30/09/2022
📝পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
🎙ধারাবাহিক পোস্ট🎙
(১ম পর্ব)
بِسْمِ ٱللّٰهِ ٱلرَّحْمٰنِ ٱلرَّحِيم
الصلاة والسلام عليك يارسول الله الصلاة والسلام عليك ياحبيبي يانبي الله
الصلاة والسلام عليك ياخير خلق الله الصلاة والسلام عليك يارحمة الله الصلاة والسلام
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه ونعوذ بالله من شرور انفسنا ومن سيات اعمالنا من يهدى الله فلا مضل له ومن يضلله فلا هادى له ونشهد ان لا اله الا الله وحده لاشريك له ونشهد ان سيدنا نبينا حبيبنا شفيعنا مولنا محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.
খালেক্বে কা়য়িনাত মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্য বেশুমার শুকরিয়া, যিনি আমাদেরকে উনার প্রিয় হাবীব, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হিসাবে সৃষ্টি করেছেন।
লক্ষ-কোটি দরূদ ও সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসলীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যাঁকে মহান আল্লাহ পাক সমস্ত নিয়ামতের মূল বণ্টনকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, যেই মহান হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাক্বীক্বী ভাবে বিশ্বাস করার কারণেই আমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পেরেছি। অর্থাৎ আখিরী নবী, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন ঈমানের মূল। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যথাযথভাবে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত কোন মাখলূকাত-ই ঈমানদার হতে পারবে না
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান-
يا ايها الذين امنوا امنوا
অর্থ: হে ঈমানদারগণ (আল্লাহ পাক উনার উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ) তোমরা ঈমান আনো।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পরিপূর্ণ রূপে বিশ্বাস, ইতায়াত ও অনুসরণ কর।
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,
খাতামুন্নাবিয়্যিীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মানবজাতিকে মহান আল্লাহ পাক আশরাফুল মাখলূকাত করে সৃষ্টি করেছেন। তবে আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত, মুহব্বত লাভের জন্য বান্দাদেরকে শর্ত দেয়া হয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার গোলামী করার। কিন্তু শুধু নেক কাজ করলেই ইবাদত পালন হয়না। বরং ইবাদত-বন্দেগী কবুল হওয়ার জন্য চাই ঈমান ও বিশুদ্ধ আক্বীদা। অর্থাৎ কারো আক্বীদার মধ্যে কুফরী থাকলে তার ঈমান বিশুদ্ধ হয় না বিধায় তার কোন আমলই গ্রহণযোগ্য নয়। যা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
ان الانسان لفى خسر الا الذين امنوا وعملو الصلحت.
অর্থ: নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ। তবে যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে তারা ব্যতীত।” (সূরা আছর)
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
الناس كلهم هلكى الا المؤمنون والمؤمنون كلهم هلكى الا العالمون والعالمون كلهم هلكى الا العاملون والعاملون كلهم هلكى الا المخلصون والمخلصون على خطر عظيم.
অর্থ: “সমস্ত মানুষই হালাক বা ধ্বংস একমাত্র ঈমান এনেছে তারা ব্যতীত, সমস্ত ঈমানদাররাও ধ্বংস একমাত্র আলিমগণ ব্যতীত, সমস্ত আলিমরাও ধ্বংস আমলকারীগণ ব্যতীত, সমস্ত আমলকারীরাও ধ্বংস একমাত্র ইখলাছের সাথে আমল করেছেন উনারা ব্যতীত, আর ইখলাছ অর্জনকারীগণ উনারা (মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের চিন্তায় মশগুল)।”
(কানযুল উম্মাল)
অর্থাৎ ঈমান বা বিশুদ্ধ আক্বীদা ব্যতীত ইলম, আমল ইত্যাদি কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। বান্দা নাযাত পেতে হলে, মহান আল্লাহ পাক উনার সস্তুষ্টি লাভ করতে হলে তাকে প্রথমেই ঈমান আনতে হবে। অতঃপর ইলম অর্জন করে ইখলাছ অনুযায়ী আমল করতে হবে।
ইবলিস ছয় লক্ষ বছর ইবাদত-বন্দিগী করে মুয়াল্লিমুল মালাকুত হওয়ার পরেও তার আক্বীদায় ত্রুটি থাকার কারণে সর্বশেষে তার আসল হাক্বীক্বত যাহির হলো, সে মহান আল্লাহ পাক উনার একটি মাত্র নির্দেশকে অমান্য করে মালউ’ন বা লা’নতপ্রাপ্ত হলো।
বালয়াম বিন বাউরা মুস্তাজাবুদ দা’ওয়াত ওলী আল্লাহ্ হওয়া সত্তেও তার আক্বীদায় ত্রুটি থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর মোহে নবীর বিরুদ্ধে বদ্ দোয়া করে কাট্টা কাফির হয়ে গেল।
আবুল ফযল, ফৈজী, মুল্লা মুবারক নাগোরী বিখ্যাত আরবী সাহিত্যিক ও সূফী-দরবেশ হওয়া সত্ত্বেও আক্বীদায় ত্রুটি থাকর কারণে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষস্থল ওলী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুধীতা করে কাট্টা কাফির হয়ে গেল।
