জমির খতিয়ানের ভুল সংশোধন করবেন কিভাবেঃঃ
খতিয়ান হচ্ছে দখলের প্রামাণ্য দলিল, মালিকানার দলিল নয়, খতিয়ানে মালিক ছাড়া অন্য কারো নাম অন্তরভুক্ত হয়ে গেলে যেমন সেই ব্যক্তির মালিকানা সৃস্টি হয় না তেমনি প্রকৃত মালিকের মালিকানা সত্বও নষ্ট হয় না।
জরিপ চলাকালিন সময়ে খতিয়ানে কোন ভুল ধরা পরলে তখন সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩০/৩১ ধারায় আপিল করে খুব সহজেই ভুলগুলো সংশোধন করে নেওয়া যায়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যদি খতিয়ানের ভুলগুলো সংশোধন করা না হয় এবং চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশিত হয়ে যায়, তবে চূড়ান্ত খতিয়ানের ভুল সংশোধনের পদ্ধতি উক্ত খতিয়ান সংশোধনের ক্ষমতা আর সেটেলমেন্ট অফিসারের থাকে না তখন এই খতিয়ান সংশোধন করতে হয় কোর্টে মামলা করে।
তবে চুড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়ে গেলেও কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট অফিসার রেকর্ড সংশোধন করতে পারে। যেমন উক্ত ভূলগুলো যদি হয় শুধুমাত্র করণিক ভূল, প্রিন্টিং-এ ভূল সেক্ষেত্রে এ ধরণের সামান্য ভূল অবশ্য সেটেলমেন্ট অফিসার সংশোধন করতে পারে। তবে অন্যান্য ভূলের সংশোধনের ক্ষমতা একমাত্র কোর্টের।
খতিয়ান সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে:
উক্ত জমিতে মালিকানার সকল দলিলপত্র (যেমন মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি, বায়া দলিল, পূর্বের খতিয়ানের কপি)
✔চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত ভূল রেকর্ডের কপি
✔আইডি কার্ডের ফটোকপি
এ সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে একজন দক্ষ সিভিল ল”ইয়ার এর মাধ্যমে জমির খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে/ দেওয়ানি আদালতে একটি ”ঘোষনামূলক” মামলা করতে হবে।
জমির খতিয়ানের ভুল এই মর্মে আদালত ডিক্রি/ রায় দিলে সেই ডিক্রির সার্টিফাইড কপি নিয়ে খতিয়ান সংশোধনের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। সেটেলমেন্ট অফিসার সবকিছু দেখে সন্তুষ্ট হলে পূর্বের ভূল রেকর্ডটি সংশোধন করে নতুন করে একটি রেকর্ড প্রকাশ করবে।
উল্লেখ্য, ভূলক্রমে কোন ব্যক্তির জমি ১নং খাস খতিয়ানে অন্তরভুক্ত হয়ে গেলে একই পদ্ধতিতে তা সংশোধন করতে হবে।
Law Education BD/ বাংলাদেেশর আইন শিক্ষা
Bangladesh Law
টিপস-বিভিন্ন বিষয়ে ৫০টি প্রশ্ন।।
অ্যাডভোকেটশিপ এমসিকিউ পরীক্ষার্থীদের জন্য -
১. একতরফা ডিক্রী (Ex-parte Decree)কাকে বলে?
⇾ বিবাদীপক্ষের অনুপস্থিতে বাদী পক্ষের অনুকুলে যে ডিক্রী প্রদান করে।
=►
২. দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করা হয় কোন বিধান মতে?
⇾ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা ও আদেশ ৪ নিয়ম ১ মতে।
=►
৩. যেখানে বিষয়বস্তু অবস্থিত, সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে কোথায় বলা আছে?
⇾ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ ধারায়।
=►
৪. দেওয়ানী মোকদ্দমা স্তানান্তরের দরখাস্ত কত ধারায় করতে হয়?
⇾ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারায়।
=►
৫. আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হয় কত ধারায়?
⇾ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারায়।
=►
৬. বিবাদীর প্রতি সমন জারী কত ধারায় করতে হয়?
⇾ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৭ ধারায়।
=►
৭. স্থাবর স্পত্তির দখল পূরুদ্ধারের মোকদ্দমা করা হয় কত ধারা মতে?
⇾ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে।
=►
৮. প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা কত ধারায় বর্নিত হয়েছে?
⇾ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায়।
=►
৯. আইনগত পন্থা ব্যাতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তি হতে দখলচ্যুত হয় তবে সে উহা পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা করতে পারেন?
⇾ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে।
=►
১০. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার বিধান কি?
⇾ যে সকল চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকারী করা যায়।
=►
১১. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৩ ধারার বিধান কি ?
⇾ চুক্তির আংশিক বলবত সম্ভব হবে।
=►
১২. জিম্মাদারগন কর্তৃক কৃতচুক্তি যা তাদের ক্ষমতা লংঘন করে করা হয়েছে অথবা তাদের জিম্মাদারী চুক্তি ভঙ্গ করে বা করা হয়েছে?
⇾ সে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।
=►
১৩. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারার বিধান কি ?
⇾ যে চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না।
=►
১৪. যাদের বিরুদ্ধে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় উহা কত ধারায় বলা হয়েছে?
⇾ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ ধারায়।
=►
১৫. মেয়াদ উর্ত্তীণ হবার পর দায়েরকৃত মোকদ্দমা খারিজ হয় কোন ধারা মতে ?
⇾ ৩ ধারা মতে।
=►
১৬. বৈধ অক্ষমতা তামাদি আইনের কত ধারায় আছে ?
⇾ ৬ ধারায়।
=►
১৭. এখতিয়ার বিহীন আদালতে মামলার মুনানীকাল তামাদি গননা হতে বাদ দেয়ার জন্য বিধান রয়েছে তামাদি আইনের কত ধারায় ?
⇾ ১৪ ধারায়।
=►
১৮. তামাদি মার্জনার দরখাস্ত করা হয় ?
⇾ আপীল ও অন্যান্য দরখাস্ত দায়েরের ক্ষেত্রে।
=►
১৯. একবার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে আরম্ভ হলে পরবর্তী কোন অক্ষমতার দ্বারা তা বন্ধ হবে না- কোন ধারা মতে ?
⇾ তামাদি আইনের ৯ ধারা মতে।
=►
২০. তামাদির বিরুদ্ধে প্রতারনার অজুহাত উত্থাপন করা যায় কোন ধারা মতে ?
⇾ তামাদি আইনের ১৮ ধারা মতে।
=►
২১. স্বীকার পত্র এর বিধান তামাদি আইনের কত ধারায়?
⇾ ১৯ ধারায়- স্বীকার পত্র লিখিত ও স্বাক্ষরিত হবে।এবং স্বীকার পত্র মেয়াদ উর্ত্তীণ হবার পূর্বে হবে।
=►
২১. আপীলের ক্ষেত্রে কখন বিলম্ব মার্জনার সুবিধা পাওয়া যাবে না?
⇾ আপীলটি যদি বিশেষ ক্ষমতা আইনে হয়।
=►
২২. তামাদি আইনের ২ অনুচ্ছেদ মতে ক্ষতিপূরনের মামলা দায়েরে তামাদি কাল কত?
⇾ ৯০ দিন।
=►
২৩. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে প্রকাশিত ল র্জানালের নাম কি?
⇾ BLD- Bangladesh Legal Decision.
=►
২৪. বর্তমানে এনরোলমেন্ট কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা কত?
⇾ ৫ জন।১১(এ) অনুচ্ছেদ অনুসারে।
=►
২৫. আইনজীবিদের পেশাগত অসদাচরন কি?
