07/09/2018
কাল থেকে শুরু হচ্ছে অনার্স ১ম বর্ষের পরিক্ষা তাই তাদের জন্য ভলো নম্বর পাবার জন্য কিছু কৌশল ঃ
আশা করি আপনাদের অনেক কাজে আসবে।
ছাত্রজীবনে পরীক্ষা শব্দটি সব ছাত্র-ছাত্রীর কাছেই অতি পরিচিত একটি শব্দ। সেই শিশু শ্রেণীতে ভর্তির পর থেকে পরীক্ষা নামক চক্রের সাথে পরিচিতি হবার পর থেকে চক্রটি অবিরাম চলতেই থাকে। আর মানুষের মধ্যে এখনো এই মতবাদটিই প্রচলিত আছে –“বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়”
এর মানে হচ্ছে, তুমি যতই ভালো স্টুডেন্ট হও না কেন, পরীক্ষার খাতায় যদি তুমি ভালো নম্বর না পাও কিংবা ভালো রেজাল্ট না হয়, তাহলে সবই যেন বৃথা হয়ে যায়! এর বাস্তব উদাহরণ দেখেছি আমার আশেপাশেই
কাল থেকে অনার্স ১ম বর্স পরীক্ষা শুরু। তাই তাদের জন্য আামার পক্ষ থেকে ভালো নম্বর পাবার জন্য কিছু পরামর্শ। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে চরম আরাধ্য। এক্ষেত্রে যে কোনো বিষয়ের উপর ভালো কনসেপ্ট থাকার সাথে সাথে খাতায় কিভাবে উত্তর উপস্থাপন করলে নম্বর ভালো আসে তা জানা থাকাটাও জরুরি। আজকের লেখাটি থাকছে মূলত এই বিষয় নিয়েই। লেখাটি পড়ে আসন্ন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে আশা করি।
১.পরিষ্কার হাতের লেখা:
হাতের লেখা ভালো মানের ও পরিষ্কার হতে হবে। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী” অর্থাৎ প্রথমে দর্শনে ভালো হতে হবে পরে গুণের বিচার করা হবে। আর তাই পরীক্ষার খাতায় হাতের লেখা ভালো হলে পরীক্ষকের একটা আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়। সর্বোপরি, সুন্দর ও স্পষ্ট হাতের লেখা পরীক্ষার্থীর সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ধারণা তৈরী করে যার প্রভাব সম্পূর্ণ খাতার উপরেই পড়ে। কাটা-ছেঁড়া কম করার চেষ্টা করবে, কাটা গেলে একটান দিয়ে কাটবে।
একটি উদাহরণ থেকে বিষয়টি সহজেই উপলব্ধি করা যায়। যেমন -পাঁচ নম্বরের একটি প্রশ্নের একই উত্তর করে, একটি খারাপ হাতের লেখার উত্তরপত্রের চেয়ে একটি সুন্দর হাতের লেখার উত্তরপত্রের নম্বর যদি আধা নম্বরও বেড়ে যায়, তবে পঞ্চাশ পূর্ণমানের একটি পরীক্ষায় উভয় উত্তরপত্রের নম্বরের ব্যবধান হয় পাঁচ। অর্থাৎ একই উত্তর করে খারাপ হাতের লেখার উত্তরপত্র ৩৫ পেলে ভালো হাতের লেখার উত্তরপত্র পায় ৪০। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ভালো হাতের লেখা ভালে নম্বর পাওয়ায় অনেক ভূমিকা রাখে।
২.পয়েন্ট সহকারে প্যারা করে লেখা:
উত্তরপত্রে লেখা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক খেয়াল রেখে উত্তর করা যেতে পারে, তা হল প্যারা করে লেখা। প্যারা করে লিখলে একই সাথে তোমার উপস্থাপিত তথ্য ভালোভাবে শিক্ষকের চোখে পড়ে এবং তোমার উপস্থাপিত তথ্যও সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। উত্তর লেখার সময় পয়েন্ট সহকারে প্যারা করে লিখতে হবে আর খেয়াল রাখতে হবে উভয় প্যারার মাঝে দূরত্ব লাইনের মধ্যবর্তী দূরত্বের দ্বিগুন হবে।
৩.নানা রঙের কলম ও কালি ব্যবহার:
অনেকে পরীক্ষার খাতায় নানা রঙের কলম ও কালি ব্যবহার করে থাকে। এতে সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনি খাতার উপস্থাপনার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। তাই তোমরা এ রকমটি করবে না। মার্জিন করার ক্ষেত্রে একটি ভালো মানের পেন্সিল ব্যবহার করবে। বিশেষ পয়েন্ট চিহ্নিত করার জন্য সবুজ, নীল বা হলুদ যে কোনো একটি অথবা তোমার লেখার কলম অথবা মার্জিনের পেন্সিলটিও ব্যবহার করতে পার। নানা রকম অতিরঞ্জিত কালি ব্যবহার করলে খাতার সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং তা নম্বর পাওয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। লেখার সময় উপরে ও বামপাশে এক স্কেল এবং নিচে ও ডানপাশে হাফ স্কেল জায়গা ফাঁকা রাখবে।
৪.প্রশ্নপত্র ভালোভাবে পড়া:
