BD Army Vlogger

BD Army Vlogger

Share

Paranormal Research

Paranormal events are purported phenomena described in popular culture, folk, and other non-scientific bodies of knowledge, whose existence within these contexts is described as beyond normal experience or scientific explanation.

19/02/2023

আল্লাহ তায়ালা আমাদের দিনের পথে আসার তৌফিক দান করুন আমিন।

28/10/2021

একটা মানুষ কিভাবে এতো মরিচ খেতে পারে ভিডিওটি না দেখালে বিশ্বাস করবেন না।

13/08/2020

>>>> আত্মহত্যার বন

12/08/2020

তেতুল তলা
তৃতীয় ও শেষ পর্ব

দূর থেকে কে যেনো আসছে তেতুল তলার দিক থেকে, বেশ জোরে হাঁটতে হাঁটতে আসছেন। হাতে একটা টর্চ লাইট দেখা যাচ্ছে আর কাঁধে সাদা রঙের মোটা রশি! যে চারজন খুন হয়েছে তারা এরকম মোটা রশিতেই ঝুলছিল! লোকটার হাঁটার গতিবিধি দেখে অনেকটা পরিচিত মনে হচ্ছে।
তাহলে কি!.....

মকবুল চাচা!
লোকটাকে দেখতে অনেকটা মকবুল চাচার মতো মনে হচ্ছে, মকবুল চাচা হাঁটার সময় মাঝে মধ্যেই কুজো হয়ে নুইয়ে পরেন আবার একটু পর পর সোজা হয়ে হাঁটেন! যার জন্য তার এইরকম হাঁটার গতিবিধি এলাকার সবাই চিনেন। মাঝে মাঝে এটা নিয়ে তাকে দু'একজন খোঁচা মেরে কথাও বলেন রাগিয়ে দেয়ার জন্য।
আর এই যে লোকটা তেতুল তলা থেকে হেঁটে আসছেন তিনিও ঠিক মকবুল চাচার মতোই হাঁটার মাঝে নুইয়ে পরছেন আবার নিজেকে সোজা করে হাঁটছেন!
কিন্তু মকবুল চাচা এতো রাতে তেতুল তলায় কেনো! আর তেতুল তলা থেকে ভেসে আসা মেয়েটার চিৎকারও এখন আর শোনা যচ্ছে না! তবে কি মেয়েটাকে মেরে ফেললো!
তবে মকবুল চাচার চেহারা দেখা যাচ্ছে না, শীতের পোশাক পরে বের হয়েছেন বোধহয়। হুডির টুপি দিয়ে মাথা ঢেকে রেখেছেন আর মাথা নিচু করে হাঁটছেন যার জন্য তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না....

লোকটা হাঁটতে হাঁটতে ঠিক মকবুল চাচার বাসার সামনে এসে দাড়ালেন কিন্তু ভিতরে ঢুকলেন না। এলাকার মানুষজন নেমে তাকে ধরতে আসতেই পালিয়ে গেলেন রাতের অন্ধকারে...
তৎক্ষণাত সবাই বলে উঠলো পুলিশের খবর দিতে, যেই ভাবা সেই কাজ। পুলিশ এলো, তাদেরকে সব খুলে বলার পরে তারা প্রথমে তেতুল তলার দিকে যেতে নিলেও সবাই গেলেন না। কিছু দিন সংখ্যক তেতুল তলায় আর কয়েকজন মকবুল চাচার বাসায়।
পুলিশ না আসা অবদি কেউ মকবুল চাচার বাসার সামনে থেকে সরেনি, পুরো বাড়ির চারপাশে নিজেরাই পাহারা দিয়েছে।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে মকবুল চাচার দরজায় কড়া নাড়ার পরে তিনি নিজেই বাসার দরজা খুলে বেরিয়েছেন!
কে কি বলবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না কেউ।
পুলিশ মকবুল চাচাকে বিভিন্নভাবে জেরা করেও কিছু সন্দেহজনক আন্দাজ করতে পারেনি। আবার কেউ মকবুল চাচার চেহারা দেখেনি শুধু হাঁটার গতিবিধি দেখে সন্দেহ করেছে তাই প্রমাণ না থাকায় তাকে সহ সবাই তেতুল তলায় চললেন এবং ইতমধ্যে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বললেন। প্রথমে মকবুল চাচা চেচিয়ে উঠলেন যে তার ওমন হাঁটার জন্যই হয়তো সবাই মজা নিচ্ছে! কিন্তু পুলিশ আর সকলের মুখে তাকিয়ে তার গলা শুকিয়ে কাঠ, তিনি নিজেও ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেছেন তার মতো দেখতে খুনীর অবস্থা শুনে।

মেয়েটার চিৎকারের সন্ধানে যে দুজন পুলিশ আগে তেতুল তলায় গিয়েছেন তারা সেখানে কোনো মেয়েকে খুঁজে পায়নি।
কোনো জনমানুষের চিহ্ন নেই তেতুল তলায়... অথচ পুরো এলাকা ওখান থেকে ভেসে আসা চিৎকারে জেগে উঠেছে। আশেপাশে ভালোভাবে দেখেও কোনো হদিস পাওয়া গেলো না কোনো মেয়ের, হয়তো কোথাও চলে গেছে মেয়েটা কিন্তু কি হয়েছিল এখানে! মকবুল চাচার মতো দেখতে লোকটা আসলে কে আর এখানে কোন মেয়ে ছিলো! কি হয়েছে মেয়েটার সাথে!
মন ভর্তি উত্তরহীন প্রশ্ন নিয়েই সবাই যে যার গন্তব্যে চলে গেলেন কিন্তু কেউ জানতেন না তাদের জন্য সকালে কত বড় চমক ছিল....

আমি সকাল ন'টা নাগাদ বের হয়েছি বাসার প্রয়োজনে দোকানে, একটু দূরে হওয়া স্বত্বেও পনির ভাইয়ের দোকানেই গেলাম কারণ ওখানে সিমিনের মতো দেখতে পাগলটা রয়েছে। কেন জানিনা ওরে দেখলে আমার সিমিন মনে হয় আর অনেকদিন সিমিনকে না দেখায় মনের ভিতর অনেক অজানা ভাবনা চিন্তা উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। কিছু সময় দাঁড়িয়ে পণ্য নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হাঁটছি এমন সময় দেখলাম রহিম চাচা সিমিনকে নিয়ে বের হয়েছেন!
আমি যেনো হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি ওরে সুস্থ স্বাভাবিক দেখে! মনের ভিতর কতো অজানা জল্পনা-কল্পনা ভেবে বসে ছিলাম আর সিমিন আমার সামনে, কি সুন্দর ভাবে হাসতে হাসতে বের হচ্ছে রহিম চাচার সাথে। আমি পিছে ফিরে দেখছি পাগলটা আছে তোহ! হ্যাঁ সেও বসে আছে পনির ভাইয়ের দোকানের সোজা অপরপ্রান্তে....

রহিম চাচা হয়তো কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরেছেন আমাকে দেখে, তাই নিজেই আসলেন আমার সাথে কথা বলতে আর সাথে সিমিন।
চাচা কি চান বা ভেবেছেন জানিনা, সিমিনকে আমার সাথে কথা বলতে রেখে নিজেই রাস্তার ওপাশে গেলেন তার বয়সী মুরব্বিদের সাথে কথা বলতে!
চাচার এমন অবস্থা দেখে যা কথা মনে জমে ছিল সব ভুলে বসেছি আমি। সামনে সিমিন থাকতেও আমি তাকিয়ে আছি তার দিকে যে কি চাচ্ছেন তিনি! নাকি আবার এমনিতেই বিশ্বাস করে ওরে আমার কাছে রেখে গেলেন! আশেপাশে থেকেও মানুষজন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সিমিবের দিকে, হয়তো তারাও আমার মতো কিছু ভেবেছেন পাগলটাকে দেখে!
যা হোক আমি সিমিনকে একের পর এক প্রশ্ন করা শুরু করে দিলেও ওর একটা উত্তরেই আমার সব উত্তর পাওয়া হয়ে গিয়েছে। জ্বর হয়েছিল সিমিনের যা খুব খারাপ পরিস্থিতির রূপ নিয়েছিল আর এখন ও সুস্থ। স্বস্থির নিশ্বাস ফেললাম আমি, সিমিনের সাথে কথা হচ্ছে এমন সময়

