19/03/2024
মুফতি আলী হাসান উসামা সাজেস্ট করেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে যাকাতের টাকা না দিতে৷ তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম হইলো, জামায়াতের যদিও অনেক ইসলামি অবদান আছে এবং যাকাতের খাতে তারা ব্যয়ও করে, তথাপি যাকাতের খাতের সঠিক ব্যবহার জামায়াতে যাকাতের টাকা দান করার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়৷
আমি মনে করি, জাকাতের ব্যাপারে উসামার বক্তব্য সঠিক৷ শিবিরের সাথে প্রায় দশ বছর সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকার সুবাদে আমি মোটামুটি দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি, এইখানে যাকাতের ফান্ডের সঠিক ব্যবহার হয় না৷ যদিও শিবিরের সংবিধানের ৩৪ বা ৩৬ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, যাকাতের ফান্ডের আয়-ব্যয়ের হিসাব আলাদা থাকবে, কিন্তু আমি আমার সাংগঠনিক জীবনে এমনটা মেইনটেইন করতে দেখি নাই৷ যাকাতের টাকা বায়তুলমালের টাকার সাথে মিলে যায় এবং মোটাদাগে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ খাতে একইসাথে ব্যয় হতে থাকে৷
দায় নিয়েই বলছি, আমার সাংগঠনিক জীবনে আমরা জাকাতের টাকার আমানত খেয়ানত করেছি এবং কোন একটি শাখাকে জাকাতের টাকার হক আদায় করে খাতভিত্তিক আয়-ব্যয় বন্টন দেখি নাই।
আমাদের সময়ে যাকাতের টাকার একটা বড় অংশ ব্যয় হইতো, প্রকাশনার বকেয়া পরিশোধ করতে আর বাকি অংশ যাইতো ঊর্ধ্বতন কোটা পরিশোধে৷ আমরা সারা বছরের বিশেষ কালেকশনের কোটা পরিশোধ করতাম যাকাতের টাকা থেকে৷
এইভাবে যাকাতের টাকা বায়তুল মালের সাথে মিশে যাইতো বলে, যাকাতের টাকাকে আলাদাভাবে ট্রেস করার উপায় আমাদের ছিলো না৷
গত বছরই একজন শিবির নেতা আমার কাছে অনেকটা অনুযোগের সুরেই বললেন, তাদের শাখা থেকে যাকাতের টাকা দিয়ে তারা ট্যুরে গেছেন এবং সাবেক নেতারা সেখানে সস্ত্রীক অংশগ্রহণ করেছেন৷ সেই খরচ মেটাতে যাকাতের ফান্ডের টাকা তারা ব্যবহার করেছেন। এই নিয়া প্রশ্ন তোলায় সংশ্লিষ্ট শাখা সভাপতি, যিনি একজন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য, তিনি কুরআনের আয়াত দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই খাতে যাকাতের টাকা ব্যবহার করা জায়েজ৷
জামায়াতের বেলায় জাকাত ফান্ডের ম্যানেজমেন্ট কেমন আমি জানি না৷ যেহেতু আমি জামায়াতের কেবল ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। কিন্তু শিবিরের ব্যাপারে যাকাতের ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমার ব্যক্তিগত এক্সপেরিয়েন্স ভালো না। ফলে আমি অন্তত শিবিরকে আপনের জাকাতের টাকা-টা না দিতে বলবো। এর বাইরে আপনি বিশেষ দান-খয়রাত, অনুদান ইত্যাদি যা যত খুশি জামায়াত শিবিরকে দান করুন। বাংলাদেশে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে রিলেভ্যান্ট রাখায় তারাই ফ্রন্ট-লাইনার। কিন্তু যাকাতের খাত যেহেতু সুনির্দিষ্ট এবং এইটা ইসলামের পাঁচটা খুঁটির অন্যতম একটা স্তম্ভ; ফলে যাকাতকে তার হক আদায় করেই দেওয়া হচ্ছে কিনা, সেই সতর্কতা জরুরিও৷
ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও মনে করি, জাকাত নিজ হাতে জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে দেওয়াই উত্তম৷ আমাদের সবারই আত্মীয়, প্রতিবেশি এবং চেনা-জানা মানুষদের মধ্যেই যাকাতের হকদার আছে৷ তাদেরকেই আগে বিবেচনায় আনা জরুরি। এরপরে আপনার নিজ গ্রামের এতিমখানায় খোঁজ নিতে পারেন। সম্ভব হলে নিজ হাতে সেখানে দান করুন৷ ঢাকার বা বিভাগীয় শহরের বড় বড় হুজুরদের মারকাজে আপনার ব্যক্তিগত যাকাতের টাকা দান করা থেকে বিরত থাকুন৷ নিজ লোকালয়ে, গ্রামের ছোট ছোট মাদ্রাসাগুলার দিকে নজর দেন। কারণ বড় হুজুরদের বিরাট কারবার আছে, বড় দাইন দান-সদকা ও যাকাত আদায় করার স্কোপ আছে, কিন্তু গ্রামের ছোট ছোট মাদ্রাসা, এতিমখানাগুলো বঞ্চিত হচ্ছে৷
আর হ্যাঁ, জামায়াতের বড় বড় নেতাদের নির্বাচনী ফান্ডে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনার যাকাতের টাকা দিয়েন না৷ যাকাতের টাকার সবচেয়ে বেশি মিসম্যানেজমেন্ট হয় এই ফান্ড থেইকা৷
আপাতত এতোটুকুই৷ যদি ভুল কিছু বলে থাকি, অনুরোধ থাকবে আমার প্রতি রাগ করবেন না। দয়া করে গালি দিয়ে বুঝিয়ে বলবেন।
লেখক : আরেফীন ভাই