⇾ ক্যনন অফ প্রফেশোন্যাল কন্ডাক্ট এন্ড ইটিকুইটি/ইথিক এর উল্লেখ্যিত বিধান অনুসারে অসদাচরন।
=►
২৬. একজন এডভোকেট অদালতে বক্তব্য রাখবেন?
⇾ ল পয়েন্টে।
=►
২৭. দ্যা লিগাল প্র্যক্টিশনার এন্ড বার কাউন্সিল রুল ১৯৭২ এর মতে বার কাউন্সিল আরো কয়টি গঠন করতে পারে?
⇾ ৬ টি কমিটি গঠন করতে পরে ৭৫এ নং রুল/ বিধি অনুসারে।
=►
২৮. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কার্যাবলীর কথা কোথায় বলা আছে?
⇾ ১০ নং অনুচ্ছেদে।
=►
২৯. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে পুলিশ অফিসার জবানবন্দী গ্রহন করে বা পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়?
⇾ ১৬১ ধারা মতে
=►
৩০. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেট জবাবন্দী বা স্বীকারোক্তি গ্রহন করেন?
⇾ ১৬৪ ধারা মতে
=►
৩১. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে পুলিশ সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করে?
⇾ ৫৪ ধারা মতে
=►
৩২. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসামীর অব্যাহতি(Discharge) করা হয়?
⇾ ২৪১ক ধারা মতে
=►
৩৩. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে দায়রা আদালতে আসামীকে অব্যাহতি(Discharge)করা হয়?
⇾ ২৬৫গ ধারা মতে
=►
৩৪. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় গ্রেপ্তারের সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
⇾ ৪৬(১)ধারায়
=►
৩৫. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারাতে হুলিয়া জারীর বিধান আছে?
=►
⇾ ৮৭ ধারাতে
৩৬. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারাতে হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power)এর কথা আছে?
=►
⇾ ৫৬১ক ধারাতে
=►
৩৭. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন কোন ধারাসমূহ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা বিশেষ ক্ষমতাবান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কোটে বিচার নিষ্পত্তি হয়?
⇾ ১০৭,১৪৪,১৪৫ ইত্যাদি ধারাসমূহ
=►
৩৮. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টা আটক রাখতে পারে?
⇾ ৬১ ধারা মতে
=►
৩৯. বর্তমানে নালিশী মামলা কোন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দায়ের করতে হয়?
⇾ চীফ জুডিশিয়াল বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দায়ের করতে হয়।
=►
৪০. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে চার্জ গঠন করা হয় এবং অভিযোগের সংক্ষিপ্ত সার বিবৃতি করতে হবে?
⇾ ২৪২ ধারা মতে
=►
৪১. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে দায়রা আদালতে চার্জ গঠন করা হয়।
⇾ ২৬৫ঘ ধারা মতে
=►
৪২. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারা মতে Bail Bonds এর অর্থ অতিরিক্ত হলে কমানো যায়?
⇾ ৪৯৮ ধারা মতে
=►
৪৩. নালিশী মাললা খরিজ হলে কি করতে হবে?
⇾ রিভিশন করতে হবে।
=►
৪৪. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় রিভিশন সম্পর্কে বর্নিত আছে?
⇾ ৪৩৯ এবং ৪৩৯ক ধারায় রিভিশন সম্পর্কে বর্নিত আছে।
=►
৪৫. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন কোন ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেট স্বীকারোক্তি রেকর্ড করবেন?
⇾ ১৬৪ এবং ৩৬৪ ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেট স্বীকারোক্তি রেকর্ড করবেন।
=►
৪৬. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারা মতে পুলিশ অফিসার রিপোর্ট দেয়?
⇾ ১৭৩ ধারা মতে।
=►
৪৭. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারা মোতাবেক পুলিশ অফিসার Case Diary সংরক্ষন করে থাকেন বা তদন্তের বিবরণ সম্বলিত ডাইরী সংরক্ষন করে থাকেন।
⇾ ১৭২ ধারা মোতাবেক।
=►
৪৮. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় রিমান্ড সম্পর্কে বলা আছে?
⇾ ১৬৭ ধারায়
=►
৪৯. ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় সদাচরনের জন্য মুচলেকা নেয়া হয়?
⇾ ১০৭ ধারায়।
=►
৫০. ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা এবং PRB এর কোন নিয়ম অনুসারে পুলিশ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন?
⇾ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ ধারা এবং PRB এর ২৭২ নিয়ম অনুসারে পুলিশ আদালতে চার
18/01/2023
ভূমি তুমি কার, সবার একটু জানা দরকার!
পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত ১৩০ টি শব্দের অর্থ
👉দলিলে লিখিত অনেক শব্দ আছে,যার সংক্ষিপ্ত রুপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এমনও কিছু শব্দ আছে যা খুব কম ব্যবহার হয়। যারা পুরাতন দলিলের ব্যবহৃত শব্দের অর্থ বোঝেন না,তাদের জন্য বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১) মৌজা 👉 গ্রাম।
২) জে.এল নং 👉 মৌজা নং/গ্রাম নম্বর।
৩) ফর্দ 👉 দলিলের পাতা।
৪) খং 👉 খতিয়ান।
৫) সাবেক 👉 আগের/পূর্বের বুজায়
৬) হাল 👉 বর্তমান।
৭) বং 👉 বাহক, অর্থাৎ যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লিখে।
৮) নিং 👉 নিরক্ষর।
৯) গং 👉 আরো অংশীদার আছে।
১০) সাং 👉 সাকিন/গ্রাম।
১১) তঞ্চকতা 👉 প্রতারণা।
১২) সনাক্তকারী 👉 যিনি বিক্রেতাকে চিনে।
