The light of Quran نور القران কুরআনের আলো

  • Home
  • The light of Quran نور القران কুরআনের আলো

The light of Quran نور القران কুরআনের আলো ❝ A media to spread the peace and beauty of Islam.
কুরআন , হাদীছ এবং সুন্নাতের আলোকে জীবন গড়ার লক্ষ্যে একটি দাওয়াতী মিডিয়া ❞

�ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রদি.) থেকে বর্ণিত ,
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন ;

❝ আমি তোমাদের আলোকিত দ্বীনের উপর রেখে যাচ্ছি, তার রাত তার দিনের মতই (উজ্জ্বল)। আমার পরে নিজেকে ধ্বংসকারীই কেবল এ দ্বীন ছেড়ে বিপথগামী হবে।

তোমাদের মধ্যে যে বেঁচে থাকবে সে অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। অতএব তোমাদের উপর তোমাদের নিকট পরিচিত আমার আদর্শ/সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের আদর্শ/সুন্নাত অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য। তোমরা তা শক্তভাবে দাঁত দিয়ে আকড়ে ধরে থাকবে। তোমরা অবশ্যই আনুগত্য করবে, যদি হাবশী গোলামও (তোমাদের নেতা নিযুক্ত) হয়।

عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) :

"‏ قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لاَ يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلاَّ هَالِكٌ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ

فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَعَلَيْكُمْ بِالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّمَا الْمُؤْمِنُ كَالْجَمَلِ الأَنِفِ حَيْثُمَا قِيدَ انْقَادَ

الراوي : العرباض بن سارية | المحدث : الألباني | المصدر : صحيح ابن ماجه | الصفحة أو الرقم : 41 | خلاصة حكم المحدث : صحيح | التخريج : أخرجه أبو داود (4607)، والترمذي (2676) بنحوه، وابن ماجه (43) واللفظ له، وأحمد (17142) باختلاف يسير.

কেননা মুমিন ব্যাক্তি হচ্ছে নাসারন্ধ্রে লাগাম পরানো (তার রবের) উটতুল্য। লাগাম ধরে যে দিকেই তাকে টানা হয়, সে দিকেই যেতে বাধ্য হয়। ❞

[ সহীহ ইবনে মাজাহ: ৪১ ]

26/05/2026

❝ জিলহজের --- ৯ তারিখ বা আ'রাফার / ইয়াওমে আরাফা দিবসের ( يوم عرفة) তাৎপর্য, গুরুত্ব , এই দিনের মূল আমল ; দুআ , সিয়াম / রোযা রাখার ফযিলত , কবে রোযা রাখবেন , তাকবিরে তাশরিক কখন শুরু করবেন , মোট কত ওয়াক্ত পর্যন্ত!❓❞

▪️ইয়াওমুল আরাফাহ বা
আ'রাফার দিবস( يوم عرفة): -----

ইয়াওমুল আরাফাহ হল একটি পরিভাষিক শব্দ যা দ্বারা মূলত ঈদুল আযহার আগের দিনটি অর্থাৎ, ৯- ই যিলহজ্ব হচ্ছে আরাফার দিবস( يوم عرفة)। পবিত্র কুরআন ও হাদীছের আলোকে এ দিনটি অত্যন্ত ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
_______________________________

আরাফার / আরাফা / আরাফাত -
দিবসের সিয়াম / রোযা / রোজা ও আমল
• জিলহজের প্রথম দশকের আমল
_______________________________

▪️পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:

শপথ ফজরের , শপথ ১০ রজনীর, শপথ জোড় ও বেজোড়ের।

[ সূরা ফজর : আয়াত নং-১-৩ ]

এ আয়াতে জোড় বলতে ঈদুল আজহার দিন আর বেজোড় বলতে আরাফা দিবসকে বুঝানো হয়েছে।
হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত মুহাম্মদ (সা.) জোড় বেজোড়ের এ ব্যাখ্যাই করেছেন

[ তাফসিরে ইবনে কাছীর ও মা'আরিফুল কুরআন ]

▪️➲ আ'রাফার দিবসের ( يوم عرفة) তাৎপর্য, গুরুত্ব:

আরাফার দিন গুনাহ মাফের দিন, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দিন, আরাফাবাসীদের নিয়ে গৌরব করার দিন:

বান্দার গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং ফিরিশতাদের সামনে আল্লাহ্ তাআ'লার গর্ব ❗

▪️ইবনে আব্দুল বির বলেন : এ দিনে মু'মিন বান্দাহ'রা ক্ষমাপ্রাপ্ত হন। কেননা, আল্লাহ্ রাব্বুল আ'লামিন গুনাহগারদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন না। তবে তওবা করার মাধ্যমে ক্ষমা-প্রাপ্তির পরই তা সম্ভব।

▪️আয়িশা (রদি.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন :

عن عائشة رضى الله عنها قالت: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ما من يوم أكثر من أن يعتق الله فيه عبداً من النار من يوم عرفة، وإنه ليدنو ثم يباهي بهم الملائكة، فيقول : ما أراد هؤلاء؟

‘আরাফার দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের এত অধিক সংখ্যক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য দিনে দেন না।তিনি এ দিনে বান্দাদের নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন : ‘তোমরা কি বলতে পার আমার এ বান্দাগণ আমার কাছে কি চায় ?’

[ মুসলিম-১৩৪৮ ]

عن أبي هريرة – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وسلم -: (إن الله يباهي بأهل عرفات أهل السماء فيقول لهم: انظروا إلى عبادي هؤلاء جاءوني شعثاً غبراً) أخرجه ابن خزيمة في صحيحه في كتاب المناسك باب تباهي الله أهل السماء بأهل عرفات 4/263-2839، وصححه ابن حبان في كتاب الحج باب الوقوف بعرفة والمزدلفة والدفع منهما 9/163- 3852، والحاكم في

▪️আবু হুরাইরা (রদি.) থেকে বর্ণিত যে রাসূলে কারীম (ﷺ) বলেছেন :

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরাফাতে অবস্থানকারীদের নিয়ে আসমানের অধিবাসীদের কাছে গর্ব করেন। বলেন : আমার এ সকল বান্দাদের দিকে চেয়ে দেখ ! তারা এলোমেলো কেশ ও ধুলোয় ধূসরিত হয়ে আমার কাছে এসেছে।'

[ সহীহ ইবনে খুজাইমা-4/263, হাদীছ-2839। হাকিম - 9/163, হাদীছ - 3852 । মুসনাদে আহমাদ; -- আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।

عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ الْيَهُودِ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ آيَةٌ فِي كِتَابِكُمْ تَقْرَءُونَهَا لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ الْيَهُودِ نَزَلَتْ لَاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا قَالَ أَيُّ آيَةٍ قَالَ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الْإِسْلَامَ دِينًا فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي لَأَعْلَمُ الْمَكَانَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ وَالْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَرَفَاتٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ” (رواه مسلم كتاب التفسير)

▪️তারিক বিন শিহাব রা: হতে বর্ণিত, এক ইহুদি উমর রা. কে বললো যে, আপনারা এমন একটি আয়াত তিলাওয়াত করে থাকেন যে, যদি সেই আয়াতটি আমাদের উপর নাযিল হতো তাহলে আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করতাম। তিনি বললেন সে আয়াত কোনটি?
লোকটি বলল আয়াতটি হল;

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الْإِسْلَامَ دِينًا
উমর রা. এ কথা শুনে বললেন, আমি অবশ্যই জানি কখন তা অবতীর্ণ হয়েছে, কোথায় তা অবতীর্ণ হয়েছে, আর অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূল স. কোথায় ছিলেন। হ্যা, সেই দিনটি হল জুমুয়ার দিন তিনি সে দিন আরাফার ময়দানে ছিলেন। আল্লাহর শপথ ! আমরা সে দিন আরাফাতের ময়দানে ছিলাম।

[ সূরা মায়িদাহ : ৩ নং আয়াত। বুখারি, নং ৪৬০৬ । رواه مسلم - كتاب التفسير ]

▪️➲ আরাফা দিবসের মূল আমল; -- “ সিয়াম, অধিক পরিমাণে যিকির ও দু'আ ” এর ফযিলত, এই সিয়ামটি কখন কারা রাখবেন :

🔹▪️ সিয়াম/ রোজা:

আরাফার রোজা/ সিয়াম পেছনে ও সামনের এক বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারা ❗

আবু কাতাদাহ (রদি.) থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আরাফাহ দিবসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,

عن أبي قتادة رضى الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم عرفة فقال : (يكفر السنة الماضية والباقية) [ رواه مسلم- ١١٦٢ ]

“আরাফার দিনের রোযা বিগত ও সামনের এক বছরের গুনাহ সমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ।”

[ সহীহ মুসলিম- ১১৬২। জামে তিরমিযী-৭৪৯। সুনানে আবু দাউদ- ২৪২৫ ]

▪️ মনে রাখতে হবে আরাফার দিনে সওম তারাই রাখবেন যারা হজ পালনরত নন।

▪️ যারা হজ করছেন তারা আরাফার দিবসে সওম পালন করবেন না।

▪️➲ কবে সিয়াম পালন ও তাকবিরে তাশরিক শুরু করবেন , মোট কত ওয়াক্ত পর্যন্ত !!❓

প্রকাশ থাকে যে, হাদীছে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজের ( ৯ ) - নয় তারিখ উদ্দেশ্য ( ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী )

• এই মতটিই অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের মত ।

• ইসলাম সার্বজনীন যুগের ধর্ম । নিশ্চই সাহাবা কিরাম (রদি.) গণ এই ভাবেই আমল করতেন কারণ তারা চাঁদ সূর্যের উদয় অস্তের হিসাবেই তারিখ হিসাব করতেন আর তখন এমন প্রযুক্তিও ছিল না ।

• কারন রোযা রাখার হুকুম চাঁদ , সূর্যের উদয় অস্তের উপর নির্ধারিত সময় অনুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন ভূ-খন্ডে বিভিন্ন সময়ের তারতম্যের উপর হয়ে থাকে ।

• প্রযুক্তির কল্যাণে আরাফার দিন বা ঐ দিবসের কর্মসূচি আগে জানা গেলেও কিন্তু দিন - রাতের হিসাব পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী তারিখ ও ভিন্ন ভিন্ন হয় ।

• অন্যান্য ইসলামী মৌলিক আমলসমূহ চাঁদ সূর্যের উদয় অস্তের উপর নির্ভর করে একই মূলনীতি অনুযায়ী পালিত হয় ; জুমার দিন , আ'শুরার দিন , ঈ'দের দিন প্রভৃতি দিবস ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী তারিখের হ্রাস - বৃদ্ধি অনুসারে পালিত হয় যা পরিপূর্ণ সঠিক পদ্ধতি।

আরাফার দিনের দুটি বিশেষ আমল আছে৷ একটি হলো, আরাফার দিনে রোজা রাখা৷ আমাদের দেশের কেউ কেউ সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে আরাফার রোজা রাখার কথা বলেন৷

🔸◉ তাকবিরে তাশরিক:

আরাফার দিনের আরেকটি বিশেষ আমল আছে৷ সেটা হলো, আরাফার দিনের ফজরের নামাজ থেকে রাসুল সা. তাকবিরে তাশরিক পড়তেন৷

• আলী (রদি.) বর্ণনা করেন: রাসূল (ﷺ)

أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ يَوْمَ عَرَفَةَ، إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ»

আরাফার দিনের ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু করে তাকবিরে তাশরিকের শেষ দিনের আ'সর পর্যন্ত তাকবির পড়তেন৷ ”

[ মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ: ৫৬৩২ ]

• যারা সৌদির সাথে মিলিয়ে আরাফার রোজা রাখার কথা বলেন, তারা কিন্তু সৌদির সাথে মিলিয়ে আরাফার দিন হিসেবে তাকবিরে তাশরিক শুরু করেন না!

• তাকবিরে তাশরিকের ক্ষেত্রে আরাফার দিন বাংলাদেশের - ৯ তারিখ , রোজার ক্ষেত্রে আরাফা বাংলাদেশের - ৮ তারিখ!
ম*ন*গ*ড়া ইজতেহাদ ত্যাগ করে বাংলাদেশের - ৯ তারিখ রোজা রাখাই অধিকতর বিশুদ্ধ মত ।

••◉ বিস্তারিত দেখুন 👇

https://www.facebook.com/121336261900686/posts/651113028923004/

▪️আবার অনেক আলেমগণ এই দিবস - বলতে :

• হাদীছ থেকে আরাফাহ দিবসের অর্থ হিসেবে যেই দিন সৌদিতে হাজীগণ আরাফার ময়দানে থাকেন সেই দিনকেই বুঝিয়েছেন

• এই মত অনুসারে সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী আরাফাহ'র দিন অর্থাৎ বাংলাদেশের - ৮ ই জিলহজ তারিখে রোযা পালন করতে বলেছেন।

• তাই সম্ভব হলে ১ - ৯ জিলহজের সবগুলো রোজা রাখাই উত্তম অথবা ৮ , ৯ তারিখের রোজা রাখলেও ইন শা আল্লাহ্ আরাফাহ'র রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে।

