24/05/2020
বর্তমান পরিস্থিতি ও উৎসবের দিন
বাঙালির জাতীয় জীবনে মিশে আছে নানান রকমের উৎসব। উৎস মানেই মানুষের মিলন মেলা, উৎসব মানেই মানুষে-মানুষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রিতি আরও পোক্ত হয়। কিন্তু আজ বাঙালির মনে নেই কোন আনন্দের উচ্ছ্বাস।সবার মনে বাসা বেঁধেছে এক চাঁপা আতঙ্ক। যেন নীরব যুদ্ধের দামামা বাজে । করোনাভাইরাস মানুষের এই উৎসবকে শুধু গ্রাস করে ক্ষান্ত হয়নি, এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জাতীয় অর্থনীতিতে। মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে, দেখা দিচ্ছে খাদ্যের অভাব। বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আজ হুমকির মুখে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের দেশ, তথা দেশের মানুষের জন্য যে চরম দুঃসময় সামনে অপেক্ষমাণ সে কথা সহজেই অনুমেয়।
রাত পোহালেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীও উৎসব ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু এবার এক মর্মন্তদ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এসেছে এই অনুষ্ঠান।মূলত গোটা বিশ্বই এই মর্মন্তদ পরিস্থিতি পার করছে। আমরাও এর বাইরে নই।যেকোন ধর্মীয় উৎসব তো শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়, এতে জড়িয়ে থাকে সেই ধর্মের মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা আর পবিত্র উদ্দেশ্য। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব মেনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই, তবেই আমাদের আগত পবিত্র অনুষ্ঠান উৎযাপনের মাহাত্ম্য বেগবান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার এই মূল্যবান কথাটির এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।উৎসব মানবিক আবেগের আনন্দঘন এক সার্বজনীন বহিঃপ্রকাশ। মানুষের জীবনযাত্রার সাথে উৎসব সম্পর্কিত। মানুষের সেই ব্যক্তি জীবন থেকে সমষ্টি জীবনে, এবং সমষ্টি থেকে গোত্রে । গোত্র থেকে জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় উৎসবে রুপ নেয়। উৎসব মানেই একটি সুন্দর দিন, আনন্দের দিন। সেই আনন্দ আমরা ভাগ করে নেই বিভিন্ন গোত্রের মানুষের সাথে। উৎসব মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় । ঈদুল ফিতর একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-উচ্ছ্বাস সবকিছুকে গৎবাঁধা নিয়মের ঊর্ধ্বে অন্যরকম আস্বাদনের আনন্দ উপভোগ করতে চায়।আমরা যদি এবার ঈদে পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপকতা একটু কাটছাঁট করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই অসহায় মানুষের দিকে তবেই এই অনুষ্ঠান হবে আরও সার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত।
ইতিমধ্যে সরকারসহ অনেক রাজনৈতিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত সংগঠন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। যার আমি ভূয়সী প্রশংসা না করে পারছি না। উৎসব ধর্মের ঊর্ধ্বে মানুষকে এক জায়গায় জড়ো হতে সহায়তা করে।তাই উৎসব আনন্দের ও মঙ্গলের। এই জাতীয় দুর্যোগে আমাদের ব্যক্তি বিলাসিতা বিসর্জন দিয়ে আমরা আরও মানবিক হয়ে ওঠার এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারি। এবং সেটা অবশ্যই সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে। সবাই যদি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সচেতন ও সতর্কতার সাথে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই তবেই এই বিপর্যয় থেকে সকলে পরিত্রাণ পাবো । আমাদের অনেক উৎসবই আসাম্প্রদায়িক মানবপ্রীতির নিদর্শন । দুর্যোগের কালমেঘ কেটে গিয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক আলোর বিচ্ছুরণ, মঙ্গল হোক সকলের। যবনিকাপাত হোক সকল অশুভ শক্তির। মানুষের হাতে থাকুক মানুষের হাত।
ঋ অ চ
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,
ঢাকা