Shikerpur High School

Shikerpur High School

Share

Shikarpur High School. Kasba,Brahmanbaria. Bangladesh. স্থাপিত ০১-০১-১৯৮

19/08/2023

গায়েবানা জানাযা কখন পড়া যাবে আর কখন যাবে না
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: গায়েবানা জানাযাার সালাত আদায় করা বৈধ কি?

উত্তর:
🔹 যদি কোন মৃত ব্যক্তির জানাযা না হয়ে থাকে-যেমন, কোন ব্যক্তি অমুসলিম দেশে মৃত্যু বরণ করেছে-যেখানে জানাযা দেয়ার মত কোন মুসলিম ছিলো না বা কোন ব্যক্তি সাগরে ডুবে মারা গেছে এবং তার লাশ পাওয়া যায় নি বা হিংস্র প্রাণী তাকে খেয়ে ফেলায় জানাযা করা সম্ভব হয় নি-তাহলে এ সব ক্ষেত্রে তার গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয আছে। এ ব্যাপারে ওলামাদের মাঝে কোন দ্বিমত নেই।

কিন্তু যদি একবার জানাযা হয়ে থাকে তাহলে তার গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে কি না এ বিষয়টি দ্বিমত পূর্ণ। যথা:
🔹 অনেক আলেমের মতে, একবার জানাযা হলে তার গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে না। কিন্তু মৃত ব্যক্তি যদি এমন হয় যার দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ সাধিত হয়েছে (যেমন বিখ্যাত কোন দাঈ, আলেম, মুজাহিদ বা মুসলিম রাজা বা শাসক ইত্যাদি) তাহলে এ শ্রেণী ব্যক্তিদের গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয আছে; অন্যদের নয়।
🔹 আর একদল আলেমের মতে, একবার জানাযা হলে পুনরায় গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে না। কিন্তু যদি জানাযা না হয়ে থাকে তাহলে পড়া যাবে।

সকল পক্ষই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক হাবশা বা ইথিউপিয়ার বাদশা নাজাশীর গায়বানা জানাযা পড়ার হাদিসকে দলিল হিসেবে পেশ করে থাকেন।

যাহোক,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে মাত্র একজন ব্যক্তির গায়েবানা জানাযা পড়েছেন। তিনি হলেন, হাবশার বাদশাহ নাজাশী। তিনি একজন খৃষ্টান রাজা ছিলেন। পরে ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের অনেক খেদমত করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সে দেশেই মারা যাওয়ায় সেখানে তার জানাযা হয় নি। বিধায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় সাহাবীদেরকে নিয়ে তার গায়েবানা জানাযা আদায় করেছিলেন।
এ ছাড়া বহু সাহাবী ইসলামের দাওয়াত ও জিহাদে গিয়ে দূর-দূরান্তে মৃত্যু বরণ করেছেন কিন্তু তিনি আর কখনো কারো গায়েবানা জানাযা পড়েছেন বলে হাদিস পাওয়া যায় না।
এ কারণে একদল আলেম বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল নাজাশীর গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন এর-কারণ হল, খৃষ্টান দেশে মারা যাওয়ায় কেউ তার জানাযা পড়ে নি। সকল শ্রেণী মৃত ব্যক্তির জন্য পড়া বৈধ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য সাহাবীদের -যারা দূর দূরান্তে মারা গেছেন- তাদেরও তিনি গায়েবানা জানাযা পড়তেন। কিন্তু তা করেন নি।
এতে প্রমাণিত হয়, যার জানাযা হয়েছে তার পুনরায় গায়েবানা জানাযা পড়া ঠিক নয়। দলীল ও যুক্তির নিরিখে এটি অধিক সঠিক মত বলে প্রতিয়মান হয়।

এ মতটিকে পছন্দ করেছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, তার ছাত্র ইবনুল কাইয়েম এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে শাইখ উসাইমীন প্রমূখও এর দিকেই ধাবিত হয়েছেন।