১৩) এজমালী 👉 যৌথ।
১৪) মুসাবিদা 👉 দলিল লেখক।
১৫) পর্চা 👉 বুঝারতের সময় প্রাথমিক খতিয়ানের যে নকল দেওয়া হয় তাকে পর্চা বলে।
১৬) বাস্তু 👉 বসত ভিটা।
১৭) বাটোয়ারা 👉 বন্টন।
১৮) বায়া 👉 বিক্রেতা।
১৯) মং 👉 মবলগ/মোট
২০) মবলক 👉 মোট।
২১) এওয়াজ 👉 সমপরিমাণ কোন কিছু বদলে সমপরিমাণ কোন কিছু বদল করাকে এওয়াজ বলে।
২২) হিস্যা 👉 অংশ।
২৩) একুনে 👉 যোগফল।
২৪) জরিপ 👉 পরিমাণ।
২৫) এজমালী 👉 কোনো ভূমি বা জোতের একাধিক শরীক থাকিলে তাহাকে এজমালী সম্পত্তি বা এজমালী জোত বলে।
২৬) চৌহদ্দি 👉 সীমানা।
২৭) সিট 👉 নকশার অংশ বা মৌজার অংশের নকশাকে সিট বলে।
২৮) দাখিলা 👉 খাজনার রশিদ।
২৯) নক্সা 👉 ম্যাপ।
৩০) নল 👉 জমি পরিমাপের নিমিত্তে তৈরী অংশ দণ্ড।
৩১) নাল 👉 চাষাবাদের উপযোগী ভূমি।
৩২) পিং 👉 পিতা।
৩৩) জং 👉 স্বামী।
৩৪) দাগ নং 👉 জমির নম্বর।
৩৫) এতদ্বার্থে 👉 এতকিছুর পর।
৩৬) স্বজ্ঞানে 👉 নিজের বুঝ মতে।
৩৭) সমূদয় 👉 সব কিছু।
৩৮) ইয়াদিকৃত 👉 পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করিলাম।
৩৯) পত্র মিদং 👉 পত্রের মাধ্যমে।
৪০) বিং 👉 বিস্তারিত।
৪১) দং 👉 দখলকার।
৪২) পত্তন 👉 সাময়িক বন্দোবস্ত।
৪৩) বদল সূত্র 👉 এক জমি দিয়া অন্য জমি গ্রহণ করা।
৪৪) মৌকুফ 👉 মাপ।
৪৫) দিশারী রেখা 👉 দিকনির্দেশনা।
৪৬) হেবা বিল এওয়াজ 👉 কোন জিনিসের পরিবর্তে ভূমি/জমি দান করাকে হেবা বিল এওয়াজ বলে।
৪৭) বাটা দাগ 👉 কাটা দাগ এটি ভগ্নাংশ আকারে থাকে, যার উপরের সংখ্যা আগের দাগ এবং নিচের সংখ্যা এই দাগের বাটা।
৪৮) অধুনা 👉 বর্তমান।
৪৯) রোক 👉 নগদ।
৫০) ভায়া 👉 বিক্রেতার পূর্বের ক্রয়কৃত দলিল।
৫১) দান সূত্র 👉 কোনো ভূমি দলিল মূলে দান করিলে দান গ্রহণকারী দান সূত্রে ভূমির মালিক বলিয়া গন্য হয়।
৫২) দাখিল খারিজ 👉 কোনো জোতের ভূমি ও জমা হইতে কতেকাংশ ভূমির খরিদ্দার ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ব্যাক্তিকে পৃথকভাবে নাম জারি করিয়া দিলে তাহাকে দাখিল খারিজ বলে।
৫৩) তফসিল 👉 তালিকা, কোনো দলিলের নিম্নভাগে লিখিত সম্পত্তির তালিকাকে তফসিল বলে।
৫৪) খারিজ 👉 যখন কোনো সরকার বা জমিদার কোনো প্রজাকে তাহার অংশীদারের জমা হইতে পৃথকভাবে খাজনা দিবার অনুমতি দেন তখন তাহাকে খারিজ বলে।
৫৫) খতিয়ান 👉 প্রত্যেক মৌজার এক বা একাধিক ভূমির জন্য একত্রে যে রেকর্ড সৃষ্টি করা হয় তাহাকে খাতিয়ান বলা হয়। খতিয়ানে তৌজি নম্বর, পরগনার নাম, জে.এল বা গ্রামের নাম, খতিয়ান নম্বর, স্বত্ত্বের বিবরণ মালিকের নাম, তাহার পিতা ও গ্রামের নাম, দাগ নম্বর, প্রত্যেক দাগের উত্তর সীমানা, ভূমির প্রকার অর্থাৎ (ডাঙ্গা, ধানী, ডোবা, পতিত, গর্ত, হালট, ইত্যাদি) দখলকারের নাম, ভূমির ষোল আনা পরিমাণ, হিস্যা ও হিস্যা মত পরিমাণ একর লিখিত থাকে।
৫৬) জরিপ 👉 সাধারণত কর নির্ধারণ ভিত্তিতেই এই সার্ভে করা হইয়া থাকে।
৫৭) এওয়াজ সূত্র 👉সমপরিমাণ কোনো ভূমি বা জিনিসের বদলে সমপরিমাণ কোনো ভূমি বা জিনিস প্রাপ্ত হইলে তাহাকে এওয়াজ সূত্রে প্রাপ্ত বলা হয় ইহাকে বদল সূত্রও বলে।
৫৮) অছিয়তনামা 👉 যদি কোনো ব্যাক্তি মৃত্যুর পূর্বে তাহার ওয়ারিশ বা আত্বীয় স্বজনকে তার স্থাবর- অস্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারা সম্পর্কে দলিল মূলে কোনো নির্দেশ দিয়া যান তবে তাহাকে অছিয়তনামা বলে। মৃত্যুর পর উক্ত অছিয়ত প্রবলের জন্য জেলা জজ সাহেব হইতে অনুমতি লইতে হয় হিন্দু ধর্মে উহাকে উইল বলে।
৫৯) তফসিল 👉 বিক্রিত জমির তালিকা।
৬০) নামজারী 👉 অন্যান্য অংশীদার থেকে নিজের নাম খতিয়ানে খোলাকে নামজারী বলে।
৬১) অধীনস্থ স্বত্ত্ব 👉 উপরিস্থিত স্বত্ব বা জমিদারী স্বত্বের অধীনে কোনো স্বত্ত্ব সৃষ্টি করিলে তাহাকে অধীনস্থ স্বত্ত্ব বা নীচস্থ স্বত্ত্ব বলে।
৬২) আলামত 👉 ম্যাপের মধ্যে গাছপালা, বাড়ীঘর, মন্দির, মসজিদ, গোরস্থান, জলভূমি, ইত্যাদি বুঝাইবার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে আলামত বলে।
৬৩) আমলনামা 👉 কোনো ব্যক্তি অন্যের নিকট হইতে কোনো ভূমি নিলাম বা খোস – খরিদ করিয়া ভূমিতে দখল লওয়ার যে দলিল প্রাপ্ত হয় তাহাকে আমনামা বলে।
৬৪) আসলি 👉 মূল ভূমি।
৬৫) আধি 👉 উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক ভূমির মালিক, অর্ধেক প্রজায় রাখিলে তাহাকে আধি বা বর্গ বলে।
৬৬) ইজারা 👉 ঠিকা। নির্দিষ্ট খাজনায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তালুক বা মহলাদির বন্দোবস্ত দেওয়া বা নেওয়া।
৬৭) ইয়াদদন্ত 👉 স্মারকলিপি।
৬৮) ইন্তেহার 👉 ঘোষণাপত্র।
৬৯) এস্টেট 👉 ১৭৯৩ সালে সরকার বাহাদুর যে সমস্ত মহাল স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দিয়াছেন তাহাদিগকে জমিদারী বা এস্টেট বলে।
৭০) ওয়াকফ 👉 ধর্মীয় কাজের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে উৎসর্গকৃত সম্পত্তি।
৭১) কিত্তা 👉 চারিটি আইন দ্বারা বেষ্টিত ভূমি খন্ডকে এক একটি কিত্তা বা পট বলে।
৭২) কিস্তোয়ার জরিপ 👉 গ্রামের অন্তর্গত জমিগুলো কিত্তা কিত্তা করে জরিপ করার নাম কিস্তোয়ার
৭৩) কিস্তি 👉 নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী টাকা দিবার অঙ্গীকার বা ব্যবস্থা।
৭৪) কায়েম স্বত্ত্ব 👉 চিরস্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমিকে কায়েম স্বত্ত্ব বলে।
