17/09/2025
সফল এবং আদর্শ শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলীঃ
সফল এবং আদর্শ শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলীঃ
Dear VisitorsWelcome to watchingI am Abdullahal Kafi, I have completed my Graduation & Post Graduation Form Islamic University, Bangladesh, Now I am a teache...
04/09/2025
জাপানি ফুলফ্রেশ TOSHIBA eSTUDIO 450, এই ফটোকপি মেশিনটি বিক্রি করা হবে , যোগাযোগ: 01571783144 / WhatsApp, বগুড়া, নাটাইপাড়া
20/08/2025
MPO EFT Bill Submission Tutorial | Step by Step Guide for EFT Bill Submission (এমপিও বিল সাবমিট)
এই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে কিভাবে বাংলাদেশে MPO (Monthly Pay Order) EFT বিল সাবমিশন করতে হয়।MPO বিল সাবমিশন প্রক্রিয়া DSHE (Directorate of Secondary and...
17/06/2025
ইবাদত কবুলের শর্তাবলী:
বিস্তারিত আলোচনা
ইসলামে যেকোনো ইবাদত আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক এবং সম্পূরক শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না। আলেমদের মতে, ইবাদত হলো এমন সব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজ যা আল্লাহ ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন।
একটি ইবাদতকে পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য হতে হলে তাকে অবশ্যই শরিয়তের নির্ধারিত গণ্ডির মধ্যে থাকতে হবে।
স্থান, সময়, কারণ এবং পরিমাণের শর্তগুলো এই গণ্ডিরই অন্তর্ভুক্ত।
ইবাদত কবুলের মৌলিক শর্তাবলী
সর্বোপরি, যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুটি প্রধান শর্ত রয়েছে:
১. ইখলাস (الإخلاص): অর্থাৎ, ইবাদতটি করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। এতে লৌকিকতা বা অন্য কোনো দুনিয়াবী স্বার্থ জড়িত থাকলে তা আল্লাহর নিকট কবুল হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।" (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫)
২. সুন্নাহর অনুসরণ (اتباع السنة): ইবাদতটি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে হতে হবে। ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার নব-আবিষ্কার বা বিদআত গ্রহণযোগ্য নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, "যে এমন কোনো আমল করল, যাতে আমাদের (ইসলামের) কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" (সহীহ মুসলিম)
এই দুটি মৌলিক শর্তের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার জন্য জরুরি। এর মধ্যে হালাল উপার্জন ও খাদ্য অন্যতম। হারাম খেয়ে, পরে বা ব্যবহার করে ইবাদত করলে তা কবুল হয় না।
ইবাদতের সাথে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট শর্তসমূহ
মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করার পর নির্দিষ্ট ইবাদতের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এগুলো হলো:
১. কারণ (السبب)
প্রতিটি ইবাদতের পেছনে শরিয়ত নির্ধারিত একটি কারণ থাকতে হবে। যে কারণে বা উপলক্ষে শরিয়ত ইবাদতের বিধান দেয়নি, সে কারণে ইবাদত তৈরি করা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।
* উদাহরণ: চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় "সালাতুল কুসুফ" পড়ার বিধান রয়েছে। এটিই হলো এই নামাজের কারণ। এখন যদি কেউ বলে, ভূমিকম্প বা ঝড়ের কারণে আমি সালাতুল কুসুফ পড়ব, তবে তা শরিয়ত সম্মত হবে না, কারণ শরিয়ত এই কারণগুলোর জন্য এই নির্দিষ্ট নামাজ দেয়নি। একইভাবে, শাবান মাসের ১৫ তারিখের দিবাগত রাতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নামাজ আদায়ের কোনো সহীহ কারণ বা দলিল নেই, তাই এটিকে কারণ বানিয়ে ইবাদত করা বৈধ নয়।
২. প্রকার বা ধরণ (الجنس)
ইবাদতের প্রকার বা ধরণ শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে। নিজের ইচ্ছামত ইবাদতের ধরণ পরিবর্তন করা যাবে না।