▪️ এই তারিখের পারিভাষিক নাম হচ্ছে ইয়াওমে আরাফা। কেননা এই রোযা আরাফার ময়দানের আমল নয় বরং আরাফার দিন তো হাজ্বীদের জন্য রোযা না রাখাই হুকুম।

▪️যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ، " أَنَّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ، فِي صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ صَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ بِصَائِمٍ، فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ، وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ، فَشَرِبَهُ "

▪️উম্মুল ফযল বিনতে হারেছ (রদি.) বলেন, তার নিকট কতক লোক ইয়াওমে আরাফায় রাসূল (ﷺ) এঁর রোযার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছিল। কেউ কেউ বলছিল তিনি রোযা আছেন। আর কেউ কেউ বলছিল তিনি রোযা নেই। উম্মুল ফযল একটি পেয়ালাতে দুধ পাঠালেন। নবীজী (ﷺ) তখন উটের উপর ছিলেন। তিনি দুধ পান করলেন।

[ সহীহ মুসলিম- ১১২৩ ]

▪️আরাফার দিন আল্লাহর রাসূল রোযা রাখেননি। একারণে ফিকহবিদগণ হাজ্বীদের জন্য আরাফার দিন রোযা না রাখা উত্তম বলেছেন। আবু কাতাদা রা. -এর উক্ত হাদীস দ্বারা ইয়াওমে আরাফায় রোযা রাখা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। সুতরাং বুঝা গেল আবু কাতাদাহ রা.-এর হাদীসে ‘ইয়াওমে আরাফা’ দ্বারা নয় যিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের আগের দিনই উদ্দেশ্য। সুতরাং আমাদের দেশের চাঁদের হিসেবে যেদিন নয় তারিখ হয় সে দিনই ইয়াওমে আরাফা হিসেবে রোযা রাখা মুস্তাহাব হবে। সৌদীর হিসাবে আরাফার দিন অনুযায়ী নয়।

▪️আরাফার দিনে হজ পালনরত ব্যক্তি রাসূলে কারীম (ﷺ) এঁর আদর্শ অনুসরণ করেই ঐ দিনের সওম পরিত্যাগ করবেন। যেন তিনি আরাফাতে অবস্থানকালীন সময়ে বেশি বেশি করে জিকির, দোয়াসহ অন্যান্য আমলে তৎপর থাকতে পারেন।

▪️আর এদিনে শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোকে সকল হারাম ও অপছন্দনীয় কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

▪️ইবনে আব্বাস (রদি.)থেকে বর্ণিত হাদিছে এসেছে যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন;

“ এ দিনে যে ব্যক্তি নিজ কান ও চোখের নিয়ন্ত্রণ করবে তাকে ক্ষমা করা হবে। ”

[আহমদ ও হাকেম, হাদিসটি সহিহ]

▪️➲ “ অধিক পরিমাণে যিকির ও দুয়া' করা: ---

▪️সবচেয়ে উত্তম দুয়া' হল আরাফাহ দিবসের দুয়া'

নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন :—

خير الدعاء دعاء يوم عرفة ، وخير ما قلت أنا والنبيون من قبلي : لَا إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ .
[ رواه الترمذي- ٢٨٣٧ ]

‘সবচেয়ে উত্তম দুয়া' হল আরাফাহ দিবসের দুয়া'। আর সর্বশ্রেষ্ঠ কথা যা আমি বলি ও নবীগণ বলেছেন,

তাহল : (লা--- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর )

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোন মাবুদ নেই। তিনি একক তার কোন শরিক নেই। রাজত্ব তারই আর সকল প্রশংসা তারই প্রাপ্য, এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।’

[ তিরমিযী - ২৮৩৭ ]

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্দুল বার বলেন : ‘এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আরাফা দিবসের দুয়া' নিশ্চিতভাবে কবুল হবে আর সর্বোত্তম জিকির হল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।'

[ আত-তামহীদ : ইবনে আবদুল বার ]

▪️ দুয়া'র বিশেষ কিছু আদব ও কায়দা-কানুন আছে যেগুলোর অনুসরণ করে দুয়া' করলে, দুয়া' কবুলে সহায়ক ইন শা আল্লাহ্।।

🔸 দুআ কবুল হওয়ার পদ্ধতি ও আদব সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন .....👇

https://www.facebook.com/121336261900686/posts/659244028109904/

🔹🔸 “ আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে আরাফার দিবস সহ যিলহজের প্রথম দশকের পরিপূর্ণ ফজিলত, বারাকাত লাভ করার তাওফীক দান করুন। বেশি বেশি নেক আমল, যিকির-আযকার ও সিয়াম পালন করার তাওফীক দান করুন। দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদেরকে কামিয়াব করুন।
🤲......... আমীন।।

❝ দেশে , বিদেশে অবস্থানরত -  #সবাইকে_ঈদের_শুভেচ্ছা....❣️ “ তাকাব্বাল আল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম ”একে অপরকে শুভেচ্ছা জানা...
20/03/2026

❝ দেশে , বিদেশে অবস্থানরত - #সবাইকে_ঈদের_শুভেচ্ছা....❣️
“ তাকাব্বাল আল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম ”

একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো, অভিবাদন করা মানুষের সুন্দর চরিত্রের একটি দিক। এতে খারাপ কিছু নেই। বরং এর মাধ্যমে একে অপরের জন্য কল্যাণ কামনা ও দোয়া করা যায়। পরস্পরের মাঝে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়। ❞
____________________________________________

• ঈদ (الْعِيدَ) এর শুভেচ্ছা বিনিময় , আনন্দ উদযাপন , তাৎপর্য ও সূচনা❗
•ঈদের রাতে কী কোন ঈ'বাদত নেই ❗
•ঈদের নামাযের হুকুম, নামাযের পূর্বে করণীয় ❗
•ঈদের দিনের খাবার ও তাকবীর বিষয়ে রাসূল (ﷺ) এঁর সুন্নাত কী❓
• নারীদের কী ঈদের সালাতে যাওয়া জায়িয আছে ❓
____________________________________________

🎯... শুভেচ্ছা বিনিময়!?

