02/06/2020
#ব্যাচ_২০১৭ 🔥 💖
"শেষের পাতা"
শিশির ভেজা সকাল, মায়ের বকুনিতে ঘুম থেকে ওঠা হাতমুখ ধোয়া তাড়াহুড়ো করে তৈরি হয়ে অল্প একটু নাস্তা করেই মাকে বলা আম্মা গেলাম। সেই একই ড্রেস একই রাস্তা গন্তব্যটাও ভিন্ন নয়। কেউ হেটে কেউ সাইকেলে কেউবা বাবার বাইকে। ওই যে বললাম গন্তব্য একটাই সেটা স্কুল ছাড়া আর কিছু হবেনা নিশ্চয়।ক্লাসের তালায় বেগ ঝুলিয়ে রাখা,পেছনের দরজা দিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করা আরো যে কতো কি!দপ্তরি কাকা আসলেই সবাই মিলে ভীড় জমানো দেখি কে আগে ক্লাসে ঢুকতে পারে।
টিং টিং টিং টিং টিং!!
নিশ্চয় এটা পিটি ক্লাসের ঘন্টা। স্যারের ফুরুং ফুরুং করা বাশির শব্দে সবাই পিটি ক্লাস করার জন্য মাঠে যাওয়া, আসলেও কি সবাই যেতো ? কেউ কেউ আবার ফাকিও দিত। আমিও যে আলাদা তেমনটা নয়। এই ফাকি দেওয়ার জন্য কতো যে পিটুনি খেতে হয়েছে। কার হাতের পিটুনি নিশ্চয় বুঝে গেছেন।
স্যার একে একে পড়া ধরছেন। না পারলেই কঠোর শাস্তি। পিছের সিটে বসা আমি শুধু আল্লাহকে ডাকছি যে ঘন্টা বাজলেই এ জন্মের মতো বেচে যাবো। টিফিনের ঘন্টা না দিতেই ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে বকুলতলার আড্ডাটা কিন্তু আজও ভুলিনি। পলাশফুল দিয়ে মোরগ সাজাটা কিন্তু বেশ মজার ছিল। বকুলের বিচি দিয়ে বাশি বানানোটাও কিন্তু খারাপ ছিলনা। প্রেমের কড়িটাও এখান থেকেই ফুটেছিল। বন্ধুতে বন্ধুতে রেশারেশি, মারামারি, ঝগড়াঝাটি ভালোই ছিলো দিনগুলো। এভাবেই চলছিলো আমাদের জীবন।
হঠাৎ একদিন ক্লাসে ঢুকতেই দেখি সবার মন খারাপ। সবাই চুপচাপ বসে আছে কেউ স্যারের টেবিলে কেউবা বেঞ্চে। প্রতিদিন যারা এতো হৈচৈ করে তারা আজ চুপচাপ কেন। দুই-এক ধাপ এগোতেই মনে হলো যে আজকে তো আমাদের স্কুলের শেষদিন। কেমন জানি দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। ভালবাসাগুলোর দিকে তাকিয়ে আর ধরে রাখতে পারলামনা চোখের পানি। সবাই সবাইকে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলাম। কেউই আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। মানতে পারছিলামনা যে এই ভাবে স্কুল জীবন শেষ হয়ে যাবে। প্রকৃতির নিয়মটা কেন জানিনা অদ্ভুত মনে হচ্ছিলো। স্কুল জীবন নামক গল্পের শেষের পাতাটা বোধহয় এমনই বেদনাদায়ক হয়।
এভাবেই চলে যায় শত শত ব্যাচ। শুধু থেকে যায় সেই প্রিয় মানুষগুলোর নাম আর দেয়ালে আঁকা দুষ্টামি গুলো। তবে যেখানেই থাকুক যেভাবেই থাকুক ভালো থাকুক প্রিয় ভালবাসার বদমাইশগুলো।
“নাহি যেতে মন চায়,
তবু চলে যেতে হয়” 💕