৭৫) কবুলিয়ত 👉 মালিকের বরাবরে স্বীকারোক্তি করিয়া কোনো দলিল দিলে তাহাকে বকুলিয়ত বলে। কবুলিয়াত নানা প্রকার। যথা- রায়তি, দর রায়তি, কোর্ফা ও আদি বর্গা কবুলিয়াত।
৭৬) কটকোবালা 👉 সুদের পরিবর্তে মহাজনের দখলে জমি দিয়া টাকা কর্জ করত: যে দলিল দেওয়া হয় তাহাকে কটকোবালা বল।
৭৭) কান্দা 👉 উচ্চ ভূমি। গোবামের সন্নিকটস্থ ভূমিকেও কান্দা বলে।
৭৮) কিসমত 👉 মৌজার অংশকে কিসমত বলে।
৭৯) কোলা ভূমি 👉 বসত বাড়ীর সংলগ্ন নাল জমিকে কোলা ভূমি বলে।
৮০) কোল 👉 নদীর কোনো ছোট অংশ তাহার প্রধান স্রোতের সহিত বা হইতে সংযুক্ত হইয়া গেলে তাহাকে কোল বলে।
৮১) খানাপুরী 👉 প্রাথমিক স্বত্ত্ব লিপি। ইহা রেকর্ড অব রাইটস তৈরির ধাপ। খসড়া ও খতিয়ানের কলাম বা ঘর পূরণ করাই ইহার কাজ।
৮২) খামার 👉 ভূম্যধিকারী খাস দখলীয় ভূমিকে খামার, খাস-খামার, নিজ জোত বা কমত বলে।
৮৩) খাইখন্দক 👉 ডোবগর্ত, খাল, নালা ইত্যাদি চাষের অযোগ্য ভূমিকে খাইখন্দক বলে।
৮৪) খিরাজ 👉 কর, খাজনা।
৮৫) খানে খোদাঃ মসজিদ।
৮৬) খসড়াঃ জমির মোটামুটি বর্ণনা।
৮৭) গর বন্দোবস্তিঃ যে জমির কোনো বন্দোবস্ত দেওয়া হয় নাই।
৮৮) গরলায়েক পতিতঃ খাল, নালা, তীরচর, ঝাড়, জঙ্গল ইত্যাদি অনাবাদি ভূমিকে গরলায়েক পতিত বলে।
৮৯) গির্বিঃ বন্ধক।
৯০) চক 👉 থক বসত ম্যাপের এক একটি পটকে চক বলে।
৯১) জমা বন্দী 👉 খাজনার তালিকা।
৯২) চাকরাণ 👉 জমিদার বাড়ীর কাজ-কর্ম নির্বাহ করণার্থে ভোগ-দখল করিবার নিমিত্তে যে জমি দেওয়া হয় তাহাকে চাকরাণ বলে।
৯৩) চাঁদা 👉 জরিপ কার্যে নির্দিষ্ট করা স্টেশনকে চাঁদা বলে।
৯৪) চটান 👉 বাড়ীর সন্নিকটস্থ উচ্চ পতিত স্থানকে চটান বলে।
৯৫) চালা 👉 উচ্চ আবাদি ভূমি (পুকুরের পাড় ইত্যাদি)
৯৬) চর 👉 পলিমাটি গঠিত ভূমি।
৯৭) জবর-দখল 👉 জোরপূর্বক দখল।
৯৮) জমা 👉 এক বা একাধিক ভূমির জন্য একত্রে যে খাজনা দেওয়া হয় তাহাকে এক একটি জমা বলে।
৯৯) জোত 👉 এক প্রকার প্রজাস্বত্ত্ব।
১০০) জজিরা 👉 নাব্য নদীতে যে দ্বীপ গঠিত হয় তাহাকে জজিরা বলে।
১০১) জায়সুদী 👉 হস্তান্তরকরণ ক্ষমতা ব্যতীত কিয়ং কালের জন্য বন্ধক। অর্থাৎ মহাজনের নিকট বন্ধক দিয়া যদি এই মর্মে টাকা কর্জ করা যায়, যে যতদিন পর্যন্ত আসল টাকা পরিশোধ না হইবে ততদিন পর্যন্ত মহাজন উক্ত জমি ভোগ-দখল করিতে থাকিবেন, তবে তাহাকে জায়সুরি বলে।
১০২) জালি 👉 এক প্রকার ধান যাহা জলাভূমিতে জন্মে।
১০৩) টেক 👉 নদী ভগ্নস্থান ভরাট হইয়া যে পয়স্তি উৎপন্ন হয় তাহাকে টেক বলে।
১০৪) টাভার্স 👉 ঘের জরিপ।
১০৫) ঠিকা রায়ত 👉 নির্দিষ্ট মেয়াদে সাময়িকভাবে দখলকারকে ঠিক রায়ত বলে অথবা যে রায়তের কোনো দখলি স্বত্ত্ব নেই।
১০৬) ঢোল সহরত 👉 কোনো ক্রোক, নিলাম ইস্তেহার বা দখলি পরওয়ানা সরজমিনে ঢোল পিটাইয়া জারি করাকে ঢোল সহরত বলে।
১০৭) তামিল 👉 আদেশ মোতাবেক রেকর্ড সংশোধন করা।
১০৮) তামাদি 👉 খাজনা আদায় করার নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হইলে তাহাকে তামাদি বলে।
১০৯) তুদাবন্দী 👉 সীমানা নির্দেশ।
১১০) তহশিল 👉 খাজনাদি আয়ের নিমিত্ত নির্দিষ্ট এলাকাকে তহশিল বলে।
১১১) তলবানা 👉 সমন জারির সময় পিয়নকে প্রদত্ত ফিস।
১১২) তলববাকী 👉 বকেয়া খাজনা আদায়ের কিস্তি।
১১৩) তালুক 👉 নিম্নস্থ স্বত্ত্ব।
১১৪) তরমিমঃ শুদ্ধকরণ।
১১৫) তরতিব 👉 শৃংখলা।
১১৬) তৌজি 👉 ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তীয় ভূমির জন্য কালেক্টরীতে যে রেজিষ্ট্রী বই থাকে তাহাকে তৌজি বলে। প্রত্যেক তৌজির ক্রমিক নম্বর থাকে। জমিদারের অধীন প্রজার জোতকেও তৌজি বলা হয়।
🔸১১৭) দিয়ারা 👉 পলিমাটি দ্বারা গঠিত চর।
১১৮) দর পত্তনী 👉 পত্তনীর অধীন।
১১৯) দখলী স্বত্ত্ব বিশিষ্ট প্রজা 👉 দখলদার হিসেবে যে প্রজার স্বত্ত্ব আছে।
১২০) দশসালা বন্দোবস্ত 👉 দশ বৎসরের মেয়াদে বন্দোবস্ত দেওয়াকে দশসালা বন্দোবস্ত বলে।
১২১) দিয়ারা 👉 পলিমাটি দ্বারা গঠিত চর।
১২২) দাগ নম্বর 👉মৌজা নকশায় প্রত্যেক প্লটের যে সিরিয়াল নম্বর বসান হয়,তাহাকে দাগ নম্বর বলে।
১২৩) দরবস্ত 👉 সমুদয়।
১২৪) নথি 👉 রেকর্ড।
১২৫) দেবোত্তর 👉 দেবতাদিগকে প্রদত্ত নিষ্কর ভূমি।
১২৬) দেবিচর 👉 যে সকল বালুচর সাধারণ জোয়ারের পানিতে ডুবিয়া যায় তাহাদিগকে দেবিচর বলে।
১২৭) দিঘলি 👉 নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা আদায়কারী একপ্রকার প্রজা।
১২৮) নক্সা ভাওড়ন 👉 পূর্ব জরিপ অনুসারে গ্রামের সীমাগুলো এখন আর ঠিক মতো পাওয়া যায় না। ফলে সীমানা লইয়া প্রায়ই জমিদারের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। পূর্বের ফিল্ডবুক অনুসারে প্রত্যেক লাইনের মাপ ও বিয়ারিং লইয়া, লাইনটি প্রথমে যেখানে যেভাবে ছিল, তা চিহ্নিত করিয়া, কোন জমি কোন মৌজার অন্তর্গত,তাহা ঠিক করার নামই,নক্সা ভাওড়ান বা রিলেইং বাউন্ডারীজ।
১২৯) নামজারী 👉 ভূম্যধিকারী সরকারের সাবেক নামের পরিবর্তে খরিদ্দার অথবা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তির নাম রেজিস্ট্রী করাকে নামজারী বলে।
🔸১৩০) নাম খারিজ বা জমা খারিজ 👉 ১৬ আনা জোতার মোট জমা হইতে নামজারীকৃত ওয়ারিশ বা খরিদ্দারের দখলীয় জমির জমা ১৬ আনা জোতার জমার হার অনুসারে জাম ভাগ করিয়া দিয়া পৃথক জমা সৃষ্টি করাকে নাম খারিজ বা জাম খারিজ বলে