হঠাৎ তিনটি গাড়ি ভর্তি পুলিশের গাড়ি এসে থামলো মকবুল চাচার বাসার সামনে। তড়িৎ গতিতে সব গুলো পুলিশ ঘেরাও দিয়ে দাড়িয়েছেন মকবুল চাচার বাড়ির পাশে লিখন ভাইয়ের বাসায়!
ঘটনার আকস্মিক পরিস্থিতিতে সবাই আতংকিত হয়ে তাকিয়ে আছে এই বাড়ির দিকে। রহিম চাচা ছুটে এসে সিমিনকে বাড়ি পাঠিয়ে আমাকে দূরে সরে যেতে বললেন।
হঠাৎ পনির ভাইয়ের দোকানের অপরপ্রান্তে থাকা পাগলটা দৌঁড়ে আসতেই এলাকার মানুষ ওরে ধাওয়া দিতে যাচ্ছে এমন সময় পুলিশ এসে তাদের বাধা দিলেন এবং দাঁড়িয়ে থাকা সব পুলিশ কর্মকর্তা স্যালুট দিলেন পাগলটাকে! পাগলটা দেখলাম তার চেহারা ধরে টান দিচ্ছে নিজেই আর ওমনি কেমন যেনো সিমিনের চেহারা আর জমাট বাঁধা চুল গুলো তার হাতে চলে এলো! অবাক হয়ে দেখছে সবাই...
সিভিল পোশাকে কয়েকজন বেশ শক্তপোক্ত ব্যক্তি এসে দাড়ালেন পাগলটার পিছনে, যাদের ভিতর কয়েকজন লুঙ্গিও পরা!
পুলিশের গাড়ি থেকে বেশ উন্নত মানের অস্র নিয়ে পাগলটাসহ পাঁচজন সিভিল পোশাক পরা অফিসার চলে গেলেন লিখন ভাইয়ের বাসায়!

লিখন ভাই আমাদের এলাকায় এসেছেন বছর খানেক হয়েছে কিন্তু তা কেউ বলতে পারবে না, কারণ সবার সাথে সে এমন আন্তরিক ভাবে মিশেছেন যেনো কতকাল ধরে আছেন আমাদের সাথে।
আনুমানিক প্রায় ঘন্টা খানেক পরে হাতে হ্যান্ডকাফ আর মুখে কালো কাপড় পরিয়ে বের করা হয়েছে লিখন ভাইকে! একে একে কয়েকজন পুলিশ পোশাক পরা অফিসার গেলেন বাসার ভিতর।
নিয়ে এলেন সাদা রঙের কিছু দড়ি, ধারালো অস্র আরও কিছু সরঞ্জাম এবং সব শেষে একটা মেয়ের লাশ! আনুমানিক পনেরো ষোল বছর বয়স হবে মেয়েটার।

সকলের কৌতুহলের যেনো শেষ নেই, এমন ঘটনা ঘটবে তা যেনো কল্পনায়ও আসেনি কারো! এতো আপন এতো আন্তরিক ছেলেটা এসব করতো কেউ ভাবতেও পারেনি।
ধীরে ধীরে সবাই জানতে পেরেছে আসল ঘটনা,
লিখন ভাই হচ্ছে সাইকো কিলার! পুলিশ জানিয়েছেন এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লাগাতার মানুষ খুন করে রাতারাতি পালিয়ে আসতেন তিনি! অল্পদিনেই আন্তরিক হয়ে মানুষের সাথে মিশে এমন কাজ করাই তার ভালো লাগা! তার লক্ষ্য শুধু বিবাহিত যুবক কারণ তাদের মেরে ফেলার আগে তাদের শারীরিক নির্যাতনে জেনে নেন স্ত্রীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য যা দিয়ে অল্প বয়সে বিধবা নারীদের একাকিত্বকে বশে এনে দৈহিক সম্পর্কে আনন্দিত হন লিখন!
তাকে প্রমাণসহ ধরতেই এলাকায় পাগল সেজে এসেছেন

10/08/2020

বদমাশ তান্ত্রিক

লেখাঃশাহজাহান রায়হান

.............................................................
আজ চৌধুরী বাড়ীতে বেশ ভালো একটা
আনন্দ উৎসব চলছে। জমজমাট আয়োজন।
নতুন বাবুটার মুখ দেখা। কতইনা সুন্দর
দেখতে বাবুটা।
এদিকে এ বাড়ীর বড় ছেলে আদিন। বয়স
১৯ বছর। বাড়ীর এদিক ওদিক দেখছে
কারো কিছু লাগবে কিনা?
সব ঝামেলা সামলে ভালোভাবেই
অনুষ্ঠানের ইতি ঘটে।
ভরা পূর্ণিমারাত।
এখন সময় রাত ১২টা। এখনো সবাই
জেগে। হঠাৎ আদিন খেয়াল করলো তার
প্রিয় ঘড়িটা হাতে নেই। সে ঘড়ি
খুজতে দ্বিতীয় তলায় যায়। নিচে সবাই
গল্প করছে।
এমন সময় ষ্টোর রুম থেকে কেউ বললো,
"এই আদিন তোর ঘড়িটা এখানে।"
কন্ঠটা তার পরিচিত। রিংকির কন্ঠ।
রিংকি তার ছোট বেলার বন্ধু। সে
তাকে বেশ পছন্দও করে। রিংকিও
তেমনই। কিন্তু উপরে রাগ দেখায়।
সে ভেতরে গিয়ে দেখে রিংকি
দাঁড়িয়ে আছে। হাতে তার ঘড়ি।
আদিনঃ কিরে রিংকি? এখানে কি
করিস?

রিংকিঃ বা রে! দেখলাম তোর হাতের
ঘড়িটা নেই। তাই খুজতে আসলাম।

আদিনঃ এইতো আমার বউয়ের। মত কাজ
করেছিস। রিংকি মুচকি হাসলো।
কিন্তু এই কথায় ও রাগ দেখায়। আদিন
বিষয়টা তেমন গুরুত্ব দেয়না।

আদিনঃ চল। নিচে যাই।
'
রিংকিঃ তুই যা। আমি আসছি।
আদিন কিছুক্ষণ জোড় করে চলে যায়।

নিচে ফিরে আদিন অবাক। রিংকি না
উপরে ছিলো! নিচে আসলো কখন?

আদিনঃ কিরে রিংকি! তুই নিচে
নামলি কখন?

রিংকিঃ কই? আমিতো সন্ধ্যা থেকেই
এখানে।

আদিনঃ দেখ মিথ্যা বলবিনা!

