17/07/2024
শহীদ আবু সাইদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। ভাবে নি পুলিশ সত্যি সত্যি তাকে গুলি করবে। কারন সে জানতো তারাও যে তার মত বাংলাতেই কথা বলে, তারাও ভাত আর মাছই পছন্দ করে। সে যেটা জানতো না- জালিমদের কোন মাটি নেই, কোন পরিচয় নেই।
কিন্তু প্রথম গুলিটি সত্যি যখন করা হলো সে কিছুটা হকচকিয়ে গেলো। পা টা সোজা করে রাখতে পারছিলো না। মনে মনে ভাবলো এখান থেকে পালানোর কোন পথ নেই। কারন কাপুরুষ কখনই জয়ী হতে পারে না। বন্ধুরা কি ভাববে? একটা গুলির আঘাতে পালিয়ে এসেছে?
পা টা সোজা করে আবারো বুকটা উচিয়ে দিলো। মনে মনে বললো- কর গুলি। আমার জীবন বন্ধুদের সাহস জোগাবে। তারা বলবে, দেখ আমার বন্ধু কেমন বুক চিতিয়ে বাঘের মত দাঁড়িয়ে ছিলো।
অশিক্ষিত বাবা-মা, বোন ভেবেছিলো, আমাদের আবু সাইদ ফাইভে বৃত্তি পেয়েছে, এইটে বৃত্তি পেয়েছে, এখন ভার্সিটিতে পড়ে। একদিন আমাদের অভাব দূর করবে।
রাত ১০টায় ফেরার কথা ছিলো। মায়ের গায়ের গন্ধ নিয়ে আরো একটি রাত পার করবে সুদিনের আশায়।
১০টা কি বাজে নি?
একি?
মায়ের গায়ে বারুদের গন্ধ কেন?