Bogura College, Bogura.

Bogura College, Bogura. Bogura College, Bogura

23/09/2026

HSC ও সমমান পরীক্ষার রেজাল্ট আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ হতে পারে।

Send a message to learn more

23/09/2026

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৭ জানুয়ারি। এবারও হচ্ছে না বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা।

Send a message to learn more

23/09/2026

বিআইডব্লিউটিএ অধীনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এক বছর মেয়াদি মেরিন শিক্ষানবিশ (ডেক ও ইঞ্জিন) কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

Send a message to learn more

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আপডেট~১. ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি ...
23/09/2026

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আপডেট~
১. ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হতে পারে ভর্তি পরীক্ষা।
২. আবেদন যোগ্যতা, আবেদন ফি সহ বিস্তারিত সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলের আগামী সপ্তাহের মিটিং এ।
৩. এবারও বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না।
৪. আবেদন ফি বাড়তে পারে।
৫. সেকেন্ড টাইমারদের মার্ক কাটার বিষয়টি আলোচনাধীন(যা এবারই প্রথম)। ২০২৬ ব্যাচের ফলাফল বিবেচনায় সিদ্ধান্ত।
ধন্যবাদ ❤️

ধারদেনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অর্থাভাবে পাঁচ মাস পর ফিরলেন বাড়িতেগ্রামের সরু পথ দিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে জরাজী...
23/09/2026

ধারদেনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অর্থাভাবে পাঁচ মাস পর ফিরলেন বাড়িতে
গ্রামের সরু পথ দিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে জরাজীর্ণ একটি টিনশেড ঘর। ঘরের ভেতর ভাঙা চেয়ার-টেবিলে বসে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছেন আলামিন হোসেন (২০)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের এই ছাত্রের এখন থাকার কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে। কিন্তু অর্থাভাবে এখন তাঁর ঠিকানা ভাঙা ঘর। ধারদেনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও টাকার অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁর পড়াশোনা।

আলামিনের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। বাবা আলেফ আলী পেশায় ভ্যানচালক। আলামিন ছাড়াও দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা বেগম, বৃদ্ধ মা চন্দনা খাতুন এবং স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে।
আলামিন ২০২৩ সালে ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর একটি বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি নেন। ভর্তি পরীক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ২০তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ৫২৬তম হন। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু পাঁচ মাসের মাথায় টাকার কাছে সব স্বপ্ন আটকে যায়।

সোমবার দুপুরে আলামিনদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে ভালো একটি চেয়ার-টেবিলও নেই। নেই আসবাব ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। আলামিন বলেন, ‘ভর্তির দুই মাস পর হলে উঠেছি। থাকা-খাওয়া আর পড়ার খরচ মাসে পাঁচ–ছয় হাজার টাকা লাগে। বাবা ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসারই চলে না। আমি ঢাকায় টিকতে পারিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামে ফিরে এসেছি। বন্ধুরা এখন সেমিস্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর আমি বাড়িতে বসে আছি। অথচ কত সংকট মোকাবিলা করে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ঢাবিতে ভর্তি হয়েছিলাম।’
আলামিনের বাবা আলেফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভ্যান চালাইয়া দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। এই দিয়া সংসার চালাই। ছেলের পড়ার খরচ কীভাবে দেব? ছেলের এই খরচাটা এখন জুলুম হয়ে যাচ্ছে আমার কাছে। টাকার অভাবে ছেলে ঢাকা থেকে চলে আসছে।’

ছেলে পড়াশোনায় ভালো, বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে বলে জানালেন আলামিনের সৎমা রোকসানা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ও পড়ুক। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নাই।’

আলামিনের জীবনের গল্প আরও করুণ। পারিবারিক অসচ্ছলতা আর ঋণের চাপে ২০২৩ সালে তাঁর মা কাজলী খাতুন আত্মহত্যা করেন। মাকে হারানোর পর পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল। গ্রামের মানুষ ও স্বজনদের সহায়তায় তিনি ঘুরে দাঁড়ান। প্রতিবেশীরা বলছেন, আলামিন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী ছেলে।