তবে বড় আলেম, রাজা-বাদশাহর পুনরায় গায়েবানা জানাযা পড়ার মতটিকেও অনেক আলেম শক্তিশালী বলেছেন। তাদের মতেও পক্ষে ঐ নাজাশীর গায়েবানা জানাযার হাদিস। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন একজন ব্যক্তির গায়েবানা জানাযার পড়েছেন যিনি ছিলেন ইসলামের খেদমতকারী একজন মহান বাদশাহ। এ মতের পক্ষে সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি ফতোয়া প্রদান করেছেন।

যাহোক, বিষয়টি দ্বিমতপূর্ণ। কিন্তু দলীলের আলোকে ৩য় মতটি অধিক শক্তিশালী মনে হয়। অর্থাৎ একবার জানাযা হলে আর গায়েবানা জানাযা পড়া ঠিক নয়।

তবে কেউ যদি অন্য মত অনুসরণ করে গায়েবানা জানাযা পড়ে তাহলে তাকে বিদআত বা শরিয়া বিরোধী বলার কোন সুযোগ নাই। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, KSA

19/08/2023

গ্রন্থঃ জানাযার নামাযের নিয়ম
অধ্যায়ঃ জানাযার সালাতের নিয়ম


জানাযার সালাতের নিয়ম

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র। আর সালাত ও সালাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের উপর। পরকথা:—

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! যখন দেখলাম সঠিক পদ্ধতিতে জানাযার নামায আদায়ের নিয়ম জানা প্রয়োজন অনেকের, তাই আমি এ সংক্ষিপ্ত লেখাটি লিখলাম। আল্লাহ্‌র তাওফীক কামনা করে বলছি,

(১) মুসলিমদের জানাযার সাথে কাতারে দাঁড়াবেন, মনে মনে জানাযার নামাযের নিয়ত (দৃঢ়সংকল্প) করবেন।

(২) ইমামের পরপরই প্রথম তাকবীর দিবেন الله اكبر (আল্লাহু আকবার) “আল্লাহ সবচেয়ে বড়”। বলার সময়ে দু’হাত কাঁধের সমান উঠাবেন। তারপর হাত দুটি বুকের উপর রেখে পড়বেন ‘সুরা ফাতেহা’।

(৩) ইমামের পরপর দ্বিতীয় তাকবীর দিবেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ পড়বেন এই বলে,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

(আল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া‘আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ)।

“হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত”।[1]

এছাড়া সুন্নায় বর্ণিত অন্য যে কোনো দরূদে-ইব্রাহীমীও পড়তে পারেন।

(৪) ইমামের পরপর তৃতীয় তাকবীর দিবেন। অতঃপর মৃত ব্যক্তির জন্য দো‘আ করবেন ঐকান্তিকতা ও ইখলাসের সাথে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পঠিত কিছু দো‘আ নিম্নে দেওয়া হলো:

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلاَمِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الإِيمَانِ، اللَّهُمَّ لاَ تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلاَ تُضِلَّنَا بَعْدَهُ

(আল্লা-হুম্মাগফির লিহায়্যিনা ওয়া মায়্যিতিনা ওয়া শা-হিদিনা ওয়া গা-য়িবিনা ওয়া সগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসা-না। আল্লা-হুম্মা মান আহ্ইয়াইতাহু মিন্না ফা’আহয়িহি ‘আলাল-ইসলাম। ওয়ামান তাওয়াফ্‌ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু ‘আলাল ঈমান। আল্লা-হুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়ালা তুদ্বিল্লানা বা‘দাহু)।

“হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং নর ও নারীদেরকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাদের আপনি জীবিত রাখবেন তাদেরকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন এবং যাদেরকে মৃত্যু দান করবেন তাদেরকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে তার (মৃত্যুতে ধৈয্যধারণের) সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তার (মৃত্যুর) পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।”[2]

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ، وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَاراً خَيْراً مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلاً خَيْراً مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجَاً خَيْراً مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ [وَعَذَابِ النَّارِ]