ঈদ উপলক্ষে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। যেমন:

[ক] হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেছেন: ‘যুবাইর ইবনে নফী (রদি.) থেকে সঠিক সূত্রে বর্ণিত, রাসূলে করীম (ﷺ) -এর সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ
‘আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও আপনার ভাল কাজগুলো কবুল করুন।’

[ বায়হাকী (২/৩১৯)-সনদ হাসান। ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (২/৫১৭) ]

[খ] ঈদ মুবারক বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

[গ] প্রতি বছরই আপনারা ভাল থাকুন:—
كُلُّ عَامٍ وَأَنْتُمْ بِخَيْرٍ
—বলা যায়।

এ ধরনের সকল মার্জিত বাক্যের দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। তবে প্রথমে উল্লেখিত বাক্য—

تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ

—দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করা উত্তম। কারণ সাহাবায়ে কিরাম (রদি.) এ বাক্য ব্যবহার করতেন ও এতে পরস্পরের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া রয়েছে। আর যদি কেউ সব বাক্যগুলো দ্বারা শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চায় তাতে অসুবিধা নেই। যেমন ঈদের দিন দেখা হলে বলবে—

تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ ، كُلُّ عَامٍ وَأَنْتُمْ بِخَيْرٍ، عِيْدُكَ مُبَارَكٌ

‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার ও আপনার সৎ কর্মসমূহ কবুল করুন। সারা বছরই আপনারা সুখে থাকুন। আপনাকে বরকতময় ঈদের শুভেচ্ছা।’

হজরত জুবাইর ইবনে নুফাইর (রদি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ)-এর সাহাবিরা ঈদের দিন একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।’ অর্থ হলো— আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।
[ বায়হাকী (২/৩১৯)-সনদ হাসান।ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (২/৫১৭) ]

🔸 🔹 এছাড়াও এই দিনে শরিয়াতের ভিতরে থেকে কিছু আনন্দ উদযাপন, আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়া,পর্দা রক্ষা করে পরিবারকে নিয়ে কোন স্থল ভ্রমণ বা নৌ-ভ্রমণে যাওয়া, সুন্দর সুন্দর স্থানগুলো পরিদর্শন করা বা এমন কোন স্থানে যাওয়া, বৈধ খেলাধুলা ‑ এসবে কোন আপত্তি নেই। অনুরূপভাবে মিউজিকমুক্ত নাশিদ শুনতেও বাধা নেই।

• পরিমিত পরিমাণে আহার করবেন, ঈদের আনন্দ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব, অসহায়দের সাথে ভাগাভাগি করে নিন।

• সবাই সবার জন্য বেশি বেশি দুয়া' করবেন।

🎯 .... ঈদ (الْعِيدَ) তাৎপর্য !

ঈদ অর্থ আনন্দ। এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘বারবার ফিরে আসা’ (عَادَ-يَعُوْدُ-عِيْدًا) এ দিনটি বারবার ফিরে আসে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঈদ। আল্লাহ তা‘আলা এদিনে তার বান্দাকে নি‘আমাত অনুগ্রহ ও পুরস্কার দ্বারা বারবার ধন্য করে থাকেন, বারবার ইহসান করেন। রমযানের পানাহার নিষিদ্ধ করার পর আবার পানাহারের আদেশ প্রদান করেন।
ফিতরা প্রদান ও গ্রহণ, হজ পালন ও কুরবানীর গোশত ভক্ষণ ইত্যাদি নি‘আমাত বছর ঘুরিয়ে তিনি বারবার বান্দাদেরকে ফিরিয়ে দেন। এতে মানুষের প্রাণে আনন্দের সঞ্চার হয়। এসব কারণে এ দিবসের নামকরণ হয়েছে ঈদ।

🎯.. সূচনা!?

প্রথম হিজরীতেই ঈদ শুরু হয়। নাবী (ﷺ) এঁর আগের নাবী (আ.) দের সময় ঈদের প্রচলন ছিল না।
ঈদের প্রচলন কীভাবে শুরু হয়?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কা থেকে মাদ্বীনায় হিজরত করলেন তখন মাদ্বীনাবাসীদের মধ্যে বিশেষ দু’টি দিবস ছিল, সে দিবসে তারা খেলাধুলা ও আনন্দ উৎসব করত।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন এ দু’টি দিনের তাৎপর্য কী? মাদ্বীনাবাসীরা উত্তর দিল আমরা জাহেলী যুগ থেকে এ দু’দিনে খেলাধুলা (আনন্দ -উৎসব) করে আসছি। তখন রাসূলে করীম (ﷺ) বললেন,

قَدْ أَبْدَلَكُمُ اللهُ خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمُ الأَضَحٰى وَيَوْمُ الْفِطْرِ

আল্লাহ্ রব্বুল ‘আলামীন এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দু’টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হল : ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর। [ আবূ দাউদ : ১১৩৪; নাসাঈ : ১৫৫৬ ]

🎯... ঈদের রাতে কি কোন ইবাদত নেই?

ঈদের রাত শুধু আনন্দ-উৎসবের রাতই নয় বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও সেতুবন্ধনের রাতও এটি। ঈদের রাতের ইবাদাত-বন্দেগির ফজিলত, গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক। এ ব্যাপারে হাদিসের অনেকগুলো বর্ণনা রয়েছে। সুতরাং এ রাতটিকে অবহেলায়,হারাম ও গুনাহের কাজে; অশ্লীলতায়, গাণ-বাজনায়, মেহেদি উৎসব ও সাজ-সজ্জায় ব্যস্ত না রেখে তিলাওয়াত সালাত,ঈবাদাত - বন্দেগীর মাধ্যমে কাটানো মুসলিম উম্মাহর ঈমানের দাবি।

ঈদের রজনীতে ইবাদত করার ফযিলত

▪️হযরত আবূ উমামা (রদি.) রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন ;

سنن ابن ماجه ت الأرنؤوط (2/ 658)
1782 – حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمَرَّارُ بْنُ حَمُّويَهَ، حَدّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، قَالَ:”مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ”

যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাতে (সাওয়াবের নিয়তে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐ দিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের দিবশে তার কোন ভয় থাকবে না)।

[ ইবনে মাজাহ -২/৬৫৮, হাদীস-১৭৮২ , বিভিন্ন সূত্রে হাদীছ টি বর্ণিত হয়েছে --- সনদ জয়ীফ হলেও ( আমল যোগ্য) ]

🎯... ঈদের সালাতের হুকুম, কোথায় আদায় করা সুন্নাত?