গ্রীস চন্দ্র সেন পবিত্র কুরআন শরীফ-এর অনুবাদ করেছে, হাদীছ শরীফ-এর অনুবাদ করেছে, হাদীছ শরীফ-এর বিশুদ্ধ গ্রন্থ মিশকাত শরীফ-এর অনুবাদ করেছে, হযরত আউলিয়া-ই কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জীবনী গ্রন্থ তাযকিরাতুল আউলিয়াও অনুবাদ করেছে, তবুও সে নাযাত পাবে না। কারণ সে ঈমান আনেনি।
সুতারাং এটাই প্রমাণিত হলো যে, ছুরতান নেক কাজ করলেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং বান্দার আমল কবুল হতে হলে তাকে প্রথমেই ঈমানদার তথা বিশুদ্ধ আক্বীদা ওয়ালা হতে হবে, তারপর আমলে ছালেহ্ করলেই তা কবুল বা গ্রহণযোগ্য হবে।
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন খালিক্ব-মালিক, রব্বুল আলামিন হিসাবে একক لاشريك له উনার কোন শরীক নেই। لم يكن له كفوا احد উনার সমকক্ষ কেউ নেই, ليس كمثله شيئউনার মেছালেরও অনুরূপ কোন কিছু নেই। তেমনি মখলূকাতের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও কোন মেছাল বা তুলনা নেই। অর্থাৎ মাখলূকাতের মধ্যেও তিনি একক। সে কথাই উনার মুবারক যবানে বর্ণিত হয়েছে, لست كاحدكم
অর্থ: “আমি তোমাদের কারো মত নই।”
(বুখারী শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ,)
তাই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করা প্রত্যেক উম্মতের উপরে ফরয।
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে কারো আক্বীদায় যদি বিন্দুতম ক্রটি থাকে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত নেক কাজ করে তারপরেও সে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমাদের মত সাধারণ মানুষ না বলা, উনার পিতা-মাতা ও পূর্ব পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা সর্বকালে সকলেই ঈমানদার ছিলেন ও মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ছিলেন, তিনি অধিক লক্বব মুবারক ব্যবহার করেছেন, তিনি সাধারণ মানুষের মত একই পদ্ধতিতে যমীনে তাশ্রীফ আনেননি বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতীতে ও কুদরতীভাবে তাশরীফ এনেছেন, তিনি নূরের তৈরী মাটির তৈরী নন, তিনি হাযির-নাযির, ইলমে গইব-এর অধিকারী, তিনি হায়াতুন্ নবী, উনার মুবারক সুন্নত পালন করা ফরজ, উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করে মীলাদ শরীফ ও কিয়াম শরীফ-এর মাহফিল করা ফরজ ইত্যাদি বিষয়ে বাতিল পন্থিদের নানাবিধ কুফরীমূলক মতামত সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এ সমস্ত বিষয় কারো আক্বীদায় ক্রটি থাকলে সে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।
মূলত: ঈমানের মূলই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কোন ব্যক্তি সরাসরী মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাবেনা ও চিনতে পারবে না। সেজন্য প্রথমেই নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যাহিরী ও বাতিনীভাবে তথা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে যথাযথভাবে বিশ্বাস করতে হবে। তখনই বান্দা পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে। যেহেতু কালেমা শরীফ প্রথম অর্ধেক দ্বারা অর্থাৎ শুধুমাত্র لا اله الا الله দ্বারা পরিপূর্ণ হয়নি বরং দ্বিতীয় অর্ধেক অর্থাৎ محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم কেও পাঠ করতে, মানতে ও বিশ্বাস করতে হবে। কিয়ামত পর্যন্তও কোন ব্যক্তি যদি শুধু لا اله اللهপাঠ করে সে যদি محمد رسول الله ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ বা বিশ্বাস না করে কশ্মিন কালেও সে ঈমানদার হতে পারবে না।
আর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করার অর্থই হলো উনার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাস স্থাপন করা।
যেহেতু কালামুল্লাহ শরীফ-এর অসংখ্য আয়াত শরীফ-এ এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফ-এ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে সকল বিষয়ে সরাসরী বর্ণনা করা হয়েছে। সেহেতু যারা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সঠিকভাবে বিশ্বাস ও শিকার করবেনা তারা কশ্মিন কালেও ঈমানদার হতে পারবে না।
তাই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বেশী বেশী করে বলা, লিখা ও বর্ণনা করা অতীব জরুরী।
এইখানে নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন উপলক্ষে খুশি হয়ে মাহফিল করা ও মীলাদ শরীফ পাঠ করা সম্পর্কে যৎসামান্য দলীল ভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে। হক্ব তালাশীদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যদি নসীবে হিদায়ত থাকে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সকলকে ইসলামের সকল বিষয়ে বিশুদ্ব আক্বীদা পোষন করার তাওফিক দান করেন।
(আমীন)
⛳নিজে পড়ে ঈমান-আক্বিদা মজবুত রাখুন, শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সু্যোগ করে দিন...
চোঁখ রাখুন আগামী পর্বে ……………………………… চলমান
27/09/2022
16/04/2022
03/04/2022
27/03/2022
22/03/2022
06/02/2022
26/12/2021