03/09/2014
সনদ বাণিজ্যের
অভিযোগ
ডিপ্লোমা কোর্সে তৈরি হচ্ছে হাতুড়ে টেকনোলজিস্ট
আমানুর রহমান
৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪,
বুধবার, ১০:২০
কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন
দক্ষ
জনশক্তি গড়ে তোলার
লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
কিন্তু অভিযোগ
উঠেছে তাদের
দায়িত্বের চেয়ে বোর্ড
কর্তৃপক্ষ অধিক
মনোযোগী ব্যবসায়িক
মনোবৃত্তি নিয়ে। হেলথ
টেকনোলজিস্ট
নামে বোর্ড
যে ডিপ্লোমা কোর্স চালু
করেছে তাতে ‘হাতুড়ে টেকনোলজিস্ট’
তৈরি হচ্ছে এমন
মন্তব্য অভিজ্ঞ
মহলের। অভিযোগ
রয়েছে এতে জটিল
রোগীদের রোগ নির্ণয়
নির্ভুল হচ্ছে না। যার
ফলে সঠিক
চিকিৎসা পাচ্ছেন
না রোগীরা।
জানা গেছে, বোর্ডের
হেলথ
টেকনোলজি ডিপ্লোমা কোর্সের
কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ
হচ্ছেন একজন
‘টেক্সটাইল
ইঞ্জিনিয়ার’। দু’জন
পার্ট টাইম চিকিৎসক
এ কোর্সের কারিকুলাম
প্রণয়ন করেন। তাদের
চিকিৎসা জ্ঞান নিয়েও
রয়েছে নানা অভিযোগ।
তাদের অধীনেই
তৈরি হচ্ছে হেলথ
টেকনোলজিস্ট।
তারা (হেলথ
টেকনোলজিস্টরা) বড়
বড় ডায়াগনস্টিক
সেন্টারের ল্যাব
অ্যাসিসট্যান্ট
হিসেবে কর্মরত
এবং তারাই মেডিক্যাল
টেস্টের রিপোর্ট
প্রণয়ন করে থাকেন,
যা দিয়ে বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকেরা জটিল
রোগীদের
চিকিৎসা পরামর্শ
দিয়ে থাকেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের
মতে, রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে মেডিক্যাল
টেকনোলজিস্টদের ওপর
চিকিৎসকদের
নির্ভরতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০
শতাংশ।
প্যাথলজিতে লিভার
ফাংশন,
কিডনি এবং রক্তের
বি-ভাইরাস, হরমোন ও
হিমোগ্লোবিন, ইএসআর
পরীক্ষা করেন
মেডিক্যাল
টেকনোলজিস্টরা। এ
ছাড়া কিনিক্যাল
প্যাথলজি, হেমাটোলজি,
বায়োকেমিস্ট্রি,
মাইক্রোবায়োলজি,
ইমিউনোলজি পরীক্ষাও
করেন
টেকনোলজিস্টরা।
২০১১
সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
মেডিক্যাল
টেকনোলজিতে তিন
বছরের
ডিপ্লোমা (বর্তমানে চার
বছর) এবং এক বছর ও
ছয় মাস
মেয়াদি সার্টিফিকেট
কোর্স চালু করে। এর পর
রাজধানীসহ
সারা দেশে ব্যাঙের
ছাতার
মতো গড়ে উঠেছে মেডিক্যাল
টেকনোলজি ইনস্টিটিউট।
ন্যূনতম মাধ্যমিক
স্কুল সার্টিফিকেট
(এসএসসি) ধারীরাই
এখানে শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তির
সুযোগ পাচ্ছেন। মানবিক
ও বাণিজ্য
বিভাগে উত্তীর্ণ হলেও
আপত্তি নেই। বিজ্ঞান
বিভাগের
শিক্ষার্থীরা ছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের
মতো জটিল ও
স্পর্শকাতর বিষয়ের
কারিগরি জ্ঞান
অর্জনে অন্য