ঈদের নামায দুই রাকাত। ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন, ঈদের সালাত প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একই মত পোষণ করেন।

এতে আযান-ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব। ঈদের নামাজ ময়দানে পড়া উত্তম। তবে মক্কাবাসীর জন্য মসজিদে হারামে উত্তম। শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে।

[ বুখারি : ১/১৩১, ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৫, ১/৫৫৭, আল মুহাজ্জাব : ১/৩৮৮ ]

• ঈদের সালাত ঈদগাহে/ মাঠে আদায় করা সুন্নাত, তবে ঈদগাহ মাঠ সংকুলান না হলে মসজিদে ও আদায় করা যায়।

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ‘ছানা’র পর তিন তাকবির।
দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে তিন তাকবির। এ তাকবিরগুলো বলার সময় ইমাম-মুকতাদি সবাইকে হাত উঠাতে হবে।

তৃতীয় তাকবির ছাড়া প্রত্যেক তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি এ তাকবিরগুলো না পায়, তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে।

কারো পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে। কেরাতের আগে আদায় করারও সুযোগ রয়েছে।

নামাজ শেষে খুৎবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব।
[ ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৯, ৫৬০ ]

• কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

• পরিশেষে যদি নামাজ ছুটেই যায়, তাহলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত এশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না।
[ ফাতাওয়া শামি : ১/৫৬১ ]

🎯 ... ঈদের সালাতের আগে আমাদের করণীয় কী কী?

• নিম্নবর্ণিত কাজগুলো করা সুন্নাত/মুস্তাহাব-

(অবশ্যই আগে ফজরের সালাত আদায় করতে হবে)

১. মিসওয়াক করা,গোসল করা, নতুন বা পরিষ্কার/উত্তম পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি (আতর) ব্যাবহার করা, মুস্তাহাব।

২. ঈদুল আযহার দিন না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া আর ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে ঈদের সালাতে যাওয়া সুন্নাত। তাছাড়া ঈদুল আযহার সালাত শেষে কুরবানীর গোশত দিয়ে খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত।

৩. ঈদগাহে পায়ে হেটে যাওয়া মুস্তাহাব। আর সম্ভব একপথে যাবে এবং ভিন্ন পথ দিয়ে আবার পায়ে হেটে আসবে । এটাই আসা সুন্নাত। [ সহীহ বুখারী- ৯৮৬ ]

৪. তাকবীর (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পড়া এবং তা বেশি বেশি পড়া সুন্নাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত তাকবীর দিতে দিতে যেতেন।

৫. ঈদের দিন চেহারায় খুশির ভাব প্রকাশ করা ও কারো সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে কথা বলা মুস্তাহাব।

৬. আনন্দ-অভিবাদন বিনিময় করা মুস্তাহাব।

[ ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৬, ৫৫৭, ৫৫৮, হেদায়া : ২/৭১, বুখারি : ১/১৩০, ইবনে মাজাহ : ৯২ ]

*** উল্লেখ্য যে, ফজরের সালাতের পর ঈদের সালাতের পূর্বে এবং পর অন্য কোন নফল সালাত নেই❗

ঈদের নামাযের পূর্বে কোথাও কোনো ধরনের নফল নামায না পড়া এবং নামাযের পর ঈদগাহেও না পড়া। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামায পড়েছেন, কিন্তু এর আগে বা পরে কোনো নামায পড়েননি।
[ সহীহ বুখারী- ৯৬৪ ]

• ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেছেন, ঈদুল ফিতরের তাকবীর শুরু করবে ঈদের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকেই।

🎯... ঈদের দিন খাবার গ্রহণ বিষয়ে রাসূল (ﷺ)’র সুন্নাত কী ছিল?

১. নাবী (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে ঘরে থেকে বের হতেন না। আর ঈদুল আযহার দিন ঈদের সালাত আদায় না করে কোন কিছু খেতেন না।[ জামে তিরমিযী ১/৭১, হাদীস ৫৪২ ]

হযরত বুরাইদা (রদি.) বলেন,

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يخرج يوم الفطر حتى يطعم وكان لا يأكل يوم النَّحْرِ شيأ حتى يرجع، فيأكل من أضحيته.

নবী কারীম (ﷺ) ঈদুল ফিতরের জন্য না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আযহাতে নামাযের থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। এরপর প্রথমে কুরবানীর গোস্ত খেতেন।

[ মুসনাদে আহমদ- ২২৯৮। সুনানে দারাকুতনী ১/৪৫, হাদীস ১৭১৫। মেরকাত ৩/৪৯২। মাআরিফুস সুনান ৪/৪৫১।শরহে মুনয়া ৫৬৬। রদ্দুল মুহতার ২/১৭৬। ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২১১। বাদায়েউস সানায়ে ১/৬২৪ ]

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ -صلى الله عليه وسلم- لاَ يَغْدُوْ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّٰى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ

২. ঈদুল ফিতরের দিন রাসূল (ﷺ) খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে রওয়ানা হতেন না। আনাস বলেন, আর খেজুর খেতেন বেজোড় সংখ্যায় (অর্থাৎ তিনটি, পাঁচটি বা সাতটি এভাবে)।

[ বুখারী : ৯৫৩ ]

🔸ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরের এই কয়টি দিন হলেও অন্তত গরীব দুঃখী,অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন, তাদেরকে ও ঈদের শুভেচ্ছা জানান, ঈদের দিন টি যাতে ভালো কাটে সেই জন্য; সাধ্যানুযায়ী অর্থ,খাবার, পোষাক, কুরবানীর গোশত প্রভৃতি দিয়ে আপনার ভালোবাসার হাতটি বাড়িয়ে দিন।

🎯... ঈদের দিন রাসূল (ﷺ) যে তাকবীর পড়তে পড়তে যেতেন সেটি কোন তাকবীর?
তাকবীরটি হলো-

اَللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ اَللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَللهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

অর্থ : আল্লাহ মহান, আল্লাহ অতিমহান, তিনি ছাড়া সত্যিকার আর কোন মা‘বুদ নেই। আল্লাহ মহান আল্লাহ মহান আর সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁরই জন্য।

🎯.. মেয়েদের কি ঈদের সালাতে যাওয়া জায়েয আছে❓

এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এর দুইটি মত রয়েছে;

🔹 (১ম মত)•
যে সকল উলামায়ে কেরাম বর্তমান যুগের ফিতনা, মেয়েদের নিরাপত্তা জন্য মত প্রকাশ করেছেন তাদের দলিল হল: ---

ঈদুল আযহার নামায প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের উপর ওয়াজিব। মেয়েদের উপর ওয়াজিব নয়। মেয়েরা ঈদের নামাযের জন্য ইদগাহে যাবে না। তেমনিভাবে নিজ গৃহে নিজেরা জামাত করেও পড়বে না।

عن نافع عن ابن عمر أنه كان لا يخرج نسائه في العيدين.

অর্থাৎ নাফে রাহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁর নারীদেরকে দুই ঈদে ঈদগাহে যেতে দিতেন না।

[ আল আওসাত ৪/৩০১ ]

অন্য বর্ণনায় এসেছে,

عن عروة عن أبيه أنه كان لا يدع امرأة من أهله تخرج إلى فطر ولا إلى أضحى.