তামাদি আইন ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ সমূহ বিভিন্ন মামলায় তামাদি মেয়াদ/ সময়........ অনু-১০ অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবত-১ বছর। অনু-১২ বিক্রয় রদের মামলা-১ বছর। অনু-১৮ ক্ষতিপুরন আদায়ের মামলা-১ বছর। অনু-১১৩ সুনিদি'ষ্ট চুক্তি পালনের মামলা-১ বছর। অনু-১১৪ চুক্তি প্রত্যাহারের মামলা-১ বছর। অনু-১৫২ ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কায'বিধি হাইকোর্ট ব্যতিত জেলা জজ আদালতে আপীল-৩০ দিন। অনু-১৫৪ ফৌজদারী কায'বিধি অনুযায়ী হাইকোট' ব্যতিত ভিন্ন যে কোন আদালতে আপীল-৩০ দিন। অনু-১৫৮ পূন'বিবেচনার জন্য দরখাস্ত-৩০ দিন। অনু-১৬৩ সমনজারীর খরচা জমা না দেওয়ার জন্য মামলা খারিজ আদেশ বাতিল-৩০ দিন। অনু-১৬৪ একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ লাভের জন্য বিবাদীর দরখাস্ত-৩০ দিন । অনু-১৬৫ বে দখল হওয়া সম্পত্তি থেকে দখলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দরখাস্ত-৩০ দিন। অনু-১৬৮ খারিজ আপীল পুনরায় চালু করার জন্য দরখাস্ত ৩০ দিন। অনু-১৬৬ ডিক্রি জারিতে বিক্রয় রদ করার জন্য দরখাস্ত-৩০ দিন। অনু-১৭২ কোন মামলা বা আপীল খারিজের আদেশ রদ করার জন্য দরখাস্ত-৬০ দিন। অনু-৯১ কোন দলিল বাতিল বা রদ করার জন্য যে ক্ষেত্রে কোন বিধান নাই সেক্ষেত্রে-৩ বছর। অনু-৯২ রেজিস্ট্রি কৃত কোন দলিল জাল বলে ঘোষনা করার জন্য মামলা-৩ বছর। অনু-৯৫ প্রতারনামূলক ভাবে যে ডিক্রি নেওয়া হয়েছে তা রদ করার জন্য মামলা-৩ বছর। অনু-১০৪ ম্ত্যু বা তালাক দ্বারা যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তখন বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য ৩ বছর। অনু-১৮১ দেওয়ানী কায'বিধি অনুযায়ী ৪৮ ধারার কোন বিধান নাই সে সকল দরখাস্ত-৩ বছর। অনু-২ ক্ষতিপুরনের মামলা-৯০ দিন। অনু-৩ স্থাবর সম্পত্তির দখল -৬ মাস। অনু-১১৬ লিখিত ও রেজিস্ট্রেশন কৃত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপুরনের জন্য মামলা-৬ মাস। অনু-১৫৭ খালাশের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের মেয়াদ -৬ মাস।
তামাদি আইন ১৯০৮
# # #
★তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
- ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে এটি পাশ হয়
- ১৯০৯ সালের ১ জানুয়ারিতে কার্যকর হয়।
★ মোট ধারা ২৯।
★ মোট ১৮৩ টি অনুচ্ছেদ আছে এবং
বর্তমানে ১ টি তফসিল আছে।
★৩টি ধারা এবং ২টি তফসিল বিলুপ্ত হয়েছে।
★তামাদি আইনের বিধান অনুসারে আপীল ও অন্যান্য দরখাস্তের দায়েরের ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়।
★স্থাবর সম্পত্তির দখল পূনরুদ্ধারের তামাদি ৬ মাস [৩ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে] ।
★ক্ষতিপূরনের মামলা দায়েরে তামাদি কাল ৯০ দিন [২ নং অনুচ্ছেদ] ।
★মানহানির দরুন ক্ষতিপূরনের মোকদ্দমার তামাদি কাল ১ বছর ।
★তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অক্ষমতার (Legal Disability) বিধান আছে।
★তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধান মতে এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশে পরিচালিত কার্যধারার সময় বাদ যাবে ।
★তামাদির বিরুদ্ধে প্রতারনার অজুহাত উত্থাপন করা যায় ১৮ ধারা মতে।
★আলো বাতাস প্রবেশ ও ব্যবহার চলাচলের পথ জলস্রোত, পানির ব্যবহার বিষয়ে ইজমেন্ট অধিকার কোন ধারায় বর্নিত তামাদি আইনের ২৬ ধারায়।
★তামাদি আইনের২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জন (Acquisition of right to easements) সংক্রান্ত বিধান আছে।
★দলিল রদ বা বাতিল করার তামাদি কাল ৩ বছর [তামাদি আইনের ৯১ অনুচ্ছেদে]।
★স্বত্ব সাব্যস্ত খাস দখলের মোকদ্দমা দায়েরর তামাদি কাল ১২ বৎসর [তামাদি আইনের ১৪২ অনুচ্ছেদে বর্নিত আছে]।
★মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল এর তামাদি কাল ৭ দিন [১৫০ অনুচ্ছেদে] ।
★খালাসের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের তামাদি কাল ৬ মাস।
★একতরফা ডিক্রী রদের জন্য বিবাদী কতৃক দায়েরকৃত দরখাস্তের তামাদি কাল ৩০ দিন [তামাদি আইনের ১৬৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে]।
Limitation Act MCQ Test :
১। তামাদি আইন কত সালের আইন ?
উত্তর- ১৯০৮ সালের।
২। তামাদি আইন কত নম্বর আইন ?
উত্তর- ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
৩। তামাদি আইন কখন বলবৎ হয় ?
উত্তর- ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী।
৪। মেয়াদ উর্ত্তীণ হবার পর দায়েরকৃত
মোকদ্দমা খারিজ হয় কোন ধারা মতে ?
উত্তর- ৩ ধারা মতে।
৫। বৈধ অক্ষমতা তামাদি আইনের কত ধারায় আছে ?
উত্তর- ৬ ধারায়।
৬। এখতিয়ার বিহীন আদালতে মামলার মুনানীকাল
তামাদি গননা হতে বাদ দেয়ার জন্য বিধান
রয়েছে তামাদি আইনের কত ধারায় ?
উত্তর- ১৪ ধারায়।
৭। প্রতারণা মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়াকে বন্ধ
বা স্থগিত রাখে কোন ধারা বলে ? অথবা তামাদির
মেয়াদ উর্ত্তীণর দিন আদালত বন্ধ থাকলে আদালত
পুনরায় খোলার তারিখ মামলা আপীল দরখাস্ত দাখিল
করা যাবে কোন বিধান বলে?
উত্তর- তামাদি আইনের ১৮ ধারা বলে ।
৮। তামাদি মার্জনার দরখাস্ত করা হয় ?