রিংকিঃ আজব তো! আমি মিথ্যা বলবো কেনো?
আদিন আর কিছু বলেনা। ভাবতে থাকে
কি ছিলো ওটা। ও নিজের চোখে
দেখেছে রিংকিই ছিলো।
কিন্তু রিংকি সাধারণত মিথ্যা বলেনা।
ও ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো
ঘড়িতো ঠিকই আছে।
সবাই শুয়ে পরে। আদিন এই বিষয়টা
ভুলেই ঘুমিয়ে পরে।
রাতে আদিনের ঘুম ভেঙে যায়। সে
খেয়াল করে তার রুমে কিছু একটা
আসলো। ছায়ার মত ধীরেধীরে তার
কাছে আসছে। তার গগায়ের সাথে
মিশেছে। সে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
বাড়ীর সবাই ছুটে আসে। রুমটা খোলাই
ছিলো। আদিনের বেশ জ্বর। রিংকি
পানি নিয়ে আসে। তার মাথার পাশে
বসে পানি ঢালে। বাড়ীর সবাইকে
ঘুমোতে বলে সে সারা রাত আদিনের
মাথায় পানি ঢালে। ভোরে আদিনের
জ্ঞান ফেরে। তার একটুও জ্বর নেই।
কিন্তু কথা বার্তা কেমন যেন উলটা পালটা।
সবাই ভাবে অসুস্থতার কারণে হয়তো এমন হয়েছে।
কিন্তু সে খাওয়া দাওয়াও কমিয়ে দিয়েছে।
পরদিন সকালে নতুন কাণ্ড। এক মেয়ের
লাশ পাওয়া গেছে নদীর ধারে। গলায়
কামড়ের দাগ। আর কলিজা নেই। সবার
ধারণা কোনো জন্তু জানোয়ার মেরেছে।
পরদিন একই ঘটনা। ধীরেধীরে ঘটনা
আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। এদিকে
আদিনের ব্যবহারও বেশ পালটে গেছে।
আবার বাড়ী থেকে দেখা যায় মুরগী
হাওয়া, মাছ নিয়ে আসলে মাছ হাওয়া।
একদিন কাজের বুয়া লক্ষ করে আদিন
রান্না ঘরে যাচ্ছে। তখন বাড়ী আর
কেউ নেই। সবাই পুকুরপাড়ে বসে গল্প করছে।
আদিন বড় মাছটা তুলে কাচাই খেতে
শুরু করেছে। কাজের বুয়া চিৎকার দেয়।
আদিন তার দিকে ছুটে আসে। কাজের
বুয়া অমনি দরজা আটকে দেয়।
সবাইকে ডেকে আনে সে। তখন দরজা
খুলে আদিনকে মাছের আস্টে আর রক্ত
মাখা অবস্থায় পায়। তখন সে রাক্ষুসে
স্বভাব দেখাচ্ছিলো। যেনো সবাইকেই খেয়ে ফেলবে।
বাড়ীর লোকেরা তাকে ধরে আটকে রাখে।
তখন আদিন বলেঃ আটকে লাভ নেই।
আগামী অমাবস্যায় এই শরীর সম্পূর্ণ
আমার হয়ে যাবে। আর তখন এই দরজা, বাধনে কুলোবেনা।
বাড়ীর সবাই দুশ্চিন্তায় পরে যায়। কি
করবে তারা। আদিনের মা ছেলের এই
অবস্থা দেখে বেহুশ। শেষে সিন্ধান্ত নেয় আদিনকে আগুনে জ্বালিয়ে দেবে। কিন্তু রিংকি তখন বাধা দেয়। বলেঃ অন্য উপায়ও পাওয়া যাবে। এ কাজ করবেন না। অমাবস্যার আরো ১২ দিন বাকি।
অনেক খোজ করে এক ওঝার সন্ধান
পাওয়া যায়। সে যে ঘরে আদিনকে
আটকে রাখা হয়েছে সে ঘরের দরজায়
হাত রাখতেই ছিটকে পড়ে যায়। যেন
ইলেক্ত্রিক শক খেয়েছে। ওঝাঃ এটা আমার দ্বারা সম্ভব না।
এটা বড় এক শয়তানের আত্মা। এটাকে
আমার গুরুই তাড়াতে পারবে। চৌধুরী সাহেবঃ তাকে কোথায়
পাওয়া যাবে? ওঝাঃ হিমালয়ের পর্বত মালার তিনটি
চূড়ার মাঝে ধ্যানরত অবস্থায় পাওয়া
যাবে। কিন্তু তাকে ডেকে তুলবেন না।
সে একাই চোখ খুলবে। তার নাম সাধু ওসমান।
সম্পূর্ণ ঠিকানার বর্ণনা নিয়ে চৌধুরী সাহেব ভাইদের নিয়ে যায়।
অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তারা হাজির হয়
সেই সাধকের সামনে। সাধক চোখ খুলেই বলে উঠে, আমি
জানতাম আপনারা আসবেন। চৌধুরী সাহেবঃ আমাদের ছেলের......
সাধকঃ আমি সবই জানি। চলুন আপনার বাড়িতে যেতে হবে।
তারা একসাথে চৌধুরী বাড়ীতে যায়।
সেখানে গিয়ে সাধক দরজায় হাত
দিতেই খুলে যায়। আদিন বিকট চিৎকার করে উঠে।
আর বলতে থাকেঃ তোরা পারবিনা
আমাকে তাড়াতে, তোরা পারবিনা। এই শরীর আমার।
সাধক সব কিছু ভালো করে দেখে আদিনের সামনেই ধ্যানে বসে।
ধ্যান থেকে জেগে বলতে থাকেঃ এটা
একটা বদ তান্ত্রিকের আত্মা। যাকে
জমিদার তার কুকর্মের জন্য মৃত্যুদণ্ড
দিয়েছিলো। সে একটা শরীর পেলে
সম্পূর্ণ শক্তিশালী হয়ে যাবে।
তাকে শেষ করার উপায়ও বলেন। কিন্তু
এ কাজ এতো সহজ নয়।
একজন যুবতী মেয়ের করতে হবে সব কাজ।
এতে মেয়েটার জীবনও যেতে পারে। কে
করতে রাজি হবে এ কাজ?
অবশেষে রিংকি রাজি হয়। কিন্তু তার
বাড়ীর কেউ রাজি না। রিংকিতো
আদিনকে এভাবে দেখতে পারবেনা।
তাই সে জোরাজোরি করার পর রাজি
হয়। আজ অমাবস্যার রাত। রিংকি
সাদা কাপড় পড়ে বের হয় বাইরে।
হাতে সাধকের বেধে দেওয়া লাল
সুতো। পেছনে বাধন ছিড়ে ছুটে আসে
আদিন। আজ রিংকি যদি মারা যায়
তাহলে আদিনের শরীর হবে বদমাশ
তান্ত্রিকের। আর তখন আদিনকে মেরে
ফেলতে হবে। আবার জেগে উঠবে
বদমাশটা কোনো এক পূর্ণিমা রাতে
অন্য কারো শরীরে। তারপর কোনো
অমাবস্যায় নিজের করে নেবে সে শরীর।
রিংকিকে আদিন পেছন থেকে ডাকছে।
কিন্তু লাল সুতোটার কারণে কাছে
আসতে পারছেনা। তাকে আহবান
জানাচ্ছে হাতের সুতো খুলে ফেলতে।
সে সুস্থ হয়ে গেছে। কিন্তু রিংকি
সাধকের কথা মত পেছনে না তাকিয়ে
এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে গোরস্তান।
কেপে উঠে রিংকির শরীর তবুও সে
এগিয়ে যায় সেদিকে। রিংকি দেখে
একটা গর্ত করা শূন্য কবর। সাধকের
কথামত সে হাতের সুতো খুলে ছুড়ে
দিয়ে সেখানে শুয়ে পরে। কিন্তু
ঘুমিয়ে পড়লেই সব শেষ। আর মাটি তার
উপরে পড়তে থাকে। ধীরেধীরে সে
সম্পূর্ণই ঢেকে যায়। আদিনের ভেতরে
থাকা শয়তানটা কবর খুড়তে থাকে।
কারণ রিংকিকে পেলেই তার সাধনা
পূর্ণ হবে। নখ দিয়ে খামচে কবর খুড়ছে।
কিন্তু কবর ঢেকেই যাচ্ছে। ভোর হতে
চলেছে আদিন নেতিয়ে পড়ে মাটিতে।
তার উপরে একটি কাক এসে বসে।
রিংকির কবরের মাটিও সরে গেছে। এখন রিংকি সাধকের দেওয়া বেল কাটা দিয়ে আদিনের নখের মাথায় ছিদ্র করে এক ফোটা রক্ত খাইয়ে দেয় কাকটিকে। এরপর নিজের নখের থেকে এক ফোটা। এতে বদমাশ তান্ত্রিকের আত্মা শক্তিশূন্য হয়ে বন্দী হয়ে যায়কাকটির ভেতর। আর এ কাকের মৃত্যুর সাথেই মারা যাবে এই শয়তান। অত:পর আদিনকে নিয়ে রিংকি বাড়ী ফেরে। ধীরেধীরে আদিন সুস্থ হয়ে উঠে।

07/08/2020

রাত তিনটা।
বাথরুমে বসে ধারালো চাপাতি আর রান্নাঘরের বটি দিয়ে পানি টলমল চোখ নিয়ে কাঁপা হাতে প্রানপ্রিয় স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে এশার লাশ টুকরো টুকরো করছে এশাদ। হাত চলছে না কিন্তু তারপরও রক্তমাংসের মেশিনের মত কাজটা করে যাচ্ছে। রাত শেষ হতে বেশি বাকি নেই কিন্তু কাজ এখনো অনেক বাকি। কাটা শেষে লাশের টুকরোগুলো বস্তায় ভরে কয়েকবারে নিয়ে নিকটবর্তী নদীর বিভিন্ন জায়গায় ছিটিয়ে ফেলতে হবে। পুরো ঘরে ভালোভাবে কেরোসিন ছড়িয়ে আগুন লাগাতে হবে। আগুন এমনভাবে লাগা চায় যেনো মানুষ বুঝতে পেরে নেভানোর আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারপর অন্ধকার থাকতেই এই এলাকার মায়া ত্যাগ করে অনেকদূরে কোথাও হারিয়ে যেতে হবে। সোজা কথা বাড়িতে তিনজন মানুষ ছিলো, তাদের কি হলো তার কোন চিহ্নই রাখবে না।