বিভাগে উত্তীর্ণরা কতটুকু
কার্যকর
তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ঢাকাসহ
সারা দেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের
অধীনে ২৩৮টি মেডিক্যাল
টেকনোলজি ইনস্টিটিউট
রয়েছে। ২০১৩ সালের ৩০
নভেম্বর পর্যন্ত বোর্ড
এগুলো অনুমোদন দেয়।
এসব প্রতিষ্ঠান
থেকে যে শিক্ষার্থী বের
হচ্ছেন তাদের
সার্টিফিকেট
দেয়া হচ্ছে মেডিক্যাল
টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের
মাধ্যমে,
তা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের।
অভিযোগ রয়েছে,
মোটা অঙ্কের টাকার
বিনিময়ে বোর্ড
থেকে মেডিক্যাল
টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলোর
অনুমোদন পাওয়া যায়।
অনুমোদনের
আগে প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন
টিমকে মোটা অঙ্কের
অনুদান আর উপঢৌকন
পাঠালেই চলে। আর
প্রতিটি সার্টিফিকেটের
জন্য বোর্ডের সর্বোচ্চ
পর্যায়
থেকে স্বাক্ষরকারী পর্যন্ত
নির্ধারিত
হারে ফি দেয়া হয়
ইনস্টিটিউটগুলোর
পক্ষ থেকে। বোর্ডের
অনুমোদন
নিয়ে পরিচালিত
ডিপ্লোমা কোর্সগুলো হচ্ছে ল্যাবরেটরি মেডিক্যাল
টেকনোলজি (প্যাথলজি)
, ডেন্টাল টেকনোলজি,
রেডিওলজি অ্যান্ড
ইমেজিং টেকনোলজি,
ফার্মেসি টেকনোলজি,
পেশেন্ট কেয়ার
(নার্সিং) টেকনোলজি,
অপটিক্যাল
রিফ্র্যাকশন
টেকনোলজি,
ইনটিগ্রেটেড
মেডিক্যাল
টেকনোলজি।
এমবিবিএস
চিকিৎসকদের জন্য
মেডিক্যাল
আল্ট্রাসাউন্ড
টেকনোলজি বিষয়ে এক
বছর
মেয়াদি ডিপ্লোমা এবং ছয়
মাস
মেয়াদি সার্টিফিকেট
কোর্স রয়েছে। এক
বছর
মেয়াদি সার্টিফিকেট
কোর্স হচ্ছে ডেন্টাল
টেকনোলজি,
ফিজিওথেরাপি টেকনোলজি,
ল্যাবরেটরি মেডিক্যাল
টেকনোলজি (প্যাথলজি)
, রেডিওলজি অ্যান্ড
ইমেজিং টেকনোলজি,
ফার্মেসি টেকনোলজি,
পেশেন্ট কেয়ার
টেকনোলজি,
অপটিক্যাল
রিফ্র্যাকশন
টেকনোলজি,
মেডিক্যাল
মার্কেটিং অ্যান্ড
ম্যানেজমেন্ট
এবং প্যারামেডিক্যাল
টেকনোলজি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,
বোর্ডের
অনুমোদনপ্রাপ্ত
প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয়
সংখ্যক শিক্ষক,
জনবল
এবং অবকাঠামো কিছুই
নেই। বোর্ডের অনুমোদন
পেতে যা দেখানো হয় তার
সবই কাগুজে। অভিযোগ
আছে ভর্তি পরীক্ষা বা শিক্ষাগত
যোগ্যতা নয়,
এখানে টাকা হলেই
ভর্তি হওয়া যায়।
ভর্তি ফি ১০-১২ হাজার
টাকা। মাসিক বেতন এক
হাজার ২০০ টাকা।
প্রতি সেমিস্টার
ফি পাঁচ হাজার টাকা।
স্বাস্থ্য শিক্ষায় এ
ধরনের কোর্স
পরিচালনায়
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের
নিজস্ব বা বিশেষায়িত
কোনো বিশেষজ্ঞ নেই।
সারা দেশে টেকনোলজি ইনস্টিটিউট
তদারকি, কোর্স
কারিকুলাম তৈরি,
প্রশ্নপত্র প্রণয়ন,