উরওয়া তার পিতা (যুবাইর রদি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজ পরিবারের নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ইদুল আযহাতে যেতে দিতেন না। [ মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬ ]

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল আলআনসারী রাহ. (১৪৩ হি.) বলেন,

لا نعرف خروج المرأة الشابة عندنا في العيدين

অর্থাৎ, আমাদের সময়ে দুই ঈদের জন্য যুবতী নারীদের বের হওয়ার প্রচলন ছিল না।

[ আল আওসাত ৪/৩০২; উমদাতুল কারী ৩/৩০৫ ]

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,
يكره خروج النساء في العيدين.

উভয় ঈদে মহিলাদের (নামাযের জন্য) বাইরে যাওয়া মাকরূহ।

[ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/২৩৪ ]

দেখুন : কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা ১/২০১; কিতাবুল আছার ২৪৭; হেদায়া ১/১২৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৬৬; মাসাইলুল ইমাম আহমদ ১১৫; আল মুদাওওয়ানা ১/১৫৫; শরহুল মুহাযযাব ৫/১৩ ]

🔸 (২য় মত)•
যেই সকল উলামায়ে কিরাম এটাকে জরুরী বলেছেন। তারা বলেন হ্যাঁ অবশ্যই যাবে।

তাঁদের মতের পক্ষে দলিল এবং অভিমত: ---

পাঁচওয়াক্ত সালাত ও জুমু‘আর জামাতে শরীক হওয়ার জন্য মেয়েদেরকে নাবী (ﷺ) অনুমতি দিয়েছেন। আর ঈদের সালাতের যাওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসে আছে যে,

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ نُخْرِجَ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى الْعَوَائِقَ وَالْحَيْضَ وَذَوَاتِ الْخُدُرِ فَأَمَّا الْحَيْض فَيَعْتَزِلن الصَّلاَةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةِ الْمُسْلِمِيْنَু قَالَتْ يَارَسُوْلَ اللهِ إِحْدَانَا لاَ يَكُوْنُ لَهَا حِلْبَابَ قَالَ لتلبسَهَا أُخْتِهَا

‘‘উম্মে আতীয়াহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহিনীসহ সকল মহিলাকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাতে শরীক হওয়ার জন্য ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাই। এমনকি মাসিক হায়েয চলাকালীন মেয়েরাও (ঈদগাহে হাজির হবে। তবে তারা) সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু ঈদের কল্যাণকর অবস্থা তারা প্রত্যক্ষ করবে এবং মুসলিমদের সাথে দু‘আয় ঋতুবতী মহিলারাও শরীক হবে।

উম্মে আতীয়াহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমাদের মধ্যে কারো কারো উড়না নেই (বড় চাদর নাই যা পরিধান করে ঈদগাহে যেতে পারে)। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার ওড়না নেই সে তার অন্য বোন থেকে (ধার করে) ওড়না নিয়ে তা পরিধান করে ঈদগাহে যাবে।

[ মুসলিম : ৮৯০ ]

মেয়েরা ঈদের সালাতে গেলে পথিমধ্যে তাকবীর বলা, সালাতে শরীক হওয়া, বয়ান ও ওয়াজ নসীহত শোনার সৌভাগ্য তাদের হয়ে থাকে। কাজেই ক্ষতির যে আশংকা করা হয় এর চেয়ে তাদের উপকারের দিকই বেশি।

তাই সম্মানিত ঈদগাহ কর্তৃপক্ষের উচিৎ তারা যেন মেয়েদের জন্য পৃথক প্যান্ডেল তৈরীকরে দেন আর মেয়েরাও যেন সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দা করে অত্যন্ত শালীনভাবে পথ চলেন, ঈদগাহে যাওয়া আসা করেন। কাউকে ডিস্টার্ব না করেন।

# উল্লেখ্য যে , অনেক উলামায়ে কিরাম বলেন যে ঐ সময় মুসলমানদের সংখ্যাধিক্যতা প্রকাশ করার জন্য এই হুকুম ছিল ।

🔸🔹 “ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে যিলহজ্বের প্রথম দশকের পরিপূর্ণ ফজিলত হাসিল করার তাওফীক দান করুন, ইসলামের সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করার এবং গুনাহের কাজ বর্জনের তাওফীক দান করুন । বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফীক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদেরকে কামিয়াব করুন।”
🙏....... আমীন।।

❝ একদল অজ্ঞতার কারণে ' বিদআত ' - বলতে বলতে সহীহ হাদীস আর আমল কে অস্বীকার করে ঈমান নষ্ট করছে , আরেক দল ইসলামের নামে - মনগ...
14/03/2026

❝ একদল অজ্ঞতার কারণে ' বিদআত ' - বলতে বলতে সহীহ হাদীস আর আমল কে অস্বীকার করে ঈমান নষ্ট করছে , আরেক দল ইসলামের নামে - মনগড়া আমল আক্বিদা পালন করে, কবর পূজা, শিরক - বিদআত করে , বিদআতের বিরোধীতা করা হক্কানী আলেমদের বদনাম করে, কৃত বিদআত কে বৈধতা দেয়ার জন্য জাহান্নামের রাস্তা খুঁজছে..!!!! ❞

• অথচ ইসলামে কোন বৈধ বিষয়ে যেমন বাড়াবাড়ি নেই আবার ছাড়াছাড়ি ও নেই, ইসলামে সব সময় ঝামেলা এড়াতে - নির্ভেজাল মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে নির্দেশ করা হয়েছে।

🔹 সাহাবিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আলফিহরী (রদি.) , যিনি বড় ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ’ ছিলেন, একবার তাকে একটি বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করা হয়।

- তিনি যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রস্ত্ততি সমাপ্ত করার পর যখন যুদ্ধের সময় নিকটবর্তী হল তখন সহযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বললেন:

عَنْ حَبِيبِ بن مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيُّ وَكَانَ مُسْتَجَابًا أَنَّهُ أُمِّرَ عَلَى جَيْشٍ فَدَرَّبَ الدُّرُوبَ، فَلَمَّا لَقِيَ الْعَدُوَّ، قَالَ لِلنَّاسِ : سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ :

لا يجتَمعُ ملأٌ فيدعو بَعضُهُم ويؤمِّنُ بعضُهُم إلَّا أجابَهُمُ اللَّهُ

ثُمَّ إِنَّهُ حَمِدَ الله وَأَثْنَى عَلَيْهِ، فَقَالَ : اللّهُمَّ احْقِنْ دِمَاءَنَا وَاجْعَلْ أُجُورَنَا أُجُورَ الشُّهَدَاءِ، فَبَيْنَمَا عَلَى ذَلِكَ إِذْ نَزَلَ الْهِنْبَاطُ أَمِيرُ الْعَدُوِّ،فَدَخَلَ عَلَى حَبِيبٍ سُرَادِقَهُ.