রাত বারোটা।
লোকাল থানার লকাপে এশাদ। তিনদিন আগে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করে এনেছে স্থানীয় পুলিশ। তারপর থেকে চলছে একের পর এক জেরা আর সাথে অমানুষিক নির্যাতন। উদ্দেশ্য, স্ত্রী কন্যার হদীস বের করা। কিন্তু এশাদ যেনো একটা জলজ্যান্ত পাথর, এত নির্যাতন সহ্য করেও টু শব্দ পর্যন্ত বের করেনি মুখ থেকে। সামনে বসে ওর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন দায়িত্বরত অফিসার রায়হান।

" ওয়েল, ডিয়ার এশাদ সাহেব! তাহলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ খুলবেনই না। বিগত ছয়-ছয়টি বছর আমাদের কতটা প্যাড়ার মধ্যে রেখেছেন তার বিন্দুমাত্রও ধারণা আছে আপনার? জলজ্যান্ত তিনজন মানুষ রাতের অন্ধকারে হারিয়ে গেলো, মানে কি! কিভাবে সম্ভব? অমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। না কোন ক্লু, না অন্যকিছু। বাড়িটা পুড়ে শেষ কিন্তু ভেতরে লাশের কোন চিহ্ন নেই! কিভাবে মেনে নেই বলতে পারেন? সেই থেকেই চেষ্টায় আছি রহস্য উদঘাটনের। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিলো না। আপনার চাচাতো ভাই কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে আপনাকে দেখে আমাদের না জানালে তো এই কেস সারাজীবন রহস্যই থাকতো। এখন দয়া করে মুখটা খুলুন। এই নীরবতা সহ্য করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। "

যাকে উদ্দেশ্যে করে এত কথা সেই এশাদের এসব নিয়ে কোন মাথা ব্যাথাই নেই। নীরব দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে আছে অফিসারের দিকে।

" এশাদ সাহেব প্লিজ! আর চুপ করে থাকবেন না। রায়হানের হাতে পড়েছে অথচ আসামী মুখ খোলেনি এমন ঘটনা এই প্রথম। আপনি আসলে কি দিয়ে তৈরী? মানুষ তো! নাকি অন্যকিছু? এই নিরবতা আমাকে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। আগেও অনেক আসামী আমার হাতে সাইজ হয়েছে কিন্তু কারো জন্য কোনরকম অনুশোচনা অনুভব করিনি কখনো। কিন্তু আপনার নীরবতা আমাকে ঠেকিয়ে দিচ্ছে! চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। ভেতর থেকে বার বার বলছে, নীরবতার পিছনে বড় কোন কাহিনী লুকিয়ে আছে। আপনার নীরবতা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, ঘুমাতে দিচ্ছে না। সেজন্যই এই মাঝরাতে আপনার সামনে বসে। আমাকে জানতেই হবে আসলে কি হয়েছিল সেদিন? সত্যি বলতে, আমার জীবনে ........"

" সেদিন ছিলো শুক্রবার... "
রায়হানের কথার মাঝখানে হঠাৎ আপন মনেই কথা বলে উঠে এশাদ।

শুক্রবার মানেই আমাদের কাছে স্পেশাল। কর্মব্যস্ত জীবনে সপ্তাহের ওই একটা দিন পরিবার নিয়ে একটু ঘোরাঘুরি, আনন্দ করতাম। সেদিন ঘুরতে গিয়েছিলাম পদ্মার তীরে। শুক্রবার মানেই সেখানে উৎসবমুখর, আনন্দঘন পরিবেশ। লোকে লোকারণ্য পদ্মার তীর। শুধু যে এলাকার মানুষ তা কিন্তু নয়, অনেক দুর দুরান্ত থেকে মানুষ এসে ভীড় জমায় নদী পাড়ের নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে। স্ত্রী আয়েশা আর একমাত্র মেয়ে এশা কে নিয়ে নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ মেয়েটার আবদার-

" আব্বু? আইসক্রিম খাবো। "

" আইসক্রিম নিতে হলে যে উপরে যেতে হবে মামুনি, সে তো এখান থেকে বেশ দূরে। যাওয়ার সময় নেব, বাসায় গিয়ে খাবে, কেমন? "

" না বাবা, কোন কথা শুনছি না। আমি এক্ষুনি খাবো। নদীর পাড়ে বসে আইসক্রিম খাওয়ার মজাটা তুমি বুঝবে না। নিয়েই তো আসো আগে, তারপর দেখবে কত্ত মজা! "

মেয়র সাথে এবার আয়েশাও যোগ দেয়,
" আরে যাও না। মেয়েটা যখন এত করে বলছে নদীর পাড়ে বসে আইসক্রিম খাবে। অল্পই তো রাস্তা, এত অলস তুমি কবে থেকে হলে এশাদ! "

" আরিব্বাস, মেয়ের মায়েরও দেখি আইসক্রিম খাওয়ার লোভ জেগেছে মনে! "

" আরে নাগো, সেটা না। মেয়েটা বার বার বলছে নদীর পাড়ে বসে আইসক্রিম খাবে সেজন্যই বললাম। অবশ্য আমারও মন্দ লাগবে না! এখন যাও তো নিয়ে এস, আর কথা বাড়িও না। "

" হলো তো বাবা! এখন মামুনিরও এটাই ইচ্ছে। তাড়াতাড়ি যাও এবার, নিয়ে এসো আইসক্রিম। "

" যাচ্ছি রে মা যাচ্ছি! না গিয়ে আর উপায়ই বা কই? যেখানে প্রিন্সেস আর মহারানী একদিকে সেখানে তাদের রাজ্যের সামান্য এক গরীব প্রজার কি-ই বা করার থাকতে পারে! তোমারাই এখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, কথা না শুনলে দেখা যাবে শেষমেশ এই হাজবেন্ডের চাকরীটায় হারাবো! "

" ধুত্তোর এশাদ, সবসময় ফাজলামো করার স্বাভাবটা তোমার আর গেলো না। গেলে এখান থেকে! "

আয়েশা কে নড়ে উঠতে দেখেই বুঝলাম আক্রমণ সন্নিকটে। চুল ধরে টানাটানি করাটা ওর খুব পছন্দ, সুযোগ পেলেই আমার সুন্দর চুলগুলোর পেছনে লাগে। একবার ধরতে পারলে খবর আছে তাই লাফিয়ে উঠে দোকানের দিকে দৌঁড় দিলাম।

আইসক্রিম হাতে নিয়ে ঢাল থেকে নামতেই ভেতরটা কেঁপে উঠলো। তিনজন লোক আয়েশা আর এশা কে ঘিরে ধরেছে। আপনা আপনি হাঁটার গতি বেড়ে গেলো। একটু কাছাকাছি হতেই দেখলাম শুধু ঘিরেই ধরেছে তা নয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করছে সাথে অনেক অশ্লীল মন্তব্য করছে ওদের উদ্দেশ্যে। বাচ্চা মেয়েটাকেও ছাড় দিচ্ছে না জানোয়ারগুলো। এই দৃশ্য দেখে মাথায় খুন চেপে গেলো। নিজেকে বদ্ধ উন্মাদ মনে হচ্ছিলো। এদিক ওদিক তাকাতেই একটা বাঁশের টুকরো চোখে পড়লো। আইসক্রিম ফেলে সেটা তুলে নিয়ে দৌঁড়ে গিয়ে লোকগুলিকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করলাম। ওরা খালি হাত। আমার সাথে পেরে উঠলো না। এক পর্যায়ে দৌঁড়ে পালানো। যাওয়ার সময় বলে গেলো-

" আমাদের গায়ে হাত দিয়ে মোটেই ভালো করলি না। কথা দিচ্ছি, এর জন্য তোদের চরম ভোগা ভুগতে হবে। "