উত্তর- আপীল ও অন্যান্য দরখাস্ত দায়েরের
ক্ষেত্রে।
৯। একবার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে আরম্ভ
হলে পরবর্তী কোন অক্ষমতার দ্বারা তা বন্ধ
হবে না- কোন ধারা মতে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ৯ ধারা মতে।
১০। আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমান সময়
তামাদি গননা হতে বাদ দিতে হবে কোন ধারার বিধান
মতে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে।
১১। নকল সংগ্রহের জন্য আবশ্যকীয় সময়
তামাদি গননার মধ্যে গন্য নয় কোন ধারামতে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে।
১২। কোন ধারা মতে এখতিয়ারবিহীন
আদালতে সদুদ্দেশ্য মূলক কার্যধারায় যে সময়
গননা হতে বাদ দিতে হবে ?
উত্তর- ১৪ ধারা মতে।
১৩। তামাদির বিরুদ্ধে প্রতারনার অজুহাত উত্থাপন করা যায়
কোন ধারা মতে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ১৮ ধারা মতে।
১৪। স্বীকার পত্র এর বিধান তামাদি আইনের কত
ধারায় ?
উত্তর- ১৯ ধারায়- স্বীকার পত্র লিখিত ও স্বাক্ষরিত
হবে।এবং স্বীকার পত্র মেয়াদ উর্ত্তীণ হবার
পূর্বে হবে।
১৫। উত্তরদায় সংক্রান্ত ঞ্ঝণ পরিশোধের অথবা সুদ
প্রদানের ফলাফল সম্পর্কে কোন ধরায়
আলোচনা করা হয়েছে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ২০ ধারায়।এবং ঞ্ঝণ পরিশোধ
করতে হবে তামাদি কাল অতিক্রান্ত হবার পূর্বে।
১৬। সুখাধিকার অর্জন র্সংক্রান্ত বিধান তামাদি আইনের
কোথায় আছে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ২৬ ধারায়।
১৭। আলো বাতাস প্রবেশ ও ব্যবহার চলাচলের পথ
জলস্রোত, পানির ব্যবহার বিষয়ে ইজমেন্ট অধিকার
কোন ধারায় বর্নিত হয়েছে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ২৬ ধারায়।
১৮। তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান মতে জবর
দখলকারীর মালিকানা সৃষ্টি হয় ?অথবা প্রকৃত মালিকের
সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয় কোন ধারা মতে ?
উত্তর- ২৮ ধারার বিধান মতে।
১৯। আপীলের ক্ষেত্রে কখন বিলম্ব মার্জনার
সুবিধা পাওয়া যাবে না ?
উত্তর- আপীলটি যদি বিশেষ ক্ষমতা আইনে হয়।
২০। তামাদি আইনের ২ অনুচ্ছেদ মতে ক্ষতিপূরনের
মামলা দায়েরে তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ৯০ দিন।
২১। স্থাবর সম্পত্তির দখল পূনরুদ্ধারের তামাদি কাল কত
ও কত অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর- ৬ মাস। এবং তামাদি আইনের ৩
নং অনুচ্ছেদে বলা আছে।
২২। মানহানির দরুন ক্ষতিপূরনের মোকদ্দমার
তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ১ বছর।
২৩। অর্থের মাধ্যমে পরিশোধ কর্জ দেয়া অর্থ
আদায়ের জন্য মোকদ্দমার তামাদি কাল কত এবং কত
অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর- ৩ বছর।তামাদি আইনের ৫৭ অনুচ্ছেদে।
২৪। হ্যান্ড নোটের টাকা আদায়ের জন্য
মোকদ্দমার তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ৩ বছর।
২৫। চুক্তির মাধ্যমে দেয়া কর্জের অর্থ আদায়ের
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ১ বছর।
২৬। দলিল রদ বা বাতিল করার তামাদি কাল কত
এবং তামাদি আইনের কোথায় বর্নিত হয়েছে ?
উত্তর- ৩ বছর । তামাদি আইনের ৯১ অনুচ্ছেদে।
২৭। সুর্নিদিষ্ট চুক্তি প্রবলের জন্য মোকদ্দমার
তামাদি কাল কত এবং কত অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর ১ বৎসর। এবং তামাদি আইনের ১১৩
অনুচ্ছেদে বলা আছে।
২৮। ঘোষনামূলক মোকদ্দমা ১২০ অনুচ্ছেদ
মোতাবেক হলে উহার তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ৬ বৎসর।
২৯। স্বত্ব সাব্যস্ত খাস দখলের মোকদ্দমা দায়েরর
তামাদি কাল কত এবং তামাদি আইনের কোথায় বর্নিত
আছে ?
উত্তর- ১২ বৎসর। এবং তামাদি আইনের ১৪২
অনুচ্ছেদে বর্নিত আছে।
৩০। জবর দখলকারীর মালিকানা লাভের জন্য
মোকদ্দমাকারীর তামাদি কাল কত এবং কত
অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর- ১২ বৎসর। এবং তামাদি আইনের ১৪৪
অনুচ্ছেদে বলা আছে।
৩১। বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বন্ধক
গ্রহীতার বিরুদ্ধে মোকদ্দমার তামাদি কাল কত
এবং কত অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর- ৬০ বছর। এবং তামাদি আইনের ১৪৮
অনুচ্ছেদে বলা আছে।
৩২। মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল এর
তামাদি কাল কত এবং কত অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর- ৭ দিন এবং ১৫০ অনুচ্ছেদে ।
৩৩। দেওয়ানী মোকদ্দমায় জেলা জজের
আদালতে দায়েরকৃত আপীল এর তামাদি কালকত
এবং কত অনুচ্ছেদে বর্নিত হয়েছে।
উত্তর- ৩০ দিন এবং তামাদি আইনের ১৫২
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
৩৪। ফৌজদারী মামলায় হাইকোর্ট ভিন্ন অন্য
আদালতের আপীলের তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ৩০ দিন।
৩৫। দায়রা জজের নিকট দায়েরকৃত আপীলের
তামাদি কাল কত অনুচ্ছেদে বর্নিত হয়েছে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ১৫৪ অনুচ্ছেদে।
৩৬। হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের যোগ্য
ফৌজদারী কার্যবিধি মোতাবেক আপীল এর
তামাদি কাল কত এবং তামাদি কাল কত অনুচ্ছেদে বর্নিত ?
উত্তর- ৬০ দিন। তামাদি আইনের ১৫৫ অনুচ্ছেদে।
৩৭। দেওয়ানী কার্যবিধি মোতাবেক
হাইকোর্টে আপীল দায়েরের তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ৯০ দিন।
৩৮। খালাসের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের তামাদি কাল
কত ?
উত্তর- ৬ মাস।
৩৯।খালাসের
বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে আপীল
দায়েরের তামাদি কাল অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তর- তামাদি আইনের ১৫৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে।
৪০। গর হাজিরার জন্য খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পূর্নবহাল
করার জন্য বাদীর দরখাস্তের তামাদি কাল কত ?
উত্তর- ৩০ দিন।
৪১। বাদীর অনুপস্থিতির কারনে মোকদ্দমা খারিজ
হলে উহা পূনরুজ্জীবিত করনের আবেদনের
তামাদি কাল কত এবং কত অনুচ্ছেদে বলা আছে ?
উত্তরঃ
- ৩০ দিন এবং তামাদি আইনের ১৬৩
অনুচ্ছেদে বলা আছে।
৪২। একতরফা ডিক্রী রদের জন্য বিবাদী কতৃক
দায়েরকৃত দরখাস্তের তামাদি কাল কত এবং কত
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ
৩০ দিন এবং তামাদি আইনের ১৬৪
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
৪৩। তামাদি আইনের মোট
কতটি ধারা আছে এবং কতটি অনুচ্ছেদ আছে ?