* উদাহরণ: কুরবানির জন্য উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি চতুষ্পদ জন্তু নির্ধারিত। কেউ যদি ঘোড়া বা মুরগি দিয়ে কুরবানি করতে চায়, তবে তা কবুল হবে না, যদিও তা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করা হোক না কেন। কারণ ইবাদতের নির্ধারিত ধরণ এখানে মানা হয়নি।
৩. পরিমাণ বা সংখ্যা (العدد)
শরিয়ত বিভিন্ন ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বা সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশি করা বৈধ নয়।
* উদাহরণ: ফজর নামাজের ফরজ রাকাত সংখ্যা ২। কেউ যদি বেশি সওয়াবের আশায় ৩ রাকাত পড়ে, তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। একইভাবে, তাওয়াফের সময় কাবা ঘর ৭ বার প্রদক্ষিণ করতে হয়, এর কম বা বেশি করা যায় না। নামাজের পর তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার) ৩৩ বার করে পড়ার কথা বলা হয়েছে। ইচ্ছামত এর সংখ্যা পরিবর্তন করা সুন্নাহর পরিপন্থী।
৪. পদ্ধতি (الكيفية)
ইবাদত পালনের পদ্ধতি অবশ্যই রাসূল (সা.) এর শেখানো পদ্ধতির অনুরূপ হতে হবে। পদ্ধতির ব্যতিক্রম ঘটলে ইবাদত শুদ্ধ হবে না।
* উদাহরণ: নামাজের মধ্যে রুকু ও সিজদার স্থান নির্ধারিত। কেউ যদি আগে সিজদা করে পরে রুকু করে, তার নামাজ হবে না। অজুর ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা ও পদ্ধতি রয়েছে, যা অনুসরণ করা আবশ্যক।
৫. সময় (الزمان)
অনেক ইবাদত নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ। সেই সময়ের আগে বা পরে তা আদায় করলে তা কবুল হবে না।
* উদাহরণ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তার নির্ধারিত সময়েই পড়তে হয়। সময়ের আগে যেমন নামাজ হয় না, তেমনি ইচ্ছাকৃতভাবে সময় পার করে দিলেও তা কাজা হিসেবে আদায় করতে হয় এবং এর জন্য গুনাহ হয়। রমজান মাসের রোজা শাওয়াল মাসে রাখলে তা ফরজ রোজা হিসেবে গণ্য হবে না। হজ অবশ্যই জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (৮ থেকে ১২ তারিখ) সম্পাদন করতে হয়।
৬. স্থান (المكان)
কিছু ইবাদত রয়েছে যা নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সম্পৃক্ত। সেই নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও তা পালন করা যায় না।
* উদাহরণ: হজ পালনের জন্য মক্কা নগরীর আরাফাত, মিনা, মুজদালিফা ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করা আবশ্যক। এই কাজগুলো অন্য কোনো স্থানে সম্পাদন করলে হজ হবে না। ইতিকাফের জন্য মসজিদ নির্ধারিত স্থান। মসজিদে না করে ঘরে ইতিকাফ করলে তা সহীহ হবে না (নারীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত)।
সুতরাং, একজন মুসলিমের উচিত তার প্রতিটি ইবাদত যেন ইখলাস ও সুন্নাহর দুটি মৌলিক শর্তসহ কারণ, প্রকার, পরিমাণ, পদ্ধতি, সময় ও স্থানের সঠিক নিয়ম মেনে সম্পাদিত হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। এর মাধ্যমে ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার আশা করা যায় এবং তা বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের কারণ হবে।
আব্দুল্লাহিল কাফি
16/06/2025
আপনি কি ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্ভুল আবেদন করতে চান? যোগাযোগ করুন
16/06/2025
আপনি কি ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্ভুল আবেদন করতে চান? যোগাযোগ করুন
16/06/2025
অবশেষে শিক্ষক নিয়োগের
ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
আবেদন শুরু 22/6/25 থেকে
13/06/2025
নামাজে পঠিত গুরুত্বপূর্ণ দোয়াসমূহ
নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং মুসলমানদের জন্য দৈনিক পাঁচবার আদায় করা ফরজ ইবাদত। নামাজের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করা হয়, যা নামাজের পূর্ণতা ও خشوع (খুশু) বা একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। নিচে নামাজের বিভিন্ন অংশে পঠিতব্য দোয়াসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১. তাকবীরে তাহরীমা (নামাজ শুরু)
নামাজ শুরু করার জন্য "আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলে তাকবীরে তাহরীমা দেওয়া হয়। এর পর সানা পাঠ করতে হয়।