ওখানে আর এক মুহুর্ত না থেকে সাথে সাথে বাড়ি চলে আসি। সন্ধ্যার আগেই নিরাপদে ওদের নিয়ে বাড়ি পৌঁছায়। চেষ্টা করছিলাম চিন্তাভাবনা স্বাভাবিক রাখার কিন্তু পারছিলাম না। মনে একটা অস্বস্তি কাজ করছিলো। অশুভ চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিলো মাথায়। চলে যাওয়ার সময় বলা ওই লোকের কথাগুলো কিছুতেই ভুলতে পারছিলাম না। এতটাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বললো যেনো কিছু একটা করবেই। চিন্তায় আছি এটা আয়েশা কে বুঝতে দিলাম না। কারণ তাতে অযথায় ওর চিন্তা বাড়বে। সেই সন্ধ্যা থেকেই আবার গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে, ছাড়ার নাম নেই। বিরক্তিকর ব্যাপার! শরীর খারাপের অযুহাত দিয়ে রাতে নামমাত্র কিছু চালান করে ঘুমাতে গেলাম। তিনজন এক রুমেই ঘুমায়, মেয়েটা বাবা ছাড়া ঘুমাতে পারে না। বিভিন্ন রকম আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। হঠাৎ ধড়ফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলাম দরজা ধাক্কার শব্দে! ধাক্কাচ্ছে আর ডাকছে কেউ -
" বাড়িতে কে আছেন? দরজাটা খুলুন দয়া করে, আমার একটু সাহায্য দরকার। খুব জরুরী! খুলুন দয়া করে! "

এশাদ জানতে চাই -
" কে আপনি? এত রাতে কি সমস্যা হয়েছে? কি ধরনের সাহায্য চান? "

" পরের পাড়াতেই আমার বাড়ি, বন্ধুকে নিয়ে শহরে গিয়েছিলাম একটা কাজে। বৃষ্টির কারণে ফিরতে দেরি। পিচ্ছিল হয়ে আছে রাস্তা, স্লিপ করে মোটরসাইকেল পড়ে গেছে। আমার আঘাত সামান্য কিন্তু বন্ধুর অবস্থা মারাত্মক। একটু সাহায্য করলে খুব উপকার হতো। চির ঋণী হয়ে থকবো। "

একজন বিপদে পড়েছে, এই সময় যদি তার পাশে না দাঁড়ায় তাহলে কিসের মানুষ আমি! সবকিছু ভুলে তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুললাম। খুলতেই দেখি একটা পিস্তল সোজা আমার কপাল বরাবর তাক করা। পিস্তলের পেছনে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে সেই হুমকি দেওয়া লোকটা। সাথে আরো কিছু লোক। পিস্তল হাতে লোকটাকেই ওদের নেতা মনে হলো। অপমানের শোধ নিতে এসেছে। তীব্র আতঙ্কে ভেতরটা শিউরে উঠলো। চেষ্টা করলাম দরজা বন্ধ করার। কিন্তু সুযোগ দিল না ওরা। এক ধাক্কায় আমাকে সরিয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকে পিস্তলের মুখে আমাকে একটা চেয়ারের সাথে বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দিলো। একজন গিয়ে দরজাটা আঁটকে দিলো। এদিকে আমার দেরি দেখে শোয়ার ঘর থেকে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে ডেকে যাচ্ছে আয়েশা।

" কি গো? গেলে তো গেলেই, আসার কোন নাম গন্ধই যে নেই, ব্যাপার খানা কি শুনি তো! প্রাক্তন কোন প্রেমিকা চলে এসেছে বুঝি এই মাঝরাত্রে! তাকে পেয়ে আমাকে ভুলেই গেলে! তাড়াতাড়ি আসো তো, না হলে কিন্তু সত্যি সত্যি তোমার হাজবেন্ডের চাকরিটা খেয়ে দেবো। "

আয়েশার এভাবে ডাকা দেখে শয়তানগুলো একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। দারুণ মজা পাচ্ছে। একজন বললো -
" ভাইলোক, অযথা কেন দেরি করছি! আমার দেরি সহ্য হচ্ছে না। চল, ওই ঘরে গিয়ে ধরি মালটাকে! "

নেতা লোকটা মৃদুস্বরে ধমক দিলো-
" আরে থাম, এত অস্থির কেন? সব তো এখন আমাদেরই। দেখি না স্বামীটাকে না পেয়ে কি করে মালটা! "

আমার ভেতরটা তোলপাড় করছে। কিভাবে বাঁচা যায় এদের হাত থেকে কিছুই বুঝে আসছে না।

বেশ কয়েকবার ডাকার পরেও সাড়া না পেয়ে আয়েশা এই ঘরে চলে এলো আমার খোঁজে। ঘরে ঢুকেই লোকগুলোকে দেখে থমকে গেলো, স্পষ্ট দেখলাম নগ্ন ভয় খেলে গেলো ওর চোখে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আয়েশা কে ঘরে ঢুকতে দেখেই নেতাটা আমার দিকে পিস্তল তাক করলো।
" একটা টু শব্দ করলেই তোর স্বামীকে ঠুশ। "
বলেই হেসে উঠলো।
" সেদিন তো খুব হিরোগিরী দেখালো! আজকে দেখি কিভাবে বাঁচায় তোকে! "

আয়েশাকে দেখছে ওরা। পা থেকে মাথা পর্যন্ত নজর বোলাচ্ছে। এমন দৃষ্টিতে দেখছে, মানে বুঝতে কষ্ট হয় না কারোরই। চোখ দিয়েই যেনো চেটেপুটে খেয়ে ফেলছে। গা রি রি করে উঠলো আমার। মানুষের দৃষ্টিও এত খারাপ হতে পারে কখনো কল্পনাও করিনি।

নেতা বলে উঠলো -
" শুধু দেখলেই মনের খায়েশ মিটবে! খুব তো অস্থির হয়ে গেলি, এখন চুপ কেন? যা, ধরে নিয়ে আয়। নবাবের বেটি, একটা যদি টু শব্দ করিস ধরে নিবি তোর স্বামী মৃত! "

" আরেহ ওস্তাদ, এত চিন্তা কইরেন না। বাইরে যে হারে বৃষ্টি হইতাছে তাতে মাগী গলা ফাডাইলেও কেউ শুনতে পাইবো না। "
বলতে বলতে একজন গিয়ে আয়েশা কে জড়িয়ে ধরলো।

অসহায় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আয়েশা। কি করবো আমি জানি না। চেয়ারের সাথে আষ্টেপৃষ্টে হাত-পা বাঁধা। অনেক চেষ্টা করেও বাঁধন ঢিল করতে পারিনি। পাকা হাতের বাঁধন। যত চেষ্টা করছি মাংস কেটে দঁড়ি বসে যাচ্ছে। রক্তান্ত হয়ে গেছে হাত। আয়েশা ধস্তাধস্তি শুরু করলো লোকটার সাথে। তাই দেখে হেসে উঠলো নেতা লোকটা।

" মেয়েদের সবচেয়ে দামী তার ইজ্জত, যদিও স্বামী মৃত্যুর মুখে তারপরও এত সহজে কেন সেটা দেবে? তোরা দাঁড়িয়ে কি দেখছিস হারামজাদারা! যা ধর সবাই মিলে। "

সবাই যেনো এই অপেক্ষাতেই ছিলো। নির্দেশ পাওয়ার মাত্রই ক্ষুধার্ত হায়েনার মত হামলে পড়লো আয়েশার ওপর। আমার চোখের সামনে সবাই মিলে ওকে ভোগ করলো। অসহায় দৃষ্টিতে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারলাম না আমি।

হঠাৎ-ই একজন বললো -
" বস মেয়েটাও কিন্তু সেই একটা জিনিস! "

বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠলো। চিৎকার করে বললাম -
" রহম কর, দয়া করে একটু রহম কর। বাচ্চা মেয়েটার গায়ে তোরা হাত দিস না। "
মুখ বাঁধা থাকায় গোঁ গোঁ শব্দ ছাড়া কিছুই শোনা গেলো না।

ডুকরে কেঁদে উঠলো এশাদ। অনেকক্ষণ অঝোর ধারায় চোখের পানি ছেড়ে কাঁদলো। রায়হান বাঁধা দিলেন না। অনেক দিনের বুকে জমানো কষ্টগুলো চোখের পানি হয়ে কিছুটা হলেও ঝরে যাক।