(আল্লা-হুম্মাগফির লাহু, ওয়ারহামহু, ওয়া ‘আ-ফিহি, ওয়া‘ফু ‘আনহু, ওয়া আকরিম নুযুলাহু, ওয়াওয়াসসি' মুদখালাহু, ওয়াগসিলহু বিলমা-য়ি ওয়াস্‌সালজি ওয়ালবারাদি, ওয়ানাক্বক্বিহি মিনাল খাতা-ইয়া কামা নাক্কাইতাস সাওবাল আবইয়াদা মিনাদদানাসি, ওয়া আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহি, ওয়া আহলান খাইরাম মিন আহলিহি, ওয়া যাওজান খাইরাম মিন যাওজিহি, ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা, ওয়া আ‘য়িযহু মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি [ওয়া ‘আযাবিন্না-র])।

“হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন, তাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় রাখুন, তাকে মাফ করে দিন, তার মেহমানদারীকে মর্যাদাপূর্ণ করুন, তার প্রবেশস্থান কবরকে প্রশস্ত করে দিন। আর আপনি তাকে ধৌত করুন পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে, আপনি তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছেন। আর তাকে তার ঘরের পরিবর্তে উত্তম ঘর, তার পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার ও তার জোড়ের (স্ত্রী/স্বামীর) চেয়ে উত্তম জোড় প্রদান করুন। আর আপনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং তাকে কবরের আযাব [ও জাহান্নামের আযাব] থেকে রক্ষা করুন”[3]।

اللَّهُمَّ عَبْدُكَ وَابْنُ أَمَتِكَ احْتَاجَ إِلَى رَحْمَتِكَ، وَأَنْتَ غَنِيٌّ عَنْ عَذَابِهِ، إِنْ كَانَ مُحْسِناً فَزِدْ فِي حَسَنَاتِهِ، وَإِنْ كَانَ مُسِيئاً فَتَجَاوَزْ عَنْهُ

(আল্লা-হুম্মা ‘আবদুকা, ওয়াবনু আমাতিকা, এহতাজা ইলা রাহমাতিকা, ওয়া আনতা গানিয়্যুন ‘আন ‘আযা-বিহি, ইন কা-না মুহসিনান ফাযিদ ফী হাসানা-তিহি, ওয়া ইনকা-না মুসীআন ফা তাজা-ওয়ায ‘আনহু)

“হে আল্লাহ, আপনার এক দাস, আর এক দাসীর পুত্র, আপনার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী, আপনি তাকে শাস্তি দেওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী। যদি সে নেককার বান্দা হয়, তবে তার সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন, আর যদি বদকার বান্দা হয়, তবে তার অপরাধকর্ম এড়িয়ে যান।”[4]

اللَّهُمَّ إِنَّ فُلاَنَ بْنَ فُلاَنٍ فِي ذِمَّتِكَ، وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ، وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ، فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحيمُ

(আল্লা-হুম্মা ইন্না ফুলানাবনা ফুলা-নিন ফী যিম্মাতিকা, ওয়া হাবলি জিওয়ারিকা, ফাক্বিহি মিন ফিতনাতিল ক্বাবরি ওয়া আযা-বিন না-রি, ওয়া আনতা আহলুল ওয়াফাই ওয়াল হাক্ক, ফাগফির লাহু ওয়ারহামহু, ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম)।

“হে আল্লাহ, অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মাদারীতে, আপনার প্রতিবেশিত্বের নিরাপত্তায়; সুতরাং আপনি তাকে কবরের পরীক্ষা থেকে এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। আর আপনি প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী এবং প্রকৃত সত্যের অধিকারী। অতএব, আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং তার উপর দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।”[5]

আর যদি মৃতব্যক্তি শিশু হয়, তবে বলুন,

اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطاً، وَسَلَفاً، وَأَجْراً

(আল্লা-হুম্মাজ‘আলহু লানা ফারাত্বান ওয়া সালাফান ওয়া আজরান)

“হে আল্লাহ, আমাদের জন্য তাকে অগ্রগামী প্রতিনিধি, অগ্রিম পূণ্য এবং সওয়াব হিসেবে নির্ধারণ করে দিন।”[6]

(৫) ইমামের তাকবীরের পরপরই চতুর্থ তাকবীর দিবেন। প্রতি তাকবীরেই হাত তুলবেন, যেমনটি ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণনা এসেছে।

