06/09/2026
আমি মেসিতে আসক্ত
সময় হলে পড়ুন।।।।
*মেসি - আমার নাম না জানা ভালোবাসা*
মেসি আমার রক্তের কেউ না।
আমার মুসলমান গোষ্ঠীরও কেউ না।
সে আর্জেন্টিনার, আমি বাংলাদেশের।
তার সাথে আমার ভাষা মিলে না, দেশ মিলে না, ধর্ম মিলে না।
আমাদের মধ্যে শুধু একটা ৯০ মিনিটের খেলা আর একটা ফুটবল ছাড়া আর কিছুই নেই।
তারপরেও কেন জানি রাত ৩টায় অ্যালার্ম দিয়ে উঠি শুধু ওর একটা পাস দেখার জন্য।
তারপরেও কেন জানি ও গোল মিস করলে আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।
তারপরেও কেন জানি ও কাঁদলে আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে।
আমি ২০০৬ সাল থেকে মেসির ভক্ত।
তখন আমার বয়স খুব বেশি ছিল না। টিভিতে শুধু নামটা শুনেছিলাম - "লিওনেল মেসি"।
বার্সেলোনার জার্সিতে ছোটখাটো একটা ছেলে। মাথা নিচু করে বল নিয়ে দৌড়ায়। ৪-৫ জন প্লেয়ারকে কাটিয়ে যায়। আর গোল করার পর আকাশের দিকে দুই হাত তুলে দেয়।
সেদিনই আমি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। কোনো কারণ ছাড়াই।
কেউ জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবো না কেন। শুধু বলবো, "ভালো লেগে গেছে"।
এরপর কেটে গেছে ১৮ টা বছর।
এই ১৮ বছরে আমি বড় হয়েছি। স্কুল পেরিয়েছি, কলেজ পেরিয়েছি। চাকরির টেনশন এসেছে, জীবনের চাপ এসেছে। কিন্তু প্রতি রবিবার রাত ১টায় টিভির সামনে বসে থাকা বন্ধ হয়নি।
বন্ধুরা বলতো "রোনালদো বেস্ট"। আমি ঝগড়া করতাম।
বাবা বলতো "ঘুমা, সকালে স্কুল আছে"। আমি বলতাম "আর ১০ মিনিট"।
রিলেশন ব্রেকআপ হয়েছে, কিন্তু মেসির সাথে আমার সম্পর্কটা ভাঙেনি।
২০১৪ সাল। বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেদিও খুব কান্না করেছিলেন।
জার্মানির কাছে হেরে গেলাম। মেসি কাপ হাতে নিতে পারেনি। গোল্ডেন বল নিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছিল।
সেদিন আমি কেঁদেছিলাম। আমার রুমমেট জিজ্ঞেস করেছিল "কিরে কাঁদিস কেন?"
আমি উত্তর দিতে পারিনি। কারণ আমি নিজেও জানতাম না আমার এত কষ্ট কেন হচ্ছে।
২০১৬ সাল। কোপা আমেরিকার ফাইনাল। আবার পেনাল্টি মিস। আবার কান্না।
মেসি জার্সি খুলে কান্না করতে করতে বলেছিল "আমি আর খেলবো না"।
সেদিন আমার মনে হয়েছিল আমার কলিজার ভেতর থেকে কেউ একটা টুকরা ছিঁড়ে নিয়ে গেছে।
ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম "তুমি ছাড়া আর্জেন্টিনা ভাবতে পারি না"।
তারপর ২০২১। অবশেষে কোপা আমেরিকা।
ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে কাপ। মেসি কাঁদতে কাঁদতে কাপ চুমু খাচ্ছে।
আমি সেজদায় পড়ে গিয়েছিলাম। আল্লাহকে বলেছিলাম "আল্লাহ, আমার মানুষটাকে একটা কাপ দাও"।
কিন্তু আসল কান্নাটা এসেছিল ২০২২ সালে।
কাতার বিশ্বকাপ। ফাইনাল। ফ্রান্সের সাথে।
১২০ মিনিট খেলা। পেনাল্টি শুটআউট।
মেসি যখন পেনাল্টি নিতে যাচ্ছে, আমার হাত-পা কাঁপছিল। শরীর মনে হয়েছিলো শেষ!!!!
গোল হলো। মেসি দৌড়ে গিয়ে আলিঙ্গন করলো।
আর যখন শেষ বাঁশি বাজলো, যখন মেসি বিশ্বকাপটা হাতে তুললো,
আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি।
চিৎকার করে কেঁদেছি। মা এসে বললো "কি হয়েছে?"
আমি বললাম "মা, ও পেয়েছে। ১৮ বছরের অপেক্ষা শেষ"। আমি রাত ভরা কান্না করেছি। আমি বউ, সেও মেসির ভক্ত। ২০২২ সালে আমরা একসাথেই খেলা দেখেছিলাম।
ওইদিন বুঝেছি ভালোবাসা কাকে বলে।
ভালোবাসার জন্য রক্তের সম্পর্ক লাগে না। ধর্ম লাগে না। দেশ লাগে না।
লাগে শুধু একটা নিখাদ, নিঃস্বার্থ মায়া।
মেসি আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে বারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়াতে হয়।
কিভাবে সমালোচনা শুনেও মাথা নিচু করে কাজ করে যেতে হয়।
কিভাবে হারতে হারতে একদিন জিততে হয়।
ও যখন মাঠে নামে, মনে হয় আমার ছোটবেলার আমি টাও মাঠে নেমেছে।
ও যখন ড্রিবল করে, মনে হয় আমার জীবনের সব বাধা কাটিয়ে যাচ্ছে।
ও যখন হাসে, আমারও মন ভালো হয়ে যায়।
মানুষ বলে "এটা তো জাস্ট খেলা"।
না ভাই, এটা জাস্ট খেলা না। এটা আমার আবেগ।
এটা আমার ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিটা রাত।
এটা আমার কৈশোর, আমার যৌবন, আমার আবেগ।
আজ মেসির বয়স হয়ে গেছে।
এখন টিভি অফ করে দিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকি
হয়তো ইউটিউবে পুরনো গোলগুলো দেখবো আর কাঁদবো।
কারণ মেসি শুধু একজন ফুটবলার ছিল না।
ও ছিল আমার জেদ।
ও ছিল আমার প্রমাণ যে ছোট শরীরেও বড় স্বপ্ন থাকে।
আল্লাহ তুমি ওকে ভালো রেখো।
ওর পায়ে যেন ইনজুরি না আসে।
ও যেখানেই থাকুক, হাসিখুশি থাকুক।
আমি জানি, মেসি আমার কোনোদিন এই লেখা পড়বে না।
আমার নামও জানবে না।
কিন্তু তাতে কি?
ভালোবাসতে কি সামনে থেকে দেখা লাগে?
আমি মেসিকে ভালোবাসি।
২০০৬ সাল থেকে, নাম শুনেই।
আজীবন ভালোবেসে যাবো।
কারণ কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসে শুধু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।
আর মেসি... মেসি হলো সেই মানুষটা।
আবেগ
মো: জনি সরদার
বাংলাদেশ
Love you Leo