25/10/2021
===উপারে ভাল থাকবেন প্রিয় জালাল স্যার===
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাংলা ক্লাসে রচনা শিখতে হতো। সম্ভবত পপী গাইড বই থেকে রচনা শিখেছিলাম "আমার জীবনের লক্ষ্য"। সেই রচনায় আমার জীবনে লক্ষ্য ছিল, শিক্ষক হওয়া। রচনায় শিক্ষকদের পাঠদানের কৌশল, জাতি গড়ায় তাঁদের অবদান ইত্যাদি পড়তাম আর মনে মনে জালাল স্যারের কথা ভাবতাম। স্যার সম্পর্কে আমার কাকা হন, কিন্তু আমি স্যার হিসাবেই বেশি জানি। আমার জীবনে অনেক শিক্ষকের অবদান আছে, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন জালাল স্যার আর উত্তম স্যার। উত্তম স্যার প্রথমশ্রেনী থেকে আমাদের স্কুলে ছিলেন না, পরে এসেছিলেন। জালাল স্যার ছিলেন সেই শিক্ষকদের একজন যিনি পারিবারিক শিক্ষার গন্ডি পেরনোর পর আমাকে অ-আ, ক-খ এর বাকি পথ চলতে শিখিয়েছেন।
তখন আমি সম্ভত তৃতিয় কিংবা চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ি, একদিন ক্লাসে স্যার কি যেন একটা লিখতে দিয়েছিলেন, লিখে সবাই খাতা জমা দিয়েছে, আমিও খাতা জমা দিয়েছি। খাতা দেখে স্যার সাইন করে ফেরত দেওয়ার সময়, আমার খাতায় কি যেন লিখলেন। লিখে বললেন "এটা তোর মা-রে এটা দেখাইস"। আমি তখন স্যারের পেচানো লিখা ঠিক মত পড়তে পাড়ি না। বাসায় এনে আম্মাকে দেখানোর পর আম্মা বললেন, তোরে বৃত্তির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে। যতদূর মনে পড়ে লিখাটি ছিল এমন, এখন থেকেই পরিচর্যা করলে বৃত্তি পাওয়া সম্ভব। এই লিখাটি আমি অনেক দিন রেখে দিয়েছিলাম, আমি বার বার লিখাটি পড়তে চেষ্টা করতাম। আসলে কি লিখেছেন স্যার? কেন লিখেছেন? বৃত্তি কি? ইনিই প্রথম শিক্ষক যিনি আমার মত একজন গড়-পরতা ছাত্রে মাঝে মেধা খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।
আমি ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাইনি, ক্লাস এইটে বৃত্তি পাইনি, আমি এক সাবজেক্টের জন্য মাধ্যমিকে A+ পাইনি। আমি ছোট্ট এক গ্রাম থেকে উঠে আসা গড়-পরতা ছাত্র হয়েও আজ অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখি। স্যার আপনাকে ধন্যবাদ আমার শৈশবের মনে বড় স্বপ্ন দেখার বীজ বপন করে দেওয়ার জন্য।
প্রাথমীক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়, সব স্থরেই কিছু শিক্ষক ছিলেন, যাদের রাস্তায় দেখলে পায়ে ধরে সালাম করতে ইচ্ছা করে। ইনি ছিলেন আমার সেই শিক্ষকদের একজন। গুরু আপনাকে সালাম।
দোয়া করি আল্লাহ্ যেন আপনার ইহকালের সকল ভূল ক্ষমা করে বেহেস্ত দান করেন।
আল ইমরান আহ্মেদ
২৪শে অক্টোবর, ২০২১
ফ্রংফুর্ট, জার্মানি থেকে