উত্তর- ৩২টি ধারা এবং ১৮৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
এক নজরে তামাদি আইনঃ
ধারা ৩,৪,৫ থেকে ২ টি প্রশ্ন হয়
৬,৭,৮,৯ থেকে ২ টি
১২,১৩,১৪ থেকে ১ টি
১৮,১৯,২০,২৩ থেকে ১ টি প্রশ্ন হয়।।
** পদ্ধতি গত আইন
# # প্রথম ১৮৫৯ সালে
# # কার্যকর ১৮৬২ সালে
# # বর্তমান আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন
# কার্যকর ১৯০৯ সালের১ ম জানুয়ারী
# ধারা ২৯ টি
# অনুঃ ১৮৩ টি
# #৩ধারা হতে ২৫ ধারা হলো মেয়াদ গননার পদ্ধতি
# #২৬ ---২৮ প্রেসক্রিপশন ও অর্জন
# # দেওয়ানী মুল মামলা, আপীল,রিভিউ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
# # ফৌজদারী মুলমামলায় প্রযোজ্য নয় কিন্তু আপীলে প্রযোজ্য।
# # প্রতিকারকে বারিত করে অধিকারকে নয়।
ধারাঃ ৫
বিলম্ব মওকুফের আবেদন
ধারাঃ ৬ আইনগত অপারগতা
# #৭ একাধিক বাদীর মধ্যো একজনের অপারগতা
# #৬ধারা ও ৭ ধারার ব্যতিক্রম
# #৯ ধারাঃএকবার তামাদির মেয়াদ গননা শুরু হয়ে গেলে আর কোন অপারগতা তা বন্ধকরতে পারবেনা।
ধারাঃ ১০ প্রকাশ্যে আছি তাহার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা
ধাারাঃ১১ বৈদেশিক চুক্তির বিরুদ্ধে মামলা
# # ধারা ১২ ঃযে পরিমাণ সময় গননা হতে বাদ যাবে
# #ধারাঃ ১৩ বিবাদী সরকারের কাজে বাহিরে থাকলে
# # ধারাঃ ১৪ এখতিয়ার বিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের কৃত মামলায় ব্যায়িত সময় বাদ যাবে।
# # ১৫ ধারাঃ মামলার কার্যক্রম স্থগিত সময় বাদ যাবে
# #১৬ধারাঃ ডিক্রি জারির বিক্রিয় রদ করিবার কার্যধারা মুলতবির সময় বাদ যাবে।
# #১৭ ধারাঃ মামলায় অধিকার অর্জন করার পুর্বে মৃত্যুর ফলাফল।
# #১৮ ধারাঃ প্রতারণার ফলাফল
# # ১৯ ধারাঃ প্রাপ্তিস্বীকারের ফলাফল।।
বাকি গুলো পরবর্তী সময়ে দেয়া হবে তবে উৎসাহ পেলে।।
মানুষ হত্যা:
আত্মরক্ষার জন্য অথবা নিজের সম্পত্তি রক্ষার জন্য মানুষ হত্যা করলে কোন অপরাধ হবে ?
প্রাচীনকাল থেকেই হত্যাকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয় । আধুনিক বিশ্বের অধিকাংশ দেশ, হত্যায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে দীর্ঘ মেয়াদী জেল বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
আত্মরক্ষার অধিকার সব মানুষের আছে এবং এই আত্মরক্ষার জন্য যেকোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারবেন এবং এ ধরণের খুন কোন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
আত্মরক্ষার এই বিষয়গুলো দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১০০ ও ১০৩ ধারায় বর্নিত আছে। এই ধারা অনুযায়ী আপনি নিজের বা সম্পত্তির সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য কোনো অপরাধ করে থাকলেও আপনাকে এর জন্য শাস্তি পেতে হবে না। কারণ আপনার অধিকার আছে, কোনো আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচার জন্য কোনো প্রতিরোধ তৈরি করা।
যেমন যে মুহূর্তে আপনি অথবা আপনার সম্পত্তি আক্রান্ত অথচ তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয় তখন আপনি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৯৬ ধারা থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত আত্মরক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দণ্ডবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার জন্য আপনি কোনো অধিকার প্রয়োগ করে থাকলে আপনার করা কোনো কাজই এমনকি হত্যাও আইনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
৯৭ ধারায় রয়েছে, মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর এমন যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে নিজের ও অন্যের শরীর রক্ষার অধিকার আপনার আছে। চুরি, দস্যুতা, অনিষ্ট সাধন বা অনধিকার প্রবেশের মাধ্যমে নিজের বা অন্য ব্যক্তির স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষার জন্যও আপনি এই প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
৯৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, অক্ষম বা মাতলামির কারণে কেউ কোনো অপরাধ করলে তার সেই কাজের জন্য তাকে অপরাধী করা যাবে না। কিন্তু এমন মানসিকভাবে অক্ষম, বিপর্যস্ত ব্যক্তির হাত থেকে আপনার যুক্তিসঙ্গত প্রতিরক্ষার অধিকার থাকবে। একইভাবে ভুল ধারণায় বা না জেনে কেউ যদি আপনাকে আক্রমণ করে, তার বিরুদ্ধেও আপনার আত্মরক্ষার অধিকার থাকবে।
১০০ ধারায় আছে, কোনো ক্ষেত্রে আপনি আত্মরক্ষা করতে গিয়ে অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারেন। আর এগুলো হলো
১)নিজের নিশ্চিত মৃত্যু ঠেকাতে,
২)মারাত্মক আঘাত থেকে রক্ষা পেতে যেখানে পরবর্তীকালে আপনার মৃত্যু হতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে,
৩)ধর্ষণ বা অস্বাভাবিক কাম লালসাথেকে বাঁচতে, ৪)অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পেতে ও
৫)কেউ যদি আপনাকে এমনভাবে আটক করতে পারে বলে মনে হয় যেখান থেকে আপনি সরকারি কর্তৃপক্ষের যেমন পুলিশ বা র্যাবের কাছ থেকে আর কোনো সাহায্য নিতে পারবেন না।
১০৩ ধারায় উল্লেখ আছে, কখন আপনি সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে কারো মৃত্যু ঘটাতে বা অন্য কোনো ক্ষতি করতে পারেন। এগুলো হলো-
১)দস্যুতার শিকার হলে,
২)কেউ রাতে অপথে গৃহে প্রবেশ করলে,
৩)বাসা বা সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বিল্ডিং, তাঁবু, জাহাজে আগুন লাগার ক্ষতি এড়াতে।
৪)এছাড়াও চুরি, অনিষ্ট বা ঘরে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে যদি এমন কোনো অবস্থার উদ্ভব হয় যে সেখানে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা না হলে কারো মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তখন।
১০৫ ধারায় আছে, কখন কারো সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে এই অধিকারের শুরু হয় এবং কতক্ষণ পর্যন্ত এই অধিকার অব্যাহত থাকবে। যেমন কারো সম্পত্তির ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষার অধিকার শুরু হবে। চুরির ক্ষেত্রে চোর পালিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বা সরকারি কর্তৃপক্ষের সাহায্য লাভ না করা পর্যন্ত অথবা ওই সম্পত্তি উদ্ধার না করা পর্যন্ত আপনার প্রতিরক্ষার অধিকার থাকবে। দস্যুতার ক্ষেত্রে দস্যুর দ্বারা কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো বা আঘাত করা বা অবৈধ অবরোধের চেষ্টা অব্যাহত থাকা পর্যন্ত প্রতিরক্ষার অধিকার থাকবে। অনুপ্রবেশ বা অনিষ্ট সাধনের ক্ষেত্রে এর চেষ্টা অব্যাহত থাকা পর্যন্ত আর রাতের বেলা চুরির ক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত ঘরে কোনো অনুপ্রবেশকারী থাকবে আপনার ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত থাকবে। চোর চুরি করে চলে যাওয়ার পর আপনার আর ওই অধিকার থাকবে না।
আপনার মৃত্যু হতে পারে এমন কোনো আক্রমণে আত্মরক্ষার জন্য যদি কোনো নিরাপরাধ মানুষেরও ক্ষতির ঝুঁকি থাকে তাহলেও আপনি এমন ঝুঁকি নিয়ে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে আইন অনুযায়ী কোনো বাঁধা নেই। যেমন আপনি নিজেকে বাঁচাতে কোনো উচ্ছৃঙ্খল জনতার ওপর গুলি চালাতে পারেন। এতে যদি ওই জনতার মধ্যে থাকা কোনো শিশুও আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে তাহলেও ১০৬ ধারা অনুযায়ী আপনি দায়ী হবেন না।