প্রতিবেশী সাগর আলী বলেন, ‘ঋণের চাপ সইতে না পেরে ওর (আলামিনের) মা আত্মহত্যা করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া চাট্টিখানি কথা না। আমরা চাই সবাই ওর পাশে দাঁড়াক।’ আরেক প্রতিবেশী খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘মা মারা যাওয়ার পরও ছেলেটা হাল ছাড়েনি। এখন টাকার জন্য যদি পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, এটা খুবই দুঃখজনক।’

আবেগাপ্লুত হয়ে আলামিন জানালেন, আগামী রোববার তাঁর পরীক্ষা। এ জন্য ঢাকায় যাবেন। কিছু টাকা সংগ্রহ করেছেন। তবে ভবিষ্যতের দিনগুলো নিয়ে তিনি দিশাহারা।

সূত্র: প্রথম আলো

📚 আগামীকাল থেকে শুরু একাদশ শ্রেণির ক্লাসনতুন শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে আগামীকাল। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর শিক্...
23/09/2026

📚 আগামীকাল থেকে শুরু একাদশ শ্রেণির ক্লাস

নতুন শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে আগামীকাল। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ আর নতুন স্বপ্ন নিয়ে শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিকের পথচলা।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা ও মনোযোগের মাধ্যমে সুন্দরভাবে শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নতুন পথচলায় একাদশ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর জন্য রইল শুভকামনা। 🌸📖
Facebook Group: Bogura College Bogura

23/09/2026
19/09/2026

🚨 একাদশ শ্রেণির ভর্তি ২০২৬-২৭: দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ! 🎓

অপেক্ষার অবসান! একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।

📊 প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে বড় আপডেট:

✅ মোট ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি-নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে।

🔄 দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে কলেজ বরাদ্দের পাশাপাশি আগের ধাপে নির্বাচিত ৫৬ হাজার ৮০৪ জন শিক্ষার্থী মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দের কলেজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

📌 দ্বিতীয় ধাপের চিত্র:

➡️ মোট আবেদন: ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি
➡️ কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি: ১৪ হাজার ১৪ জন
➡️ নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া: ২ হাজার ২০৫ জন

অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে পছন্দের কলেজে আসন পাননি। পছন্দক্রম, কলেজভেদে আবেদনের চাপ এবং আসনসংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ভর্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

🎓 এসএসসি ও সমমানের ফলের চিত্র

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন।

🏫 দেশের ৮ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন রয়েছে ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি।

অন্যদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে ভর্তি-নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জনের। ফলে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি রয়েছে।

💬 আপনার ফলাফল কেমন এসেছে?
আপনি কি পছন্দের কলেজ পেয়েছেন, নাকি মাইগ্রেশনের অপেক্ষায় আছেন?

#একাদশভর্তি২০২৬ #ভর্তিরফলাফল #কলেজভর্তি #শিক্ষাআপডেট

ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলের একই স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন দুই কিশোর—মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও অমর্ত্য সেন। তখন তাঁদের কে...
16/09/2026

ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলের একই স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন দুই কিশোর—মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও অমর্ত্য সেন। তখন তাঁদের কেউই হয়তো জানতেন না, ভবিষ্যতে অর্থনীতির জগতে তাঁদের পথ কতটা আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একজন পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করবেন, অন্যজন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিন্তা, পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নচর্চায় রেখে যাবেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

আনিসুর রহমানের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল। বিভিন্ন জীবনীমূলক ও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, এই স্কুলেই তাঁর সহপাঠী ছিলেন পরবর্তীকালের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের পথচলা শুরু হলেও পরবর্তী জীবনে দুজনের কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার পরিসর আলাদা হয়ে যায়।

১৯৩৩ সালে জন্ম নেওয়া আনিসুর রহমান পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স এবং ১৯৫৬ সালে এমএ সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ১৯৬২ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করেন।

হার্ভার্ডে তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল উন্নয়ন অর্থনীতি ও বিনিয়োগের আঞ্চলিক বণ্টন। ১৯৬৩ সালে তাঁর ‘আঞ্চলিক বিনিয়োগ বণ্টন’ বিষয়ক একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অর্থনীতি সাময়িকী ‘কোয়াটার্লি জার্নাল অব ইকোনমিক্স’-এ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়েও আঞ্চলিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে তাঁর গবেষণা অব্যাহত ছিল।

তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণেও আনিসুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর গবেষণায় আঞ্চলিক সম্পদ ও বিনিয়োগের অসম বণ্টনের বিষয়টি উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আনিসুর রহমান। বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করেন। পরে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থায় কাজ করেন এবং ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় যোগ দেন। সেখানে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করেন। মানুষের অংশগ্রহণকে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা তাঁর চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তিনি কেবল প্রবৃদ্ধি বা পরিসংখ্যানের বিষয় হিসেবে দেখেননি। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, আত্মউন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানুষের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। অংশগ্রহণমূলক গবেষণা ও উন্নয়নচিন্তার ক্ষেত্রেও তাঁর কাজের প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে সেন্ট গ্রেগরিজের সেই সহপাঠী অমর্ত্য সেন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে তাঁর উচ্চশিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটে এবং ১৯৫৯ সালে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে ভারত ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা করেন। তাঁর একাডেমিক জীবনের সঙ্গে অক্সফোর্ড, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও হার্ভার্ডসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত হয়।

অমর্ত্য সেনের গবেষণার পরিধিও ছিল বিস্তৃত। কল্যাণ অর্থনীতি, সামাজিক পছন্দতত্ত্ব, দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, বৈষম্য ও মানুষের কল্যাণ—এসব বিষয় তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থনীতির প্রচলিত আলোচনায় মানুষের বাস্তব জীবন, সুযোগ ও কল্যাণকে আরও কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

১৯৯৮ সালে অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল কমিটি কল্যাণ অর্থনীতিতে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেয়। অর্থনীতির তাত্ত্বিক গবেষণার পাশাপাশি দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও তাঁর কাজ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

আনিসুর রহমান ও অমর্ত্য সেনের গবেষণার ক্ষেত্র এক নয়। তাঁদের তাত্ত্বিক পদ্ধতি ও কর্মজীবনের পরিসরও ছিল আলাদা। তবে দুজনের চিন্তার মধ্যে একটি বিষয়গত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দুজনের অর্থনৈতিক চিন্তাতেই মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, সামাজিক সুযোগ এবং উন্নয়নের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। একজন আঞ্চলিক বৈষম্য ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের দিকে জোর দিয়েছেন, অন্যজন কল্যাণ অর্থনীতি, দারিদ্র্য ও সামাজিক পছন্দের মতো বিষয়কে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন।

তবে তাঁদের অবদানকে একই ধরনের গবেষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং একই স্কুলের সহপাঠী হয়েও তাঁরা অর্থনীতির ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের স্বতন্ত্র চিন্তার জগৎ তৈরি করেছেন। অমর্ত্য সেনের গবেষণা তাঁকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক একাডেমিয়ার সর্বোচ্চ স্বীকৃতির মঞ্চে। আর আনিসুর রহমানের কর্মজীবন গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বৈষম্য বিশ্লেষণ এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নচিন্তার সঙ্গে।

অর্থনীতির বাইরেও আনিসুর রহমানের ছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল। ২০০৪ সালে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর পরিচয়ের পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততাও তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

আনিসুর রহমান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত বিভিন্ন স্মরণলেখায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিন্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাঁর অবদানের কথা নতুন করে উঠে আসে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা স্মরণ করা হয়।

একই স্কুলের দুই সহপাঠীর জীবন তাই হয়ে উঠেছে দুটি ভিন্ন অথচ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক যাত্রার গল্প। একজন পেয়েছেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার, অন্যজন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিন্তা ও উন্নয়নচর্চায় রেখে গেছেন দীর্ঘস্থায়ী অবদান।

সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলের সেই সময়ের দুই শিক্ষার্থীর পরবর্তী জীবনের এই পথচলা বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসেরও এক আকর্ষণীয় অধ্যায়। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহপাঠী থেকে একজন বিশ্ব অর্থনীতির নোবেলমঞ্চে, আর অন্যজন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে—দুজনের এই ভিন্ন যাত্রা দেখায়, একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষাজীবন কত বিচিত্র ও সুদূরপ্রসারী পথের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

16/09/2026

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ

Address

Bogura College Bogura
Bogura
5800

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bogura College, Bogura. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category