সানা (ثناء):
"সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।"
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উচ্চে এবং আপনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই।
২. রুকু (নত হওয়া)
কিয়াম (দাঁড়ানো অবস্থা) থেকে রুকুতে যাওয়ার সময় "আল্লাহু আকবার" বলতে হয়। রুকুতে গিয়ে কমপক্ষে তিনবার এই তাসবিহ পড়তে হয়:
রুকুর তাসবিহ:
"সুবহানা রাব্বিয়াল 'আযীম।"
অর্থ: আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
৩. রুকু থেকে উঠা (ক্বওমা)
রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় বলতে হয়:
"সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ।"
অর্থ: যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন।
এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলতে হয়:
"রাব্বানা লাকাল হামদ।"
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য।
৪. সিজদা (সেজদা)
"আল্লাহু আকবার" বলে সিজদায় যেতে হয়। সিজদায় গিয়ে কমপক্ষে তিনবার এই তাসবিহ পড়তে হয়:
সিজদার তাসবিহ:
"সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা।"
অর্থ: আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
৫. দুই সিজদার মাঝের বৈঠক (জলসা)
প্রথম সিজদা থেকে "আল্লাহু আকবার" বলে উঠে বসতে হয় এবং এই দোয়াটি পড়া সুন্নত:
দুই সিজদার মাঝের দোয়া:
"আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া 'আফিনী, ওয়ারযুকনী।"
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে নিরাপত্তা দিন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।
(সহীহ্ তিরমিযী, আবূ দাউদ)
৬. শেষ বৈঠক (আখেরি বৈঠক)
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরূদ শরীফ এবং দোয়া মাসূরা পাঠ করতে হয়।
তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু):
"আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত ত্বাইয়িবাতু। আসসালামু 'আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু 'আলাইনা ওয়া 'আলা 'ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।"
অর্থ: সমস্ত সম্মান, সকল ইবাদত ও পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
দরূদ শরীফ (দরূদে ইব্রাহিম):
"আল্লাহুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া 'আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা 'আলা ইব্রাহীমা ওয়া 'আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক 'আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া 'আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা 'আলা ইব্রাহীমা ওয়া 'আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।"
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁর বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
দোয়া মাসূরা:
"আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন 'ইনদিকা ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গফূরুর রাহীম।"
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি এবং আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। সুতরাং, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
৭. সালাম (নামাজ শেষ করা)
সবশেষে ডানে ও বামে মুখ ফিরিয়ে বলতে হয়:
"আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।"
অর্থ: আপনাদের উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
এই দোয়াসমূহ নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এগুলো শুদ্ধভাবে পাঠের মাধ্যমে নামাজের পরিপূর্ণতা অর্জিত হয়।
13/06/2025
অভিভাবকদের জন্য কার্যকরী কিছু কথা::
সন্তান লালন-পালন একটি সুন্দর এবং একইসাথে চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। সব বাবা-মা-ই চান তাদের সন্তান যেন একজন সুস্থ, সুখী এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বড় হয়। এই যাত্রাপথে অভিভাবকদের সহায়তার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিচে আলোচনা করা হলো।
ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলুন
* সন্তানকে সময় দিন: আপনার ব্যস্ত জীবনের মাঝেও প্রতিদিন কিছুটা সময় একান্তে সন্তানের জন্য রাখুন। এই সময়ে তার সাথে কথা বলুন, তার সারাদিনের গল্প শুনুন, একসাথে খেলুন বা তার পছন্দের কোনো কাজ করুন। এটি আপনাদের মধ্যে একটি সুন্দর ও মজবুত সম্পর্ক তৈরি করবে।
* বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন: শাসনের পাশাপাশি সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। এতে সে নিঃসঙ্কোচে তার মনের কথা, সমস্যা ও অনুভূতি আপনার সাথে শেয়ার করতে পারবে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে এই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ অত্যন্ত সহায়ক।
* প্রশংসা ও উৎসাহ দিন: সন্তানের ছোট ছোট ভালো কাজেরও প্রশংসা করুন। তার চেষ্টার জন্য তাকে উৎসাহ দিন। এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদের সামনে তার প্রশংসা করলে সে আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
* শারীরিক ও মানসিক ভালোবাসা প্রকাশ করুন: সন্তানকে জড়িয়ে ধরা, আদর করা বা "তোমাকে ভালোবাসি" বলার মাধ্যমে আপনার স্নেহ প্রকাশ করুন। এটি তাদের মানসিক নিরাপত্তাবোধ বাড়ায়।
শৃঙ্খলা ও আচরণ শিক্ষা
* 'না' বলার শিল্প শিখুন: ধমক বা রাগারাগি না করে শান্তভাবে কিন্তু দৃঢ়তার সাথে সন্তানকে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিন। কেন একটি কাজ করা উচিত নয়, তা তাকে বুঝিয়ে বলুন।
* তুলনা করা থেকে বিরত থাকুন: প্রত্যেক শিশু স্বতন্ত্র। তার নিজস্ব প্রতিভা ও শেখার ক্ষমতা রয়েছে। অন্য শিশুদের সাথে, এমনকি ভাই-বোনের সাথেও তার তুলনা করবেন না। এটি তার মনে হীনম্মন্যতার জন্ম দিতে পারে।
* রুটিন তৈরি করুন: খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন। এটি শিশুকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে সাহায্য করবে।
* নিজে উদাহরণ সৃষ্টি করুন: শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে শেখে। আপনি সন্তানের মধ্যে যেসকল গুণাবলী দেখতে চান, যেমন - সততা, দয়া, уважение, সেগুলো নিজের আচরণের মাধ্যমে তার সামনে তুলে ধরুন।
শিক্ষা ও বিকাশ
* পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন: ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন একসাথে গল্পের বই পড়ুন। এটি তার কল্পনাশক্তি ও ভাষার দক্ষতা বাড়াবে।
* সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন: শিশুকে ছবি আঁকা, গান করা, নাচ বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন। এটি তার ভেতরের প্রতিভাকে বিকশিত হতে সাহায্য করবে।
* সিদ্ধান্ত নিতে শেখান: ছোট ছোট বিষয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। যেমন - কোন পোশাকটি পরবে বা কোন খেলনাটি দিয়ে খেলবে। এতে তার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা
* স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করুন। স্ক্রিন টাইমের পরিবর্তে তাকে খেলাধুলা, বই পড়া বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন।
* স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন: শিশুকে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। বাইরের খোলা ও ভাজাপোড়া খাবার থেকে তাকে বিরত রাখার চেষ্টা করুন।
* নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন: বাড়িতে এবং বাইরে তার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। বয়ঃসন্ধিকালে তার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করুন এবং তাকে আশ্বস্ত করুন।
অভিভাবকত্ব একটি শেখার প্রক্রিয়া। সময়ের সাথে সাথে এবং সন্তানের বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে আপনাকে নতুন নতুন জিনিস শিখতে হবে এবং মানিয়ে নিতে হবে। ধৈর্য, ভালোবাসা এবং সঠিক নির্দেশনা আপনার সন্তানকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।