" ছাড়লো না স্যার, আমার বাচ্চা মেয়েটার ওপরে কোন দয়া হলো না জানোয়ার গুলোর। বাচ্চা মেয়েটা আমার! ঘটনার দুদিন আগেই নবম জন্মদিন পালন করলাম। হায়েনাগুলো মেয়েটাকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেলো কিন্তু আমি কিছুই করতে পারলাম না। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার চোখের সামনেই তড়পাতে তড়পাতে মারা গেলো মেয়েটা। এগুলো দেখার পরেও আমি কিভাবে এখনো বেঁচে আছি নিজেই ভেবে অবাক হই! "

যে রায়হান চরম নিষ্ঠুরতার সাথে আসামিদের উপর নির্যাতন চালিয়েও কখনো কোন দুঃখ অনুভব করেনি, এশাদের নিষ্ঠুরতম কাহিনী শুনে তার চোখও পানিতে টলমল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেন তিনি।
" আপনার স্ত্রী? উনি তো বেঁচে ছিলেন? কোথায় এখন তিনি? আর আপনার মেয়ের লাশটাই বা কোথায় গেলো? "

অঝোর ধারায় এখনো পড়ছে এশাদের চোখের পানি।
" আমার স্ত্রী স্যার! ও জ্ঞান হারিয়েছিলো। শয়তানগুলো চলে যাওয়া পর জ্ঞান ফিরলে আমাকে বাঁধন মুক্ত করে। অজ্ঞান হওয়ায় ভালো হয়েছিলো। মেয়েটার উপর নৃশংসতা ওকে দেখতে হয়নি। তবে জ্ঞান ফেরার পর মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখে কি ঘটেছে বুঝে ও পাথর হয়ে যায়। আমার কাছে একটা অনুরোধ করে এবং সেটাই ছিলো ওর শেষ ইচ্ছে। "

" কি অনুরোধ ছিলো সেটা? "

" আয়েশা চায়নি এই ঘটনা জানাজানি হোক, চায়নি মেয়েটার লাশ নিয়ে টানাটানি বা কাটাছেঁড়া হোক। চায়নি লোকে ওকে দেখলেই ছি ছি করুক। আমাকে পুলিশের কাছেও যেতে দেইনি কারণ দেশের আইন ব্যাবস্থার উপর ওর বিন্দুমাত্র ভরসা ছিলো না। পূর্ণ বিশ্বাস ছিলো আইনের আশ্রয় নিলে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে সারাজীবন পার হয়ে যাবে কিন্তু ওই ক্ষমতাসীন লোকদের কোন বিচার হবে না। আমার পা জড়িয়ে ধরে বলেছিলো আমি যেনো ওকে নিজে হাতে খুন করে লাশ দুইটা গুম করে ফেলি তারপর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে এই এলাকা ছেড়ে অনেকদূর কোথাও চলে যাই। যাতে কেউ যেনো কোনদিন বুঝতে না পারে আমাদের কি হয়েছে। এটা যেনো সারাজীবন রহস্যই থেকে যায়। এমনকি আমি প্রতিশোধ নিতে চেয়েছি, সেটাতেও রাজি হয়নি। ও চাইনি আমার অবস্থাও ওদের মতই হোক। চেয়েছিলো আমি বেঁচে থাকি আর আমার মাঝে বেঁচে থাকুক ও নিজে, আমাদের সন্তান, বেঁচে থাকুক আমাদের ভালোবাসা। এজন্যই এত কষ্ট বুকে নিয়ে এখনো বেঁচে আছি। আমার আয়েশাকে নিজ হাতে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছি স্যার! "

" আপনাকে আমি কোন দোষ দেবো না। যা করেছেন স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই করেছেন। কিন্তু এশাদ সাহেব! এই মিথ্যার দুনিয়ায় এখনো কিছু ভালো মানুষ আছে। অসৎ এর ভীড়ে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে এখনো কিছু সৎ মানুষ আছে। তা না হলে দুনিয়ার ভালো খারাপের সামঞ্জস্যতা কবেই নষ্ট হয়ে দুনিয়া ধ্বংস হতো। যত ক্ষমতাসীন হোক, কেউ নিয়মের বাইরে নয়। আপনার স্ত্রী-কন্যার ধর্ষণকারীরা শাস্তি অবশ্যই পাবে এবং সে ব্যবস্থা আমি করবো। "

" কিন্তু স্যার আমার স্ত্রীর..... "

" আপনার স্ত্রীর শেষ ইচ্ছের কথা ভাবছেন তো? সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না। অপরাধীরা শাস্তি পাবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তিটাই পাবে কিন্তু হবে না কোন কেস, হবে না কোন আইন-আদালত। শাস্তিটা আমি নিজে দেবো এবং সেটাও আপনার হাত দিয়ে! "

অফিসার রায়হানের কথা শুনে ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম এশাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।

(সমাপ্ত)