পরীক্ষার সময় ধৈর্য সহকারে প্রশ্নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলো। অনেক শিক্ষার্থীরই অভ্যাস পুরো প্রশ্ন না পড়েই উত্তর করা শুরু করা। সময় বেশি লাগলেও ধৈর্য সহকারে কাজ কর। প্রশ্নে যে রকম চেয়েছে তাই বুঝিয়ে লেখার চেষ্টা করো। উত্তর উপস্থাপনের সময় প্রশ্নের সাথে প্রসাঙ্গিক উত্তর করার চেষ্টা করো। অযথাই এক কথা বারবার লিখে উত্তর অপ্রাসঙ্গিক করলেও নাম্বার তেমন আসে না! তাই খেয়াল রাখো প্রশ্নে কী চেয়েছে। সেই অনুযায়ী উত্তর করবেন।
৫.কখনো কিছু ছেড়ে আসবে না:
পরীক্ষায় খালি খাতা দিয়ে জমা দিয়ে আসার চাইতে কিছু লিখে আসা অনেক অনেক ভালো। হারাবার তো কিছু নেই, তাই না? খালি খাতা দিলে নিশ্চিত ০ পাবে। তার চাইতে কিছু তো লিখে আসতে পারো।
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন –
“ একবার পরীক্ষায় কয়েকটা বিষয়ে আমি ফেল করেছিলাম কিন্তু আমার বন্ধু সব বিষয়েই পাশ করে। এখন সে মাইক্রোসফটের একজন ইঞ্জিনিয়ার আর আমি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা
তাই পাশ ফেলের কথা চিন্তা না করে যতটুকু পারো উত্তর করে আসো।
৬.নিশ্চিত প্রশ্ন সবার আগে:
যেটা পারো, সেটা আগে উত্তর করো। জটিল কাজ আগে করে লাভ নাই। যে উত্তর ভালোভাবে পারো না সেটা নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবে না।
৭.গাদা গাদা লুজ শিট নেয়ার প্রতিযোগিতা:
অনেকেরই ধারণা থাকে পরীক্ষায় অনেক লুজ শিট নিয়ে খাতা ভারি হলেই তা বেশি নম্বর প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে। এই চিন্তা বাদ দাও। অনেকে বলে অনার্ পরীক্ষায় অনেক সময়ে পরীক্ষকেরা খাতার পৃষ্ঠা গুনে নম্বর দেন। কিন্ত এটাও ভুল ধারনা এর ফল আমি নিজেই পেয়েছি আমার আশেপাশের বন্ধুরা আমার থেকে একটি দুইটি লুজশিট কম নিয়,বা কম লিখে আামার সমান ও বেশি নম্বর ও পেয়ছে। তাই প্রশ্নে কি চেয়েছেন সেগুলো বাদে পরীক্ষায় অতিরিক্ত ইনিয়ে বিনিয়ে লিখে পাতার পর পাতা ভরাবার মানে নাই। মনে রাখবে, “Don’t work hard, work smart
৮.সময় মেপে কাজ করো:
অনার্সের পরিক্ষায় অতি সংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত,ও রচনামুলক বা বড় প্রশ্নে এই তিন ধরনের প্রশ্নের জন্য ৪ ঘণ্টা বা ২৪০ মিনিট সময় থাকবে। তাই সময় ভাগ করে নিতে হবে।
সময় ভাগ করার কৌশল নিচে দিলাম।
1. অতিসংক্ষপ্ত প্রশ্ন( ১নম্বরের প্রশ্ন)ঃ
১২ প্রশ্ন থাকবে ১০ টার উত্তর দিতে হবে।যে কয়টা ভালো পারবেন যটপট লিখে ফেলবেন। পরে কম পারা গুলো লিখবেন।দেখবেন ভালো মার্ক আসবে। এই বিভাগের প্রশ্নের উত্তর করতে ২০-২৫মিনিটে শেষ করতে হবে।
2.সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন(৪ নম্বরের প্রশ্ন)ঃ
এই বিভাগে ৮ টি প্রশ্ন থেকে ৫ টির উত্তর দিতে হবে প্রতি প্রশ্নের জন্য ৪ করে ৪×৫=২০ নম্বর।এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকবে যেমন,সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা,পার্থক্য ইত্যাদি। প্রতিটা প্রশ্নের জন্য ১৫ মিনিট করে ৭৫ মিনিটে লিখা শেষ করবে এই বিভাগের প্রশ্ন।২ পেজ লিখলেই যথেষ্ট বড় জোর ৩ পেজ লিখতে পারেন।
3.রচনামুলক বা বড় প্রশ্ন(১০ নম্বরের প্রশ্ন)ঃ
৮ টি থেকে ৫টির উত্তর করতে হবে। প্রতিটা প্রশ্নের জন্য ১০ করে ১০×৫=৫০ নম্বর থাকবে।
এই বিভাগের প্রশ্নে পার্থক্য,প্রক্রিয়া,পদক্ষেপ চক্র,পদ্ধতি এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর করলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়৭-৮ বা ৯ করেও পাওয়া যায়। প্রতি প্রশ্নের জন্য ২৫ মিনিট করে ২৫×৫=১২৫ মিনিটে লেখা শেষ করবেন এই বিভাগেট প্রশ্ন।
তাহলে আামাদের সময়টা দাড়ালো
প্রশ্ন প্রথমে হাতে পেয়ে ভালো করে পড়তে ১০ মিনিট +অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে ২৫ মিনিট+সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে ৭৫ মিনিট+বড় প্রশ্নে১২৫ মিনিট
=২৩৫ মিনিট
সব সময় ১০ থেকে ৫মিনিট হাতেরেখে লেখা শেষ করতে হবে।
বাকি সময়টা খাতাটা একতু পরিক্ষা করে নিবে কেন কিছু লিখতে ভুলে গেছেন কি।
একটু রিভিশন দিয়ে নিবেন।
আমার মনে হয় এটা ফলো করলে আপনাদের অনেক উপকারে আসবে।