#একনজরে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭
১) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ১৮৭৭ সালের ১নং আইন।
২) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কার্যকর হয় ১৮৭৭ সালের ১লা মে।
৩) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন হল বিষয়ভিত্তিক/প্রতিকারমুলক আইন (Substantive law)
৪) এই আইনের ৫৭ টি ধারা
৫) এই আইন ৩টি খণ্ড, ১০টি অধ্যায়ে বর্ণিত।
ধারাঃ ৫- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় ৫টি উপায়ে।
>সম্পত্তির দখল গ্রহন ও তার দাবিদারকে সম্পত্তি অর্পনের মাধ্যমে।
>সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দানের মাধ্যমে/যা করার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আছে, তেমন কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে।
>নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অর্থাৎ যা না করার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে তা না করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে।
>ক্ষতিপূরণের রায় প্রদান ব্যতীত অন্য প্রকারে পক্ষসমুহের অধিকার নির্ণয় ও ঘোষণার মাধ্যমে।
>রিসভার নিয়োগের মাধ্যমে।
ধারাঃ ৬- প্রতিরোধমূলক/ নিরোধক প্রতিকার
ধারাঃ ৭- দণ্ডমূলক আইন কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায়না।
ধারাঃ ৮- সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল পুরুদ্ধার (স্বত্বসহ দখল পুনুরুদ্ধার/ মামলা করার সময়সীমা ১২ বছর)
ধারাঃ ৯- স্থাবর সম্পত্তির দখল পুরুদ্ধার (স্বত্বছাড়া শুধু দখল পুনুরুদ্ধার/মামলা করার সময়সীমা ৬ মাস)
ধারাঃ ১০- সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি পুনুরুদ্ধার।
ধারাঃ ১২- ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যায়। (অদ্য ধারার প্রয়োগ আদালতের সেচ্ছাধিন ক্ষমতা)
>চুক্তিভুক্ত কাজ ট্রাষ্টের অন্তর্ভুক্ত হলে।
>যে ক্ষেত্রে সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করলে ক্ষতির মানদণ্ড নির্ণয় করা যায়না।
>যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার পাওয়া যায়না।
>আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
ধারাঃ ১৩- চুক্তির বিষয়বস্তু আংশিক বিলুপ্ত হলে চুক্তিটি সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়নের অযোগ্য হবেনা বা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করা পুরোপুরি অসম্ভব হবেনা।
ধারাঃ ১৪- চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন, যেখানে অসম্পাদিত অংশ ছোট।
ধারাঃ ১৫- চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন, যেখানে অসম্পাদিত অংশ বড়।
ধারাঃ ১৬- চুক্তির স্বতন্ত্র অংশের সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন।
ধারাঃ ১৭- এমন কোন চুক্তি যা উপরোক্ত ১৪, ১৫, এবং ১৬ ধারার আওতায় পড়েনা, সেসবক্ষেত্রে চুক্তির অংশবিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার যায়না।
ধারাঃ ১৮-ত্রুটিপুর্ন স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার।
ধারাঃ ১৯- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যথেষ্ট না হলে ক্ষতিপূরণের আদেশ।
ধারাঃ ২০- খেসারত পরিশোধ সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে বাধা নহে।
ধারাঃ ২১- যেসব ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন সম্ভব নয়:
>যে চুক্তির কার্যসম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয়।
>যে চুক্তি জটিলতার কারণে সম্পাদন অযোগ্য হয়।
>চুক্তির শর্তাবলি ত্রুটিযুক্ত ও অযৌক্তিক হলে।
>চুক্তির প্রকৃতি শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য হলে।
>ট্রাস্টি কতৃক কৃত এমন চুক্তি যা তাদের ক্ষমতা লঙ্ঘন করে করা হয়েছে।
>ক্ষমতা বহির্ভূত চুক্তি
>যে চুক্তি সম্পাদনে ৩বছরের বেশি সময় কাজ করতে হবে।
>যে চুক্তির বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই বিলুপ্তি ঘটেছে।
ধারাঃ ২১ক- অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন করা যাবেনা। (ধারাটি সংযোজিত করা হয়েছে ২০০৪ সালে/ কার্যকর করা হয়েছে ১লা জুলাই, ২০০৫ সাল থেকে)
ধারাঃ ২২- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ আদালতের ইচ্ছাধিন ক্ষমতা তবে এটি স্বেচ্ছাচারিতা হবেনা বরং সুষম, যুক্তিসংগত বিচার বিভাগিয় মূলনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আপীল আদালত কতৃক সংশোধনযোগ্য।
ধারাঃ ২৩- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার প্রদান যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ধারাঃ ২৪- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকারের আবেদন যারা করতে পারবেনা।
ধারাঃ ২৭- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকর করা যায় যাদের বিরুদ্ধে।
ধারাঃ ২৮- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকর করা যায় না যাদের বিরুদ্ধে।
ধারাঃ ২৯- চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা খারিজ হলে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবেনা।
ধারাঃ ৩১- দলিল সংশোধন (তামাদির মেয়াদ ৩ বছর, অনুঃ ৯৫, ৯৬)
ধারাঃ ৩২- পক্ষসমুহের ইচ্ছা সম্বন্ধে অনুমান।
ধারাঃ ৩৩-সংশোধন সম্বন্ধীয় মুলনিতিসমুহ।
ধারাঃ ৩৪- সংশোধিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর।
ধারাঃ ৩৫- বিচারপুর্বক চুক্তি রদ।
ধারাঃ ৩৬- লিখিত চুক্তি শুধুমাত্র ভুলের জন্য সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা যায়না।
ধারাঃ ৩৭- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বিকল্প হিসেবে চুক্তি রদ।
ধারাঃ ৩৮- চুক্তি বাতিল হলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতিকার।
ধারাঃ ৩৯- দলিল বাতিল ( দলিল রদ বা বাতিল করার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর, অনুচ্ছেদ ৯১)।
ধারাঃ ৪০- দলিল আংশিক বাতিল বা আংশিক সংশোধন
ধারাঃ ৪১- দলিল বাতিলকারি পক্ষ কতৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান
ধারাঃ ৪২- ঘোষণামূলক মোকদ্দমা
বাদির আইনগত পরিচয়
সম্পত্তিতে বাদির কোন অধিকার বিষয়ে
ধারাঃ ৪৩- ঘোষণার ফলাফল।
ধারাঃ ৪৪- রিসিভার নিয়োগ
ধারাঃ ৫২- প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর
ধারাঃ ৫৩- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
ধারাঃ ৫৪- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়/ যেসব ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়
ধারাঃ ৫৫- বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা
ধারাঃ ৫৬- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান (১১টি ক্ষেত্রে)
ধারাঃ ৫৭- নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Bogura
5800