★অন্তর্ধান_রহস্য
লেখা-শান্ত_আকাশ

04/08/2020

লাশকাটা ঘরেঃ
------------
ঝির ঝির শব্দে একটানা বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে।
চারপাশ নিস্তব্দ- নিশুতি রাত মনে হলেও
রাত মাত্র সাড়ে এগারোটা। কিন্তু এই
মিরস্বরাই মেডিক্যাল এর লাশ ঘরের
চারপাশে যেন নেমে এসেছে নিঝুম
অন্ধকার-সাথে টিপটিপ বৃষ্টি। সালাম একটু
আগে ভ্যান নিয়ে এসেছে এখানে। উদ্দেশ্য
ছিল রমেশ ডোম কে লাশ টা বুঝিয়ে দেবে।
পুলিশ কেস। লাশ টা একটা যুবতী মেয়ের।
বয়স আন্দাজ ২৪ হবে। স্বামীর সাথে রাগ
করে বিষ খেয়েছে। পুলিশ আসতে আসতে
ফুলে ঢোল হয়ে গেছে লাশ। ফোলা লাশটা
কে মেডিক্যাল এ ময়না তদন্ত করতে
পাঠিয়েছে সালাম কে দিয়ে। সালাম এই
লাশ বহনের কাজ করছে চার বছর ধরে। এই
সব কাজে কখনো ভয় পায়নি সে। আরও বেশ
ভালই লাগে ওর।অনেক দূর থেকে লাশ নিয়ে
আসতে হলে সালাম এর ডাক পড়ে এই জন্য।
অবশ্য টাকা ও কম পায়না। প্রতিটা লাশ
টানার জন্য ৬০০ টাকা পায় সে। এ দিয়ে
সপ্তাহ খানেকের নেশার টাকা হয়ে যায়-
ভাবতে ভাবতে আরেকটা গাঁজা ভরা
সিগারেট ধরাল সালাম। সে মর্গের বাইরে
অপেক্ষা করছে রমেশের জন্য। রমেশ
আসলেই ওকে লাশ বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাবে
সে।
নিশুতি রাতে বের হলেই এক বোতল বাংলা
নিয়ে যায় সালাম সবখানে । এভাবে প্রায়
সময় ওকে মর্গের বাইরে বসে থাকতে হয়।
সরকারী চাকরি করে রমেশ।তাই কোন সময়
আসে সেটার কোন ঠিক থাকেনা। আর লাশ
ফেলে রেখে ও যাবার উপায় নেই। রমেশের
হাতের আঙ্গুলের ছাপ একটা সরকারী
কাগজে নিতে হয় ওকে।এই ছাপের জন্যই
বসে থাকে প্রায় সময়। এই অপেক্ষার সময়টা
বাংলা খেয়ে কাটায়। পাঁচ দিন আগে একটা
লাশ নিয়ে এসেছিল সে। সেই সময় বেশ
টাকা পেয়েছিল। তাই আজকে সাথে গাঁজার
পুরিয়াও আছে। তাই সময়টা মন্দ কাটছে না।
মর্গের বাইরে টুল পাতা আছে- সেই টুলে
বসে বসে আরেকটা বিড়ি ধরাল সালাম।
গাঁজা খাবার অভ্যাস সেই ছোট বেলা
থেকেই ছিল সালামের। একসময় গাঁজা
বিক্রি করত রেললাইনের বস্তিতে। সেখান
থেকে চলে আসে পনের বছর বয়সে। সেই
থেকে ভ্যান চালায় সালাম। এই পেশায় খুব
একটা টাকা আসেনা দেখে থানার দারোগা
বাবুর হাতে পায়ে ধরে চার বছর আগে লাশ
টানার কাজটা পেয়েছিল। সেই থেকে
কপাল খুলেছে সালামের। দুই বছর আগে
বিয়েও করেছিল। কিন্তু সংসার টেকেনি।
ওর বউ ফুলবানু নাকি রাতের বেলা ওর
শরীরে লাশের পঁচা গন্ধ পায়। মাস তিনেক
আগে তাই তালাক দিয়ে চলে গেছে
আরেকটা লোকের সাথে। ভাবতে ভাবতে
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালাম। অনেকবার
চেয়েছিল এই পেশা ছেড়ে দেবে। কিন্তু
পারেনি। পেটের দায়ে এখন ও এই পেশায়
পড়ে আছে।
বৃষ্টি থেমে গেছে একটু আগে। এখন মাটিতে
সোঁদা গন্ধ- সাথে সালামের গাঁজার
ফ্যাকাসে গন্ধ মিলে একটা অন্য রকম
পরিবেশ তৈরি করেছে মর্গের আশ পাশে।
এর মাঝে বাংলার বোতল ও প্রায় শেষ করে
ফেলেছে- এমন সময় হটাৎ করেই ওর সামনে
এসে হাজির হল রমেশ ডোম। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই
ছুঁই। কিন্তু এখন ও শরীরে প্রচণ্ড শক্তি। আর
এই বয়সে ও দিব্যি মাল খেয়ে বেড়ায় সে।
সারাদিন ঘুমায়- রাতে এসে লাশ
কাটাকাটি করে। সালামের সামনে এসে
দাঁড়াতেই সালাম চমকে ঊঠে বলল-
"কে গো? রমেশ কাকা নাকি?"
অনেক ক্ষন চুপচাপ থেকে হো হো করে
হেসে ফেলল রমেশ। কিন্তু অন্ধকারে সেই
হাসি শুনে হটাত করে যেন ভয় পেয়ে গেল
সালাম। বলল-
" কি গো রমেশ কাকা? এমুন করি হাস
কেন?"
" কিছু না রে সালামইয়া- দেখলাম তুই কতটা
ডরাস রাইতে" বলেই আবার হাসি শুরু করে
দিল রমেশ।
রেগে গেল সালাম- " হ- আমিই ডরাই- আর
তুমি যে আমারে এতক্ষন বসায়া রাখলা- এই
লাশ ঘরের সামনে বইতে বইতে আমার পা
দুইখান শেষ হই গেল। এতক্ষন যে তুমি
বৃষ্টিরে ডরাই লা?? "
" না রে সালাম- আমার ঘর থেইক্যা বের
হইতে দেরী হইগেছে। ভাবলাম থানা থেকে
লাশ আসিছে- তোকে বসায়া রাখুম না-
কিন্তু হটাত বৃষ্টি শুরু হইল- কি করুম- আমার
কাছে তো ছাতি নাই- তাই বৃষ্টি না থামা
পর্যন্ত আমি বাইর হইলাম না। "
সালাম তাকিয়ে দেখল রমেশের শরীর
শুকনা। তবে সে একটা সাদা কাপড় লুঙ্গির
মত পড়ে আছে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি-
সাথে খালি গায়ে সাদা লুঙ্গি পরিহিত
রমেশ কে দেখে খানিক্টা ভয় পেল সালাম।
বলল-
" দাও গো কাকা- কাগজ টাতে একখান টিপ
মাইরা- আমি চলি যাই- বেশ রাইত হইসে।
ঘরে যামু।" বলে পকেট থেকে কাগজ বের
করে এগিয়ে দিল রমেশের দিকে।
কিন্তু রমেশ যেন দেখে ও দেখল না- বলল-
" তা তো যাইবাই- কিন্তু আজকা তোমারে
ছাড়ুম না চান্দু- তোমারে আমার লাশ কাঁটা
দেখামু "- বলে আবার হো হো করে হেসে
ফেলল রমেশ।
" না না- আমার কোন স্বাদ নাই দেখনের।
তুমি কাট তোমার লাশ- আমারে টিপ দাও-
আমি যাইগা-" বলেই ঊঠে পড়তে চাইল
সালাম- কিন্তু রমেশ সালামের বাম হাত
ধরে ওকে টেনে নিয়ে গেল লাশ কাঁটা
ঘরের সামনে। কোমড় থেকে চাবি বের করে
খুলে ফেলল দরজা। তারপর চাবির গোছাটা
ভেতরে রেখে ভ্যান এর সামনে নিয়ে আসল
সালাম কে- বলল-
" নাও বাছা ধর তো- নিয়া যাই ভেতরে-"
সালাম না করল না। দুইজনে মিলে মেয়েটার
লাশটাকে তুলে নিয়ে গেল লাশঘরের
ভেতরে। সেখানে একটা সাদা কাপড় পাতা
টেবিলের উপর লাশটা রেখে বাতি
জ্বালিয়ে দিল রমেশ ডোম। তারপর হেটে
গিয়ে একটা চল্লিশ পাওয়ারের বাতি
জ্বালিয়ে দিল। এই আলোতে অন্ধকার যেন
আরো বেশী চেপে বসল। আশে পাশে কিছু
দেখা যায়না। কোত্থেকে একটা বাক্স
নিয়ে হাজির হল রমেশ। সেটা খুলে বের
করল একটা ধারাল ছুড়ি। সেটা দিয়ে লাশ
বাধার পাটি র বাঁধন খুলতে খুলতে বলল-
"আইজকে তোমারে আমি লাশ কাটা
দেখামু। কোন দিন দেখলা না কিভাবে
কাটি আমি লাশ" বলে হাসি হাসি মুখে
তাকাল । হাসিটা দেখে হটাৎ ভয় পেয়ে
গেল সালাম। কেমন যেন একটা জড়তা চলে
এল ওর মাঝে। মন্ত্রমুগ্ধের মত মাথা নেড়ে
সম্মতি জানাল। তারপর দেখতে লাগল কি
করে রমেশ। অদ্ভুত এক পরিবেশ তৈরি
হয়েছে চারপাশে। এই অন্ধকার রাতে স্যাঁত
স্যাঁতে সোঁদা গন্ধের সাথে একটা পঁচা পঁচা
গন্ধে ভরে গেল সারা ঘর। কিন্তু সালামের
কোন অনুভুতি কাজ করছে না। সে তাকিয়ে
আছে রমেশের সামনে রাখা লাশের দিকে।
গন্ধের উৎস হয়ত সেখানেই।
রমেশ আস্তে আস্তে চারটা দড়ি কেটে
লাশের উপর থেকে পাটি সরিয়ে ফেলল।
তারপর সেই লাশের উপর থেকে সাদা
কাফনের কাপড় টা সরিয়ে দিল। বাঁধন খুলতে
গিয়ে সালাম ও হাত লাগাল। উপরের দিকের