পরীক্ষা গ্রহণের জন্য
পার্টটাইম দুইজন
চিকিৎসক রয়েছেন
মাত্র। জানা গেছে,
বোর্ডের
প্রয়োজনে তাদের
ডাকা হয়। ওই
চিকিৎসকদেরও
রাজধানীতে বোর্ডের
অনুমোদিত
টেকনোলজি ইনস্টিটিউট
রয়েছে। এসব
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো
নিয়ে গঠিত সংগঠনের
দুই শীর্ষ পদেও
তারা (ওই
চিকিৎসকদ্বয়)
রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের
চিকিৎসা অনুষদের
অধীনে হেলথ
টেকনোলজি ডিপ্লোমা কোর্স
চালু রয়েছে। এরপরও
কারিগরি বোর্ডের
অধীনে মেডিক্যাল
ডিপ্লোমা কোর্স চালুর
কারণ কী? এ
নিয়ে বোর্ড সনদ
বাণিজ্য করছে কি না?
জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের
সচিব ও ভারপ্রাপ্ত
বোর্ড চেয়ারম্যানের
দায়িত্বে ড. মো: আবদুল
হক তালুকদার
নয়া দিগন্তকে বলেন,
নিয়ম মেনেই বোর্ড
এসব কোর্স চালু
করেছে। সনদ বাণিজ্য
করবে কেন বোর্ড ?
তরুণ ও বেকার যুবকদের
কিছুটা কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ
করে উপার্জনক্ষম
করে তোলাই এর
উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন,
ভর্তিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের
ছাত্র বাধ্যতামূলক
করা হলে শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না।
এটা বলতে দ্বিধা নেই,
মান নিয়ে সংশয় আছে।
কিছু ভালো কিছু খারাপ
আছে।
সরকারি চাকরিতে বোর্ডের
ডিপ্লোমাধীরা চাকরি পাচ্ছেন
না। এ ব্যাপারে উচ্চ
আদালতে রিট
করা হয়েছে।
মেডিক্যাল
ডিপ্লোমা কোর্সের
তত্ত্বাবধায়ক
শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ
দীল মোহাম্মদ
আলী বলেন,
আমি বোর্ডের এ
বিষয়টির শুধু সাচিবিক
দায়িত্ব পালন
করে থাকি। পার্টটাইম
ডাক্তারেরা কোর্সের
তদারকি ও কোর্স
প্রণয়ন করে থাকেন।
বোর্ডের শিক্ষাক্রম
বিশেষজ্ঞ
(ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার)
মো: শাহদাৎ হোসেন
বলেন, লুকোচুরির কিছু
নেই। মানসম্মত
শিক্ষা দেয়া সম্ভব
হচ্ছে না। নানা ধরনের
সমস্যা রয়েছে।
তবে মান
নিশ্চিতকরণে চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল
টেকনোলজিস্ট
অ্যাসোসিয়েশনের
সভাপতি আলমাছ
আলী খান বলেন,
কারিগরি শিক্ষাবোর্ড
অদ্ভুত
ডিপ্লোমা কোর্স চালু
করেছে।
তারা হাতুড়ে মেডিক্যাল
টেকনোলজিস্ট
তৈরি করছে।
তিনি জানান,
বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী,
স্বাস্থ্যসচিব ও
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে।
কিন্তু এর
কোনো প্রতিকার নেই।
http://
www.dailynayadiganta.
com/details.php?
nayadiganta=Njc2NDg%
3D&sec=2 #VAaUztHTgQE.facebook
Naya Diganta ::
ডিপ্লোমা কোর্সে তৈরি হচ্ছে হাতুড়ে টেকনোলজিস্
ট