আর জানাযার নয়টি পর্যন্ত তাকবীর দেওয়া জায়েয, কিন্তু অধিকাংশ হাদীসেই চার তাকবীরের কথা এসেছে।

(৬) ইমামের পর সালাম ফিরাবেন এই বলে,

السلام عليكم ورحمة الله

‌‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’

“আপনাদের উপর আল্লাহর সালাম ও তাঁর রহমত নাযিল হোক”।

আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের আমলকে একান্তভাবে তাঁর জন্য এবং রাসুলে আমীনের সুন্নাত অনুযায়ী করে নেন।

আর সকল প্রসংশা আল্লাহ্‌র জন্য।

[1] বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৬/৪০৮, নং ৩৩৭০; মুসলিম, নং ৪০৬। [2] আবূ দাঊদ, নং ৩২০১; তিরমিযী, নং ১০২৪; নাসাঈ, নং ১৯৮৫; ইবন মাজাহ, ১/৪৮০, নং ১৪৯৮; আহমাদ ২/৩৬৮, নং ৮৮০৯। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ১/২৫১। [3] মুসলিম ২/৬৬৩, নং ৯৬৩। [4] হাদীসটি সংকলণ করেন, হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে এবং সহীহ বলেছেন, ১/৩৫৯; আর যাহাবী সেটা সমর্থন করেছেন। আরও দেখুন, আলবানী, আহকামুল জানায়েয, পৃ. ১২৫। [5] ইবন মাজাহ্‌, নং ১৪৯৯। দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ ১/২৫১। তাছাড়া হাদীসটি আবূ দাউদও বর্ণনা করেছেন, ৩/২১১, নং ৩২০২। [6] হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ যখন ছোট শিশুদের জানাযা পড়তেন তখন তার উপর সূরা ফাতেহা পড়তেন এবং উপরোক্ত দো‘আ বলতেন। হাদীসটি ইমাম বাগভী তার শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৫৭ এ বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রায্‌যাক তার মুসান্নাফে, নং ৬৫ ৮৮। তাছাড়া ইমাম বুখারী, কিতাবুল জানায়েয এর, ৬৫, বাবু কিরাআতি ফাতিহাতিল কিতাব আলাল জানাযাত ২/১১৩; ১৩৩৫ নং হাদীসের পূর্বে এটাকে তা‘লীক বা সনদ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।
http://www.hadithbd.com/books/link/?id=9478

19/08/2023
19/08/2023
15/08/2023

আজ তিনি গত হয়ে গেলেন!

একদিন আমরাও গত হয়ে যাব! এমন কোন আমল আছে কি যার দ্বারা জাহান্নামের আযাব থেকে আল্লাহর রহমতে আমরা বাঁচতে পারব! আল্লাহ আমাদেরকে গত হবার আগে আজই তওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে আসার তৌফিক দান করুণ এবং দ্বীনের পথে পরিচালিত করুণ । আমীন

15/08/2023

মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যু, ভূমিকম্প

ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদা হল, কারও জন্ম বা মৃত্যুর সাথে ভূমিকম্প, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্য গ্রহণ বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার কোনও সম্পর্ক নেই। এমন বিশ্বাস মারাত্মক কুসংস্কার এবং বিশুদ্ধ আকিদা পরিপন্থী।

যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে দিন আল্লাহর নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র ইবরাহিম মারা যায় সেদিন সূর্য গ্রহণ লাগল। তখন লোকজন বলাবলি করতে লাগল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছেলে মারা গেছে তাই সূর্য গ্রহণ লেগেছে!
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব কথাবার্তা শুনতে পেয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং মানুষকে ইসলামের সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে বললেন,

" إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَقُومُوا فَصَلُّوا " رواه البخاري

“করো মৃত্যু বা জন্মের কারণে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ লাগে না। কিন্তু এগুলা হল, আল্লাহ নিদর্শন সমূহে অন্তর্ভুক্ত। অত;এব তোমরা যখন তা দেখবে তখন তোমরা সালাত (চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করো” [সহীহ বুখারী]