কাপড়টা খুলে সালাম দেখল এক অনিন্দ্য
সুন্দরীর মুখ- এখন ফুলে ফেপে ঢোল হয়ে
আছে। চোখের নিচে আর নাকের ফুটো দিয়ে
চাপ চাপ রক্ত। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে
সালাম বলল-
" আহা কত সোন্দর আছিল- এখন কেউ এরে
ছুইতে ও চাইব না- একদিন নিশ্চয় সবাই এই
মায়ারে পাইতে চাইত- নিজের বউ বানাইতে
চাইত- আইজকে সেই লোক গুলান আর এই
মায়াটারে স্বপ্নে ও পাইতে চাইব না- কি
আজিব দুনিয়া না রমেশ কাকা?"
খেক খেক করে হেসে রমেশ বলল-
"আরে দুই পয়সার দাম নাই জিনিস দিয়ে
মানুষ কত ভাব ধরে দেখস না? এই মাংস এখন
কাউরে দিলে ও নিবনা- কিন্তু ফুটানি
মারে সব সময় এই মাংস নিয়া- দুনিয়া
ছাইড়া গেলে সবাই ছুইতে ডরায়- দুনিয়ার
মাঝে যারা ভালবাসে তারাও এই লাশ
দেইখে ডরায়"- বলে আবার হাসি শুরু করল।
মনটা খারাপ হয়ে গেল সালামের। রমেশের
খিস্তি হাসি শুনে আরো বেশী মন খারাপ
হল। আজকে যেন বেশী বেশী হাসছে রমেশ।
বেশী নেশা করলে যা হয় আরকি। ওকে টিপ
না দিয়ে এই লাশ ঘড়ে আটকে রেখেছে।
মাতালের সাথে বেশী কথা বলল না সালাম।
এক নজরে দেখতে লাগল রমেশ কি করে।
রমেশ একটা ধারাল কাচি দিয়ে মেয়েটার
উন্মুক্ত শরীরে বুক এর মাঝখান থেকে ধরে
একটানে সোজা কেটে ফেলল নাভি পর্যন্ত।
সাথে সাথে ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্ত পড়া।
কোত্থেকে এক গ্লাস পানি এনে ঢেলে দিল
সেই রক্তের উপর। সাথে সাথে ধুয়ে
পরিষ্কার হয়ে গেল অনেক রক্ত। জীবন্ত
মানুষের অপারেশন করতে অনেক কষ্ট- কিন্তু
মরা লাশের অপারেশন করা অনেক সহজ।
এরপর সেই লাশের দুইদিকে সুই দিয়ে চামড়া
টান টান করে ট্রের সাথে লাগিয়ে দিয়ে
কাটা শুরু করল লাশের বিভিন্ন অংগ
প্রত্যঙ্গ। লাশের শরীর ফোলার কারন বুঝা
গেল এবার। মেয়েটা অনেক মোটা ছিল-
সারা শরীরে ভর্তি চর্বি। এই চর্বি গুলো
হলদে আকার ধারন করেছে মরার পর। সেই
চর্বি গুলো কেটে কেটে একটা বালতিতে
ফেলে দিল রমেশ। অনেক দিনের অভ্যস্ত
হাতে একটা একটা করে অংগ প্রত্যঙ্গ
কাটছে রমেশ খালি হাতে- আর একটা ওজন
যন্ত্রের উপর রেখে রেখে ওজন নিচ্ছে।
তারপর টেবিলের আরেকপাশে সেই অংগ
গুলো রেখে দিচ্ছে সাজিয়ে। হা করে
তাকিয়ে আছে সালাম। কোন দিন লাশ
কাঁটা দেখেনি। আজকে দেখছে- কিন্তু
খেয়াল করেনি কখন পায়ের কাছে একটা
কুকুর এসে পড়েছে- হটাত পায়ে একটা
হালকা ছোয়া পেতেই ভয় পেয়ে গেল
সালাম- তারপর টেবিলের নিচে তাকিয়ে
দেখল রমেশের কুকুর ভুতু। সে টেবিলের তলায়
রাখা বালতি থেকে মুখ দিয়ে কি যেন
খাচ্ছে। হটাত মনে পড়ল সালামের-এই
বালতিতেই লাশের চর্বি গুলো রেখেছিল
রমেশ। উপরে উঠে রমেশ কে সেটা বলতে
যেতেই দেখল রমেশ হাসি মুখে তাকিয়ে
তাকিয়ে বলল-
" আরে এই জিনিসটা ভুতুর অনেক প্রিয়। ওরে
ভাল কিছু তো খাইতে দিতে পারিনা- তাই
এখানে আসলে ও হলুদ জিনিসটা খায়। ওরে
আগে বকা দিতাম- কিন্তু চিন্তা করলাম -
ভুতুরে ভাল মন্দ কিছু খাইতে দিতে
পারিনা- কুকুরটা যখন এই জিনিসটা পছন্দ
করছে- তাইলে কি হয় খাইলে একটু-" বলে
আবার হেসে ফেলল রমেশ।
এবার কেমন যেন গা গুলিয়ে উঠল সালামের।
খেতে দিতে হলে ময়লা খাবে- তাই বলে
মানুষের চর্বি খাবে একটা পোষা কুকুর?
নাক মুখ কুঁচকে আবার নিচে দেখে নিল
সালাম। কুকুরটা তখন ও খেয়ে চলেছে চর্বি।
আস্তে আস্তে কাজ করে চলেছে রমেশ। সব
অংগ প্রত্যঙ্গ প্রায় কাটা শেষ এমন সময় কি
যেন চিন্তা করে কাজ থামিয়ে দিল সে।
তারপর একটা একটা অংগ আবার যথা স্থানে
রেখে দিতে লাগল। শুধু কলিজাটা পড়ে
আছে টেবিলের এক কোনায়। কালচে আকার
ধারন করেছে সেটা। হটাত কি মনে করে
কলিজাটা একটা পলিথিন ব্যাগে পেচিয়ে
নিয়ে হাটা দিল রমেশ। অবাক হয়ে গেল
সালাম। অবাক হয়েই জিজ্ঞাস করল-
"কই যাও কাকা? কইলজাটা কই নিয়া যাও
তুমি? কি করবা এটা দিয়া?"
পেছন ফিরে তাকাল রমেশ- খুব একটা ভাল
ভাবে চেহারা দেখা যাচ্ছেনা- দেখা
যাচ্ছে শুধু হলদে দাঁতের পাটি। হেসে হেসে
ই বলল রমেশ-
" এইত- এই কইলজাটার একটা ব্যাবস্থা কইরা
আসি রে সালাম- তুই থাক- আমি অক্ষন ই
আইতাসি- এই যামু আর আসমু- সামান্য সময়
থাক তুই" বলেই হন হন করে দরজা খুলে
বাইরে বের হয়ে গেল রমেশ। পেছন পেছন
কুকুরটা ও ছিল। কি মনে করে পেছন ফিরে
তাকাল কুকুরটা- অন্ধকারে কুকুরটার হলদে
চোখের মনি দেখে ভয় পেয়ে গেল সালাম।
একটু পরেই আবার বের হয়ে গেল সেটা। হাঁপ
ছেড়ে যেন বাঁচল সালাম। লুঙ্গির গিট্টু
থেকে একটা গাঁজার পুরিয়া বের করে টানা
শুরু করতেই হটাত চিৎকার চেচামেচি শুনতে
পেল সালাম- লাশ ঘরের বাইরে থেকে
কারা যেন কথা বলে কিছু বুঝতে চাইছে।
কেউ একজন মহিলা কাঁদছে। তাড়াতাড়ি
লাশ ঘর থেকে বের হয়ে আসল সালাম। দরজা
খুলে বের হয়েই অবাক হয়ে গেল সালাম।
বাইরে আরেকটা ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে।
সালামের ভ্যানটা সরানো নিয়ে তর্ক
করছিল কিছু মানূষ। মনে হচ্ছে ভ্যানে করে
কোন একটা লাশ নিয়ে এসেছে কেউ। সাথে
সেই লাশের আত্মীয় স্বজন। তাদের কান্নার
আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল ভেতর থেকে।
সালাম বের হয়েই জিজ্ঞাস করল-
" কি হইসে ভাই- কার লাশ নিয়া আসিছেন?
রমেশ তো একটু আগে বাইর হইল- এখন ই আসি
যাবে "- বলে গাঁজায় শেষ টান দিয়ে ফেলে
দিল ফিল্টার টা।
হটাত নিস্তব্ধ হয়ে গেল সামনের জনতা।ভোর
হতে শুরু করেছে মাত্র। আস্তে আস্তে জেগে
উঠতে শুরু করেছে পাখি গুলো। এমন সময় যেন
একটা বোমা ফাটাল সালাম। সামনে থাকা
সবাই ওর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে
আছে। একজন মহিলা এগিয়ে সালাম কে
বলল-
" কে আছিল এতক্ষন? কে আছিল ভেতরে?"
"ক্যান কইলাম না রমেশ কাকা বাইরে
গেছে- একটু পরেই আইসে পড়বে"
বিরক্তি সুরে বলল সালাম।
সেই মহিলা হটাত গিয়ে ভ্যানে রাখা
লাশটার মুখ থেকে কাপড় খুলে ফেলে বলল-
" রমেশ যদি এখানে আসে- তবে এইটা
কেডা?"
লাশে মাথাটা দেখে হটাত মাথাটা চক্কর
দিয়ে উঠল সালামের। রমেশ সাদা কাপড় এ
বাঁধা লাশ হয়ে পড়ে আছে সালামের
সামনের ভ্যানে। হটাত করে বুঝতে পারল
সালাম- ও অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। শুধু অজ্ঞান
হবার আগে সেই ভ্যানের পাশে দাঁড়ানো
রমেশের কুকুরটাকে দেখতে পেল সে। সেই
হলদে চোখে তাকিয়ে আছে খানিক ক্ষন
আগের মত। মুখের পাশে লেগে আছে হলদে
চর্বি ।।

....সমাপ্ত....

Want your school to be the top-listed School/college in Bogura?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Bogura
5800