رواه الطبراني في الكبير والحكم في المستدرك، والراوي عن ابن لهيعة أبو عبد الرحمن المقري، وهو أحد العبادلة
الذين تعدروايتهم عن ابن لهيعة صحيحة.

خلاصة حكم المحدث : [إسناده صحيح أو حسن أو ما قاربهما]

الراوي : حبيب بن مسلمة الفهري | المحدث : المنذري | المصدر : الترغيب والترهيب الصفحة أو الرقم : 1/240
التخريج : أخرجه الطبراني (4/22) (3536)، والحاكم (5478)، والبيهقي في ((دلائل النبوة)) (7/113) مطولاً

‘ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কিছু মানুষ যখন কোথাও একত্র হয়ে এভাবে দুআ করে যে, একজন দুআ করে এবং অন্যরা আমীন বলে, তো আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের দুআ কবুল করেন।’

[ তারগীব -তারহীব: ১/২৪০, ত্ববারানি : ৪/২২ , ৩৫৩৬ ]
( হাদীসের সনদ - সহীহ , হাসান )

🔸 এই হাদীস বয়ান করে তিনি আল্লাহ তাআলার হামদ ও ছানা করলেন এবং দুআ করতে আরম্ভ করলেন। তাঁর দুআর একটি অংশ এই ছিল-

اللّهُمَّ احْقِنْ دِمَاءَنَا وَاجْعَلْ أُجُورَنَا أُجُورَ الشُّهَدَاءِ

‘ইয়া আল্লাহ, আমাদের প্রাণ রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে শহীদদের সমতুল্য ছওয়াব দান করুন।’

তাঁরা সবাই দুআতেই মশগুলে ছিলেন ইতোমধ্যে রোমক বাহিনীর সেনাপতি (অস্ত্র ত্যাগ করে) হাবীব ইবনে মাসলামা রা-এর তাবুতে এসে উপস্থিত হল।

[ মুজামে কাবীর, তাবরানী: ৪/২৬; মুসতাদরাকে হাকেম: ৩/৩৪৭ ]

🔸 রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন;
‘দুয়া'ই ইবাদতের মগজ। ’ [তিরমিজি: ৩২৯৩]

তিনি আরো বলেছেন;
الدعاء هو العباده
‘দুয়া'ই ইবাদত। ’ [তিরমিজি: ৩৩৭০]

• আল্লাহ্ তা'আলা বলেন ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’
[ সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০ ]

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তাআ'লার কাছে দুয়া' করে না তিনি তাঁর ওপর রাগান্বিত হন।’
[ সুনানে তিরমিজি : ৩৩৭৩ ]

🔸 দুআ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন:

https://www.facebook.com/share/p/1KeTuP68JJ/

আল্লাহ্ তা'আলা -- আমাদের কে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি বর্জন করে দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুন এবং দ্বীনী ইলমের সঠিক চর্চা করার ও বেশি বেশি ইলম হাসিল করার তাওফীক দান করুন এবং সকল প্রকার শিরক , বিদআত থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন ।।
আমীন........🤲

The light of Quran نور القران কুরআনের আলো

❝ প্রিয় নবী , আল্লাহ্ তা'য়ালার হাবীব - রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাদীনার জিন্দেগিতে কোনো রমযানে শেষ দশকের ইতিকাফ পরিত্যাগ করেনন...
10/03/2026

❝ প্রিয় নবী , আল্লাহ্ তা'য়ালার হাবীব - রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাদীনার জিন্দেগিতে কোনো রমযানে শেষ দশকের ইতিকাফ পরিত্যাগ করেননি। লাইলাতুল ক্বদর তালাশের নিশ্চিত পদ্ধতি হলো ইতিকাফ। লাইলাতুল ক্বদরের রাতে যে কোন নেক আমল তথা ঈবাদাত করার সওয়াব হল (প্রায়) ৮৪ বছর তথা টানা - ১০০০ মাস সময় পর্যন্ত ঈবাদত করার মতো.. সুবহান আল্লাহ্ ❞❗

সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ, তাবে- তাবেঈ, সলিহীনগণ, আওলিয়ায়ে ইজাম সকলেই ইতিকাফ করেছেন। মনিবের সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক স্থাপনের এ এক অনিন্দ্য সুন্দর মাধ্যম। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন সব কিছু ত্যাগ করে মহান প্রভুর দরজার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে থাকার মতো একান্ত ইবাদতে লিপ্ত থাকার মহা সুযোগ ইতেকাফ। আর তাই রমযানের শেষ দশকে রাসূল (ﷺ) কোমর বেঁধে আমল করার জন্য উঠে পড়ে লাগতেন।

কারন রমযানের শেষ দশকেই রয়েছে ইতেকাফ ও লাইলাতুল ক্বদর কেন্দ্রিক বিশেষ দুইটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদতমুখী আমল❗

________________________
রমাদান সিরিজ : ইতিকাফ ও
লাইলাতুল কদর / ক্বদর
_______________________

🔶▪️ ইতিকাফ / ঈতিকাফ / এতেকাফ:

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ

তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী (ﷺ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি বেশি ঈবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।

[ সহিহ বুখারী: ২০২৪। মুসলিম: ১১৭৪ ]

▪️আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রদি.) হতে বর্ণিত,

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ

তিনি বলেন; আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।
[ সহীহুল বুখারী: ২০২৫ । মুসলিম: ১১৭১ ]

▪️আবু হুরায়রা রা. বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ( ﷺ )সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর ২০ দিন ইতেকাফ করেছিলেন।’

[ বুখারী: ২৬০ ]

🔸➲ • এতেকাফ এ কখন বসবে!?

