18/03/2020
যেকোনো দুর্যোগ প্রতিরোধের জন্য এর পূর্ববর্তী সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করা সবার নৈতিক বা সামাজিক দায়িত্ব ও বলা যায়। তবে কয়েকটা তথাকথিত সামাজিক সচেতনতা আমাদের জন্য নেতিবাচক ব্যাপার ই বয়ে আনতে পারে। যথাঃ
১. এই ভাইরাসের ব্যাপারে না জেনে অযথা ফেসবুক স্ট্যাটাস বা যৌক্তিক সোর্সহীন কথা, লেখা বা অন্য মানুষের স্ট্যাটাস শেয়ার করা।এই ব্যাপারটা পুরো বাংলাদেশে ঘটছে বিশেষত বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে যেখানে স্বল্পশিক্ষিত বা নির্বোধ মানুষের আগাগোনাই বেশি।
২. এর প্রতিষেধক নিয়ে অযাচিত কথাবার্তা বা পরামর্শ। যেমন- অমুক ধর্মের মানুষের জন্য এটা বেশি হচ্ছে, তারা অমুক ধর্মতে চলে আসুক নতুবা মরার পর শাস্তি পাবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-আপনি নিজের ধর্মের কাজ কতটুকু করেন যে, আপনি সিউর হচ্ছেন এই ভাইরাস আপনাকে ধরবেনা।
৩. যেকোনো রোগ -দুর্যোগই সৃষ্টিকর্তা থেকে আসা। তবে এটা বিশেষ অঞ্চল বা ধর্মের মানুষদের জন্য আসছে এটা বলা বোধহয় কান্ডজ্ঞানহীন। তার চেয়ে বছং এটুকু হয়তো আমরা মনে করতে পারি যে, সব দেশে আর ধর্মেই কিছু কালে বেশি আস্পর্ধার পরিবেশ সৃষ্টি তৈরী হয় যখন প্রকৃতি হয়তো প্রতিশোধ নেয়।
৪. গুজব ছড়িয়ে খাদ্য মজুদ করার কালচার ভাইরাল করলে ব্যাপারটাতে অন্তত এই মহামারীর সময় স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা পর্যন্ত নাখোশ হবে। কারণ, একটু চিন্তা করে দেখেন, আপনার দেশের খাদ্য তো কোথাও চলে যাচ্ছে না। তাই অযথা ব্যবসায়ীদের বেশি লাভ করার একটা পরিবেশ তৈরী করে দিয়ে সংকট যেমন বাড়াছেন তেমনি একটা ভয়ের পরিবেশ ও তৈরী করে চলেছেন।
৫. আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, যারা গরিব, খাদ্য মজুদ করার অর্থ যাদের নেই তাদের চোখের সামনে খাদ্যের অভাবে মরতে দেখবেন, আপনার মজুদকৃত খাদ্য দিবেন -যদি এমন ই হয় তাহলে আপনি কি সত্যিই মানুষ? যে মানুষটা নিজে ধান উৎপাদন করে টাকার জন্য আপনার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে তার ঘামের ফসল তাদের মৃতদৃশ্য দেখেও আপনি বাঁচতে চান?
৬. বাংলাদেশে ফেসবুকে গুজবী স্ট্যাটাস দেওয়া ডাক্তার, পীর, নেতা, ফেসবুক পোস্ট এডিটর, ভন্ড আর দালালদের সংখ্যা বেড়ে গেছে।কারণ, সঠিক তথ্য না জেনে শুধুমাত্র নিরেট নির্বুদ্ধিতা, স্বল্প জ্ঞান, ব্যবসায়ীক স্বার্থ বা লোক দেখানো সচেতনকারী সাজানোর জন্য এসব করছে।
৭. এই রোগ যেমন বিশেষ ধর্মের মানুষের বা দেশের জন্য না তেমনি শুধুমাত্র বয়স্কদের মারতে আসেনি। দেশ বা বয়সভেদে ঝুঁকির মাত্রাটা কম-এই একটু। তাই গুজব ছড়ায়েন না, অনুরোধ রইল।