20/07/2026
আসসালামু আলাইকুম,
সম্প্রতি "ভৈরব সানশাইন স্কুল" এ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা নিয়ে কিছু কুচক্রী মহল উদ্দ্যেশ্য প্রণীত ভাবে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করে বানোয়াট সংবাদ প্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
টিফিন টাইমে সাধারণত যেসকল শিক্ষকের ক্লাস হয় তারা ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষকরা মধাহ্নভোজের জন্য বাড়িতে অবস্থান করে।
ঠিক ঐ সময় চতুর্থ ও অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বংশের ক্ষমতা নিয়ে বাকবিতন্ডায় তা ঝগড়ায় রূপ নেয়। এমতাবস্থায় উপস্থিত ২ জন শিক্ষিকা তাদের শান্ত করতে ব্যর্থ হলে ঘটনাস্থলে থাকা (অনিয়মিত) শিক্ষক তাদের থামাতে গিয়ে কিছু বেত্রাঘাত করে। এবং অসাবধানতাবশত তা ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর গায়ে বেশি জোড়ে আঘাত করে। যা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অগোচরে ই হয়েছে এবং উক্ত শিক্ষার্থী নিজেও বুঝতে পারেনি। যদিও কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিক্ষক আত্ম-অনুতাপে আচ্ছন্ন হয়ে শিক্ষার্থীকে ক্লাসে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়। (ছুটির পর বাড়ি যাওয়ার সময় শিক্ষার্থী দেখতে পায় তার গায়ে দাগ হয়েছে)।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক উক্ত (অনিয়মিত) শিক্ষককে বহিষ্কার করেন। এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ আরও ৩ জন শিক্ষক উক্ত শিক্ষার্থী লিজনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এবং ঐ একই দিন রাতে খণ্ডকালীন শিক্ষকের পিতা নিজে শিক্ষার্থী লিজনের বাবার কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
কিন্তু তাদের দাবী হলো, অভিযুক্ত শিক্ষককে তার বাবার কাছে নিয়ে চলে আসতে হবে এবং তিনি ও তার সন্তান ঐ শিক্ষককে নিজের মতো বিচার করবেন। (যা সম্পূর্ণ ই অযৌক্তিক ও অসম্ভব চাওয়া)
আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে যতটুকু পদক্ষেপ নেওয়ার তা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়েছি, তবুও অভিভাবক পক্ষের এই দাবী কি কোনভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব? একজন মানুষকে কি কারো হাতে তুলে দেওয়া যায়?
পরবর্তীতে ঘটনার দিন-ই বিষয়টি "উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়" কে অবগত করা হয়। এবং তিনি বিষয়টি দুই পক্ষের উপস্থিতিতে মিমাংসার আশ্বাস দেন। এমন চঞ্চল পরিস্থিতিতে একদল কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বানোয়াট ও মিথ্যা ঘটনা লিখতে ব্যস্ত এবং অভিযুক্ত (অনিয়মিত) শিক্ষককে দারোয়ান হিসেবে মিথ্যা প্রচার করেছে।
ছাত্রকে শাসন করাতে গিয়ে একটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনার অপরাধে শিক্ষক যদি এমন হয়রানির শিকার হয় তাহলে কীভাবে আমরা শিক্ষকরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করব? আপনাদের কাছে প্রশ্ন, এভাবেই কি শিক্ষকের বিচার করে আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিব? এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। একজন শিক্ষক কি ভুল করতে পারে না? অপরাধের শাস্তি দিতে গিয়ে যদি শিক্ষক নিজেই আসামী হয়? ক্ষমা চাওয়ার পরেও যদি শিক্ষককে নিয়ে নোংরা অপমানজনক লেখালেখি করা হয় তাহলে এ দেশের সন্তানেরা মানুষ হবে কার হাতে?
কিংবা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হিসেবেও আমাদের আর কী করনীয় থাকতে পারে? এবং একজন শিক্ষককে দারোয়ান হিসেবে প্রচার করার উদ্দ্যেশ্য-ই বা কি?
সচেতন অভিভাবকদের কাছে আমাদের প্রশ্ন!
- ভৈরব সানশাইন স্কুল কর্তৃপক্ষ।