ইতিকাফকারীর মসজিদে প্রবেশের ব্যাপারে জমহুর আলেম (চার ইমাম আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ি, আহমাদ) এর অভিমত হচ্ছে-

২১ রমযানের রাত শুরু হওয়ার আগে (২০ রমজান মাগরিব এর আগে) সূর্যাস্তের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করবেন। এ মতের পক্ষে তারা নিম্নোক্ত দলিল দেন:

১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি রমযানের শেষ দশরাত্রি ইতিকাফ করতেন।[বুখারি ও মুসলিম]

এ হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি রাত্রিতে ইতিকাফ করতেন; দিনে নয়। কারণ العشر শব্দটি الليالي শব্দের تمييز। আল্লাহ তাআলা বলেন: “দশরাত্রির শপথ”
[সূরা আল-ফজর, আয়াত: ২]

• শেষ দশরাত্রি ২১ তম রাত থেকে শুরু হয়।

➲ উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, ২১ তম রাত্রির সূর্যাস্তের পূর্বেই ইতিকাফ কারী মসজিদে প্রবেশ করবেন।।

🔶▪️ লাইলাতুল কদ্বর:

লাইলাতুল কদ্বরের ফজিলত যাতে করে ছুটে না যায়, সেজন্য প্রিয় নবী (ﷺ ) আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। পূর্ববর্তী উম্মত হাজার বছর হায়াত পেত, শত শত বছর ইবাদত করত, এসমস্ত আলোচনা শুনে সাহাবায়ে কেরাম যখন নিজেদের কম হায়াতের চিন্তায় মগ্ন হলেন, আল্লাহ পাক প্রিয় নবী (ﷺ ) এঁর উসিলাতে তাঁর প্রিয় উম্মতকে লাইলাতুল কদর উপহার দিলেন। আল্লাহ্ তা'য়ালা নিজেই এর ফজিলত বর্ণনা করে কোরআন মাজিদে একটি সূরাই নাজিল করে দিলেন।

▪️ আল্লাহ্ তাআ'লা বলেনঃ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ

আমি একে (কুরআন কে) নাযিল করেছি শবে-কদরে।
[ সুরা ক্বদর ৯৭:১ ]
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ

শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?
[ সুরা ক্বদর ৯৭:২ ]
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ

শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
[ সুরা ক্বদর ৯৭:৩ ]

تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ

এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
[ সুরা ক্বদর ৯৭:৪ ]
سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ

এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। [ সুরা ক্বদর ৯৭:৫ ]

▪️ লাইলাতুল ক্বদর এর তালাশে রমযানের শেষ ১০ দিনে বিশেষ করে বিজোড় রাত্রিসমূহে এই ৪ টি আমল করুন;

১• সালাত: ঈশার পর থেকে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কমপক্ষে ৪ রাকাত সালাত আদায় করুন।

২• বেশি বেশি লাইলাতুল ক্বদরের দুয়া পড়ুন, তাওবাহ , ইস্তিগফার , যিকর করুন ।

৩• বেশি বেশি কুরআনের তিলাওয়াত করুন ।

৪• রমযানের শেষ দশকে বিশেষ করে বিজোড় রাত্রিসমূহে ( ২১, ২৩,২৫,২৭,২৯ ) এবং ঈদের রাতে মাগরিবের পর থেকে রাতের যে কোন সময় বেশি বেশি দান সদাকা করুন ।
( সবার অগোচরে-গোপনে , যাকাত - ফিতরার টাকা উপযুক্ত ব্যাক্তিকে দান করার জন্য এই সু্যোগটি কাজে লাগাতে পারেন )

▪️রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন :

تَحَرُّوْا لَيْلَةُ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

‘‘তোমরা রমাযানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’’

[ বুখারী : ২০১৭ ,২০২০ ]

এ রাত রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرِّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ

‘‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) অন্বেষণ করতে চায়, সে যেন রমাযানের শেষ সাত রাতের মধ্য তা অন্বেষণ করে।’’

[বুখারী: ২০১৫; মুসলিম: ১১৬৫ ]

নবী (ﷺ ) শেষ দশকের একটি রাতকে নির্ধারিত করে লাইলাতুল কদর বলে দেননি; বরং শুধু এ দশকে বেজোড় রাতগুলোর কথা বলেছেন। তাই সকলের উচিত হবে এ দশকের পূরো সময় জুড়েই বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগি করা যাতে এ ফজিলত অর্জন করা সম্ভব হয়।

▪️ লাইলাতুল ক্বদরের রাতে ঈবাদাত করার সওয়াব হল (প্রায়) ৮৪ বছর তথা ১০০০ মাস ধরে ঈবাদত করার মতো সময়... সুবহান আল্লাহ্ ❗

যেমন; ধরুন , এই রাতে কেউ যদি ১ টাকা দান করেন তাহলে কেমন যেন ১০০০ মাস পর্যন্ত দান করার মতো সওয়াব অর্জন করতে পারলেন !!

অর্থাৎ, আপনি এই রাত্রে দান,সদাকা, তিলাওয়াত,যিকির,সালাত যাই করুন না কেন আপনি যেন টানা ১- হাজার মাস পর্যন্ত আমলটি করেই যাচ্ছেন !!

▪️তাই রমযানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিসমূহে জাগ্রত থেকে বেশি বেশি ঈবাদাত বন্দেগী, তাসবীহ-তাহলিল, যিকর, তিলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার,সালাত ও এমন নেক আমল গুলো করার চেষ্টা করুন ।

▪️আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ تَابَعَهُ سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ

“যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় ”।

সুলায়মান ইবনু কাসীর (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

[ সহীহ বুখারী: ২০১৪ । ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৪ ]

▪️আম্মাজান আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ ( ﷺ )
জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি আমি জানতে পারি লাইলাতুল কদর কোনটি, তবে আমি কী আমল করব❓

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বলেছিলেন, তুমি এ দোয়া করো,

( اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ )

উচ্চারণঃ “ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ'ফ্যূউন তুহিব্বুল আ'ফওয়া ফা'ফু আ'ন্নী ”।

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। আমাকে ক্ষমা করে দিন।’
[ তিরমিজী: ৩৫১৩ ]

তাই রহমাত,মাগফিরাত ও নাজাতের এ পবিত্র রমযান মাসের শেষ দশকে আমাদেরকে নতুন উদ্যমে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতে হবে। যে কয়টি দিন অবহেলায় কাটিয়ে দিয়েছি, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, বাকি দিনগুলো সিয়াম-কিয়ামের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল আমলের মাধ্যমে কাটাতে হবে। অন্যান্য নফল আমলের পাশাপাশি বিশেষ করে আমাদেরকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত কামনা করতে হবে।

🔹🔸 “আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা আমাদেরকে রমজান মাসের পরিপূর্ণ ফজিলত ও বরকত ফায়েজ হাসিল করার তৌফিক দান করুন এবং বেশি বেশি যিকির -আযকার, ইবাদত,সলাত, তিলাওয়াত, দুয়া' মোনাজাত, কান্নাকাটির মাধ্যমে আমাদের রমযানকে পরিপূর্ণ করুন আখিরাতে মুক্তি লাভ করার তাওফীক দান করুন, আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের উপর থেকে গজব আজব মহামারী তুলে নেন ,আমাদেরকে ক্ষমা করেন......
🙏........আমীন।।

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The light of Quran نور القران কুরআনের আলো posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to The light of Quran نور القران কুরআনের আলো:

Shortcuts

  • Want your school to be the top-listed School/college?

Share