপ পেয়েছে কি না দেখুন।
৫. ব্যাসবাক্য তৈরি করে সমাসের ধরন নির্ণয় করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমাসের উদাহরণ
যুবজানি, আশীবিষ, গাঁয়ে-হলুদ, বৌভাত, ঘিয়েভাজা, বীণাপাণি, দশানন, মনমাঝি, ঘরজামাই, দিল্লীশ্বর, পুরুষসিংহ, চাঁদমুখ, চালকুমড়া, জানপাখি, মধুমাখা, ঢেঁকিছাটা, পাতাশূন্য, মনপবন, অষ্টধাতু, আমরা, প্রবাদ, দেশান্তর, মহানবী, বেহায়া, বনে-বাদাড়ে, হাতে-খড়ি, মৌমাছি, রান্নাঘর, মালগাড়ি, তেরনদী, বিলাতফেরত, রাতকানা, নীলাম্বর, শিক্ষামন্ত্রী, আদমশুমারি, নদীমাতৃক, একরোখা, সোনা-রুপা, বৈষম্যবিরোধী, রাষ্ট্রপতি, ত্রিকাল, উপজেলা, আলুনি, হাঘর, একতারা, দোমনা, অরুণরাঙা, চক্ষুলতা, প্রেমডোর,নীলনয়না,লাল-গোলাপ,গিন্নিমা,হজ্জযাত্রা,মেঘলুপ্ত,পাপমতি,বাদুরচোষা,যথারীতি,গুনটানা,নবরত্ন,রেলপথ,লরক্তলাল,ত্রিশূল,সপ্তর্ষী,শাক-সবজি,কদমছাঁটা,ছেলেবৌ,জজসাহেব,দুঃখপ্রাপ্ত,পাগলাগারদ,মনমরা,রজনীগন্ধা,কালঘুম।
মো. আলমগীর হোসেন
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
অগ্নিবীণা শিক্ষা উদ্যান।
নবম-দশম | একাদশ-দ্বাদশ | বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি | জব প্রস্তুতি।
স্বপ্ন দেখাতে নয়, স্বপ্ন পূরণে বিশ্বাসী।
#একাদশ_দ্বাদশ #সমাস #বাংলা #ব্যাকরণ।