পৃথিবীতে যত বড় বড় দুর্যোগ হয় সেদিন নিশ্চিতভাবে বিভিন্ন স্থানে অনেক মানুষ মারা যায়। অনেক বিদআতি পীর-বুজুর্গ, ভণ্ড, অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় পণ্ডিত ইত্যাদি সর্বশ্রেণীর মানুষ তাতে শামিল থাকে। তাহলে তারা যদি বলা শুরু করে যে, এই দেখ, আমাদের পীর মারা যাওয়ার কারণে বা কোনও হিন্দু যদি বলে যে, তাদের ঠাকুর বা ধর্মগুরু মারা গেছে বলেই এমন দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছেে তাহলে কি তাদের বুজুর্গি প্রমাণিত হয়ে যাবে?
না, কখনো নয়।

মূলত: সাঈদি সাহেবকে গ্রেফতারের সময় যারা তাকে চাঁদে দেখতে পেয়েছিলো (!) তারাই তার মৃত্যুর পর পরে ভূমিকম্প কথা উল্লেখ করে তার বুজুর্গি প্রমাণ করতে চায়। এটা মূলত মানুষের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলা করার নামান্তর। আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েতের উপরে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আমিন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

14/08/2023

এক সত্যান্বেষী আলেমের প্রয়াণ:

সত্যিকার অর্থে তার প্রথম দিককার ওয়াজগুলো এবং শেষ দিককার ওয়াজগুলো মিলালে সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
এক সময় যিনি মিলাদ-কিয়াম করতেন পরবর্তীতে মিলাদকে বিদআত বলা, "আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান" শীর্ষক ভ্রান্ত আকিদা বলা লোকটি "আল্লাহ সাত আসমানের উপরে আরশে আজিমে অবস্থান কারী" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, আল্লামা আলবানি রচিত সালাতের বই অনুসরণ করে সালাত আদায়ের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া, জাতীয় সংসদে আহলে হাদিসদের প্রাণপুরুষ আল্লামা ডক্টর আব্দুল বারী রহ.-এর সমন্বয়ে শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রস্তাব দানকারী লোকটিকে আমার কাছে খুবই সত্য অনুসন্ধিৎসু এবং সত্যানুরাগী মনে হতো। এসবের জন্য হৃদয়ে সৎ সাহসের প্রয়োজন।
মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল বাংলাদেশি ছাত্রের বৈঠকে তার কিছু ভুল-ত্রুটি ও বিদআতি কাজ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিনয়ের সাথে বলেছিলেন, আসলে এ বিষয়গুলো আমার জানা ছিল না। আমি শেখার চেষ্টা করছি।

ওয়াজ মাহফিলে বাঘ, বাইম মাছ, বেগুন ইত্যাদি‌ আবোল-তাবোল কিচ্ছা-কাহিনীর পরিবর্তে বিশুদ্ধ ভাষায় বলিষ্ঠ কণ্ঠে বস্তুনিষ্ঠ ও জ্ঞানভিত্তিক ওয়াজের পাইওনিয়ার-এর ভূমিকা পালন করেছেন।
তবে শরশিনা পীরের আখড়া থেকে উঠে আসা এমন একজন আলেমের মধ্যে কিছু বিদআতি কাজ ও ভুল-ত্রুটি থাকবে না তা অস্বাভাবিক। ‌কিন্তু তিনি ছিলেন সত্য গ্রহণে উদগ্রীব আলহামদুলিল্লাহ। তার কার্যক্রমে তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষনীয় বিষয়।
সেই জননন্দিত আলেম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী আজ এই ফিতনাময় নশ্বর জগত ছেড়ে রবের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আসুন, রাজনৈতিক ও দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন এবং জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জীবনের দীর্ঘ একটি সময় অতিবাহিত হওয়াকে তার গুনাহ মোচনের কারণ হিসেবে কবুল করে নিয়ে তাকে জান্নাত বাসী হিসেবে কবুল করে নেন। আমিন।
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

13/08/2023
13/08/2023

দুনিয়াতে আমল করেও কিয়ামতে অভাবী হয়ে জাহান্নামে যাবে যারা!

12/08/2023
Want your school to be the top-listed School/college in Brahmanbaria?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Shikarpur. Kasba
Brahmanbaria
SHIKARPUR